

পাড়ার
মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল অনেকেরই থাকে। তবে সেই কৌতূহল মেটাতে প্রতিবেশীদের
সম্পর্ক, ঝগড়া কিংবা গোপন কর্মকাণ্ডের খবর সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করার পেশা
বানিয়ে ফেলেছেন কলম্বিয়ার ৬৭ বছর বয়সী এক নারী। তার দাবি, এই অদ্ভুত ব্যবসা থেকে আয়
করে তিনি দুটি বাড়িও কিনেছেন।
গালফ
টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিরিয়ামের বাড়ি কলম্বিয়ার কুইন্দিও বিভাগের আর্মেনিয়া
শহরে। কনটেন্ট নির্মাতা লেডি দানিয়েলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের পেশা সম্পর্কে খোলামেলা
কথা বলেন তিনি। সেখানে নিজেকে পেশাদার ‘চিসমোসা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে মিরিয়াম বলেন,
‘আমি গসিপ ভালোবাসি।’ স্প্যানিশ ভাষায় ‘চিসমোসা’
বলতে গসিপপ্রিয় বা পরচর্চাকারী নারীকে বোঝায়।
আশপাশে
কী ঘটছে, কে কার সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছেন, কার সংসারে সমস্যা চলছে কিংবা প্রতিবেশীদের
মধ্যে কোথায় ঝগড়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে নজর রাখেন মিরিয়াম। পরে এসব
তথ্য আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন তিনি।
প্রতিবেশীদের
সম্পর্কে ছোটখাটো তথ্যের জন্য কয়েক হাজার কলম্বিয়ান পেসো নেন মিরিয়াম। তবে কোনো খবর
সংবেদনশীল কিংবা বিস্তারিত হলে তার দামও বেড়ে যায়। তিনি জানান, একবার এক ব্যক্তি তার
স্ত্রী ভ্রমণে গেলে তার পরকীয়ার বিষয়টি গোপন রাখার বিনিময়ে তাকে ৭ লাখ কলম্বিয়ান পেসো
দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
মিরিয়ামের
দাবি, এই কাজের ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। বাড়ির বাইরে সময়
কাটানোর সময় তিনি আশপাশের মানুষের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করেন এবং তাদের কথাবার্তাও শোনেন।
তথ্য ভুলে না যাওয়ার জন্য সঙ্গে একটি নোটবুক রাখেন তিনি। তার মতে, এতে বিভিন্ন ঘটনার
বিবরণ নির্ভুলভাবে মনে রাখা যায় এবং ক্রেতাদের কাছে দেওয়া তথ্যের পক্ষে প্রমাণ দেখানোও
সহজ হয়।
সাক্ষাৎকারের
সময় নিজের বাড়ির একটি বোর্ডও দেখান মিরিয়াম। সেখানে প্রতিবেশীদের ছবি এবং তাদের সম্পর্কে
বিভিন্ন তথ্য লেখা রয়েছে। কিছু ছবিতে পরকীয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃশ্য রয়েছে বলেও দাবি
করেন তিনি। তার কাছে এসব ছবি ও তথ্য পাড়ার বিভিন্ন ঘটনার একটি ব্যক্তিগত আর্কাইভের
মতো।
মিরিয়াম
জানান, গসিপ বিক্রির এই ব্যবসা থেকে আয় করে তিনি শুধু দৈনন্দিন খরচই চালান না, দুটি
বাড়িও কিনতে সক্ষম হয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি একটি বড় মাটির ব্যাংকও দেখান, যেখানে কয়েন
ও কাগজের নোট রাখা ছিল। তার দাবি, গসিপ বিক্রি করে সাধারণত যে অর্থ আয় করেন, সেগুলোই
সেখানে জমা করেন।
নিজের
কাজের বিষয়ে বেশ সিরিয়াস মিরিয়াম। তার দাবি, প্রমাণ ছাড়া তিনি কোনো তথ্য ছড়ান না। পাড়ায়
প্রায় সবকিছু সম্পর্কে জানেন—এমন পরিচিতির কারণে তার ডাকনাম হয়েছে
‘গসিপের রানি’। নিজের কাজ নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গসিপই আমার জীবন,
এটা আমার রক্তে মিশে আছে।’
তবে
মিরিয়ামের এই কর্মকাণ্ডে সবাই যে সন্তুষ্ট, তা নয়। কয়েকজন প্রতিবেশী তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত
গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের আপত্তি সত্ত্বেও মিরিয়ামের দাবি, যারা
একসময় তার কাজের সমালোচনা করতেন, তারাই পরে আশপাশে কী ঘটছে জানার কৌতূহল থেকে আবার
তার কাছে ফিরে আসেন।
মিরিয়াম
আরও জানান, অন্য কয়েকজনও তার এই ব্যবসার ধরন অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন। তবে দীর্ঘদিনের
অভিজ্ঞতা এবং মানুষের কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তা থেকে তথ্য সংগ্রহের দক্ষতার কারণে নিজের
অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে সুফল পাওয়ায় ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০২৪’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আর বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, প্রথম যখন আইনটি প্রণয়ন করা হয়, তখন একটির মেয়াদ ছিল দুই বছর। পরবর্তীতে কয়েক ধাপে সেটার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ আইনটি মন্ত্রিসভায় তুলেছিল। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধাপে ধাপে মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে স্থায়ী আইন হিসেবে নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এটিকে আর নতুন করে মেয়াদ বাড়াতে হবে না।
আইনটিতে কোনো পরিবর্তন আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনটি পুরোনো। আগে যা ছিল, তা-ই থাকবে। কেবল মেয়াদ দুই বা তিন বছর না বাড়িয়ে স্থায়ী করা হয়েছে।
আগে ছিল দুই বছর পর পর মেয়াদ বাড়ানো হবে, তাহলে কেন স্থায়ী করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে মাহবুব হোসেন বলেন, জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এ আইনটির অনেক সুফল আছে, এ আইনটির কারণে এই ক্ষেত্রে তাদের তরফ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খুব কাজে লেগেছে, এজন্য তারা আইনটি কন্টিনিউ করতে চাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন


বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)গত ৩১ মার্চ বেসরকারি
স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলো
এ ধাপে এবার মোট ৯৬ হাজার ৭৩৬ পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে
স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪৩ হাজার ২৮৬ পদে এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৫৩ হাজার
৪৫০ পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আজ বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগের
আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন গ্রহণ চলবে ৯ মে পর্যন্ত। আর ১০ মে রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদনের
ফি দেওয়া যাবে।
অনলাইনে আবেদন ফি দেওয়া সংক্রান্ত নিয়ম টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড
এর http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে এবং এনটিআরসিএ এর www.ntrca.gov.bd ওয়েবসাইটে
স্বতন্ত্রভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারিকৃত
সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে। প্রার্থীকে কেবলমাত্র
তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত বিষয় সংশ্লিষ্ট পদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে
পারবে।
কিন্তু আবেদনকারী মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে চূড়ান্ত সুপারিশ বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারী প্রার্থীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে ৩৫ বছর বা
তার কম হতে হবে।
প্রত্যেক আবেদনকারী নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী একই পর্যায়ে (স্কুল/কলেজ) একটি মাত্র
আবেদন করতে পারবেন। একজন প্রার্থী শূন্য পদের তালিকা থেকে তার আবেদনে সর্বোচ্চ ৪০টি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পছন্দ দিতে পারবেন। এই পছন্দ প্রদানের পর কোন প্রার্থী যদি তার
পছন্দ বহির্ভূত দেশের যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে ইচ্ছুক হন তবে তাকে
e-Application ফরমে প্রদর্শিত Other Option নামক বক্সে Yes Click করতে হবে। যদি ইচ্ছুক
না হন তবে No Click করতে হবে।
কোনো প্রার্থীর যদি স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ের সনদ থাকে এবং তিনি যদি উভয়
পর্যায়ের পদে আবেদন করেন তবে প্রথমে তাকে কলেজ পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। কলেজ পর্যায়ে
নির্বাচিত না হলে স্কুল পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। কলেজ পর্যায়ে নির্বাচিত হলে স্কুল
পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে না।
সব আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত এক হাজার টাকা ফি প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত
ফি পরিশোধ না করলে আবেদনটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
তবে যারা একবার ইতিমধ্যে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা পরবর্তীতে আর দেশের কোন
স্কুলে (এমপিওভুক্ত/ইনডেক্সধারী) সমপদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন না।
তবে স্কুল পর্যায়ে যদি কোনো নিবন্ধন সনদধারী (এমপিওভুক্ত/ইনডেক্সধারী) প্রাপ্ত
প্রার্থীর কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ থাকে এবং তিনি যদি কলেজ পর্যায়ে এমপিওভুক্ত
না হন তবে তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত কলেজ পর্যায়ের পদে ও প্রতিষ্ঠানে আবেদন
করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


