

মুরাদুল ইসলাম মুরাদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ হলরুমে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ-এর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার পরিচিতি, প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, আইনগত সচেতনতা, পেশাগত নৈতিকতা, মানবাধিকার, তথ্যের গোপনীয়তা এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল আলম রফিক। তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের আইনগত সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য, অভিযোগ বা বক্তব্য প্রকাশ করলে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম উভয়ই আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে কারও ব্যক্তিগত বা গোপনীয় তথ্য প্রকাশ না করার পরামর্শ দেন।
খায়রুল আলম রফিক বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনস্বার্থ জড়িত। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময় হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তথ্য কর্মকর্তার উদ্দেশে তিনি বলেন, “তথ্য কর্মকর্তা সাংবাদিকের বন্ধু।” সাংবাদিক ও সরকারি তথ্যসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
পুলিশ বাহিনী সম্পর্কেও যাচাই ছাড়া কোনো মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়। কোনো অভিযোগ বা ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ঘটনার বাস্তবতা যাচাইয়ের পরামর্শ দেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য বিভাগের কর্মকর্তা সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, সহনশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ভুল, ভুয়া বা মনগড়া তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি (পিপিএম), মোঃ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, সেলের পরিচালক মোহাম্মদ আলী আবির ও সিয়াম রশিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম সানু। এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংবাদকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা, আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে মোহাম্মদ আজাদ নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আজাদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আজাদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।
এ দিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের স্বজনদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আজাদের সঙ্গে স্ত্রী তানিয়া বেগমের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে আজাদ তার স্ত্রী তানিয়া বেগমের হাত-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বৈদ্যুতিক শক দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়ার মৃত্যু হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। নিহত তানিয়া বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে তার জামাতা মোহাম্মদ আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উঠে আসে।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন


বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, পরিস্থিতি জটিল না হলে গ্যাস-বিদ্যুতের
দাম বাড়ানো হবে না। আমরা চাই দাম সহনীয় রাখতে। চেষ্টা করবো জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে।
আপাতত নির্বাহী আদেশে আর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হবে না। যে সব প্রকল্প
চুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে, সেগুলো বন্ধ থাকবে।
রবিবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদ
সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিদ্যুৎ জ্বালানি
ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দুপুরে প্রথম সচিবালয়ে
আসেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, নির্বাহী আদেশে
আর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হবে না। দাম সমন্বয় করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি
রেগুলেটরি কমিশনে পাঠানো হবে। অতিরিক্ত যেকোন ব্যয় বন্ধ করে মিতব্যয়িতা নীতি গ্রহণ
করতে হবে, কিন্তু কাজ কমানো যাবে না। কম অর্থে বেশি কাজ করতে হবে।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
ইসলামপুর উপজেলায় জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন
পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৭০)।
বুধবার
(৫ আগস্ট) নিজ বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ
অংশ নিয়ে খাবার গ্রহণ করেন। আব্দুস সামাদ ওই গ্রামের মৃত শুকর আলীর ছেলে।
স্থানীয়
বাসিন্দা দানেছ আলী জানান, আব্দুস সামাদের সংসারে তিন মেয়ে ও চার ছেলে রয়েছে। মেয়েদের
বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেদের কেউ আলাদা সংসার করছেন, আবার কেউ পড়াশোনা করছেন। বয়স ও শারীরিক
দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে তিনি নিজের সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নেন। একই সঙ্গে তার মনে প্রশ্ন জাগে, মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা চল্লিশার আয়োজন যদি
না করে। সেই ভাবনা থেকেই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে জীবিত অবস্থায় নিজেই চল্লিশার আয়োজনের
সিদ্ধান্ত নেন।
অনুষ্ঠানে
অংশ নেওয়া লালচাঁন মিয়া বলেন, জীবিত একজন মানুষ নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন । এটি
সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আয়োজনে উপস্থিত হয়ে তারা আনন্দের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করেছেন।
আব্দুস সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, বাবার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারের সবাই
এ আয়োজনের সঙ্গে একমত হয়েছেন। মেয়ে সাজেদাও জানান, বাবার মনের সংশয় দূর করতেই পরিবারের
সদস্যরা এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।
আব্দুস
সামাদ বলেন, বয়সের ভারে আমি এখন শারীরিকভাবে দুর্বল। নামাজ-ইবাদত ছাড়া তেমন কোনো কাজ
করতে পারি না। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠানের
জন্য তিনি প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু এবং ২০ হাজার টাকা মূল্যের
একটি খাসি ক্রয় করা হয়েছিল বলে জানান।
মন্তব্য করুন


মিশরের
বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ জয়ের পর অতিরিক্ত উল্লাস প্রকাশের সময় ঝিনাইদহের
শৈলকুপায় রসুল উদ্দীন (৪০) নামে এক ভ্যানচালকের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার
(৭ জুলাই) রাতে শৈলকূপা পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রসুল উদ্দীন
এলাকায় আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয়
ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে খেলা চলাকালীন একপর্যায়ে মিশর ২-০
গোলে এগিয়ে গেলে চরম হতাশ ও মন খারাপ করে খেলা দেখা ছেড়ে বাড়িতে চলে যান রসুল। তবে
পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ২-২ গোলে সমতা ফেরালে তিনি
আবারও খেলা দেখতে ছুটে যান এবং অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন।
খেলা
শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত উত্তেজনার মাঝেই তিনি জর্দা দিয়ে পরপর তিনটি পান খান। এর কিছুক্ষণ
পরেই তিনি তীব্র শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। সেখানে উপস্থিত স্থানীয়রা পরিস্থিতি
বেগতিক দেখে দ্রুত তাকে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে
পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের
প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং জর্দার তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণে হৃদযন্ত্রের
ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
মীরসরাইয়ে মাছবাহী একটি পিকআপভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী একটি মসজিদের খতিব ও
মুয়াজ্জিন নিহত হয়েছেন।
রবিবার
(২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকার পুরাতন ডিটি
সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন- মঘাদিয়া ইউনিয়নের চরশরৎ এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে জয়নাল আবেদিন (৩৫) এবং একই
এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে জহির উদ্দিন (৫২)। জয়নাল আবেদিন ইছাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর
ওয়ার্ড ওলামা দলের সভাপতি এবং দরগাহপাড়া কালা পীরশাহ জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। জহির
উদ্দিন ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জরুরি একটি কাজ শেষে জয়নাল আবেদিন ও জহির উদ্দিন মোটরসাইকেলে
করে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা চৌধুরীহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি
মাছবাহী পিকআপ তাদের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে
যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
জোরারগঞ্জ
থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। নিহতদের
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি বুধবার (২ অক্টোবর) ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়া এরিয়া পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধান বগুড়া সেনানিবাসে কর্মরত সকল পদবির সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে দরবার নেন এবং তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
অতঃপর তিনি আর্মি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়া এর নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি সকল পদবির সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে 'অফিসার্স অ্যাড্রেস' গ্রহণ করেন।
এসময় তিনি তাঁর মূল্যবান বক্তব্যের শুরুতেই শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দেশমাতৃকার সেবায় তরুণ সাহসী এই সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁর জন্য গর্বিত। এরপর সকলের উদ্দেশ্যে দেশের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি বগুড়া সেনানিবাসে আয়োজিত সেনাবাহিনী ফুটবল প্রতিযোগিতা- ২০২৪ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এসময় জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার বগুড়া এরিয়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল, সেনাসদর ও বগুড়া এরিয়ার উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাগণ, অন্যান্য অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং অন্যান্য পদবির সৈনিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৪ এ বিভিন্ন সেনা অঞ্চলের মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ২৪ পদাতিক ডিভিশন দল চ্যাম্পিয়ন এবং ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড দল রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলায় ২৪ পদাতিক ডিভিশন দল ৪-০ গোলে ৪৬ পদাতিক ব্রিগেড দলকে পরাজিত করে। উক্ত প্রতিযোগিতা গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে শুরু হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি এ সংবর্ধনা প্রদান করেন।
এ সময় নারী ফুটবল দলের সদস্যরা তাঁদের স্বপ্ন ও খেলোয়াড় জীবনের প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা বিজয়ী খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দাবি ও কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
গত ৩০ অক্টোবর কাঠমান্ডুতে সপ্তম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপ জিতে নেয় বাংলাদেশ দল।
নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই সাফল্যের জন্য আমি পুরো জাতির পক্ষ থেকে তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাই। জাতি তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ সাফল্য চায়, আর তোমরা সেই সাফল্য এনে দিয়েছ।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।
তিনি বলেন, অনেক বাধা পেরিয়ে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। শুধু নারী ফুটবল দলই নয়, বাংলাদেশের নারীদের সামগ্রিকভাবে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
২০০৯ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা সাবিনা তাঁর আগের প্রজন্মের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আগের প্রজন্ম
ফুটবলকে তাঁদের ভালবাসা হিসেবে বেছে নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।
সাবিনা আরো বলেন, আমাদের অনেকে সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে এবং তার পরিবারকে আর্থিকভাবে
সাহায্য করতে হয়।
তিনি বলেন, আমাদের বেতন খুব বেশি নয়। এই বেতন দিয়ে পরিবারকে তেমন কোন সাহায্য করতে পারি না।
এই তারকা স্ট্রাইকার তাঁর কয়েকজন সহযোদ্ধার সংগ্রামের গল্প, যেমন মারিয়া মান্দারের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ময়মনসিংহের বিখ্যাত কলসিন্দুর গ্রামের মারিয়া, যেখান থেকে সাফ বিজয়ী দলের ছয়জন খেলোয়াড় এসেছেন, ছোটবেলায় তাঁর বাবাকে হারান এবং মা তাকে বড় করেন।
উইঙ্গার কৃষ্ণা রানী সরকার ঢাকায় তাঁদের আবাসন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, আর মিডফিল্ডার মানিকা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলার দূরবর্তী লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ফুটবলার হিসেবে উঠে আসার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।
মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী তাঁর নিজ জেলা দিনাজপুরের রানীশংকৈল উপজেলায় তার গ্রামের দূর্বল অবকাঠামোর কথা বলেন।
উইঙ্গার কৃষ্ণা প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ করেন যেন তাঁদের জন্য এশিয়ার বাইরে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী বার্সেলোনার সঙ্গে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তাদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও তাদের বিভিন্ন দাবি আলাদাভাবে কাগজে লিখে তাঁর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলেন।
অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ‘তোমরা যা কিছু চাও তা লিখতে দ্বিধা করো না আমরা তোমাদের দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। যদি কিছু এখনই করা সম্ভব হয়, আমরা তা করব’।
কোচ পিটার বাটলার এবং ম্যানেজার মাহমুদা আক্তারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, সুপ্রদীপ চাকমা, অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং নূরজাহান বেগম।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর থেকে পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রম শুরু হবে।
বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আপনি যে দোকানে যান
সে দোকান থেকে পলিথিন ব্যাগ কিনে আনেন। আমি আপনিও বলি না পলিথিন ব্যাগ
দিচ্ছেন কেন, এটা তো নিষিদ্ধ। আমরাও
তো হাতে করে নিয়ে আসি। মার্কেটগুলোতে গিয়ে পলিথিন ব্যাগগুলো প্রথমে আমরা বলব ১৫ থেকে ২০
দিন তারপর আমরা অভিযানে যাব। এগুলো আপাতত সিদ্ধান্ত। এটি তারিখ নির্ধারিত হয়নি। কারণ এর সঙ্গে আরো
কয়েকটি সংস্থা সম্পৃক্ত। এখন সবাই একটা আন্দোলনের মুডে আছে। সবাই সবার দাবি পেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওইদিকে ব্যস্ত আছে। তবে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আপনারা কার্যক্রমের শুরু দেখতে পারবেন। বায়ু দূষণ একদিনে সমাধান হবে না, কিন্তু এই শীতের আগে
