

জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি:
উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা গ্রামে হৃদয়বিদারক ও আনন্দঘন এক ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া শিশু সাইফুল ইসলাম অবশেষে ফিরে এসেছে তার বাবা-মায়ের কোলে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
সাইফুল দরিদ্র কৃষক পরিবার আব্দুল লতিফ ও আমেনা বেগম দম্পতির চতুর্থ সন্তান। নয় বছর বয়সে পরিবারের অভাব অনটনের কারণে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে চট্টগ্রামে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হয় সে। কিন্তু পথে ট্রেন থামলে শৌচকর্ম সারতে নেমে যায় সাইফুল। মুহূর্তেই ট্রেন ছেড়ে গেলে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। এরপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি ছোট্ট সাইফুলের।
ভাগ্যের খেলায় সাইফুল আশ্রয় পায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি রেলস্টেশনের এক চায়ের দোকানে। সেখানেই কাটে তার দীর্ঘ ২৮ বছর। সম্প্রতি নেফরা গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের বাবা-মায়ের নাম ও গ্রামের নাম বলতে পারায় ধীরে ধীরে সাইফুলের খোঁজ মেলে।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার বড় ভাই মাহফুজার রহমান ভাটিয়ারি গিয়ে সাইফুলকে বাড়ি নিয়ে আসেন। শনিবার সকালে বাড়ি ফেরার পর শতশত মানুষ ভিড় জমায় তাদের বাড়িতে।
অশ্রুসিক্ত বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, “ছেলেকে পেয়ে আমি আল্লাহর দরবারে সেজদায় পড়েছি। বহু বছর দোয়া করেছি, আজ আল্লাহ তা কবুল করেছেন।”
মা আমেনা বেগম বলেন, “সংসারের অভাবে ছেলেকে কাজে পাঠিয়েছিলাম। পথে হারিয়ে যায়। খুঁজেছি বহু জায়গায়। আজ আল্লাহর রহমতে সন্তানকে ফেরত পেলাম।”
এলাকাবাসী জানান, সন্তান হারিয়ে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। দাদী আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে নাতির ফেরার প্রার্থনা করলেও তা আর দেখে যেতে পারেননি।
চায়ের দোকানের মালিক মোস্তাকিন জানান, সাইফুল দীর্ঘদিন তার দোকানে কাজ করেছে। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লিখিতভাবে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, “পরিবারটি অসহায়। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা খুবই প্রয়োজন।”
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, “২৮ বছর পর সন্তানকে ফিরে পাওয়া সত্যিই আনন্দের বিষয়। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় করা মামলার দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
মঙ্গলবার রাতে প্রধান আসামি হেলাল উদ্দিন এবং বুধবার রাতে কাউসার কে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীমউদ্দিন।
আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওসি জসীমউদ্দিন বলেন, “ঈদের দিন গেইটে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেইটম্যান হেলাল উদ্দীন ও মেহেদী হাসান দায়িত্ব পালন না করে এক হাজার টাকায় বদলি হিসেবে অস্থায়ী গেইটম্যান কাউসার ও স্থায়ী গেইটম্যান নাজমুলকে ঠিক করেন; যাদের সেদিন ডিউটিই ছিল না।
তিনি আরো বলেন, “কাউসার ও নাজমুল ওই রাতে পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যানের কক্ষে থাকলেও তারা রাত পৌনে ৩টায় ঢাকা মেইল ট্রেন আসার আগে গেইট বন্ধ করেনি। তবে কেন তারা সেটি করেননি তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
এছাড়াও পদুয়ার বাজার রেললেভেল ক্রসিংয়ের গেইটের কক্ষে মাদকের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে দাবি ওসি জসীম উদ্দিনের।
তিনি বলেন, গেইটম্যান আগের স্টেশন থেকে সিগন্যাল পেয়েছেন কি-না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি মেহেদী হাসান এখনো পলাতক আছেন। হেলালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার। শেফালী দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার খালা। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে।
গত (২১ মার্চ ) শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আটজন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন।
এ ঘটনায় পদুয়ার বাজার এলাকায় রেলের গেইটের দুই দায়িত্বরত কর্মচারী হেলাল ও মেহেদীকে বরখাস্ত করা হয় এবং তিন টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের দাবি, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেন আসার সময় বাজার রেলওয়ে ওভার পাশে লেভেল ক্রসিং এ গেইট সময়মত বন্ধ করতে পারেনি গেইটম্যান। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাত কে বলেন, এখন পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা-৬ আসনের মনোনীত কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদের উপস্থিতিতে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ধনাইতরী এলাকায় অনুষ্ঠিত এ উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, “দেশে ন্যায্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশবাসীর প্রত্যাশা।তিনি বলেন, “বাস স্ট্যান্ড, টেম্পু স্ট্যান্ড দখল,বাজরে বাজারে চাঁদাবাজি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, অথচ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ঘুণে ধরা। আমরা একটি আদর্শ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “হে মানুষ, তোমরা রবের দাসত্ব করো—এটাই মানবমুক্তির পথ।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের সেবক হবো তাদের কাছে আমরা জবাবদিহি করব, জনগণের প্রতিটি টাকার হিসাব ইনশাআল্লাহ পাইপাই করে বুঝিয়ে দেব।”বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বরোড অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী অধ্যাপক সাইফুল হক চৌধুরী, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি কবির আহমেদ পাটোয়ারী ।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, আমিনুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, আব্দুর রশিদ, মাওলানা নুরুজ্জামান, মাওলানা মাসুদ ও আব্দুর রহমান প্রমুখ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জামায়াত নেতা আব্দুল হান্নান।
