

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দুষ্কৃতকারীদের হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।
একই সঙ্গে শক্তিশালী কমিশন গঠনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে হামলার বিচারও দাবি করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কার্যালয়ে আয়োজিত হিন্দু-বৌদ্ধসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব দাবি উপস্থাপন করেন দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, হিন্দুদের সুরক্ষায় জামায়াত দুটি দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দাবি হলো: রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো একটা দল বা কোনো একটা লোক দাড়ি-টুপি পরে লাঠি হাতে মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা খুবই বেমানান দেখায়। আমরা মনে করি এখন যেহেতু সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজে ফিরেছে, এখন সরকারের উদ্যোগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। আমাদের দ্বিতীয় দাবি হলো: স্বাধীন কমিশন করে হিন্দুদের ওপর হামলা-নির্যাতনের বিচার দাবি জামায়াতের। জামায়াতে ইসলামীকে হিন্দুবিদ্বেষী দল বলে ধারণা করা হয়। এটা এক ধরনের অপপ্রচার ছাড়া কিছুই না। পাশাপাশি হিন্দুদের ব্যবহারেও একটি অপপ্রচার দেশে আছে, সেটি হলো হিন্দু মানেই মনে করা হয় আওয়ামী লীগ। জামায়াতকে যেমন হিন্দুবিরোধী অপপ্রচার দেওয়া হয়েছে, তেমনি হিন্দুদেরও আওয়ামী লীগের একটা ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য হিন্দুদেরও যেমন জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধে কাজ করতে হবে, তেমনি জামায়াতকেও হিন্দু মানেই আওয়ামী লীগ ‘তকমা’ দূরীকরণে কাজ করতে হবে। জামায়াত হিন্দুদের ওপর আঘাতে বিশ্বাস করে না। আঘাত হিন্দু হোক, মুসলমান হোক দুই ধর্মেই নিষিদ্ধ। আমি নিজে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার এমপি ছিলাম। আমাকে হিন্দুরাও অনেক ভোট দিয়েছিল, তারা আমাদের বিশ্বাস করে। আমাদের ওপর তাদের পুরোপুরি আস্থা আছে। এটা আমার আদর্শিক দায়িত্ব।
হিন্দু-বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বাইরেও যদি আপনারা আপনাদের নিরাপত্তায় জামায়াতকে প্রয়োজন মনে করেন, রাত ৩টা বা ৪টা যেকোনো সময়েই আমাদেরকে ফোন করবেন, আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াব।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক
ডা. এ জেড এম জাহিদ বলেছেন, খালেদা জিয়াকে শুক্রবার কাতার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে
নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ডাক্তারসহ সঙ্গে থাকবেন ১৪ জন।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৪ ডিসেম্বর ) দুপুর পৌনে ২টার
দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে
কাতারের আমির জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে
প্রস্তুত কাতার। এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২৯ নভেম্বর অ্যাম্বুলেন্স
পাঠিয়ে সহযোগিতার করার জন্য চিঠি লেখেন দেশটির কাছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ সহযোগিতা
প্রদানের কথা জানিয়েছে কাতার।
বহু
বছর ধরে খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায়
ভুগছেন। গত বছরের ৫ আগস্টে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের
পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে
যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোটের বিষয়ে সারাদেশে প্রচারণার
লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ভোটের গাড়ি ‘সুপার ক্যারাভান’।
সারাদেশের
সব জেলায় প্রচারণার অংশ হিসেবে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে
ভোটের এই ‘সুপার ক্যারাভান’র উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
মো. তৌহিদ হোসেন।
এ
সময় তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ যেন নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারে, সে লক্ষ্যই থাকবে
আমাদের। এই সরকার কোনো দলের পক্ষে নয়, এটা সবার জানা।
পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছে, যে দাবির লক্ষ্যে তাদের প্রাণ দিতে
হয়েছে, সে দাবির তালিকা তৈরি করা হয়েছে, সেটি অতি দ্রুতই জনগণের সামনে হাজির করা হবে।
জনগণ এর পক্ষে হ্যাঁ অথবা না ভোট দেবেন।
তিনি
আরও বলেন, এবারের ভোটে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে
কোনো সহিংসতা হলেই ওই কেন্দ্র স্থগিত করে দেওয়া হবে।
ভোটের
এ ক্যারাভানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার
শহিদুল্লাহ কাওছারসহ কর্মকর্তারারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
(বিজিবি) কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন বিজিবির
ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান। তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার
সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য
মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিজিবি হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত
থাকবে বলে জানানো হয়।
আজ
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
এসব তথ্য জানান তিনি।
নির্বাচনকালীন
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির প্রস্তুতি
ও পরিকল্পনা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
কর্নেল
এস এম আবুল এহসান বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি একটি অবাধ,
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী মোতায়েন রয়েছে।’
তিনি
বলেন, ‘ঢাকা সেক্টরের অধীন ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ ও ২৬ বিজিবি), নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন
(৬২ বিজিবি) এবং গাজীপুর ব্যাটালিয়নের (৬৩ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৯টি জেলা এবং
৪টি সিটি করপোরেশনের মোট ৫১টি আসনে সর্বমোট ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ৪২টি অস্থায়ী
বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার
জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট মোতায়েন থাকবে।
ডিজিটাল
ডিভাইসের ব্যবহার ও দায়িত্ব পালনের বিষয় জানিয়ে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার বলেন,
নির্বাচনে বিজিবি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল
ডিটেক্টর, এপিসি, আধুনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করবে, যার মাধ্যমে
স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক
পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর সদর দপ্তরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা
হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ
স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা
করবে, যাতে কোনো মহল নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে।
নির্বাচনকে
কেন্দ্র করে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছেন কি না জানতে চাইলে কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন,
এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না।
আমাদের
মহাপরিচালকের নির্দেশ, আমরা নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো
ধরনের লেথাল ওয়েপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করব না।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লৎস এর সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপি’র সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। রাজধানীর প্রগতি সরণীতে অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে এনসিপি’র এক প্রতিনিধি দল আতিথেয়তা গ্রহণ করে।
এনসিপি’র পক্ষ থেকে যুগ্ম আহবায়ক ও পররাষ্ট্র সেল প্রধান সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসিন রিয়াজ ও সাইফ মোস্তাফিজ, এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্।
রাষ্ট্রদূত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি, আগামী নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ নিয়ে এনসিপি’র পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। এনসিপি নেতৃবৃন্দ তাদের নতুন বাংলাদেশের ২৪ দফা ইশতেহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দুই পক্ষই জার্মানি-বাংলাদেশ এর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার ব্যাপারে একমত হন। এছাড়াও জার্মানিতে পড়াশুনা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার ব্যাপারে এনসিপি নেতৃবৃন্দ অনুরোধ করেন।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের নারী ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, এই সমর্থনের ইতিবাচক ইঙ্গিত তারা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করছেন।সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, দেশের জনগণের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সুশাসনের পক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। জামায়াতে ইসলামীর একমাত্র প্রত্যাশা হলো—নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়।তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, কোনো ধরনের অনিয়ম বা শঙ্কা দেখা দিলে প্রথমে তা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে। সেখান থেকে সমাধান না এলে বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।জামায়াত আমির আরও বলেন, যদি এবারের নির্বাচনেও জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মানুষ কবে তাদের অধিকার ফিরে পাবে—তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।এ সময় তিনি দেশের গণমাধ্যম নিয়েও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এমনকি অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও একই প্রবণতা দেখা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামি চায় গণমাধ্যম স্বাধীন ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করুক। তার মতে, গণমাধ্যম যদি স্বেচ্ছায় পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। প্রশাসন ও গণমাধ্যম—উভয়ের ভূমিকাই জনগণ মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬০তম জন্মদিন। তিনি ১৯৬৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন।
তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী দলের নেতাকর্মীরা জাঁকালো অনুষ্ঠান উদযাপনের পরিকল্পনা করলেও এবার দলের পক্ষ থেকে তা না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১১ নভেম্বর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের জন্মদিন উদযাপন না করার জন্য বলা হয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা ওই বিবৃতিতে সংগঠনের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের জানানো হয়, তারেক রহমানের জন্মদিন নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান হবে না। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন


প্রধান
নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে
কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি
বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার সহযোগিতায়। গতকালই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের
সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। তারাও পুরোপুরি প্রস্তুত।’
আজ
সোমবার ( ১৫ ডিসেম্বর ) সকালে রাজধানীর গুলশান-১ এ অবস্থিত আলোকিতে ‘জেনভোট ফেস্টিভ্যাল’
উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে
ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল এফেয়ার্স)
ফিলিপ বার্নিয়ার আর্ক্যান্ড, বৃটিশ হাইকমিশনের হেড অব পলিটিক্যাল টিমোথি ডাকেট, সুইডেন
দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ইভা স্মেডবার্গ, আইএফইএস কান্ট্রি ডিরেক্টর পল গেরিন
ও ইসি সচিব আখতার হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন,
‘নির্বাচন পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী তাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতির কথা গতকালই আমাদেরকে জানিয়েছে। আপনারা সব দুশ্চিন্তা
ঝেড়ে দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে একটা সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক
নির্বাচন আমরা দেখতে পাব।’
সিইসি
বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। কারণ, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল
ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা গত ৫৪ বছরেও হয়নি। এছাড়া, প্রায় ১০ লাখ
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এমনকি কারাবন্দি এবং সরকারি কর্মচারী, যারা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের বাইরে পোস্টিংয়ে আছেন,
তাদের জন্যও ভোটের ব্যবস্থা করেছি আমরা। এবার একসঙ্গে একদিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
তাই এই সব কারণে এটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আমরাও সাহস করে নেমে পড়েছি।
আমাদের এই সাহসের সাহসী পদক্ষেপের সঙ্গে তরুণরা এতে অংশ নিলে সফল হব। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ
নির্বাচন আমরা সবাই মিলেই করব।’সিইসি দেশের তরুণদের ভোটে অংশগ্রহণের
গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমি সবসময় তারুণ্যের শক্তিতে বিশ্বাসী। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন
আমরা তারুণ্যের শক্তির ওপর ভর করে দেখি। ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালে, এবং চব্বিশের জুলাই-অগাস্টে
তরুণদের ভূমিকা দেখিয়েছে যে তারা দেশের জন্য কতদূর যেতে পারে।’
প্রধান
নির্বাচন কমিশনার তরুণদের সাহস, শক্তি ও সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘তোমাদের
যে সৃজনশীলতা ও চিন্তাধারা, এটা ছাড়া দেশ গড়া সম্ভব নয়। যখন আমি ভাবি আমাদের বিশাল
একটি তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে, এটা আমাকে উৎসাহিত করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত
হতে।’এ সময় তিনি দেশের তরুণ সমাজকে ভোটে অংশ নিয়ে একটি সুন্দর
ভবিষ্যৎ সম্পন্ন বাংলাদেশ গঠনের আহ্বানও জানান।
আজকের
‘জেনভোট ফেস্টিভ্যাল’-এ তরুণদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে মক
ভোটিং, কমিকস, ক্যারিকেচার, আর্ট ফেস্টিভ্যালসহ নানা আয়োজন রয়েছে। ভোট সংক্রান্ত তথ্য
প্রদানের জন্য বসেছে স্টল এবং তরুণ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ভোটারদের জন্য আকর্ষণীয়
সেশনও আয়োজন করা হয়েছে।
এই
উদ্যোগে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, সুইডিশ
এম্ব্যাসি, ক্যানাডিয়ান তহবিল বা সিএফএলআই এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল
সিস্টেমস।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, স্বজনপ্রীতি পরিহার করে স্বচ্ছতার সঙ্গে
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারি সহায়তা পাবেন।
তিনি
আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও দু’জন
সমাজসেবকের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে টিম গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে
উপকারভোগীদের যথার্থতা যাচাই করে সম্পূর্ণ দলীয়প্রভাবমুক্ত থেকে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা যাবে।
আজ
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের
কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিসংখ্যান
ব্যুরোর কাজের নির্ভুলতা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্যতা
ও প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র অর্জন করেছে সেটা নির্ভর করে সঠিক পরিসংখ্যানের ওপর। এক্ষেত্রে
নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের সংরক্ষণ এবং দ্রুত তথ্য সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জহির
উদ্দিন স্বপন বলেন, আধুনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ডাটাবেস
সিস্টেম। সঠিক ডাটাবেস সিস্টেম না থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব নয়। বরিশালের
স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিকীকরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বরিশাল দক্ষিণ
বাংলার রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসার অভাব রয়েছে।
তিনি
বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া কষ্টসাধ্য এবং সাধারণ মানুষের
জন্য ব্যয়বহুল। এই সংকট নিরসনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন
হাসপাতালে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবী। বরিশালে
একটি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার স্থাপন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
মতবিনিময়
সভায় জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ
সুপার ফারজানা ইসলাম। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত
ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের
সকল শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর
মুহাম্মদ ইউনূস।
আগামীকাল
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠেয় ‘গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’
উপলক্ষ্যে দেয়া আজ এক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে
এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক
প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম
ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।
তিনি
বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে
যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার
চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।
প্রধান
উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো
ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল
জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার
হবেন।
তিনি
বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, দেশের বিপুলসংখ্যক
তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে
পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত
ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়,
শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা
আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্র্বর্তীকালীন
সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একটি গণতান্ত্রিক
রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব
ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন
কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব,
নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক
দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার
আহ্বান জানাই।’
তিনি
বলেন, ‘গণতন্ত্রের এ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি শান্তিপূর্ণ,
স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে
যেতে সহায়তা করবে।’
মন্তব্য করুন