চীনের
মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকং-এ অবস্থানরত শেনচৌ-২৩ মিশনের তিন নভোচারী মহাকাশে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক
পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন।
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ হলো- অণুমাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে ধান চাষের যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন তারা।
এই তিন নভোচারী হলেন চু ইয়াংচু, চাং চিইউয়ান ও লাই খা-ইং।
গেল
২৪ মে উৎক্ষেপণ হওয়া শেনচৌ-২৩ মহাকাশযানে ধানের বীজসহ বিভিন্ন গবেষণা উপকরণসহ থিয়ানকং-এ
পাঠানো হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় পরিচর্যার পর নভোচারীরা প্রথম ধাপের ধানের নমুনা
সফলভাবে সংগ্রহ করেছেন।
এই
গবেষণার লক্ষ্য হল- মহাকাশে ‘বীজ থেকে বীজ, আবার বীজ’—এভাবে
ধানের দুটি পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অণুমাধ্যাকর্ষণ ধানের জিনগত
স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা বের করা।
এ
ছাড়া নভোচারীরা মহাকাশ চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলোক পরিবেশের প্রভাব, জরুরি উদ্ধার মহড়া
এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি
সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদী মানব অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন


এইচএসসি
ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ (২৬নভেম্বর)প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় কেউ ফেল করলে অথবা কাঙ্ক্ষিত
ফল না পেলে, তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন সোমবার(২৭নভেম্বর)
থেকে শুরু হবে। যা চলবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
শুধুমাত্র এসএমএসের মাধ্যমে এই ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।
মন্তব্য করুন


সাম্প্রতিক
বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে প্রাথমিকভাবে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ
২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়, যেখানে
ক্ষতির পরিমাণ ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা।
চট্টগ্রাম
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,
রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে প্রাণিসম্পদ খাত
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন
অনুযায়ী, বন্যায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪২টি গবাদিপশু এবং ১০ হাজার ৯৯১টি খামার। জেলাভিত্তিক হিসাবে
কক্সবাজারে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা, রাঙামাটিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা,
খাগড়াছড়িতে ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা এবং বান্দরবানে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত
খামারগুলোর মধ্যে ৪ হাজার ৭৫৬টি গবাদিপশুর খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং
৬ হাজার ২৩৫টি হাঁস-মুরগির খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া ৯১০ টন দানাদার পশুখাদ্যে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড়ে
২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাসে ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকার
ক্ষতি হয়েছে। মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার
৭৪০ টাকা।
শুধু
চট্টগ্রাম জেলাতেই ১৫টি উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ২১৮টি গবাদিপশুর খামারে ১২ কোটি
৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার ৬৭৪টি হাঁস-মুরগির খামারে ১৭ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার
টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১৬২ টন পশুখাদ্যে ৯২ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৬ হাজার ৯৬০ টন ঘাসে
৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিতে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার ১৪০ টাকার
ক্ষতি হয়েছে।
বন্যার
পানিতে চট্টগ্রামের ১ হাজার ১ একর, কক্সবাজারের ৭ হাজার ৮৪০ একর, বান্দরবানের ৫১০ একর
এবং রাঙামাটির ১ হাজার ১২৯ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। এতে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল,
৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস মারা গেছে। এর মধ্যে
শুধু চট্টগ্রামেই মারা গেছে ৩৯টি গরু, ৯৫টি ছাগল, ৪২টি ভেড়া, ১ লাখ ৪২ হাজার ১৩৭টি
মুরগি এবং ১ হাজার ৩০০টি হাঁস।
এদিকে
বন্যার কারণে পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০টি গরু, ৪ হাজার ৭৫৫টি মহিষ, ১ লাখ ৬০ হাজার
৮৭টি ভেড়া, ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৮টি মুরগি এবং ৭০ হাজার ৩৭০টি হাঁস অসুস্থ হয়েছে। এ পর্যন্ত
১১ হাজার ৮৯৭টি পশু এবং ৮৪ হাজার ৬৫০টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি
১০ হাজার ৬৮৯টি পশু ও ১৯ হাজার ২৭টি হাঁস-মুরগিকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
এ
ছাড়া বন্যার পানিতে চট্টগ্রামের তিনটি, কক্সবাজারের একটি এবং বান্দরবানের চারটি প্রাণিসম্পদ
কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপপরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল
হাসান বলেন, মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। তবে তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও চলমান থাকায় এ হিসাব পরিবর্তিত
হতে পারে।
মন্তব্য করুন


