

পাবনার
ঈশ্বরদীতে গরু চোর সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পরে খবর পেয়ে
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা
হচ্ছে।
পুলিশ
হেফাজতে দুজন হলেন, ঈশ্বরদী পৌরসভার শহীদ আমিনপাড়া এলাকার মৃত ইউনুছ শেখের ছেলে মো.
রায়হান শেখ (২৫) এবং তার স্ত্রী মোছা. সুমাইয়া খাতুন (১৮)।
পুলিশ
জানায়, সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে স্বামী-স্ত্রী তাদের নিজস্ব
একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বের হন। পথে পৌর শহরের উমিরপুর এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি বিকল
হয়ে যায়। এ সময় তারা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে গাড়িটি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি দেখে
স্থানীয় কয়েকজন তাদের গরু চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন।
পরে
ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা
ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, তারা গরু চোর নন। নিজেদের পিকআপ নিয়ে বের হওয়ার সময়
গাড়িটি বিকল হয়ে যাওয়ায় তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন।
ঈশ্বরদী
আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, গরু চোর সন্দেহে স্থানীয়রা স্বামী-স্ত্রীকে
আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া তাদের ব্যবহৃত পিকআপটিও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ডে-কেয়ার সেন্টারের শিশুদের সঙ্গে আজ প্রাণোচ্ছ্বল
সময় কাটিয়েছেন।
আজ
মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সোয়া ১১টায় ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে
তিনি মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শনে
যান।
ডে-কেয়ার
সেন্টারজুড়ে তখন শিশুদের খেলনার টুংটাং শব্দ, কোথাও কচি কণ্ঠের হাসি আর আনন্দময় চিৎকার।
ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপে মুখর চার দেয়াল। এমন প্রাণচঞ্চল মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিরাপত্তার কড়া দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ১৮ মিনিট সময়
কাটান শিশুদের সঙ্গে। এ সময় তিনি যেন ফিরে গেলেন সেই নির্ভার শৈশবে। প্রধানমন্ত্রীকে
কাছে পেয়ে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা আনন্দে বিভোর হয়ে ওঠে।
প্রবেশের
পরপরই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান সরকার প্রধান তারেক রহমান। মুহূর্তেই তাকে ঘিরে ধরেন
ছোট্ট শিশুরা। কেউ হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে, কেউ টেনে নিয়ে যায় খেলনার কাছে। কয়েকজন
নিজেদের হাতে আঁকা ছবি দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীও মন দিয়ে সেসব দেখেন,
মুগ্ধ হাসিতে প্রশংসা করেন। কখনও আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন শিশুদের মাথায়, কখনও তাদের
কথায় হেসে ওঠেন প্রাণ খুলে।
এ
সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘিরে থাকা ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন। শিশুদের বিভিন্ন
রকমের চকলেট, টফি ও ললিপপ নিজ হাতে দিয়েছেন। দিয়েছেন গিফট ব্যাগও। চকলেট-টফি দিতে দিতে
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কেউ কি বাকি আছে? পেয়েছো তোমরা সবাই?
