

ভারতের
মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় বিষাক্ত মদপানের ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায়
অসুস্থ হয়ে আরও ১০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার
পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। একই সঙ্গে
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গ্রামে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ
হিসেবে এলাকার ছয়টি মদের দোকানও সিলগালা করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের
বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন
এখনো হাতে আসেনি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর
প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, মিথাইল অ্যালকোহলের
বিষক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনায়
উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের
নির্দেশ দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী
বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং
এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
ইতোমধ্যে
প্রশাসন ও চিকিৎসকদের একাধিক দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। চিকিৎসকদের
মতে, অসুস্থদের শরীরে সায়ানোসিস বা ত্বক নীল হয়ে যাওয়া, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি,
তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি
মোকাবিলায় সাগর জেলার নৌরা, ঘুগরুসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাগরের মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবেশ পাতেরিয়া জানান,
চিকিৎসক ও নার্সদের একাধিক দল আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে। রোগীদের মধ্যে যে উপসর্গ
দেখা যাচ্ছে, তা মিথাইল অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন
না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি
আরও জানান, গুরুতর অসুস্থদের প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্থিতিশীল করার পর উন্নত চিকিৎসার
জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা
করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মদ পান করেছেন এমন ব্যক্তি
এবং অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা দিয়েছে এমন সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অবৈধ ও ভেজাল মদ বিক্রি ঠেকাতে স্থানীয় আবগারি বিভাগের ভূমিকা
নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছুদিন আগে এক লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ী
‘বোম্বে হুইস্কি’ নামে একটি কৃত্রিম ও ভেজাল মদ বিক্রির
বিষয়ে আবগারি বিভাগকে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি ঘটনার মাত্র চার দিন আগে লাইসেন্সধারী
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবগারি কর্মকর্তাদের বৈঠকেও অবৈধ মদ বিক্রির বিষয়টি উঠে আসে। এরপরও
কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ
ও প্রশাসন অবৈধ মদের উৎস, সরবরাহকারী এবং পুরো সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করতে ব্যাপক অভিযান
শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন


কুষ্টিয়ার
মিরপুরে সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে
এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেনা সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আজ রবিবার
দুপুর ১২টার দিকে পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে উপজেলার তালবাড়িয়া হাইস্কুলের সামনে এ
দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী,
পুলিশ ও আহতরা জানান, বগুড়া থেকে ভাড়া করা একটি বাসে করে প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যরা
খুলনার দিকে যাচ্ছিলেন। বাসটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা হিমেল পরিবহন'-এর
একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের
উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর আহতদের
মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
প্রাথমিকভাবে
জানা গেছে, নিহত যাত্রীর নাম জিয়া। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় এবং তিনি ব্র্যাক
ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
আহত
সেনা সদস্যরা জানান, তাঁরা বর্তমানে সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণরত। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে
তাঁরা একটি ভাড়া করা বাসে করে খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসে ফিরছিলেন। ওই বাসে মোট
৪২ জন সেনা সদস্য ছিলেন। পথিমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁরা কমবেশি সবাই আহত হয়েছেন।
আহত সেনা সদস্যদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়েছে। বাকিদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


