

১৬
বছর বয়সে ঢাকা থেকে পাকিস্তানে পাচার হয়ে যান বরগুনার মেয়ে আছিয়া। এরপর কেটে গেছে
তিন দশকেরও বেশি সময়। পরিবারের কেউ জানতেন না তিনি কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন কি না।
সম্প্রতি
সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে পাকিস্তানে থাকা সেই আছিয়ার সন্ধান পেয়েছে পরিবার। এখন সাত
সন্তানের জননী আছিয়া ফিরতে চান ৯০ বছর বয়সি বাবার কাছে। দেশে ফিরতে বাংলাদেশ সরকার
ও পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা চান আছিয়া এবং তার পরিবার।
পারিবারিক
সূত্রে জানা গেছে, নব্বই দশকের শুরুতে অভাবের কারণে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় যায় আছিয়ার
পরিবার। বাসাভাড়া নিয়ে থাকতেন মিরপুরের বড়বাগ এলাকায়। আর দিনমজুরি করতেন আছিয়ার বাবা
তমিজ উদ্দিন। ১৯৯৪ সালের দিকে এক বিকালে বরগুনা যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ১৬
বছরের আছিয়া, এরপর আর ফেরেননি। অনেক খোঁজ করেও মেয়ের সন্ধান পায়নি পরিবার। একসময় মেয়েকে
হারানোর বেদনা নিয়েই গ্রামে ফিরে আসেন তারা। এরপর কেটে গেছে বছরের পর বছর। এর মধ্যে
পাঁচ বোনের বিয়ে হয়েছে, ভাইও সংসার শুরু করেছেন। আর তিন বছর আগে মেয়ের অপেক্ষা করতে
করতেই মারা গেছেন আছিয়ার মা রাহেলা।
কিছুদিন
আগে নিজের পরিচয় ও বাংলাদেশে থাকা বাবার ঠিকানা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আছিয়ার
মেয়ে। এর পরে সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে বাংলাদেশ থেকে তার এলাকার একজন
ঠিকানা যাচাই করে চিনতে পারেন তাকে। ঠিকানা মিলে যাওয়ার পরে তমিজ উদ্দিন, তার ছেলে
মোস্তফা ও মেয়েদের ছবি পাঠানো হয় আছিয়ার কাছে। ছবিগুলো দেখেই হারিয়ে যাওয়া পরিবারের
সদস্যদের চিনতে পারেন তিনি।
সরেজমিন
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ
ঘরেই বসে আছেন ৯০ বছর বয়সি তমিজ উদ্দিন হাওলাদার। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, ঝাপসা
হয়ে এসেছে দৃষ্টি, সে দৃষ্টি অপেক্ষার। কখন মোবাইল নিয়ে আসবেন প্রতিবেশী রিয়াজ।
মোবাইলের
পর্দায় মেয়ে আছিয়ার মুখ ভেসে উঠলেই বদলে যায় তার মুখের অভিব্যক্তি। কখনো হাসেন, কখনো
চোখের পানি মুছেন। কণ্ঠ শুনতে পান বাবা, কথাও হয় প্রতিদিন। তবু ৩২ বছরের অপেক্ষার অবসান
যেন হচ্ছে না তার। কারণ, মেয়েকে দেখা যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না।
মরার
আগে আমার আছিয়ারে একবার দেখতে চাই। এমন আকুতি করে আছিয়ার বাবা তমিজ উদ্দিন বলেন,
আমার ৯০ বছর বয়সে মাইয়ারে না পাইয়া শোকে কাতর হইয়া ছিলাম। আল্লাহ এখন আমার মায়ের
খোঁজ দিছে। আমি চাই মরার আগে ওরে একটু ছুইয়া দেখতে। আমার মেয়েরে আপনারা আইন্না দেন।
আছিয়ার
সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে আমাদের গ্রামের
এক নারীর হারিয়ে যাওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাই। পরে মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বাড়িতে
গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর আছিয়ার ফুফুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমার ফোনের মাধ্যমেই
এখন দুই পরিবারের যোগাযোগ চলছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে
সহযোগিতা করা হোক।
আছিয়ার
ভাই মোস্তফা বলেন, আমার বোন হারিয়ে গেছে প্রায়
৩২ বছর আগে৷ এতদিন তার বেঁচে থাকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ তার সন্ধান পেয়েছি।
সে বেঁচে আছে। আমরা চাই সে যেন দেশে আসতে পারে। সরকার যেন আমাদের সহযোগিতা করে।
পাকিস্তানে
পাচার হয়ে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মোবাইলে আছিয়া বলেন, ১৯৯৪ সালে বরগুনা যাওয়ার
উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে সদরঘাট এলাকায় যাই। সেখানে এক নারীর সঙ্গে দেখা হয়। ওই নারী
আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। পরে আমাকে অজ্ঞান করে প্রথমে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে একটি বদ্ধ ঘরে ১০-১২ দিন রাখা হয়। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। এরপর আমাকে পাকিস্তানের
মোজাফফরনগরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৪০ হাজার রুপিতে আমাকে আমার স্বামীর কাছে বিক্রি
করা হয়।
আছিয়া
জানান, তার স্বামী স্কুলশিক্ষক ছিলেন এবং ভালো মানুষ ছিলেন। তাদের ছয় মেয়ে ও এক ছেলে
রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর স্বজনদের কথা আরও বেশি মনে পড়তে থাকে তার। পরে তার বড়
মেয়ে সামাজিক গমাধ্যমে মায়ের নাম-ঠিকানা দিয়ে পোস্ট করলে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সন্ধান
পান তিনি।
আছিয়া
বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেও বাড়ির কোনো খোঁজ নিতে পারিনি। এখন পরিবারের সন্ধান পেয়েছি।
আমি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছি। দেশে ফিরতে প্রায় চার লাখ পাকিস্তানি রুপি লাগবে
বলে জানতে পেরেছি কিন্তু এতো টাকা আমার কাছে নেই। আমি আমার বাবাকে দেখতে দেশে ফিরতে