চপস্টিক
দিয়ে ১ মিনিটে ৩৭টি
ভাত খেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন ২৪ বছর বয়সী
বাংলাদেশি তরুণী সুমাইয়া খান। ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম লেখাতে পেরে সুমাইয়া খুব খুশি।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম ছিল, প্রতিবার কেবল ১টি করে ভাতের দানাই মুখে তোলা যাবে। চপস্টিকে একটির বেশি ভাত তুললেই রেকর্ড করার প্রয়াস বাতিল বলে গণ্য হবে।
এর আগে বাংলাদেশের আরেক তরুণী নুসরাত জাহান নিপা এক মিনিটে চপস্টিক দিয়ে ২৭টি ভাত খেয়ে রেকর্ড করেছিলেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে সুমাইয়া বলেন, এটা অবিশ্বাস্য। দারুণ অনুভূতি। আর আমার আশপাশের সবাই আমাকে নিয়ে গর্বিত। এটা আসলেই দুর্দান্ত। আমি সম্মানিত, আনন্দিত। রামেন আমার খুবই পছন্দের খাবার। কোরিয়ান সংস্কৃতিও আমাকে খুব টানে। ফলে আমার সঙ্গে সব সময় চপস্টিক রাখতে শুরু করি। এর পর থেকে প্রায় সব ধরনের খাবার খাই চপস্টিক দিয়ে। আর যেহেতু আমি বাংলাদেশি, তাই ভাত খাই প্রতিদিনই।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম
সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বিয়ে করেছেন।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
হাসনাতের একাধিক বন্ধু ও বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা একাধিক সমন্বয়ক বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসনাত বিয়ে করেছেন, এটি নিশ্চিত করে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন অ্যাকটিভিস্ট আব্দুল্লাহ হিল বাকী, সমন্বয়ক
তারিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদারসহ অনেকেই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক
সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় হাসনাতের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে ঘরোয়া আয়োজনে হাসনাত আবদুল্লাহর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। হাসনাতের স্ত্রীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী।
সারজিস আলম হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে
ছবি শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফেসবুকে। তিনি লিখেছেন, আল্লাহ পৃথিবীতে আমাদের জন্য
যা দিয়েছেন তার সবই নেয়ামত। তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম নেয়ামত হচ্ছে একজন নেককার স্ত্রী।
আজ থেকে তুমি তেমনই একজন স্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করছো।
হাসনাত আব্দুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র তিনি।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে
আহত রকিবুল সরদার (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ভোর ৬টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু
হয়।
নিহত রকিবুল মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর এলাকার দক্ষিণ কামাইপুর
গ্রামের কালু সরদারের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, রকিবুলের পরিবারে স্ত্রী,
২ মেয়ে, বাবা, ৩ ভাই ও ১ বোন রয়েছে। তিনি ঢাকার উত্তর বাড্ডায় একটি ফার্নিচারের দোকানে
কাজ করতেন। দরিদ্র পরিবারের মাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। তার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল ছিল
পুরো পরিবার।
গত ২০ জুলাই বিকালে উত্তর বাড্ডা এলাকায় ছাত্র-জনতার একটি মিছিল বের
হলে আ. লীগের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মিছিল দেখতে বাসা থেকে রকিবুল
রাস্তায় বের হয়। এসময় দুই পক্ষের মিছিলের মাঝখানে পড়ে যান তিনি। তখন হঠাৎ পুলিশের একটি
ছোড়াগুলি রকিবুলের পেটের সামনে দিয়ে ঢুকে পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়। মুহূর্তেই মাটিতে
লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী শাবনুর বেগম বলেন, আমার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল ছিল আমাদের
সংসার। এখন আমাদের সংসার কে চালাবে। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। একটি গুলিতে সব স্বপ্ন
আজ মিথ্যা হয়ে গেল। এখন আমরা কীভাবে বাঁচবো।
নিহতের মামা এইচ এম মশিউর রহমান বলেন, রকিবুল ঢাকায় সোপা কাপড় সেলাইয়ের
কাজ করে তার সংসার চালাতো। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের ধাওয়া পালটা ধাওয়ার মধ্যে
থেকে একটি গুলি এসে লেগে রকিবুলকে শেষ করে দিল। তার সংসারে বাতি আজ নিভে গেল।
মন্তব্য করুন


পটুয়াখালীতে
দুটি পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তির নামে মামলা করা হয়েছে। রবিবার
(২৬ জুলাই) পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বাদী হয়ে
মামলাটি করেন।
পটুয়াখালী
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের আদালত মামলাটি
সরাসরি গ্রহণ করে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার
আসামিরা হলেন দক্ষিণ বাদুরা এলাকার মো. মঞ্জু হাওলাদার (৫০) ও মো. জহির হাওলাদার (৪৫)।
মামলা
সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা
স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের চেড়া ও
লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে
পড়লে বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে আসে।
মামলার
বাদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। পরে যাচাই করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার
অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের
আইনজীবী মো. ইমরান বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আইন
অনুযায়ী এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে নিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে
জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
মন্তব্য করুন


বিভিন্ন
রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা
অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
আজ
শুক্রবার (৯ মে) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে
বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী
কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সাথে
বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে,
তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সকলকে
ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত
সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য,
ইতোমধ্যে সরকার জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রচলিত আইনের অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে
নিষিদ্ধ করেছে।
বিবৃতিতে
আরও বলা হয়, সরকারের পক্ষে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাবেক
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের বিষয়ে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি
ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোভের বিষয়ে সরকার
অবগত। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর
রয়েছে।
মন্তব্য করুন