অবৈধ
মাদকদ্রব্য ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগেই ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত এক বিপত্তি।
উন্মুক্ত স্থানে বিশাল পরিমাণ গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে গিয়ে সেই ধোঁয়ার প্রভাবেই
পুরো এলাকার পথচারী ও অধিবাসীরা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিচিত্র ও অবিশ্বাস্য মনে
হলেও এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায়।
মূলত
২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাকার্তার পালমেরাহ পুলিশ স্টেশন এলাকায়
বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত করা অবৈধ গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয়
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কিন্তু সতর্কতার ঘাটতি ও উন্মুক্ত স্থানে একবারে বিশাল পরিমাণ
মাদক পোড়ানোর কারণে সেখান থেকে প্রচণ্ড ঘন ধোঁয়া সৃষ্টি হয়, যা বাতাস ও বাতাসের প্রবাহের
মাধ্যমে আশপাশের বসতবাড়ি এবং প্রধান সড়কে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
“মাদকের ধোঁয়া বাতাসে মিশে ছড়িয়ে পড়তেই
স্থানীয় পথচারী, বাসিন্দা এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা বহু সাংবাদিক হঠাৎ তীব্র মাথা
ঘোরা, ঝিমুনি ও হাল্কা নেশাগ্রস্ত অনুভূতির অভিযোগ তোলেন।”
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যে বিষাক্ত উপাদান সমাজ থেকে নির্মূল করতে চেয়েছিল, অপরিকল্পিতভাবে
পোড়ানোর ফলে তা-ই পুরো এলাকার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বিশ্বের
বহু বড় বড় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং উন্মুক্ত স্থানে
মাদক পোড়ানোর নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে।
মাদক
ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় অসাবধানতার কারণে সৃষ্ট এই বিচিত্র ঘটনাটি আজও বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক
সংবাদ মাধ্যম ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনায় অন্যতম এক কৌতূহলোদ্দীপক উদাহরণ হিসেবে
স্মরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


আগামী বছর ২০২৫ সালের সরকারি ছুটির
তালিকা অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী
আদেশ মিলিয়ে মোট ২৬ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। শুক্রবার
৫টি ও শনিবার ৪টি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর
তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে
পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আগামী বছর সাধারণ ছুটি ১২ দিন ও নির্বাহী
আদেশের ছুটি ১৪ দিন। ছুটি গত বছর থেকে মোট ৪ দিন বেড়েছে।
অনুমোদিত ছুটির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত বিষয়সমূহ হলো:
(১) জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের
গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে ১২ (বার) দিন সাধারণ ছুটি। এ ছুটির মধ্যে ৫টি সাপ্তাহিক
ছুটির দিন (৩টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার)।
(২) বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি। এর মধ্যে ৪টি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (২টি শুক্রবার
ও ২টি শনিবার)।
(৩) ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে প্রজাতন্ত্রের
কর্মচারীদের বছরে অনধিক ০৩ দিনের এচ্ছিক ছুটি ভোগের জন্য ধর্মীয় পর্বসমূহের বিবরণ।
(৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর
বাইরে কর্মরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব
বৈসাবি বা অনুরূপ সামাজিক উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি। এ ছুটির মধ্যে
একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (০১টি শনিবার)।
(৫) ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের জন্য ১২ দিন
সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ
প্রস্তাবিত মোট ছুটি (০৯ দিনের সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে ৫টি শুক্রবার ও ৪টি শনিবার ব্যতীত)
২৬ - ০৯ = ১৭ দিন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনুমোদিত
মোট ছুটি (২ দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ব্যতীত) ছিল ২২ - ০২ = ২০ দিন।
মন্তব্য করুন


কুড়িগ্রামের
ফুলবাড়ীতে এক চীনা নাগরিক অভিযোগ করেছেন, বিয়ের দুই মাসের মাথায় তার বাংলাদেশি স্ত্রী
প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে উধাও
হয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে সোমবার রাতে তিনি ফুলবাড়ী থানায় যান। পরে তাকে সাভার
থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলা হয়।
চীনা
নাগরিক আন হংওয়েই বলেন, তার স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে
চলে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত সহায়তা চেয়ে তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদা খাতুন ঢাকার একটি
পোশাক কারখানায় চাকরির সময় আন হংওয়েইর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক
গড়ে ওঠে। গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে গ্রামের
বাড়িতে এলে এলাকায় চীনা নাগরিককে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমে।
মোর্শেদার
মা শাহানা বেগম বলেন, বিয়ের কয়েক দিন পর তার মেয়ে স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় চাকরির উদ্দেশ্যে
যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। এ বিষয়ে তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছেন বলে জানান। আগামী
৩০ মে তারা দুজন একসঙ্গে চীনে যাওয়ার কথা ছিল।
ফুলবাড়ী
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে,
অভিযোগের ঘটনাটি ঢাকার সাভারে ঘটেছে। তাই আন হংওয়েইকে সাভার থানায় যোগাযোগের পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে। ভাষাগত সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পুরোপুরি বোঝা না গেলেও ইশারার মাধ্যমে
তিনি অভিযোগের বিষয়টি জানান।
মন্তব্য করুন


কুপিয়ে হত্যা করা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম
আলিফের পরিবারের জন্য ধর্ম উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে কোটি টাকার ফান্ড গড়ে তোলা হচ্ছে।
এ ফান্ড সংগ্রহের দায়িত্বে আছে মানবিক সংগঠন আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন।
আজ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের
লোহাগাড়ার পানত্রিশা গ্রামে শহীদ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত ও মোনাজাত
শেষে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ধর্ম উপদেষ্টা
এ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
বলেন, প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার
প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশ ও জাতিকে অনেক কিছু দিতে পারতেন। কিন্তু তাঁকেই নির্মমভাবে
হত্যা করা হয়েছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে
না।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা
ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে
সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
ধর্ম উপদেষ্টা শহিদ আইনজীবী সাইফুল
ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করেন ও খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা
জানান। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারে ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করেন।
এছাড়া উপদেষ্টা এই পরিবারকে সরকারের পক্ষ হতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ধর্ম উপদেষ্টা হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত
পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও পড়ালেখার জন্য শহিদ সাইফুলের বাবার হাতে আলহাজ
শামসুল হক ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে এক কোটি টাকা সহায়তা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নগদ এক
লাখ টাকা, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকার চেক ও আল মানাহিল ফাউন্ডেশনের
পক্ষ থেকে আরো এক লাখ টাকা তুলে দেন।
এ সময় লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মোহাম্মদ ইনামুল হাসানসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার
তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে বিগত সরকারের মতো নতজানু হয়ে নয়, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে
ভারতের সঙ্গে মাথা উঁচু করে কথা বলবে।
তিনি আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) জেলার কাউনিয়া
উপজেলার তিস্তা রেলব্রিজ সংলগ্ন মাঠে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানির হিস্যা
নিয়ে করণীয় শীর্ষক গণশুনানিতে এ কথা বলেন।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল
ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা
রিজওয়ানা হাসান।
এছাড়াও শুনানিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ
ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ এবং রংপুরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ
উপস্থিত ছিলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, প্রয়োজনে
তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, আপনারা কেমন আছেন, জিজ্ঞাসা
করবো না, জানি আপনারা ভালো নেই।’
উত্তরবঙ্গের যেখানেই গিয়েছি সবার একটাই দাবি, ‘রিলিফ চাই না, তিস্তায় পানি চাই’। তিস্তা মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত অন্তর্বর্তী
সরকারের সময়ে হবে।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, তিস্তার
চরে জনসংখ্যা অনুপাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ব্যবস্থা করবে সরকার। উত্তরবঙ্গের
কৃষিজ পণ্য সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন স্থানে কোল্ড-স্টোরেজ নির্মাণ করার পাশাপাশি কৃষিজ
শিল্পের বিকাশের জন্য চিনিকলগুলো চালু করা হচ্ছে।
পীরগাছা থেকে চিলমারীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
বাড়াতে তিস্তার উপরে ১৪ শ’
মিটার ব্রিজের সার্ভে করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের আমলেই তা উদ্বোধন করা হবে বলে
আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা।
ইতোমধ্যে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে উপজেলাভিত্তিক
আধুনিক লাইব্রেরি এবং উন্নয়ন কাজের জন্য বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানালেন
তিনি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা
আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় এই নদীর ওপর কোনো দেশের একক অধিকার নাই। তিস্তার বাঁধ খুলে দেওয়ার
আগে ভারতের উচিত আমাদেরকে অবশ্যই অবগত করা।
চীনের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ২০২৫
সালের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হবে বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তিস্তার ভাঙন রোধে আগামী
সপ্তাহে শুরু হবে ৪৫ কি.মি. তীর-রক্ষা কাজ।
গণশুনানিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তিস্তার পানির সুষম বণ্টন, তিস্তার সঙ্গে শাখা নদীগুলোর সংযোগ করা, তিস্তার পানির ন্যায্যতায় ভারতের সঙ্গে শক্ত অবস্থান, বন্যা-খরায় পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ, তিস্তার দুই পাড়ে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণসহ আরো নানা দাবি তুলে ধরেন তিনি।
মন্তব্য করুন


দেশের
বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের চারটির মধ্যে তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি
শনাক্ত হয়েছে। বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে
২৬টিতে, অর্থাৎ ৭৬.৫% নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন
সংস্থার (ইএসডিও) গবেষণায় এ ফলাফল পাওয়া যায়।
রবিবার
(২৬ জুলাই) রাজধানীতে ইএসডিও কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে 'মাইক্রোপ্লাস্টিক
ইন টুথপেস্ট' শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করে সংস্থাটি।
ইএসডিও
জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার ২২টিতে, ভিয়েতনামের দুই নমুনার দুটিতেই, থাইল্যান্ডের
দুটির একটিতে ও ভারতের পাঁচটির একটিতে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
২০২৫
সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন
সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪টি
টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশবিজ্ঞান
বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) ল্যাবরেটরিতে নমুনাগুলোর
পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ করা হয়। একইসঙ্গে দেশব্যাপী ২,৭৬০ জনের ওপর একটি ভোক্তা জরিপ
পরিচালনা করা হয়।
মন্তব্য করুন


শহীদ
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার
আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার
(৩০ মে) রাজধানীর ইসিবি চত্বর ও কুড়িল এলাকায় দুস্থ মানুষদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো
খাবার বিতরণ কর্মসূচির আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল দেশের সেবা
করা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে তিনি আমাদের দীক্ষা দিয়ে গেছেন কীভাবে দেশের
জন্য কাজ করতে হয় এবং দেশকে গঠন করতে হয়।'
তিনি
বলেন, 'সেই আদর্শের অংশ হিসেবেই আমরা আজ দুস্থ মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত নিয়ে দাঁড়িয়েছি।'
তারেক
রহমান বলেন, 'গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের যে সুযোগ দিয়েছেন
দেশ গঠন করার ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, আমরা যাতে সেই কাজটি সুন্দরভাবে করতে পারি-
সেজন্য আমরা আল্লাহর রহমত কামনা করি। এটাই হোক আজকের দিনের আমাদের শপথ, এটাই হোক আমাদের
অঙ্গীকার।'বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ
করেন।
এর
আগে সকালে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে তার মাজারে
পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ
সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র
রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ
নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কবরে
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টিঅ্যান্ডটি স্কুল মাঠে দুস্থ
মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা মহানগরীর ১৭টি স্পটে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
মন্তব্য করুন


টাঙ্গাইলের
কালিহাতীতে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতদের মধ্যে ১০ জনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহতরা
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি
গ্রামেরই সাতজন রয়েছেন।
একই
সময়ে সাতজনের মৃত্যুর খবরে ভারশোঁ ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের
ছায়া। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা কান্নায় পুরো এলাকা ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় লোকজন
নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
নিহতরা
হলেন, উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আব্দুল বারিক
(২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), মাইনুর ইসলাম (৩০), সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া
গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী
(৩৫)।
জানা
গেছে, নিহতরা সবাই ফেরিওয়ালা ছিলেন। তারা সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্লাস্টিকের তৈরি
বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন। পাশাপাশি নারীদের চুল ও পুরোনো মোবাইল ফোন সংগ্রহের কাজও
করতেন।
জীবিকার
তাগিদে তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া
বাসায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি
করতে তারা রাজশাহীগামী একটি রড বোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে
দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
রাজেন্দ্রবাটি
গ্রামের ফিরোজ হোসেন জানান, উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে এ এলাকার শতাধিক যুবক বছরজুড়ে হরেক
পণ্যের ব্যবসা করেন। ঈদের সময় বাসে বাড়ি ফিরতে জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা
গুনতে হয়। অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করেন। তারাও একইভাবে
ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
হঠাৎ
দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন।
একমাত্র মেয়ে রাহী মনিকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। তাকে সান্ত্বনা দিতে
গিয়ে স্বজনরাও কান্না থামাতে পারছেন না।
কান্নাজড়িত
কণ্ঠে সাবিনা খাতুন বলেন, বাড়ি ফেরার পথে স্বামীর সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে। মেয়ের জন্য
নতুন জামা আর মেহেদী কেনার কথাও বলেছিল। রাত ১০টার দিকে শেষ কথা হয়। সকালে তার মৃত্যুর
খবর পাই।
নিহত
তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে
মানুষের ফেলে দেয়া চুল বাঁচানো, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করতো।
ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই এক সঙ্গে বাড়ি আসছিল। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা
শুরু করে।
এ
বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বাসসকে বলেন, দুর্ঘটনায়
নিহত সবার পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে
পুলিশ।
মন্তব্য করুন


