

নৈশভোজে
মুরগির মাংসের টুকরা বেশি খেয়ে ফেলায় তর্কের জেরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
উঠেছে আরেক বন্ধুর বিরুদ্ধে। ভারতের কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।
এনডিটিভির
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ব্যক্তির নাম সীতারাম। তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের পিলিভিত জেলার
কবিরগঞ্জ গ্রামে। সীতারাম মুদালাগি এলাকার প্রিয়া স্টিল কম্পানিতে কাজ করতেন। চাকরিসূত্রে
মুদালাগির হুনাশ্যাল পিজি গ্রামে বাস করতেন তিনি। অভিযুক্ত অরুণ কুমার একই গ্রামের
বাসিন্দা এবং সীতারামের সঙ্গে ওই কম্পানিতে কাজ করতেন।
প্রতিবেদনে
জানানো হয়, দুই বন্ধু একসঙ্গে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। এ সময় একজন অন্যজনের চেয়ে বেশি
মুরগির মাংসের টুকরা খাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরে তা উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডায়
রূপ নেয়।
একপর্যায়ে
অরুণ কুমার একটি ছুরি বের করে সীতারামের বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অরুণ
কুমার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আহত সীতারামকে গোকাক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে
যান তিনি। তবে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্য তিনি দাবি করেন, সীতারাম একটি ভবন থেকে
পড়ে আহত হয়েছেন। কিন্তু তার এই বয়ানে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ
হাসপাতালে পৌঁছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অরুণ কুমারকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি
সীতারামকে ছুরিকাঘাত করার কথা স্বীকার করেন।
এদিকে
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সীতারামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা
করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে পোষ্য (ওয়ার্ড) কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বা প্রকাশিত মেধাতালিকায় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পোষ্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট পোষ্য কোটা বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
যদিও শিক্ষার্থীদের ক্লাস ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তবুও পোষ্য কোটায় কতটি আসনে ভর্তি নেওয়া হয়েছে, আবেদন ও যাচাই-বাছাই কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে এসব বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ও মেধাতালিকাতেও এ বিষয়ে আলাদা কোনো তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি।
এর আগে, পোষ্য কোটা বহাল রাখার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজি ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শশাংঙ্খ শেখর সরকার ও বিচারপতি উম্মে রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত পূর্বে জারিকৃত রুল যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। রুলে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সন্তান ও স্বামী/স্ত্রীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ওয়ার্ড কোটা বহাল রাখা যৌক্তিক এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিজীবী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, “যুগ যুগ ধরে যেভাবে পোষ্য কোটা চালু ছিল, আদালতের রায় অনুযায়ী তা সেভাবেই বাস্তবায়ন করতে হবে।” একই সঙ্গে ৩১ মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানানো হয়। চিঠিতে পূর্বের মতো ১৬৬টি আসন বহাল রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে বাস্তবে কতজন শিক্ষার্থী এ কোটায় ভর্তি হয়েছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই পোষ্য কোটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আদালত ১৬৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তির কথা উল্লেখ করলেও, গত বছরের মতো এবারও ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে এ কোটায় ভর্তি নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত মোট কতজন ভর্তি হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।”
চবি প্রতিনিধি
মন্তব্য করুন


রোববার (২১ জানুয়ারি) স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক ড. মো. সোহেল রানার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে ,দেশে ব্যবহৃত অবৈধ মোবাইল ফোন শিগগির নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে ।
এতে বলা হয়, বিটিআরসি জাতীয় পরিচিতি ও নিবন্ধিত সিম কার্ডের সঙ্গে ট্যাগিং করে প্রতিটি মোবাইল নিবন্ধনের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ বা প্রদান নিশ্চিত করা, অবৈধভাবে উৎপাদিত বা আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এনইআইআরের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপে শুরু হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত সম্ভব হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের চুরি ও অবৈধ ব্যবহার রোধ হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এনইআইআরের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করে শিগগির অবৈধ মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে বৈধতা যাচাই করে নিতে হবে।
বিটিআরসি জানিয়েছে ,মোবাইল কেনার আগে মেসেজ অপশন থেকে KYD ও ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর লিখে (উদাহরণ স্বরূপ: KYD 123456789012345) ১৬০০২ নম্বরে প্রেরণের মাধ্যমে হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করা যাবে ।
১৬ জানুয়ারি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দেশে অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন ।
ওইদিন তিনি বলেন, দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। মোবাইল ফোনের ডেটাবেজ এবং অটোমেটিক রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা বিটিআরসির রয়েছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
আনোয়ারা উপজেলায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী
এক শিশুও গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার
(১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া
পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত
দুজন হলেন, এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশুটির নাম পিয়াস
বড়ুয়া (৫)।
তাদের
বাড়ি চেনামতি বড়ুয়া পাড়া বৌদ্ধবিহার মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। জানা গেছে, পরিবারের কর্তা
ব্যক্তি সুজন বড়ুয়া। তিনি চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তাকর্মী
হিসেবে কর্মরত।
প্রতিবেশী
সুরভী বড়ুয়া জানান, রাতে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গিয়ে দেখা
যায়, ঘরের দরজার সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াস রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরের
ভেতরে পাওয়া যায় প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত দেহ।
স্থানীয়
লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে ঘটনাস্থলেই এনি বড়ুয়ার মৃত্যু
হয়। আহত পিয়াসকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নিহত
এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া দাবি করেছেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার
আর্থিক লেনদেন ছিল। তার ধারণা, ওই লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে এসে হামলার
ঘটনাতে পারে।
সুজন
বড়ুয়া বলেন, আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।
তিনি
আরও দাবি করেন, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী হামলাকারী হিসেবে লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র নাম
উল্লেখ করেছিলেন।
আনোয়ারা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় মা
ও মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং এক শিশু আহত হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য
মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি
বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান
শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে
আগামী কয়েক দিন বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে একই সময়ে দেশের অন্তত ১৩ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত
থাকতে পারে।
বুধবার
(১৭ জুন) আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আগামী
২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং
রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও
বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি
থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা
প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এ
সময় মানিকগঞ্জ, নীলফামারী, রাজশাহীসহ খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে
যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
পরবর্তী
কয়েক দিনের পূর্বাভাস, দেশের বেশিরভাগ বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের
সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে
পারে, তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত।
একই
ধরনের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে, কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। দেশের অনেক স্থানে
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকবে।
আবহাওয়া
অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের লড়াই এখনো চলমান রয়েছে। আমরা
অবশ্যই আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করব এবং মাতৃভূমিকে নতুন করে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু
করে দাঁড় করাব।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব
পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় যুব দিবস- ২০২৪ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তরুণ, যুবক ও ছাত্ররা
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে একটি নতুন পথ দেখিয়েছেন। পুরো পৃথিবী এখন দেখতে
চায়, এই তারুণ্য, এই যুবশক্তি বাংলাদেশকে এরপর কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদী। আমরা
বলি, তারুণ্য হবে দেশের চালিকাশক্তি। আমরা বলেছিলাম বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন
আমরা দেখছি। সেই স্বপ্ন আজ বাংলাদেশের সবাই দেখছে। এবং তরুণদের এ স্বপ্ন বাংলাদেশে
পূরণ হবে, সেটিই সবার প্রত্যাশা। যুব অধিদপ্তর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনেক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আমরা আশা করব, নতুন বাংলাদেশে সেই ভূমিকা তারা পালন করবে।তরুণরা
বাংলাদেশকে নতুন করে পথ দেখিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে তরুণরা নেতৃত্বে আসবেন,
সেটিই সবার প্রত্যাশা। রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি সব কিছুতেই তরুণরা নেতৃত্বে আসার জন্য
প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যে প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, স্বপ্ন দেখিয়েছে, সেই প্রজন্ম স্বপ্নও
পূরণ করতে পারে, তা প্রমাণ করতে হবে। আমাদের এ সামষ্টিক অগ্রযাত্রায় সবার সহযোগিতা
পাব, সবাই তরুণদের জায়গাটি করে দেবেন, আমাদের এমন প্রত্যাশা থাকবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সভাপতিত্বে
ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য
দেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম
ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সফল যুব উদ্যোক্তাদের
হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমেছে। মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বৃহস্পতিবার (২ মে) বিইআরসি হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো: নূরুল আমিন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ নতুন দাম কার্যকর হবে। এপ্রিল মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৪৪২ টাকা।
প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিইআরসি প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা দাম ১৬ টাকা ৮ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী সাড়ে পাঁচ থেকে ৪৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারগুলোর দাম কমেছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রীর
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা
মাহদী আমিন বলেছেন, দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না। বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা
উন্নয়ন এবং সুনাগরিক তৈরির অন্যতম সূতিকাগারে পরিণত হবে।
রোববার
(৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর
এই উপদেষ্টা বলেন, গত সাড়ে তিন মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে,
তার ভিত্তি প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী ভিশন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি
ম্যানিফেস্টো। আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চশিক্ষাকে শুধু সনদ নির্ভর না করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক
এবং জীবনঘনিষ্ঠ করতে হবে।
তিনি
বলেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ,
ক্যারিয়ার সেন্টার ও জব প্লেসমেন্ট কার্যক্রম চালু, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কলাবোরেশন
শক্তিশালীকরণ, এপ্রেন্টিসশীপ ও ইন্টার্নশীপের সুযোগ বৃদ্ধি, ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা
ও তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’
কর্মসূচি, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক
কর্মকাণ্ড হিসেবে খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব
উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটি যোগ্য, দায়িত্বশীল এবং আত্মনির্ভরশীল তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা।
প্রতিমন্ত্রী
পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্বে রয়েছেন।
মাহদী
আমিন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
অতি স্বল্প সময়ে যে অগ্রগতি ও অর্জনের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে, তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই পরিবর্তনের বার্তা নতুন আশার সঞ্চার করছে এবং উচ্চশিক্ষা
ব্যবস্থায় ইতিবাচক সংস্কারের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ধারাবাহিকতা বজায়
থাকলে এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
তিনি
বলেন, প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, নির্বাচিত সরকারের কাছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন এতো
গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতির মধ্যে। দেশের সর্বাধিক শিক্ষার্থী, অর্থাৎ ৩০ থেকে ৪০ লাখ ছাত্র-ছাত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ২,২৮৫টি কলেজে অধ্যয়ন করে। নারীর ক্ষমতায়নকে প্রস্ফুটিত
করে, কেবল এই বছরে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছে ৪ লক্ষেরও বেশি ছাত্রী। প্রতিবছর সর্বাধিক
সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বের হয়ে আসে। এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে,
সেই গ্র্যাজুয়েটদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান খুঁজে পায়না, ফলে শিক্ষিত বেকারত্বের বেড়াজালে
বন্দি হয়ে পড়ে। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তন মানে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন
নয়; বরং সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং লক্ষ-লক্ষ পরিবারের
ভাগ্যের পরিবর্তন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো জাতির বিনির্মাণ ও অগ্রগতির প্রশ্ন।
মাহদী
আমিন বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানীকেন্দ্রিক কোনো
প্রতিষ্ঠান নয়। এটি সারা দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক। শহর থেকে
মফস্বল, জেলা থেকে উপজেলা, একদম তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ
মানুষের ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।
তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালীকরণ মানে
প্রধানমন্ত্রীর যে রাজনৈতিক দর্শন, অর্থাৎ তৃণমূলের শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সম্ভাবনার
বিকাশ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথকে সুদৃঢ়
করা।
প্রধানমন্ত্রীর
এই উপদেষ্টা বলেন, জনগণের সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট সমস্যার দ্রুত সমাধান
এবং মানসম্মত শিক্ষার সম্প্রসারণে বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরীক্ষা ও ফলাফল প্রক্রিয়ায় ডিজিটাইজেশন, এবং বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ
ক্যাম্পাসে সেশনজট অপসারণকে প্রাধান্য দিয়ে একটি গৌরবময়, আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ে
রূপান্তরের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যার ইতিবাচক ফল শিগগিরই পাওয়া যাবে।
তিনি
বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা বিনির্মাণ
করতে চাই, যেখানে উদ্দীপ্ত শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং
মানুষের প্রতি মমত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হবে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সক্ষমতা ও ব্যবহারিক
জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ক্লাব
ভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন- বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাকে
উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ
নিশ্চিতকরণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা হবে। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট
অর্জনের মাধ্যম হবে না। বরং তা হবে প্রশিক্ষিত, কর্মদক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন
নাগরিক তৈরির প্রধান ভিত্তি।
তিনি
বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের সেই পথযাত্রায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে শুধুই একটি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। বরং গণমানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির প্রতীক। কারণ, ১৯৯২
সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, সাধারণ মানুষের
দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষায় বৈষম্যহীনতার মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষার মাধ্যমে জাতির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা।