প্রধানমন্ত্রী
আরও বলেন, ‘আজকে কার জন্মদিন বলো তো? একেক জনকে বলতে শোনা যায়, আংকেল আমার, আংকেল আমার।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো আমরা এক সঙ্গে কেক কাটি।’
শিশুদের নিয়ে হাতে হাতে রেখে কেক কাটেন সরকার প্রধান। এ সময়ে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে
পুরো কক্ষ। ‘শিশুরা আনন্দে বলছিলো হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থ ডে।’
এর মধ্যে একজন শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মুখে তুলে কেক খাইয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীকে
কাছে পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন ছোট্ট শিশু আরিবা। সে বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী আংকেলকে
দেখে আমি যে কী খুশি বলতে পারছি না। আংকেলের সঙ্গে মজা করে কেক খেয়েছি। আংকেলও কেক
খেয়েছেন। কি মজা কি মজা। আংকেল খুব ভালো, খুব সুইট।’
টেবিলে
রাখা পুতুল আর চকলেট, ললিপপ দেখিয়ে দিয়ে আরিবা বলে, এই যে আংকেল আমাদের গিফটও দিয়েছেন।
ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না এখানে শিশুদের কিভাবে যত্ন নেওয়া
হয় তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী
ওই সময়ে জানতে চান, শিশুদের কি কি খাবার দেওয়া হয়। ওদের মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে
কি না তা খেয়াল রাখতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে থাকা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মহিলা
ও শিশু মন্ত্রণালয় এইসব শিশু দিবাযন্ত্র কেন্দ্র পরিচালনা করে। ঢাকাসহ সারাদেশে এ ধরনের
ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে ২০টি। তিনি আরও জানান, চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এই কেন্দ্রে
সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। এই কেন্দ্রে শিশুরা সংখ্যায় ৬০ জন। আজ উপস্থিত ৫৫ জন।
প্রধানমন্ত্রী
ডে কেয়ার সেন্টারটিতে আনন্দঘন অবস্থান শেষে
হাত নেড়ে ‘টা-টা’ দিয়ে শিশুদের কাছ থেকে বিদায় নেন।
প্রধানমন্ত্রী
যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন শিশুরা হাত নেড়ে, সালাম দিয়ে বিদায় জানান। শিশুদের নিষ্পাপ
হাসি আর ভালোবাসার ভেতর প্রধানমন্ত্রী যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন দায়িত্বের
কঠিন বাস্তবতা। সেন্টারটি পরিদর্শনের সময়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ছাড়াও ভূমি প্রতিমন্ত্রী
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের
ফতুল্লার হাজিগঞ্জ এলাকায় ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার
সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায়
পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা
গেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ফতুল্লার হাজিগঞ্জ
এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,ফিফা
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা পরাজিত হওয়ার
পর হাজিগঞ্জ এলাকার ব্রাজিল সমর্থক অপূর্ব ও তার অনুসারীরা বিজয় উল্লাস করে। এ সময়
উল্লাসকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা সমর্থক হাবিব ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু
হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে আর্জেন্টিনা
সমর্থকরা ব্রাজিল সমর্থকদের ধাওয়া দিলে পরে ব্রাজিল সমর্থকরা আরও লোকজন নিয়ে ফিরে
আসে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুর হয়। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও
লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হলে পুরো এলাকায়
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক
রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি
শান্ত করেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা
দায়ের হয়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


ঘটনাটি
ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামের। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে গ্রামের এক ইমামের
বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে এক মাসেরও বেশি সময় জেল
খাটতে হয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। হারাতে
হয় চাকরিও। কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সামনে আসে ভয়ংকর এক সত্য। কিশোরীর গর্ভের
সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটির বাবা ওই ইমাম নন; বরং মেয়েটিরই আপন বড় ভাই।
পরে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার
করেন।
ফরেনসিক
পরীক্ষায় পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে
তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো
হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি
পেয়েছেন তিনি।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের ভুক্তভোগী খুকু (ছদ্মনাম)
আক্তারের (১৪) মা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম
ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। নিজেকে নির্দোষ
দাবি করলেও ছাড় পাননি মোজাফফর। অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪
সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে
গ্রামের মাতব্বর ও মামলার বাদী তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এদিকে অন্তঃসত্ত্বা
হয়ে সন্তান প্রসব করে স্থানীয় একটি মক্তবে অধ্যয়নরত ভুক্তভোগী কিশোরী। আর এর দায় চাপানো
হয় ওই মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) কাঁধে। একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন তিনি।
একই
বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক
ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও খুকু আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব
পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের
২১ জানুয়ারি ডিএনএ প্রতিবেদন পান পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল
ইসলাম।
ডিএনএ
পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের
উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের
ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। এরপর ওই কিশোরী ও তার
সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতার নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য
তাদের পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
এর
মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে
মোজাফফরের ডিএনএর মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে কিশোরীকে
ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে লাগাতার
ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ঘটনা আড়াল করে ভাইকে বাঁচাতে শিক্ষক মোজাফফরকে ফাঁসানো
হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
আদালতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান
করেন মোরশেদ।
আদালতে
আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই কিশোরী ও তার ভূমিষ্ঠ সন্তান ও বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার
জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ
পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশু কন্যার সঙ্গে মোরশেদের
ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা।
ডিএনএ
পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায়
মোরশেদের সঙ্গে তার বোনের সন্তানের পিতা হিসেবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর
আহমেদ ওই সন্তানের জৈবিক পিতা নন।
মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে
আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত
না হওয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ
প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। আদালতে ডিএনএ
পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।
পরশুরাম
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো/ আশ্রাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ
গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার
করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক
প্রভাব পড়ে।
পরশুরামের
বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের
শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি
হারান তিনি। মামলার খরচ জোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জমি। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে হেয়
হয়েছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমেদ।
মোজাফফর
আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তার
শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে
বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ,
সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।
তিনি
বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো
হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে।
মোজাফফর
আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।
জাতীয়
ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান,
সুন্নি, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের
ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা
করা উচিত।
মন্তব্য করুন


নরসিংদীর
রায়পুরায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা
(আরএমও) ডা. ইসমাঈল আল রাজিবকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার
(২৪ জুলাই) রাতে উপজেলার তুলাতুলি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
জানা
গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ডা. ইসমাঈল আল রাজিব রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় নয় মাস আগে তিনি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল
কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পান।
জানতে
চাইলে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
ডা. জান্নাতুল নাঈম বলেন, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ইসমাঈল আল রাজিব
ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন। পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে
অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুরা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের
একটি দল অভিযান পরিচালনা করে ডা. ইসমাঈল আল রাজিবকে আটক করে। পরে তার শরীর তল্লাশি
করে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি
প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


শীতকে
উপেক্ষা করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় নারী-পুরুষসহ সকল বয়সী মানুষের
ঢল নেমেছে। কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউবা মাটিতে বসে উৎসবমুখর পরিবেশে উপভোগ করছেন ঘোড়দৌড়
প্রতিযোগিতা। গ্রামের একটি ফসলের মাঠে অতিথিদের বসার স্টেজ। তার সামনে মাঠের চারপাশে
দড়ি দিয়ে গোল চত্বর চিহ্নিত করে, তার চারপাশ দিয়ে ঘুরছে ঘোড়ার দল। মাঠের এক পাশে নানা
রকম খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
মঙ্গলবার
পড়ন্ত বিকালে এমন চিত্র দেখা যায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর
গ্রামে। সেখানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
হয়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ফুলবাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে তিনটি
গ্রুপে ২০ জন খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ ঘোড়া নিয়ে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
দুপুরের পর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ওই এলাকায়
তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। খেলা দেখতে পেরেও খুশি দর্শকরা।
প্রধান
অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান
ফিজার এমপি। খেলা শেষে এ প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীদের
মাঝে পুরস্কার দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


রাজধানীসহ সারাদেশে
যানজট নিরসনে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