ছাত্র আন্দোলনে আহতদের মধ্যে ১০০ জন
পুলিশের চাকরি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সিআইডির প্রধান
কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সিআইডিতে
আজকে আমার একটা নরমাল ভিজিট ছিল। আমার সঙ্গে আইজিপি ছিলেন। আমরা অনেক বিষয়ে কথা বলেছি।
আপনারা জানেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেকে নিহত এবং আহত হয়েছেন। যারা আহত
হয়েছেন তাদের কর্মসংস্থানের একটা ব্যবস্থা কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা এই বিষয়ে একটা প্রপোজাল পাঠিয়েছি। যারা আহত হয়েছে তাদেরকে পুলিশে
চাকরি দেওয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাইকেতো আর পুলিশে নেওয়া যাবে না, তবে একেকজন একেকভাবে
আহত হয়েছেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আহতদের মধ্যে ১শ’ জনকে আমরা পুলিশ বাহিনীতে নিব।
আমরা দ্রুত এই বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করব। আমরা আপাতত ১শ’ জন আহতকে দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি,
পরবর্তীতে আমরা এই সংখ্যাটা আরো বাড়াব। আমরা আপাতত পুলিশে শুরু করছি পরবর্তীতে আমরা
আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সকল ডিপার্টমেন্টে এটা করে দিব। ট্রাফিক ব্যবস্থার একটা সমস্যা রয়ে
গেছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আমরা এক হাজার ছাত্রকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রপোজাল পাঠিয়েছিলাম।
এখন পর্যন্ত ৪শ’ জন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আরো একটি প্রপোজাল পাঠিয়েছিলাম
যে, বিভিন্ন বাহিনীতে যারা অবসরে গিয়েছেন তাদের নিয়োগ দিয়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলায় নিয়োজিত
করা। তবে অবসরপ্রাপ্তরা এই বিষয়ে রেসপন্স খুব কম দিয়েছেন। আমি ভেবেছিলাম তারা অনেকে
আসতে চাইবে। তবে আমরা আপাতত ৫০-৬০ জনের মত পেয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম অন্তত ৫শ’ জন দিয়ে
শুরু করি।
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সঙ্গে ট্রাফিক
ব্যবস্থাপনার বিষয়টা কেমন হবে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা যেন পড়াশোনা
ঠিক রাখতে পারে সেজন্য তাদেরকে আমরা সময়টা কম দিয়েছি। তারা যেন পড়াশোনাও করতে পারে
এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। তাদের সম্মানী দেওয়া হচ্ছে।
তারা রাস্তায় ২-৩ ঘণ্টা কাজ করবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের
আমলে সব থেকে বড় সমস্যা ছিল মানি লন্ডারিং। মানি লন্ডারিং নিয়ে আমি সিআইডি প্রধানকে
সব থেকে বেশি ইন্সট্রাকশন দিয়েছি। আমি সিআইডি প্রধানকে বলেছি যে, তিনি যেন দ্রুত বাংলাদেশ
ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনার প্রতিবেদন দেন। বিগত সরকারের আমলে মানি লন্ডারিং সব
থেকে বেশি হয়েছে। আমি সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছি মানি লন্ডারিং এর মামলাগুলোর প্রতিবেদন
যেন দ্রুত দেয়া হয়। তদন্তের
নামে সময়ক্ষেপন করে লাভ নেই। আমি একটা রিপোর্ট চাই যে কারা কারা মানিলন্ডারিং এর সঙ্গে
জড়িত। সেটা আমি সিআইডিকে বলেছি। যদি তদন্তের নামে দুই তিন বছর চলে যায় তাহলে তো এটার
কোন কার্যকারিতা থাকে না।
মন্তব্য করুন