চাই। এজন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা চাই।
এ
বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, আছিয়ার যদি বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে
কোনো প্রমাণপত্র থাকে তবে পাকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে
পারেন। অন্যথায় যেহেতু ৩২ বছর পূর্বের ঘটনা আর যদি নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট বা অন্যান্য
প্রমাণপত্র না থাকে তার পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
আবেদন করলে আমাদের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী আছিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুর
জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ফরিদা
ইলিয়াসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি দীর্ঘদিন গোপনে থাকলেও সম্প্রতি নিজ বাসায় অবস্থান
করছিলেন।
বুধবার
(৮ জুলাই) দুপুরে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ
আহমেদ।
ফরিদা
ইলিয়াস চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে বড় স্টেশন রেল শ্রমিক কলোনির মৃত আব্দুল গফুর শেখের মেয়ে।
তার স্বামীর নাম ইলিয়াস হোসেন। তিনি ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সক্রিয়
ভূমিকা পালন করেন। তিনি সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির অনুসারী।
জানা
যায়, ফরিদা ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আত্মগোপনে ছিলেন। গত কয়েক মাস চাঁদপুরে প্রকাশ্যে
আসেন তিনি। সেই সঙ্গে দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের নতুন-পুরনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট
করেন।
পুলিশ
জানায়, ফরিদা ইলিয়াসকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি হিসেবে বুধবার সকাল ৮টায় বড় স্টেশন
উত্তর শ্রীরামদী নিজ বাসা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূরের নেতৃত্বে থানা পুলিশ
গ্রেফতার করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবির উপস্থিত ছিলেন।
সন্ত্রাসবিরোধী
আইনে থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন।
চাঁদপুর
সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে বিচারক
তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজার
থেকে টেকনাফগামী একটি পালকি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের খাদে
পড়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার
(২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় কেয়ারী ঘাটসংলগ্ন ব্রিজের কাছে
এ দুর্ঘটনা ঘটে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন।
আহতদের
মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দুজন এবং টেকনাফের দমদমিয়া এলাকার
দুজন বাসিন্দা রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারী দল তাদের উদ্ধার করে
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
টেকনাফ
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার জামিম মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস,
বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালান।
ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। আমরা দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা
করেছি।
প্রত্যক্ষদর্শী
মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘মিনিবাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল।
একপর্যায়ে
চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। ওই সময় বাসটিতে
প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানালা ভেঙে যাত্রীদের বের করে
আনেন। বাসটি চালাচ্ছিলেন হেলপার। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি।
টেকনাফ
মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের (ফিতরা) হার নির্ধারণ করা হয়।
রমজানে এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর (২০২৩) সর্বোচ্চ ফিতরা ২ হাজার ৬৪০ টাকা, তবে সর্বনিম্ন ফিতরা ১১৫ টাকাই ছিল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।
সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী শরীয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন। এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। গম ও আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়।
হাফেজ মুফতি মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন জানান, উন্নতমানের আটা বা গমের ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) বা এর বাজার মূল্য ১১৫ টাকা। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৪০০ টাকা ফিতরা দিতে হবে।
এছাড়া ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ১৪৫ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ৪৭৫ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৯৭০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।
ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে বলেও জানান মাওলানা রুহুল আমিন।
নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ) মালের মালিক হলে মুসলমান নারী পুরুষের ওপর ঈদের দিন সকালে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ বা ১১ এপ্রিল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
মন্তব্য করুন


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।
সোমবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে
আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের বৈঠকে মৌলিকভাবে এই বিভাগের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলতে চাই, সাইবার সিকিউরিটি আইনের
যে ধারাগুলো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, কোটা
সংস্কার আন্দোলনের সময়ে যেসব স্টার্টআপ শিক্ষার্থীদের পক্ষ নেওয়ায় বিরূপ আচরণের শিকার
হয়েছে, তাদের বিনিয়োগ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন শিক্ষামূলক
প্রতিষ্ঠান ‘টেন মিনিট স্কুল’-এর
জন্য পাঁচ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব গত ১৬ জুলাই বাতিল করে আইসিটি বিভাগের আওতাধীন
সরকারি সংস্থা স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড। টেন মিনিট স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও
আয়মান সাদিক সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের পক্ষ নিয়ে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।
এর পরই বিনিয়োগ প্রস্তাব বাতিল করা হয়।
এদিকে আন্দোলনকালে ইন্টারনেট শাটডাউন
নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে রবিবারে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার
কথা।
এর পেছনে যদি সাবেক প্রতিমন্ত্রী বা
কোনো সংস্থাপ্রধান জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে কি না—তা জানতে চাওয়া হলে নাহিদ ইসলাম বলেন,
অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আজকের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন আসবে। এরপর যদি মূল্যায়ন
করে আরও তদন্ত প্রয়োজন হয়, সেটি করা হবে। এতে যদি সরকারের কোনো লোক, সংস্থা বা মন্ত্রী
কেউ জড়িত থাকেন, অবশ্যই বিচার করা হবে। ইন্টারনেটে অবাধে তথ্যপ্রবাহ হয়, এটি মানবাধিকার।
কিন্তু এই ইন্টারনেট বন্ধ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, শত শত মানুষকে মেরে ফেলা
হয়েছে। এ বিভাগের প্রকল্পে দুর্নীতি ও অবহেলার সুযোগ নেই।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের
কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফুরকান মিয়ার
ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শনিবার (৯ মে) কাপাসিয়ার
আমরাইদ এলাকা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয়
প্রকাশ করা হয়নি।
এর
আগে শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির
হোসেনের বাড়িতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন
অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া।
নিহতরা
হলেন, ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং
শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।
ফুরকান
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায়
প্রাইভেটকার চালক ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের
বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন।
স্থানীয়রা
জানান, তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া
যায় বিছানার ওপর। অন্যদিকে শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলতে
দেখা যায়।
পুলিশ
জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের
খালি বোতল ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। থানার পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ
করছে।
পুলিশের
একটি সূত্র জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নিহতদের স্বজন রাশিদাকে ফোন করে ফুরকান
মিয়া জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার
পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন কাপাসিয়ার সংসদ সদস্য
সালাহউদ্দিন আইউবীসহ জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


দেশের
আরও ১০ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন
এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি)
সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।
ঢাকার
পার্শ্ববর্তী ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলায় রেল সেবা সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন
মন্ত্রী।
তবে
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের থেকে জানা গেছে- শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল,
বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে।
রেলমন্ত্রী
বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে আজ রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম
এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি, সামগ্রিক সেবা কি পর্যায়ে আছে এবং উত্তরণের জন্য কি পদক্ষেপ
নেওয়া হয়েছে, কি কার্যক্রম চলমান এবং আগামীতে কি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে- সে
বিষয়ে একটা মিটিং ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেটা জেনেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন এবং তার মতামতও
যুক্ত করেছেন। সেই সামগ্রিক যোগাযোগ কানেক্টিভিটি এবং সেবার মান নিয়ে পর্যালোচনাপূর্বক
বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’
তিনি
বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি। যেমন- আখাউড়া-সিলেট,
সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সেটা তো আছেই, অ্যাট দ্য সেম টাইম আমাদের ধীরাশ্রমে একটা আইসিডি কনটেইনারের
প্রকল্প এরই মধ্যে পাস হয়েছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার যে রাস্তা সেটা কিছু
মিটারগেজ কিছু হচ্ছে আপনার ব্রডগেজ।’
মিটারগেজ
যেখানে আছে বিশেষ করে টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট এতটুকু মিসিং লিংক
আছে, সেটা ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন হবে। সেই ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, অ্যাট দ্য
সেম টাইম ঢাকা থেকে কুমিল্লা একটা কর্ড লাইন এটাও খুব জরুরি সে ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত
হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ
করার তাগাদা এসেছে।
বর্তমানে
দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনি
ইশতেহারে ছিল ৬৪ জেলাকেই আমরা রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে নতুন
আরও ১০টি জেলাকে কীভাবে রেল সংযোগ বা রেল যোগাযোগ বা রেল সেবা নিশ্চিত করা যায় সে
ব্যাপারে রেললাইন এবং তার সার্ভিস প্রসারিত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে।
সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রেজেন্টেশন, সম্ভাব্য রেললাইন আমরা
উপস্থাপন করেছি। তার মানে আরও ১০টা জেলা যুক্ত করতে চাইবো।
শেখ
রবিউল আলম বলেন, সরকার বাস্তবায়ন করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করবে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা
হয়েছে। যেগুলো আছে সেটা তো আছেই। যেখানে একেবারেই নেই, যেমন- মানিকগঞ্জ, ঢাকার কাছে,
নেই। তো আমরা চাচ্ছি যে যেহেতু কমিউটার ট্রেন চালুর একটা ব্যবস্থা আমাদের অঙ্গীকার
আছে; যেমন- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টঙ্গী, জয়দেবপুর, অ্যাট দ্য সেম ঢাকা-মানিকগঞ্জ,
ঢাকা-নরসিংদী, তো মানিকগঞ্জে ট্রেন যোগাযোগ নেই। তো আমরা ঢাকা-মানিকগঞ্জ এটা করার একটা
সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে কমিউটার ট্রেন, মানে ঢাকা থেকে মানুষ তার ব্যবসা, কর্ম সবকিছু
ছেড়ে পাশের জেলাগুলোতে দ্রুত আসতে পারে এবং যেতে পারে কাজ সেরে। এ ধরনের একটা কানেক্টিভিটি
করার চিন্তা আছে।
ঢাকা
থেকে কুমিল্লা কর্ড লাইন নিয়ে নতুন করে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী
বলেন, এটা ভাবনা ছিল আর আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এটা হলো পার্থক্য। কর্ড লাইনটা
দরকার, প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার পথ কমে যায় এটা আমরা সবসময় শুনছি। কিন্তু এটা
বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে, দিস ইজ দ্য ডিফারেন্স।
তিনি
বলেন, বিগত আমলে যে কাজগুলো হয়েছে, সেখানে রেললাইন হয়েছে ক্যারেজ বা লোকোমোটিভের
কোনো সন্ধানই নেই। আমরা এবার সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি সম্পূর্ণভাবে। ডিপিপি পাস হওয়ার
সময়ই ট্রেন লাইন হবে, অ্যাট দ্য সেম টাইম লোকোমোটিভ এবং ক্যারেজ আয়োজন ওই ডিপিপির
মধ্যেই থাকবে, এজন্য আলাদা প্রকল্প নয়, সমন্বিত প্রকল্প হবে। যাতে ট্রেন লাইনটা নির্মাণ
শেষ হলো, একই সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু করল এরকমভাবে হবে প্রজেক্ট। যেগুলো আসবে সবগুলো
প্রজেক্টই ওই বিবেচনায় হবে, বিচ্ছিন্নভাবে হবে না। লাইন, ক্যারেজ (বগি) আর লোকোমোটিভ
(রেল ইঞ্জিন) ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প, ভিন্নভাবে বাস্তবায়িত হবে না, সমন্বিতভাবে হবে।
মন্তব্য করুন


এইচএসসি
ও সমমান পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
(১৫ আগস্ট) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মো. আবুল
বাশারের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ১১
সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হবে।
গত
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১১ সেপ্টেম্বর থেকে
শুরুর একটি প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূসের কাছে জমা দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এর আগে কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে স্থগিত করা হয় এইচএসসি ও সমমানের
পরীক্ষা। পরবর্তীতে ১১ আগস্ট থেকে শুরুর কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। আর ৬ আগস্ট
‘অনিবার্য কারণবশত’ এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বঙ্গবনের দরবার হলে প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে শপথ নেন তিনি।
ড. ইউনূসের পর শপথ নেন ১৩ উপদেষ্টা। তারা হলেন- ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, হাসান আরিফ, তৌহিদ হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মো. নাহিদ ইসলাম (ছাত্র প্রতিনিধি), আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (ছাত্র প্রতিনিধি), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, ফরিদা আখতার, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, নুরজাহান বেগম এবং শারমিন মুরশিদ।
এদিকে ঢাকার বাইরে থাকায় উপদেষ্টার শপথ নেননি তিনজন। তারা হলেন- বিধান রঞ্জন রায় (চিকিৎসক), ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক) ও সুপ্রদীপ চাকমা (পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত)।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন তাদের দায়িত্ব ও পরিচয় প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো:
১.
ড.
মুহাম্মদ
ইউনূস
ছিলেন শিক্ষকতা পেশায়। সেখান থেকে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা। পরে ওই ব্যাংককে সাথে নিয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেই থেকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস।
২. সালেহউদ্দিন আহমেদ
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নবম গভর্নর। ড. ফখরুদ্দীন আহমদ দায়িত্ব ত্যাগের পর তিনি ২০০৫ সালের ১ মে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জেলার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর (দরিশ্রীরামপুর) গ্রামে তার জন্ম। তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স পাস করেন এবং ১৯৬৯ সালে একই বিষয়ে এমএ পাস করেন। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডারে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে কানাডার হ্যামিল্টন শহরে অবস্থিত ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
৩. ড. আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুলের জন্ম ১২ জানুয়ারি ১৯৬৬। তিনি একাধারে লেখক, ঔপন্যাসিক, রাজনীতি বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতক ও ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সোয়াস (স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ) ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে তাঁর পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময় জার্মানির বন শহরের এনভায়রনমেন্টাল ল সেন্টার থেকে তিনি পোস্ট ডক্টরেট ফেলোশিপ অর্জন করেন। তিনি স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে একজন কমনওয়েলথ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বে ১৯৯১ সালে আসিফ নজরুল একটি বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক পত্রিকা বিচিত্রায় কাজ করতেন। তিনি কিছু সময় বাংলাদেশ সরকারের একজন সরকারি কর্মকর্তা (ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে কাজ করেছেন।
৪. আদিলুর রহমান খান
আদিলুর রহমান খানের জন্ম ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২। একজন মানবাধিকার কর্মী এবং মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বাংলাদেশের একজন আইনজীবী এবং সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। আদিলুর রহমান এবং সুশীল সমাজের অন্য সদস্যরা ১০ অক্টোবর, ১৯৯৪ সালে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার কর্তৃক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হয়েছিলেন।
২০১৩ সালে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ২০১৩ সালের শাপলা স্কোয়ার বিক্ষোভের সময় নেতাকর্মীদের অপসারণের অভিযানে নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর’ জন্য খানের বিরুদ্ধে ঢাকায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
৫. এ এফ হাসান আরিফ
আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ১৯৪১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। আরিফ সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ কলকাতা থেকে তার মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
হাসান আরিফ অক্টোবর ২০০১ থেকে এপ্রিল ২০০৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি জানুয়ারি ২০০৮ থেকে জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ছিলেন।
৬. তৌহিদ হোসেন
মো. তৌহিদ হোসেনের জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৫ সালে। তিনি একজন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগদান করেন।
৭. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের জন্ম ১৫ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ‘পরিবেশ পুরস্কার’ এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ’ প্রাপ্ত এবং ২০০৯ সালে টাইম সাময়িকীর ‘হিরোজ অব এনভায়রনমেন্ট’ খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশি আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী।