৫ আগস্টের পর রাজধানীর
যানজট নিরসনে ছাত্র-ছাত্রীরা ভালো কাজ করেছে ও সাফল্য দেখিয়েছে এ কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা
বলেন, সেজন্য ট্রাফিক পক্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায়
১ হাজার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর)
সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকায় অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি প্রকল্পের
কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।
কারা অধিদপ্তরের
‘পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন’শীর্ষক প্রকল্পে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও পার্কিংয়ের স্থান বৃদ্ধির বিষয়ে
প্রকল্প সংশি¬ষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করে উপদেষ্টা বলেন, কারা অধিদপ্তরের প্রকল্পটি
বাস্তবায়নের জন্য যে বাজেট দেয়া হয়েছে, এরমধ্যেই সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এতে
বাজেট বৃদ্ধি করা যাবে না।
রাজধানীতে যানজট বাড়ছে
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, ‘আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে যারা বিভিন্ন দাবিতে
আন্দোলন ও সমাবেশ করছেন তারা ভেন্যু হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহার করলে রাস্তা
বন্ধ হবে না, যানজট কমবে। রাজধানীতে রাস্তা বাড়ছে না, কিন্তু প্রতিদিন গাড়ি বাড়ছে।
তাছাড়া কর্মসংস্থানের কারণে সারাদেশের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে। ফলে নগরের জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত
বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিদর্শনকালে কারা
মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট
কর্নেল এস এম তৌহিদুল আলম সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুরাতন ঢাকা
কেন্দ্রীয় কারাগার এর 'এ' জোনস্থ মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স, 'বি' জোনস্থ চক কমপ্লেক্স
ও মসজিদ এবং 'সি' জোনস্থ কনডেম সেল ও ফাঁসির মঞ্চ পরিদর্শন করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বিশ্বকাপের
শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। নিজেদের টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর কান্না ধরে
রাখতে পারেননি নেইমার জুনিয়র। ম্যাচ শেষে জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার কথাও জানান তিনি।
এর একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছেলে নেইমারকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন
একটি দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন তার বাবা নেইমার সিনিয়র।
২০২৬
বিশ্বকাপের জন্য নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে চূড়ান্ত দলে একবারই ডাক পান নেইমার।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নামার পর নরওয়ের বিপক্ষে প্রায় ৩০ মিনিট
খেলেন তিনি। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে নিজের নবম
গোলের দেখা পান।
ইনস্টাগ্রামে
দেয়া দীর্ঘ বার্তায় ছেলে নেইমারের ফুটবলজীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা স্মৃতি
তুলে ধরেন তার বাবা। তিনি লেখেন, ‘বাবা, কী অসাধারণ এক যাত্রা! কত সুন্দর একটি পথ;
যেখানে ছিল চ্যালেঞ্জ, ছিল কষ্ট, কিন্তু ছিল ঈশ্বরের অশেষ আশীর্বাদও।’
তিনি
বলেন, ছোটবেলা থেকেই নেইমারের মধ্যে ভিন্ন কিছু দেখেছিলেন। তার ভাষায়, ‘ওটা শুধু প্রতিভা
ছিল না, ছিল একটি উদ্দেশ্য।’
নেইমারের
বাবা জানান, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের পরিবার নিজেদের বিশ্বাস
ও খ্রিস্টান ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েছে। অনেক সময় প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে
কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও তারা বিশ্বাস রেখেছেন, আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদানও পেয়েছেন।
ছেলের
ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, পেশাদার
ফুটবলে অভিষেক, বড় বড় স্টেডিয়াম, শিরোপা, ব্রাজিল জাতীয় দল এবং বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি;
সবকিছুরই সাক্ষী তিনি। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন একজন বাবা হিসেবে প্রতিটি মুহূর্তে
সন্তানের পাশে থাকতে পারা।
বার্তার
একপর্যায়ে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি অনুরোধ করেন, ‘বাবা, ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। আবারও
বল পায়ে খেলার আনন্দ খুঁজে নাও, মাঠে হাসিমুখে ফিরে এসো। ঈশ্বর তোমাকে সুস্থ করে আরেকটি
সুযোগ দিয়েছেন।’
তিনি
আরও লেখেন, ‘সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা জীবনের নানা চাপ নিজের কাঁধে বহন করো না। সব
সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে থাকে না, কিছু সিদ্ধান্ত শুধুই ঈশ্বরের। আজকের একটি সিদ্ধান্ত
তোমার পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে না। একটি স্বপ্ন পূরণ না হলেও তার মানে এই নয় যে সেটি
শেষ হয়ে গেছে।’
ভবিষ্যৎ
নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নেইমারের বাবা বলেন, ‘সামনের দিনগুলোকে ভয় পেয়ো না। আজকে বাঁচো,
অনুশীলন করো, খেলো, হাসো, সন্তানদের সময় দাও, পরিবারকে ভালোবাসো। বাকিটা ঈশ্বরের ওপর
ছেড়ে দাও।’ বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ট্রফি, গোল কিংবা খ্যাতির
চেয়েও তিনি দেখেছেন ঈশ্বরের অলৌকিক আশীর্বাদ। তার বিশ্বাস, নেইমারের জীবনে আরও অনেক
সুন্দর অধ্যায় এখনও লেখা বাকি।
শেষে
আবেগঘন ভাষায় তিনি লেখেন, ‘মনে রেখো, পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন।
আর বাবা হিসেবে আমি সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত; প্রতিটি সফর, প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি
নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা এবং প্রতিটি প্রার্থনা।’
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার জেরে বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই ফয়সাল খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই মোর্শেদকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের গোয়ালগাঁও গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ফয়সাল (৩৫) গোয়ালগাঁও গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত মোর্শেদ তার আপন বড় ভাই।
ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানায়, স্থানীয় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন অভিযুক্ত মোর্শেদের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাতে তিনি নাইট শিফটে ডিউটি করে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে ঘুমাতে যান। সকালে ঘরের পাশে শিশুরা হৈ-হুল্লোড় করলে মোরর্শেদ ঘর থেকে বের হয়ে স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছে বলে তাদের বকা দেন। এ সময় ছোট ভাই ফয়সাল বড় ভাইকে নিষেধ করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা দুজনই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে দুই ভাই পুনরায় বাড়ি ফিরে আবারও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মোর্শেদ ঘর থেকে দা নিয়ে এসে ছোট ভাই ফয়সালকে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৩টায় স্থানীয় সুয়াগাজী বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোর্শেদকে আটক করা হয়।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি নারী শান্তিরক্ষী
নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টায়
বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আজ
রোববার (২০ এপ্রিল) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তি কার্যক্রমবিষয়ক
আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে
গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ
সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি যা উৎসাহিত করি তা হলো শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বাংলাদেশি
নারীর অংশগ্রহণ।
শান্তিরক্ষী
প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন দেশের একটি। বর্তমানে বাংলাদেশের ৫,৬৭৭
জন শান্তিরক্ষী ১১টি সক্রিয় মিশনের মধ্যে ১০টিতে কাজ করছে।
জাতিসংঘ
আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জানান, নারীদের শান্তিরক্ষায় সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে জাতিসংঘের
একটি নীতিমালা রয়েছে।
তিনি
বলেন, আমরা নারীদের নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।’ তিনি উল্লেখ করেন
যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার সব ক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগে সমর্থন দেবে।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, প্রয়োজনে বাংলাদেশ অতিরিক্ত সৈন্য ও পুলিশ পাঠাতে
প্রস্তুত। তিনি জাতিসংঘের পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেম (পিপিআরএস)-এর র্যাপিড
ডিপ্লয়মেন্ট পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত পাঁচটি ইউনিটের কথা উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় সদর দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ে বাংলাদেশি নেতৃত্ব
বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। জাতিসংঘ প্রতিনিধি বলেন, এ ব্যাপারেও তারা বাংলাদেশকে সমর্থন
দেবে।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, শান্তিরক্ষী নিয়োগে জাতিসংঘের যাচাই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ
কঠোরভাবে মেনে চলে এবং প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতায় জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আরও
সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়, যাতে মানবাধিকার প্রতিপালন আরও জোরদার হয়।
প্রধান
উপদেষ্টাকে জানানো হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল
আগামী ১৩ থেকে ১৪ মে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের
সম্মেলনে অংশ নেবে।
মিয়ানমারে
চলমান সংঘর্ষ, সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা, বেসামরিক নাগরিক হতাহত এবং নাফ নদী সংলগ্ন
এলাকায় জীবিকা বিঘ্নিত হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
তিনি
সতর্ক করেন, এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তা আরও অবনতি হয়ে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি
করতে পারে। তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।
প্রধান
উপদেষ্টা সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা স্মরণ করে বলেন, তার এই সফর রোহিঙ্গাদের নিরাপদ
ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে নতুন করে আশা জুগিয়েছে।
মন্তব্য করুন


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সোমবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ড. ইউনূস গত ৮ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জ্যাক সুলিভান বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক, নির্বাচন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগের জন্য অধ্যাপক ড. ইউনূসের প্রশংসা করেন।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় অধ্যাপক ইউনুসকে ধন্যবাদ জানান তিনি এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অব্যাহত মার্কিন সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।
ফোনালাপের সময় তারা বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বাংলাদেশে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা কাটিয়ে উঠতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সুলিভান অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য মার্কিন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক সফরের সময় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, আগামী জানুয়ারির মধ্যে ছয়টি প্রধান সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। এরপর সংস্কার ও নির্বাচনের জন্য জাতিকে প্রস্তুত করতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন