

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার চরজোকা এলাকার ভয়ংকর মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতা মিলন ফকিরসহ মানব পাচার চক্রের সদস্য রিজাউল ফকির ও তাসলিমা বেগম কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ এর আভিযানিক দল।
র্যাব জানান, চক্রের মূলহোতা মিলন ফকির দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া থেকে মানব পাচারের কাজ করে আসছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বেকারত্ব ও দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে তার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে বিদেশে ভালো চাকরী দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মানব পাচার করে আসছিল। এই চক্রটি ফরিদপুরের ভাংগা থানার গোয়ালদী গ্রামের সহিদুল শেখ (৪৮) এর ছেলে জুবায়েদকে ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে মোটা টাকার বেতনের চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে আসে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচার জন্য জুবায়েদের হত দরিদ্র বাবা-মা জায়গা-জমি বন্ধক রেখে অনেক কষ্ট করে টাকা জোগার করে উপরোক্ত মানব পাচার চক্রের সদস্য রিজাউল ফকির ও তাসলিমা বেগমকে দেয়। গত ২০২২ সালের আগস্ট মাসের ২৯ তারিখে আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে জুবায়েদকে পাচারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে নিয়ে লিবিয়া পাঠিয়ে দেয় । এরপর থেকে জুবায়েদের আর খোঁজ না পেয়ে তার বাবা-মা মূলহোতা মিলনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে আরো দশ লক্ষ টাকা দাবী করে তার ছেলেকে ফিরিয়ে দেবার কথা বলে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে জুবায়েদ একদিন ফোন করে বলে তাকে প্রচুর অত্যাচার করেছে এবং ট্রলারে করে তাকে সাগরে নিয়ে যাচ্ছে। তার বাবা-মা এতে আতঙ্কিত হয়ে মূলহোতা মিলনকে আরো ছয় লক্ষ টাকা দিলেও তার ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬/৭/৮ ও ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এই মানব পাচারের সাথে জড়িত চক্রটির মূলহোতা মিলন ফকিরসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার লক্ষ্যে র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ, সিপিএসসি কোম্পানি এর একটি চৌকশ গোয়েন্দা টীম যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তাদের অবস্থান সনাক্ত পূর্বক গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। আজ (৫ মে) নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানা এলাকা থেকে মানব পাচার চক্রের মূলহোতা এজাহারনামীয় ১নং আসামী মিলন ফকির (৪২), মানব পাচার চক্রের সদস্য ২নং আসামী রিজাউল ফকির (৬৫), ৩নং আসামী তাসলিমা বেগম (৫৫) কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো- মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানাধীন চরজোকা এলাকার মোঃ রিজাউল ফকির এর ছেলে মিলন ফকির, মৃত আলিম উদ্দিন ফকির এর ছেলে রিজাউল ফকির, রিজাউল ফকির এর স্ত্রী তাসলিমা বেগম।
গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তার মন্ত্রণালয়ের
কর্মকর্তাদের আইন মেনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক
মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কাজ করতে গেলে
ভুল হতে পারে। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভুল করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এ সময় সবাইকে মিলেমিশে
আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, যেসব কর্মকর্তা সত্যিকার অর্থেই বঞ্চিত
ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত
হলে তা আমলে নেয়া হবে না।
মতবিনিময়
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মশিউর রহমান,
জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, জননিরাপত্তা বিভাগের সদ্য বিদায়ী
সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলামসহ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন
পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর
আগে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছলে মন্ত্রণালয়ের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। এরপর উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার প্রদান
করা হয়।
মন্তব্য করুন