যেন বায়ু দূষণের কয়েকটি উৎসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেজন্য বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা করছি। এখানে মেগা পরিকল্পনা চলছে কিন্তু বায়ুদূষণের ব্যবস্থা নেই, সেই জায়গাটা আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। কনস্ট্রাকশন হবে, কিন্তু বায়ুদূষণ করে কনস্ট্রাকশন হতে পারবে না। স্বল্প ব্যয়েই এটি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে কিছু কিছু প্রকল্প সহায়তা দিচ্ছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হলো। তাদের প্রত্যাশাটা কি, এবং এই প্রত্যাশাটা আমরা যত তাড়াতাড়ি পূরণ করতে পারব ততো তাদের পক্ষে সম্ভব হবে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে আমাদের এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে বাজেট সহায়তা দেওয়ার। আমরা বলেছি বাংলাদেশে আইনকানুন, নীতি ভালো আছে। এগুলোকে আরো ভালো করা যায়। কিন্তু সক্ষমতা না বাড়ালে এগুলোর বাস্তবায়নের জন্য তাহলে দূরত্বটা বেড়ে যাবে। মানুষের প্রত্যাশার জায়গাটা পূরণ হবে না। আইনকানুন, নীতি আমরা আরও সময়োপযোগী করব, আরও শক্ত করব। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের কাজে নেমে যেতে হবে। যেমন মানুষকে আমাদের দেখাতে হবে দূষণকারী কয়জন শাস্তি পাচ্ছে, ময়লা আবর্জনা নদীর পাড় থেকে সরছে, কিছু কিছু নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন করে তাদের (বিশ্বব্যাংক) কাছে নতুন করে প্লাস্টিক, পলিথিন, শব্দ দূষণ ও কয়েকটা নদীতে দূষণ নিয়ে কথা বলেছি, বলেন পরিবেশ উপদেষ্টা।
বিশ্বব্যাংক কী ধরনের সহায়তা দেবে -এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরকে সবচেয়ে দূষিত নদী ও দূষণকারীদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। সেগুলো যখন আমরা পাব তখন একটি মনিটরিং প্ল্যান করে ফেলতে পারব। ফলে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি হয়নি। তবে একটি রূপরেখা তো আছেই, সেখানে নতুন নতুন কম্পোনেন্ট যদি যুক্ত করতে পারি সেটি নিয়ে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছে সর্বাত্মক সহায়তা করার চেষ্টা করবেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকাসহ
দেশের ১৬ জেলার ওপর দিয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো
হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে
আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দেশের
অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে
বলা হয়, শুক্রবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, পাবনা, ফরিদপুর,
কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার
এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার
বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিরও শঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়ার
নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ
উপকূলীয় এলাকায় বিরাজমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তর
উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর
বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের
মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমিবায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়
এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এ
অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকালের মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়
এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা
হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের
কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময় সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা
সামান্য কমতে পারে।
মন্তব্য করুন


পাঁচ
দিন বয়সী যমজ দুই মেয়ে সন্তানকে রেখে উধাও হয়েছেন মারিয়া নামে এক নারী। বর্তমানে শিশুদুটির
বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে নবজাতকের বাবা সাকিব হোসেন।
ঘটনাটি
ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরশহরের ধারিয়াল গ্রামে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক
চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতক দুই সন্তানের নাম রাখা হয়েছে মাহা এবং মানহা।
স্থানীয়রা
জানান, আড়াই বছর আগে ঘাটাইল পৌর এলাকার ব্যবসায়ী ময়েন উদ্দিনের মেয়ে মারিয়ার সঙ্গে
ধারিয়াল এলাকার সোলায়মান হোসেনের ছেলে সাকিবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে
তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন সাকিবের বয়স ছিলো ১৭ আর মারিয়ার ১৫ বছর। অসম এই বাল্যবিবাহ
তাদের উভয় পরিবারের সদস্যরা মেনে না নিলে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাকিবের
পরিবার বিয়ে মেনে নিয়ে তাদের ঘরে তুলে নেন।
গত
১৩ আগস্ট স্থানীয় হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ দুই
মেয়ে সন্তান প্রসব করেন মারিয়া। পরে দুই সন্তানসহ মারিয়াকে সাকিব নিজ বাড়ি ধারিয়ালে
নিয়ে আসেন। কিন্তু গত ১৭ আগস্ট রাত থেকে কাউকে কিছুই না জানিয়ে নবজাতক দুই সন্তানকে
বাড়িতে একা রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যান মারিয়া। এখনো মা ফিরে না আসা নবজাতক দুটির বেঁচে
থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নবজাতকের
বাবা সাকিব হোসেন বলেন, যমজ শিশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। নবজাতকের জন্য অনেক সমস্যার
সমাধান করা গেলেও মায়ের অভাব কোনোভাবেই পূরণীয় নয়।
তিনি
অভিযোগ করে বলেন, মারিয়া কোথায় চলে গেছে তা আমি জানি না। নবজাতক দুটিকে বাঁচাতে মায়ের
খুবই প্রয়োজন। আমাদের বিয়ের বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়ি মেনে নেয়নি। তাদের প্ররোচনায় এই ঘটনা
ঘটে থাকতে পারে।
মারিয়ার
বাবা ময়েন উদ্দিন জানান, তার মেয়ে এখন কোথায় কী অবস্থায় আছে সেটি তার জানা নেই।
এ
বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি
সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শিশুদুটির মাকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার
চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন