

প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে এটার স্বীকৃতিও রয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগের অধ্যায় ক্লোজ হয়ে গেছে।
নতুন করে বাংলাদেশে আর আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নাই। কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার
জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলাম সহযোগিতা করছে।'
শনিবার
(১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট
শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব
কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ
জামায়াত ইসলামকে উদ্দেশ্য করে রাশেদ খাঁন বলেছেন, 'জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সংকট।
জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত বা ১১ দলীয় জোট লংমার্চ করছে। এতে দেশে জ্বালানি সংকট
আরও বাড়বে। আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি এই ভাবে লংমার্চ করেন, রাষ্ট্রকে
অশান্ত করেন, তাহলে তো আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে।'
জামায়াত
ইসলামকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার ইঙ্গিত দিয়ে 'রাশেদ খাঁন বলেছেন, 'শেখ হাসিনা
তো অপেক্ষা করছে। জামায়াত কতদিনে রাষ্ট্রকে অশান্ত করে। জামায়াতের ওপর নির্ভর করছে
আওয়ামী লীগ ফিরে আসার। আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে শহিদ আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা
করেছে। সেইভাবে আমাকে আপনাকে হত্যা করবে। আমার কাছে মনে হয় জামায়াত আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে
আনার জন্য এক ধরনের চক্রান্ত করছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ সোচ্চার রয়েছে।'
শহীদ
আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে রাশেদ খাঁন বলেন, 'আবরার ফাহাদের চেতনা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন
হচ্ছে। খুনি হাসিনা এবং শহীদ হাদীর আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারত তার অবস্থান
স্পষ্ট না করলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না। তার মানে কি? বিএনপি
সরকার আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করে। আমরা ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলছি।
অতীতের রাখীবন্ধন ছিন্ন করে আমরা ভারতের সঙ্গে সম্মান এবং মর্যাদার সম্পর্ক গড়তে চাই।'
তিনি
আরও বলেন, 'বিএনপি সরকার আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। কুষ্টিয়ায় শহীদ
আবরার স্টেডিয়ামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে হল করা হয়েছে। শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার
বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে ইনশা আল্লাহ।'
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক
কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
ফারজানা আখতার, কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের
নগরকান্দা উপজেলায় পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর কনের পক্ষের করা ধর্ষণ মামলায়
বরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি
ঘটেছে উপজেলার ডাঙ্গি ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা
সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
সম্প্রতি
ঘটা করে বর-কনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কনে বরের বাড়িতেও যান। তবে কনের বয়স কম হওয়ায় বিয়ের
নিবন্ধন হয়নি মর্মে কথা ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়রা
জানায়, পারিবারিক সম্মতিতে ধর্মীয় রীতি-নীতিসহ সামাজিকভাবে ধুমধাম করে বিয়ে হয় তাদের।
গায়েহলুদ, নাচ-গান, বরযাত্রীসহ পালন করা হয় বিয়ের সব রীতি। তবে হঠাৎ কোনো বিয়েই হয়নি
বলে দাবি করে বসেন কনে ও তার পরিবার। এতে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ এনে দায়েরকৃত মামলায়
কারাগারে যেতে হয়েছে রুমন খন্দকার (২০) নামে এক তরুণকে।
ভুক্তভোগীর
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ মে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী
একই উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে মিলা আক্তারকে
(১৫) বিয়ে করেন রুমন খন্দকার। সামাজিক অনুষ্ঠান করে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আগে
কনের বাড়িতেও আয়োজন করা হয়েছিল গায়েহলুদের মতো অনুষ্ঠান। এরপর ৪০ জন বরযাত্রী নিয়ে
যাওয়া হয় কনের বাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই পরিবারের স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের
উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তবে
কনের বয়স কম হওয়ায় নিবন্ধন করা হয়নি এবং দুই পরিবারের সম্মতি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক হলে
নিবন্ধন করে নেওয়া হবে। পরে কনেকে বিয়ের রঙে সাজিয়ে আয়োজনের মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হয় বরের
বাড়িতে। সেই বিয়ের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতির প্রমাণাদি ও অনুষ্ঠানের ভিডিও সাংবাদিকদের
সরবরাহ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবারটির
ভাষ্য, বিয়ের দুদিন পর সামাজিক রীতি অনুযায়ী কনের বাড়িতে গেলে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
বর
রুমনের মামা হাফিজুর রহমান বলেন, আমার ভাগনের সঙ্গে বাসররাতে ওই মেয়ের মনোমালিন্য হয়।
ফিরানিতে গিয়ে ওই মেয়ে আর বরের বাড়িতে আসতে চায় না। পরে জানতে পারি অন্য একজনের সঙ্গে
ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরপরও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ফিরিয়ে
আনা হয়। কিন্তু কয়েক দিন পর আবারও বাড়িতে ফিরে গেলে সে আর আসেনি, মেয়েটির পরিবারও আমাদের
সঙ্গে কথা বলতে চায়নি।
তিনি
বলেন, এর প্রায় এক মাস পর গত ২ জুলাই গভীর রাতে হঠাৎ রুমনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়
নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরের দিন থানায় গিয়ে জানতে পারি একটি ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেফতার
করা হয়েছে। ওই মামলায় আদালতে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই থানায় জহুরন খাতুন (৫২) নামে এক নারী মামলাটি
দায়ের করেন। জহুরন বিয়ে হওয়া কিশোরীর সম্পর্কে দাদি।
মামলায়
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন বিকাল ৫টায় বাড়ির পাশ থেকে তার নাতনি মিলাকে একটি মাইক্রোবাসে
করে অপহরণ করে নিয়ে যান রুমন। এরপর রুমন খন্দকারদের বাড়িতে রেখে রাতভর ধর্ষণ করা হয়
এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়। পরদিন সকালে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে
এসে পরিবারকে ঘটনাটি খুলে বলে মিলা। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান
স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওই
কিশোরী ও মামলার বাদী জহুরন খাতুনের দাবি, কোনো বিয়েই হয়নি। এছাড়া মামলার এজাহারে দেওয়া
বর্ণনা দিয়ে ধর্ষণের বিচার দাবি করেন। তবে ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে
যান।
নগরকান্দা
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, গত ২ জুলাই জহুরন খাতুন তার নাতনিকে
নিয়ে থানায় আসেন। তাদের কাছে ছিল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের
চিকিৎসার ছাড়পত্র। যেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।
তবে
ওই এজাহারে বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকে কিছু জানানোও হয়নি বলে দাবি করে
তিনি বলেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় সরকারিভাবে বিয়ের কোনো সুযোগই নেই। সামাজিক
বিয়ে আইনগত বৈধতা নেই। এছাড়া কেউ যদি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে এসে অভিযোগ করে, সেক্ষেত্রে
গুরুত্ব দিয়েই মামলা নিতে হয়। এক্ষেত্রে সেটি হয়েছে।
রাসুল
সামদানি আজাদ আরও বলেন, এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলামকে।
তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ফরিদপুর
জজকোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের দেশে দুই পরিবার ও ছেলে-মেয়ের সম্মতিতে
অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এখানেও তেমনটা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর সংসার হয়েছে তাদের।
তবে, আইনের দৃষ্টিতে এই বিবাহ স্বীকৃত নয়। যার কারণে পারিবারিক কলহের জেরে ধর্ষণের
মতো অভিযোগে ছেলেটিকে কঠিন মামলার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক।
নগরকান্দা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা
হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রথমে তারা অবৈধ কাজ করেছে, বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন
করেননি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটাকে ব্যবহার করেছেন।
মন্তব্য করুন


শীতকে
উপেক্ষা করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় নারী-পুরুষসহ সকল বয়সী মানুষের
ঢল নেমেছে। কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউবা মাটিতে বসে উৎসবমুখর পরিবেশে উপভোগ করছেন ঘোড়দৌড়
প্রতিযোগিতা। গ্রামের একটি ফসলের মাঠে অতিথিদের বসার স্টেজ। তার সামনে মাঠের চারপাশে
দড়ি দিয়ে গোল চত্বর চিহ্নিত করে, তার চারপাশ দিয়ে ঘুরছে ঘোড়ার দল। মাঠের এক পাশে নানা
রকম খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
মঙ্গলবার
পড়ন্ত বিকালে এমন চিত্র দেখা যায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর
গ্রামে। সেখানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
হয়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ফুলবাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে তিনটি
গ্রুপে ২০ জন খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ ঘোড়া নিয়ে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
দুপুরের পর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ওই এলাকায়
তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। খেলা দেখতে পেরেও খুশি দর্শকরা।
প্রধান
অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান
ফিজার এমপি। খেলা শেষে এ প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীদের
মাঝে পুরস্কার দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


চীনের
‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।
দেশটির বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লির জন্য তৈরি সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকের গুরুত্বপূর্ণ
পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। এই চুম্বকই ভবিষ্যতের ফিউশন শক্তি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনা
বিজ্ঞান একাডেমির প্লাজমা পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটে ৫৮২ টন ওজনের এই সুপারকন্ডাক্টিং
চুম্বকের মূল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এটি এমন একটি চুম্বক, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও
বেশি উত্তপ্ত প্লাজমাকে চুল্লির দেয়ালে স্পর্শ না করিয়ে স্থির রাখতে সাহায্য করবে।
চীনের
‘কৃত্রিম সূর্য’ হলো এমন একটি পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লি,
যার মাধ্যমে সূর্যের মতো নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়া পৃথিবীতে পুনরায় তৈরি করার চেষ্টা
করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে পরিষ্কার ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা।
নিউক্লিয়ার
শক্তির দুটি প্রধান প্রক্রিয়া হলো ফিশন ও ফিউশন। ফিশনে ইউরেনিয়ামের মতো ভারী পরমাণু
ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে ফিউশনে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো হালকা পরমাণু একত্রিত
হয়ে বিপুল শক্তি তৈরি করে।
বিজ্ঞানীরা
পরীক্ষাগারে ফিউশন বিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ
উৎপাদন করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
সূর্যের
কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় চাপ
পরমাণুগুলোকে কাছাকাছি এনে ফিউশন ঘটায়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন মহাকর্ষ নেই।
তাই
বিজ্ঞানীরা প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ান, যাতে
হাইড্রোজেনের পরমাণুগুলো দ্রুত সংঘর্ষে ফিউশন তৈরি করতে পারে। কিন্তু এত উত্তপ্ত প্লাজমাকে
কোনো সাধারণ বস্তু দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব নয়।
এই
কারণে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে প্লাজমাকে একটি অদৃশ্য খাঁচার মধ্যে আটকে
রাখা হয়।
চীনের
তৈরি টোকামাক আকৃতির ফিউশন চুল্লিতে ১৬টি বিশাল ডি-আকৃতির সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বক ব্যবহার
করা হবে। এগুলো ৬.৫ টেসলা শক্তির চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করবে, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের
চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী।
প্রতিটি
চুম্বকের আকার প্রায় ২১ মিটার বাই ১২ মিটার এবং ওজন ৫৮২ টন। এটি এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে
বড় সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন চুম্বকগুলোর একটি।
একদিকে
১০ কোটি ডিগ্রি, অন্যদিকে মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি
এই
প্রযুক্তির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো একই চুল্লিতে দুটি বিপরীত তাপমাত্রা বজায় রাখা।
ফিউশন
চুল্লির ভেতরে প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও সুপারকন্ডাক্টিং
চুম্বককে রাখতে হয় প্রায় মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এটি সম্ভব হয় বিশেষ
শূন্যস্থান নিরোধক ও অতিশীতলীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে।
চীনের
এই চুম্বকের বিশেষত্ব হলো—এর সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দেশটির নিজস্ব
প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ফিউশন গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের
ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে বেইজিং।
এর
আগে চীনের পরীক্ষামূলক উন্নত সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক (ইস্ট) যন্ত্র ১০ কোটি ডিগ্রি
সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমা ১ হাজার ৬৬ সেকেন্ড ধরে রাখার বিশ্ব রেকর্ড করেছিল।
চীনের
লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালে ফিউশন চুল্লির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা এবং ২০৩০ সালের
মধ্যে ফিউশন শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন
বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো মানবজাতির জন্য বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে মোহাম্মদ আজাদ নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আজাদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আজাদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।
এ দিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের স্বজনদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আজাদের সঙ্গে স্ত্রী তানিয়া বেগমের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে আজাদ তার স্ত্রী তানিয়া বেগমের হাত-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বৈদ্যুতিক শক দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়ার মৃত্যু হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। নিহত তানিয়া বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে তার জামাতা মোহাম্মদ আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উঠে আসে।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে বলে
মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মঙ্গলবার
বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ)
সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতের পর সংবাদ
ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন
সাক্ষাৎকালে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে আইপিইউ সেক্রেটারি বলেন,
প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর
দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের
পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে তারা আনন্দিত। গণতন্ত্রের জন্য তাদের দীর্ঘ
সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার
হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা সুগম করা সম্ভব হয়েছে
বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী
আরও বলেন, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি
ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা
এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইপিইউ
সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন এবং এতে শিক্ষা খাতে গৃহীত
বিভিন্ন উদ্যোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায়
অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নেওয়ার মাধ্যমে
দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর করতে নাগরিক সচেতনতা
বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।
নারীর
ক্ষমতায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, নারীদের
জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি
চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নারীদের
আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলেও
জানান তিনি। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২
শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে তার দীর্ঘায়ু,
সুস্থতা এবং গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আজ শুক্রবার
সারাদেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করবে বিএনপি।
এদিন
বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এই দোয়া মাহফিল
অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে,
বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় তার বাসভবনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গুলশানে
তাঁর বাসভবন ফিরোজায় প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়ক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ইসহাক মিয়ার সঙ্গে
সাক্ষাৎ করে তারা কাজ শুরু করেন।
গত
মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় পুলিশ এসকর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন


সিলেট
নগরীর সুবিদবাজার মিয়া ফাজিলচিশত এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহদি আনজুম (১৫) নামে দশম
শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিক্ষার্থীর
'নিজ' হাতে লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার
(৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর থানা পুলিশ ওই এলাকার একটি বাসার
চতুর্থ তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মৃত
মাহদি আনজু ডা. রুলী বিনতে রহিমের ছেলে এবং সিলেট ক্যান্টমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের
শিক্ষার্থী ছিল। পাশাপাশি বিএনসিসি ও স্কাউট কার্যক্রমেও ছিল সক্রিয়।
মাহদির
ওই চিরকুটে ইংরেজিতে লেখা ছিল- আমার মৃত্যুর পর, অনুগ্রহ করে আমার দেহের ময়নাতদন্ত
করবেন না বা এ বিষয়টি নিয়ে বেশি অনুসন্ধান করবেন না। আমি নিজের ইচ্ছাতেই জীবন শেষ
করেছি। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। আর একটি অনুরোধ-যদি সম্ভব হয়, আমার জন্য কোনো
আনুষ্ঠানিক শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করবেন না। আর যত দ্রুত সম্ভব আমাকে ভুলে গিয়ে নিজেদের
জীবন নিয়ে এগিয়ে যান।
পুলিশ
জানায়, অন্যান্য দিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মাহদি। পরদিন সকাল
গড়িয়ে গেলেও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে দরজা ভেঙে
দেখা যায়, ঘরের ভেতরে ঝুলছে তার নিথর দেহ। তাৎক্ষনিক পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ
উদ্ধার করে এবং ওই সময় চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়।
খবর
পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) দেবাশীষ
দাস, বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান।
ওসি
শহিদুর রহমান জানান, পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল
কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। স্কুলছাত্রের মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কয়েক শহিদ পরিবার আজ রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন, আহত ও শহিদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি, আর্থিক সহযোগিতা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আজকের বৈঠকে শহিদ পরিবারের প্রত্যাশার কথা শুনেছেন এবং সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক সারজিস আলম।
মন্তব্য করুন


ব্রাজিলের
হারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।
পরে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান অন্য শিক্ষার্থীরা।
সোমবার
(৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি
এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ
শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী
ও বিভাগের ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান তুষার এবং সহ সভাপতি মাশরুফা
শারমীন এ্যানি।
শিক্ষার্থীরা
জানান, ব্রাজিলের খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর শিউলিমালা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাশরুফা
শারমীন এ্যানি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রক্তচাপ কমে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর তিনি পরপর
পাঁচবার বমি করেন। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে
যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইনজেকশন ও স্যালাইনের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা
দেন। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
এদিকে
একই সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিভাগের ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান তুষার।
তাকেও ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া্ হলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা
দেন। পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনিও সুস্থ রয়েছেন।
এ্যানির
সহপাঠী মাসুম মিয়া বলেন, খেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই এ্যানি খুব ভেঙে পড়েছিল। হঠাৎ মাথা
ঘুরে পড়ে যায়। পরে আমরা দুজনকেই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসা শেষে এখন দুজনই
আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ।
বিশ্বকাপের
শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে হতাশার আবহ
তৈরি হয়।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘদিন
ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ঢালিউডের আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান এবার হাজির হচ্ছেন
একেবারেই নতুন রূপে। সেখানে বিভিন্ন মঞ্চ অনুষ্ঠানে অভিনয়, নাচ কিংবা ডিগবাজির মাধ্যমে
নানা সময়ে আলোচনায় থাকলেও এবার তিনি নজর কেড়েছেন বড় পরিসরের একটি মিউজিক ভিডিওর মডেল
হয়ে। ‘শিকারি’ শিরোনামের এই গানটি বৃহস্পতিবার লুডু মিউজিক ইউটিউব চ্যানেলে
উন্মুক্ত হয়েছে।
বেশ
কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটির জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন চলচ্চিত্র
শিল্পী সমিতির সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক। গানটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি
জানান, বিলাসবহুল স্পোর্টসকার, দৃষ্টিনন্দন মোটরসাইকেল, রুশ মডেল এবং হলিউড সিনেমার
মতো লোকেশনে এর দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। এটি তার ক্যারিয়ারে সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্নমাত্রার
একটি অভিজ্ঞতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিউজিক
ভিডিওটির নির্মাণশৈলী নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী জায়েদ খান জানান, দর্শক সাধারণত যে ধরনের
বিনোদন খোঁজেন, তার চেয়ে অনেক উন্নত মানের আয়োজন রয়েছে এতে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ প্রবাসজীবনে
হলিউড ঘরানার কাজের যে একটি অপ্রাপ্তি ছিল, এই মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে তা পূরণ হয়েছে।
চলচ্চিত্রের একটি গানের পেছনে যে পরিমাণ সময় ও নান্দনিক লোকেশন প্রয়োজন হয়, তার থেকেও
বেশি যত্ন নিয়ে এর চিত্রায়ন করা হয়েছে নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণীয়
বিভিন্ন স্পটে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশে ও প্রবাসে থাকা দর্শক গানটি দেখে দারুণ
উপভোগ করবেন।
‘শিকারি’
গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সজীব দাস ও সানজিদা রিমি। গত মাসে দৃশ্যধারণ সম্পন্ন হওয়া এই
গানে জায়েদ খানের সঙ্গে দেশি-বিদেশি মোট সাতজন মডেল পারফর্ম করেছেন। এতে বাংলাদেশের
মডেল ইয়াসমিনের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিনা ও মারিয়ানা এবং রাশিয়ার জুলিয়া,
কারলা, কামিলা ও মিলানা। মিউজিক ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন বদরুদ্দোজা সাগর এবং কোরিওগ্রাফির
দায়িত্ব সামলেছেন রোহান বিল্লাল।
মন্তব্য করুন