পিলখানা ত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী আজ সকালে জাতীয় শহিদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শহিদ পরিবারসহ জাতিকে জানাতে চাই- পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।
মন্ত্রী আরো বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের একটি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল্য উদ্দেশ্য কি ছিল, তা জানার জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার ফলাফল আজো প্রকাশিত হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়, যার রিপোর্ট আমাদের সামনে এসেছে। তবে সে রিপোর্ট বাস্তবায়নে সে সরকার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি আরো বলেন, আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করবো না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত লোক দিয়েই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনের রিপোর্টে যে সুপারিশগুলো এসেছে, বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, এই বিচারিক প্রক্রিয়াগুলোকে সমাপ্ত করা হবে। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় শহিদ সেনা দিবস পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিজিবি'র মহাপরিচালক এবং শহিদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ সহ আমি বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। আজ বিকালে এ উপলক্ষ্যে সেনানিবাসে ইফতার, দোয়া মাহফিল ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারাই জীবন দিয়েছে, তারাই চিরস্মরণীয় ও চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্বাস্থ্য কামনায় কুমিল্লায় ধারাবাহিকভাবে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কুমিল্লা–৬ আসনের জননেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের উদ্যোগে নগরী ও জেলার বিভিন্ন মসজিদে নিয়মিতভাবে কুরআন খতম, দোয়া-মাহফিল, এতিমখানায় খাবার বিতরণ এবং পশু সদকার কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় কুরআন খতম শেষে বিশেষ দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
দোয়া-মাহফিলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এ বারী সেলিম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ রতন, আতাউর রহমান ছুটি, মাহাবুবুর রহমান দুলাল, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান কামাল ও মনির হোসেন পারভেজ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান সাঈদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ ও সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন।
দোয়া-মাহফিলে আরও অংশ নেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এ কে এম শাহেদ পান্না, মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক কাজী শাহিনুর রহমান ও সদস্য সচিব ইকরাম হোসেন তাজ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী নোমান, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জোবায়ের আলম জিলানী।
এছাড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ধীমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন রবিন, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেনসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও কৃষকদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দোয়া-মাহফিলে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, বেগম খালেদা জিয়ার পূর্ণ সুস্থতা কামনায় এ ধরনের ধর্মীয় ও মানবিক কর্মসূচি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড কারাতে মাস্টার্স ফেডারেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অফ সিতোরিউ হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক অর্জন কারী মোফাজ্জল মাহিন চৌধুরী।
গতকাল “World Karate Masters Federation” (WKMF Taiwan) কতৃক অফিসিয়াল ইমেইলের মাধ্যমে উক্ত বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
উপরোক্ত বিষয়ে মোফাজ্জল মাহিন চৌধুরী কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অফ সিতোরিউ বাংলাদেশ জানান এটি আমাদের দেশের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। যার মাধ্যমে আমি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারব আরো একটি বিশ্বমঞ্চে।
আমি আশাবাদী অতি শীঘ্রই আমাদের বিশ্বব্যাপী একটি প্রতিযোগিতা মূলক ইভেন্ট শুরু হবে যাতে আমি আমার বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবো।
মন্তব্য করুন


নীলফামারীর
সৈয়দপুরের শহীদ তুলশিরাম সড়কে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখার ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি
টাকা গায়েব হয়ে গেছে। গত দুই বছর ধরে টাকাগুলো সরানো হয়েছে। যা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে
ব্যাংকটির ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি
পলাতক।
ব্যাংকটির
আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা চলাকালে জালজালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থআত্মসাতের বিষয়টি উদঘাটিত
হয়। ওই তদন্ত পরিচালনা করেন ব্যাংকটির হেড অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী
রহমান।
তিনি
নিরীক্ষা দলের প্রধান। সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন সিনিয়র প্রিন্সিপাল
অফিসার (এসপিও) আনোয়ারুজ্জামান, এসপিও খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার
কাজী মো. সোলায়মান হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার দেবাশীষ মল্লিক, প্রিন্সিপাল অফিসার মো.
ইকবাল কবীর ও প্রিন্সিপাল অফিসার একেএম ফজলুল করিম। তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি
রংপুরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন
থেকে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা থেকে ৪৩ কোটি সরানো
হয়। এর মধ্যে ১৫ কোটি সরানো হয়েছিল ব্যাংকটির
রংপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে। ওই শাখার ব্যবস্থাপক
আব্দুল লতিফের অ্যাকাউন্টেও পাঠানো হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।
তবে
ওই ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ বলেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল
রাজি তমালের কাছে আমি ৪৫ লাখ টাকা পেতাম। ওই টাকা তিনি পরিশোধ করেছেন। টাকা আত্মসাতের
বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেন,
বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।
নিরীক্ষা
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল ব্যাংকের কয়েকজন
সহকর্মীর অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এসব টাকা
আত্মসাৎ করেন। যা চলছিল ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রতিবেদনের
সূত্র ধরে ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচরীর সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ
না করর শর্তে তারা বলেন, এ ঘটনায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল একা দায়ী নন।
তার সঙ্গে অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ নিয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।
অগ্রণী
ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণে
এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা টাকা অপসারণের ঘটনায় কে তার নজরে আসেনি বলে
এড়িয়ে যান।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী
সরকার।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি)
বিকেলে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানা।
তিনি বলেন, বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের
খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। সেইসঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ-২০২৬-এর
খসড়া চূড়ান্ত এবং বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর খসড়া
নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে প্রতিবছর ২৩ মার্চকে ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে
ঘোষণা; জাতিসংঘের নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী
কনভেনশনের ৭০(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ কর্তৃক পূর্বে দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহার; ক্যারিবিয়
দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন (সারফেয়ার্স/লোয়ার লেভেল মিশন)
খোলা; ২০২৫-২৮ সময়কালের জন্য আমদানি নীতি আদেশের খসড়া; নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
অধ্যাদেশ-২০২৬; কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত
এবং আন্তর্জাতিক পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে নেদারল্যান্ডসের
হেগভিত্তিক হেগ কনভেনশন অন সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন-১৯৮০-এ
বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত নারীদের সুরক্ষা, মানবাধিকার, ক্রীড়া
উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বাণিজ্য ও নগর উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে জানান প্রেস সচিব।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামরিক
বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চেয়ে বলেছেন, আগামী
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে আয়োজন
করতে হবে।
আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কমপ্লেক্সে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) কোর্স ২০২৫-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এখন নির্বাচনের
সময়। আমরা প্রস্তুত, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের সামরিক
বাহিনী, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন। এটি একটি বড় প্রয়াস। অভ্যুত্থান
থেকে নির্বাচনের পথে যাত্রা। এটি হবে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর, আনন্দ ও মিলনের সময়। মানুষ
তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারবে।
মন্তব্য করুন


ওপার বাংলার অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, পারিশ্রমিক এবং ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের কাজের মানের সঙ্গে আপস করতে রাজি নন, ঠিক তেমনি কম পারিশ্রমিকে অভিনয় করাও তার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
মিমি বলেন, “আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি ডিপ্লোম্যাটিক হয়ে গেছি, কিন্তু মুখের ওপর সত্যি কথা বলার অভ্যাস এখনও রয়ে গেছে। অনেকেই আমাকে কাজে ডাকেন না কারণ আমি পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কোনো দরদাম করি না। আমি আমার কাজের ক্ষেত্রে শতভাগ নিবেদন দিই, তাই পারিশ্রমিকের বেলায় কেন আপস করব?”
তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে ‘পুপে’ চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন। মিমি জানিয়েছেন, “পুপে চরিত্রটি ছিল ঋতু দার মনের সৃষ্টি। সেই ম্যাজিক অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়। আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি যে ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন একটি আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেছি।”
মিমি আরও বলেন, “আমি এটা মেনে নিয়েছি যে ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনো প্রেমিক, বাবা বা বড় ভাই নেই যাদের প্রযোজনা সংস্থা আছে। তাই আমাকে যে অফারগুলো দেওয়া হয়, সেখান থেকেই আমি বেছে কাজ করি।”
মিমির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নিজের যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজস্ব পথ তৈরি করতে বিশ্বাসী।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার
হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ গ্রহণ করেছেন।
আজ
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ) দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত
শপথ অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এ
সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ
মওলা শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
এর
আগে সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম
অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
(বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার
কায়সার কামাল। পরে সংসদের অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি করে তাদের শপথ পড়ানো হয়।
জাতীয়
সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক
মন্ত্রী এবং কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মন্তব্য করুন


এক
সময় কট্টর ডানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ও ইসলামভীতির প্রভাবাধীন ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট
কার্টার আজ একজন আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় মুসলিম।
সম্প্রতি
এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি নিজের জীবনের এই আমূল পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরেন। তার ভাষায়,
ইসলাম গ্রহণ ছিল তার জীবনের জন্য এক ধরনের ‘জীবনরক্ষাকারী অভিজ্ঞতা’।
ইসলামিক
প্ল্যাটফর্ম ‘৫পিলার’-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রবার্ট
কার্টার জানান, কিশোর বয়সে তিনি ছিলেন পথহারা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
কাজ
শেষ হয়নি, আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমিরকাজ শেষ হয়নি, আরেকবার যুবক হয়ে
লড়তে হবে: জামায়াত আমির
একটি
ভাঙা পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং যথাযথ অভিভাবক কিংবা আদর্শ ব্যক্তিত্বের অভাব তাকে গভীর
বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেয়।
তিনি
বলেন, ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে তিনি কট্টর ডানপন্থী চিন্তাধারা ও তথাকথিত ব্রিটিশ মূল্যবোধ
দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তবে সেই সময় এসব মূল্যবোধের প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্য তার কাছে
স্পষ্ট ছিল না।
পশ্চিমা
সমাজে চলমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের দিকেও ইঙ্গিত করেন এই নওমুসলিম সাংবাদিক।
তার মতে, এমন কিছু বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বর্তমানে স্কুল পর্যায়
পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এর ফলে মানুষ নিজের পরিচয়, এমনকি লিঙ্গ পরিচয় নিয়েও সংশয়ের মধ্যে
পড়ছে।
রবার্ট
কার্টারের জীবনের মোড় ঘুরে যায় যেদিন তিনি প্রথমবার পবিত্র কোরআন হাতে নেন। তার ভাষায়,
সেটিই ছিল তার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার দিন। তিনি বলেন, প্রোপ্যাগান্ডা ও ঘৃণার আবরণের
আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তিনি তখন আবিষ্কার করতে শুরু করেন।
একই
সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং অনেক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম
বিষাক্ত ইসলামোফোবিক বয়ান ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ভরা, যা মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে
রাখছে।
ইসলাম
গ্রহণের মুহূর্তটিকে নিজের জীবনের প্রকৃত সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন রবার্ট কার্টার।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, শাহাদা পাঠের দিন তার মনে হয়েছিল তিনি যেন নতুন করে জন্ম
নিয়েছেন। এই বিশ্বাসই তাকে একটি আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ দেখিয়েছে।
ভ্রান্ত
ধারণা, ঘৃণা ও বিভ্রান্তি পেছনে ফেলে সত্যের পথে ফিরে আসার এই গল্প শ্রোতাদের মধ্যে
গভীর সাড়া ফেলেছে। রবার্ট কার্টারের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে কোরআনের
প্রভাব এবং আত্মিক পরিবর্তনের শক্তিকে।
মন্তব্য করুন