দেশনেত্রীর
পরিকল্পনার যথার্থতা আমরা আশেপাশের দেশগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাই। বিভিন্ন দেশের
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তাদের ন্যাশনাল ডেভলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
National শব্দটি সেখানে কেবল নামের অংশ নয়; বরং জাতীয় উৎকর্ষ, চরিত্র গঠন ও নেতৃত্বের
প্রতীক।
তিনি
বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যান্য অংশের মতো শিক্ষা ব্যবস্থাকেও
ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যকেও।
দেশের সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এমনভাবে অবহেলা করা হয়েছে, যেখান থেকে কর্মসংস্থান
ও স্বনির্ভরতার সুযোগ ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও হতাশাজনক। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে
জাতীয় ঐতিহ্য, তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে
নিয়ে গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে একটি টেকসই, বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী
কর্মপরিকল্পনা। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুনভাবে তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব
পালন করবে। দেশের প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে আসা লক্ষ-লক্ষ শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রিধারী
নয়; বরং কর্মদক্ষ, সৃজনশীল, প্রযুক্তিবান্ধব ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে
তুলবে। তারা হবে আগামীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং
জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তার মন্ত্রণালয়ের
কর্মকর্তাদের আইন মেনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক
মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কাজ করতে গেলে
ভুল হতে পারে। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভুল করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এ সময় সবাইকে মিলেমিশে
আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, যেসব কর্মকর্তা সত্যিকার অর্থেই বঞ্চিত
ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত
হলে তা আমলে নেয়া হবে না।
মতবিনিময়
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মশিউর রহমান,
জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, জননিরাপত্তা বিভাগের সদ্য বিদায়ী
সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলামসহ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন
পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর
আগে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছলে মন্ত্রণালয়ের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। এরপর উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার প্রদান
করা হয়।
মন্তব্য করুন


বিমান
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে প্রায়
১৯ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায়
আসা উড়োজাহাজ থেকে এই সোনা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় ঢাকা কাস্টম হাউজ।
সংস্থাটি
জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি (বিজি-১৪৮) আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। উড়োজাহাজটির কার্গো হোল্ড থেকে
সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা
কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কাস্টমসের
কর্মকর্তাদের যৌথ দল উড়োজাহাজটির কার্গো হোল্ড থেকে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় মোট
১৬০টি সোনার বার উদ্ধার করে। এসব সোনার বারের ওজন ১৮ কেজি ৭০০ গ্রাম। দাম প্রায় ৪২
কোটি টাকা।
তিনি
বলেন, সোনার বারগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায়
মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


১৫
দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
আলোচিত ফুটপাতের খাবারের দোকানের মালিক ‘ভাইরাল মিজান’।
রোববার
(২৩ আগস্ট) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন। তিনি জানান, দুপুরের আগেই কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার
পর মিজানকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারাগার
থেকে মুক্তির পর নিজের দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের যদি একটা দোকান ফুটপাতে থাকে, মিজানেরটাও থাকতে হইবো। এইটাই
আমার চাওয়া। না হলে এই দেশে মানবতার কোনো দাম নাই।’
তিনি
আরও বলেন, তার ‘ভাইরাল’ পরিচিতিকে ব্যবহার করে কোনো চাওয়া-পাওয়া
নেই। নিজের দোকানটি যেভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেটি আবার করার জন্য অন্তত জায়গা দেওয়ার
দাবি জানান তিনি।
কারাগার
সূত্র জানায়, নির্ধারিত মেয়াদের সাজা শেষ হওয়ার পর রোববার সকালে মিজানকে কারাগার থেকে
মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় জেলগেটে তার স্বজন ও কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন।
এর
আগে গত ৯ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগারগাঁওয়ে
নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
করছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় মিজানের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
করতে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে যান।
এ
সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিজানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আগারগাঁওয়ের
ফুটপাতে ছোট একটি ভাতের দোকান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পান মিজানুর রহমান
মিজান। তার দোকানে মাত্র ১০০ টাকায় এক পিস গরুর মাংসের সঙ্গে ভাত, আলু ও ডাল খাওয়ার
সুযোগ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
দোকানটির
নাম ছিল ‘নিজের হাতে লইয়া খাবেন, ১৪ বার নিয়ে খাবেন’। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি
‘গরিবের বুফে’ নামেও পরিচিতি পায়। দোকানে খাবার পরিবেশন ও খাওয়ার ব্যতিক্রমী
পদ্ধতির বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিজানুর রহমান মিজান
‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
মন্তব্য করুন