৮. মো. নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। নাহিদের জন্ম ১৯৯৮ সালে ঢাকায়। তার বাবা শিক্ষক। মা গৃহিণী। ছোট এক ভাই রয়েছে তার। তিনি সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন।
৯. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন।
১০. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন
এম সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে। তিনি একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার (২০০৭-২০১২)। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত)।
১১. সুপ্রদীপ চাকমা
সুপ্রদীপ চাকমা সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। সুপ্রদীপ চাকমার জন্ম ১৯৬১ সালে খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি সপ্তম বিসিএসে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। মেক্সিকো ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত ছিলেন সুপ্রদীপ চাকমা। এ ছাড়া রাবাত, ব্রাসেলস, আঙ্কারা ও কলম্বোতে বাংলাদেশ মিশনেও তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন।
১২. ফরিদা আখতার
ফরিদা আখতার একজন লেখক, গবেষক ও আন্দোলনকর্মী। বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) নির্বাহী পরিচালক তিনি।
১৩. বিধান রঞ্জন রায়
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ছিলেন তিনি।
১৪. আ ফ ম খালিদ হাসান
আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন (যিনি ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন নামে সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলাদেশি সুন্নি দেওবন্দি ইসলামী পণ্ডিত। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক নায়েবে আমির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা, মাসিক আত তাওহীদের সম্পাদক, বালাগুশ শরকের সহকারী সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের কুরআনিক সায়েন্সেস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অতিথি শিক্ষক।
১৫. নুরজাহান বেগম
তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
১৬. শারমিন মুরশিদ
ব্রতী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ।
১৭. ফারুক-ই-আজম
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সমন্বিত যুদ্ধাভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’। চট্টগ্রাম বন্দরে আক্রমণের জন্য গঠিত ওই অভিযানিক দলের উপ-অধিনায়ক ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছান। ৬ মে তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের হরিণা ইয়ুথ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। এই অবস্থায় তিনি একদিন শুনলেন, নৌবাহিনীর জন্য মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুট করা হবে। তিনি লাইনে দাঁড়ালেন। টিকে গেলেন। পলাশীতে দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ১ আগস্ট অপারেশনের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়।
মন্তব্য করুন


সৌদি
আরবের রাস তানুরায় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’র একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী
১৪ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে
আজ রোববার (২৮ জুন) সৌদির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রীয়
সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, আজ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময়
৩ টা) এই দুর্ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারটিতে থাকা ১৪ জন আরোহীর সবাই সৌদি নাগরিক ছিলেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের
প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের রাস তানুরাই
টার্মিনালে সৌদি আরামকোর অপরিশোধিত তেল লোডিংয়ের কার্যক্রম প্রায় চার মাস বন্ধ ছিল।
গত শুক্রবারই (২৬ জুন) সেখানে পুনরায় তেল লোডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছিল, যার দুদিনের মাথায়
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল।
মন্তব্য করুন


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের প্রচারণা ও মিছিল করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনার আলোকে মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে।
এতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৮ অনুসারে কোনো নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন বা তাতে যোগদান না করার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি সকাল ৮টায়। এ হিসাবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
পরিপত্রে আরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ভোটকেন্দ্রের ৪শত গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী নির্বাচন ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না।
মন্তব্য করুন