এর আগে বিকাল চারটায় সদর দক্ষিণ উপজেলা কনেশ তলা বাজারে নেতাকর্মীদের বেপক উপস্থিতিতে গণসংযোগ করেন কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সদর দক্ষিণ উপজেলা আমির মোঃ মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি মু.ওমর ফারুক,কুমিল্লা মহানগর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাও:তাজুল ইসলাম, গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়ন সভাপতি মিজানুর রহমান,আরও উপস্থিত ছিলেন মু.ইব্রাহিম,আব্দুল হালিম, খোরশেদ আলম, উপজেলা শ্রমিক কাল্যাণ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ স্হানীয় নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


র্যাব-১১ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা কুমিল্লা এর যৌথ অভিযানে
কুমিল্লায় ১৮৫ বোতল ফেনসিডিল, ৪ কেজি গাঁজা
ও ২ বোতল বিদেশী মদসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১০ এপ্রিল রাতে র্যাব-১১,
সিপিসি-২, কুমিল্লা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা, কুমিল্লার যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের
ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন আলেখারচর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান
পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে মোঃ আব্দুর রহিম (২৭) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার
করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ১৮৫ বোতল ফেন্সিডিল, ৪ কেজি গাঁজা, ২ বোতল বিদেশী মদ ও
মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী
মোঃ আব্দুর রহিম (২৭) নোয়াখালী জেলার চরজব্বার থানার চর ওয়াবদা গ্রামের মিজান উদ্দিন
এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল, গাঁজা ও বিদেশী মদ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। র্যাব-১১ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা, কুমিল্লা এর ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা, কুমিল্লা এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গরু বহনকারী
ট্রাক উল্টে ব্যবসায়ীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
বুধবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জের পুটিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে
পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম মোল্লা।
তিনি বলেন, একটি ট্রাক ঢাকা থেকে ১৭টি
গরু নিয়ে লাকসামের দিকে যাচ্ছিল। কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির উদ্দেশে যাচ্ছিল তারা।
ইলিয়টগঞ্জের পুটিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয়
ট্রাকটি। এ সময় ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আশপাশে ছিটকে পড়ে ট্রাকে থাকা
গরুগুলো। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে রাসেল নামের একজনের পরিচয় আমরা
পেয়েছি। তিনি গরু ব্যবসায়ী। অন্যজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। এ দুর্ঘটনায় দুটি গরু
মারা গেছে। আরও ১৫টি গরু স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে
আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারা সম্পর্কে আপন ভাই-বোন।
মৃত দুই শিশু হলো: কামালপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রাজু আহমেদের মেয়ে নাফিজা মোবারক মাদিহা (৮) ও মো. ওমর (৫)। নাফিজা স্থানীয় ফাতেমা আইডিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আর ওমর ছিল প্লে শাখার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবার অগোচরে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় নাফিজা ও ওমর। তাদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে পড়ার পর একজনকে উঠাতে গিয়ে আরেকজন পড়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) খুরশিদ আলম।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় নূর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নির্মাণাধীন ভবন ধসে সাইফুল ইসলাম সাগর নামে ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
আজ সকালে সদর দক্ষিণ উপজেলার শাকতলা নোয়াগাও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল ইসলাম সাগর নূর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে শাকতলা এলাকার অলি আহমেদের বড় ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূঁইয়া।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নূর আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের টিনশেড বিল্ডিংয়ে ক্লাশ করছিল সাগর ও তার সহপাঠীরা। এ সময় হঠাৎ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণাধীন ছয় তলার ওপরের অংশ ভেঙে পড়ে। এ সময় ইট পাথরের নিচে চাপা পড়ে সাগর। স্থানীয়রা সাগরকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাসেল খান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক রাসেল জানান, সাগরের মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাগরের বাবা অলি আহমেদ জানান, সকালে স্কুলের জন্য বাসা থেকে বের হয় সাগর। তারপর লোকমুখে শুনতে পান স্কুলে ভবন ভেঙে পড়ে তার ছেলে মারা যায়।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী রাজীবপুর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্মিলিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর ) দিনব্যাপী কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজীবপুর থানাধীন বিভিন্ন পূজা মন্ডপসমূহ সরজমিনে পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক জনাব নুসরাত সুলতানা ও পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুর রহমান।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পূজা মন্ডপ পরিদর্শনকালে পূজা মন্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে নিরাপত্তা সহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন ও উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এছাড়াও পূজা চলাকালীন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন যাতে অটুট থাকে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান সহ সকলকে সরকারি নির্দেশনা সমূহ মেনে চলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যথাসময়ে পূজা বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সমাপ্তির আহ্বান সহ সকল পূজা মন্ডপ শতভাগ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয় রাজীবপুর উপজেলায় বডার হাট পরিদর্শন করেন।
এ সময় রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সার্কেল অফিসার মমিনুল ইসলাম রাজীবপুর অফিসার ইনচার্জ, বিজিবি,রাজীবপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঃ হাই সরকার, বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান মন্ডল, রাজীবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরুন মোহাম্মদ ইলিয়াস, রাজীবপুর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক রস্তম মাহমুদ লিখন,সহ আনসার বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন,কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনায় মূলহোতা সিফাত ও আবরারসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, কোতয়ালী থানার পুলিশ ও র্যাব। রবিবার ও সোমবার পুলিশের অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও বুড়িচং উপজেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো: আব্দুল্লাহ।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায় কয়েকজনের হাতে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় চারজন। পরে তাদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, মোস্তাফিজুর রহমান, অনয় দেবনাথ, মো. মাহিন ও মো. রিজভী। তারা কুমিল্লার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, রোববার সকালে কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শাখার ব্যবসা শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী জিসান ও তাহফিদের সঙ্গে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী তানভীন সিফাতের কথাকাটি হয়। এঘটনার সময় সিপাত ফাহাদকে হামলা করে এবং জিসানকে মারধরের হুমকি দেয়। পরে ফাহাদ ও সিফাতের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে সিফাত তার বিভিন্ন কলেজে থাকা বন্ধুদের কল দিলে তারাও তার সঙ্গে এসে যোগ দেয়। বেলা ১২ টার কিছু সময় পর কলেজের শিক্ষার্থীরা বের হওয়া শুরু হলে সিফাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করে। এঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক তরুণ হাতে ধারলো রামদা নিয়ে অন্য তরুণদের দৌড়াচ্ছে। এসময় এক তরুণের হাতে পিস্তল দেখা যায়। তবে তার চেহারা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিলো না। ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে হাতে অস্ত্রসহ দেখা যাওয়া ঐ তরুণ সিফাত বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঁঞা বলেন, এঘটনায় পর কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এঘটনায় যতটুকু জেনেছি আহতদের কেউ ভিক্টোরিয়া কলেজের নয়। তবে ভিক্টোরিয়া কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং এঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থা করছি।
এই বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো: মহিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের সময় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে এসময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র কয়েকজনের হাতে দেখা যায়। ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব। রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ও বুড়িচং উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে মূলহোতাসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৫ জন এবং র্যাব ২ জনকে গ্রেফতার করে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের
নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা
নুসরাত জাহান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, পরিচিতি এবং আনুষ্ঠানিক নামের তালিকা প্রদান
সম্পন্ন হয়েছে।
আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ এবং সদস্য সচিব প্রকৌশলী এ বি এম আমিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুসরাত জাহান কমিটি গঠিত
হওয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও শিক্ষা পরিবেশ সমৃদ্ধ
করতে অ্যালামনাইদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করেন। পাশাপাশি তিনি দ্রুত
সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকালে বিদ্যালয়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত দুই কিশোরের লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কাজের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে গতকাল শনিবার (২৬ অক্টোবর) তাদের লাশ কবর থেকে তোলা করা হয়েছে।
তারা হলেন, দাউদকান্দির সুকিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে মো. রিফাত (১৬)। রিফাত উপজেলার সুন্দলপুর হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। অপরজন দিনমজুর মো.বাবু মিয়া (২৩)। বাবু মিয়া উপজেলার তুজারভাঙ্গা গ্রামের অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানের ছেলে।
গত ৪ আগস্ট দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রিফাত বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ওইদিন রাতেই মারা যান রিফাত। পরদিন রিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করে তার পরিবার।
এ ঘটনার ১৪ দিন পর ১৮ আগস্ট রিফাত হোসেনের মামা পরিচয়ে আব্দুর রাজ্জাক ফকির বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যার ঘটনায় কুমিল্লার আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন তার মা নিপা বেগম। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
দুই মামলাতেই সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন, পৌর মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন-সহ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে, গত ৫ আগস্ট বিকেলে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে দিনমজুর মো. বাবু মিয়া (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়। নিহত দিনমজুর বাবুর প্রতিবেশী লিটন আহম্মেদ পাভেল বাদী হয়ে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় আদালতের নির্দেশে তাদের দুজনের লাশ উত্তোলন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তাদের লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ।
দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আবার লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মন্তব্য করুন