

নোয়াখালীর
চাটখিল উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার জেঠাতো
ভাই শাহাদাত হোসেনকে (২৬) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা
করা হয়েছে।
সোমবার
(৬ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক
ফারজানা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত
শাহাদাত হোসেন উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাবুল হোসেনের ছেলে
এবং নিহত শিশু আসমা আক্তারের জেঠাতো ভাই।
নারী
ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সেলিম শাহী
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায়ে আসামিকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে
রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় শাহাদাত আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার
বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা
আক্তার (৫)।
ঘটনার
নয় দিন পর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে তার
মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ
ঘটনায় আসমার জেঠাতো ভাই শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে আদালতে দেওয়া
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, ধর্ষণের পর বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়
শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং মরদেহ সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে রাখেন।
পরে
২০২২ সালের ৬ এপ্রিল নিহত শিশুর বাবা মাওলানা শাহজাহান চাটখিল থানায় শাহাদাত হোসেনকে
একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ
বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে
প্রমাণিত হওয়ায় শাহাদাত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
মন্তব্য করুন


টানা
দুই জয়ে আগেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
তবে তাদের নজর ছিল ‘জে’ গ্রুপের আরেক ম্যাচ আলজেরিয়া-জর্ডান
লড়াইয়ের দিকে। সেখানে আলজেরিয়ার জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন
হওয়া নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে বিদায়ঘণ্টা বেজেছে জর্ডানের।
আগের
নিয়ম অনুসারে, দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিতে গোল ব্যবধান বিবেচনা
করা হতো। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সেই নিয়ম বদলে ফেলা হয়। চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়া
এবং অস্ট্রিয়ার পয়েন্ট সমান ৬ হওয়ার সুযোগ থাকলেও, নতুন নিয়মে হেড-টু-হেড রেকর্ডে এগিয়ে
থাকার কারণে আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করেছে।
আগামী
রোববার সকাল ৮টায় নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির দল জর্ডানের মুখোমুখি
হবে। সেই ম্যাচে হারলেও তাদের গ্রুপের শীর্ষ থেকে কেউ নামাতে পারবে না। বিদায় নিশ্চিত
করা জর্ডানও পারবে না গ্রুপের তিন নম্বরে উঠতে। ‘জে’ গ্রুপের বাকি দুই দল অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া
লিওনেল মেসিদের কাছে হারায়, তাদের ম্যাচটি হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী। রোববার
একই সময়ে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া মুখোমুখি হবে।
গতকাল
(সোমবার) রাতে আরেকটি মেসিময় ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রিয়াকে। এর
আগে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে দেয় ৩-০ ব্যবধানে, সেদিন হ্যাটট্রিক করেন আর্জেন্টাইন
মহাতারকা। ২ ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট পাওয়া স্কালোনির দলটি গোল (৫) ব্যবধানেও এগিয়ে আছে।
ফলে অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচে সেই ব্যবধান ছাড়িয়ে যাওয়া বেশ কঠিন–ই।
আবার গোল ব্যবধানে আলবিসেলেস্তেদের পিছিয়ে দিলেও হেড-টু-হেডে হারায় কেউই পয়েন্ট টেবিলের
শীর্ষে ওঠার সুযোগ নেই।
এদিকে,
আজ (মঙ্গলবার) সকালে জর্ডানকে ২-১ গোল হারিয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে আলজেরিয়া।
অস্ট্রিয়াও নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে
হারিয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে ওঠার সুযোগ খোলা আছে অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া উভয়ের
সামনেই।
জর্ডানের
বিপক্ষে আজ আলজেরিয়া শুরু থেকে আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ৩৬ মিনিটে গোল হজম করে। গোলটি
করেন নিজার আল-রাশদান। তার সেই লিড টিকেছিল আধা ঘণ্টারও বেশি সময়। এরপর ৬৯ মিনিটে নাদির
বেনবুয়ালি সমতা ফেরানোর পর আলজেরিয়ার জয়নির্ধারণী শেষ গোল করেন আমিনে গুইরি।
মন্তব্য করুন


প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে বাংলাসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ একসঙ্গে উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে জানানো হয়,সরকার জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ ১৪৩২ উদ্যাপন উপলক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করছে। এ বছর বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক নববর্ষ শোভাযাত্রার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের
সকল মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে আগামী ২৩ মার্চ
রোববার দুপুর ১২টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সভাপতিত্বে
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


ঝিনাইদহের
কালুখালিতে রানী ও সিনিয়া একই ক্লাসে পড়াশোনা করে। পড়াশোনা নিয়ে তাদের মাঝে প্রতিদ্বন্দীতা
শুরু হয়। এর মধ্যে রানী অসুস্থ হয়ে পড়লে রটে যায় সিনিয়া তাকে কালো জাদু করেছে। এই অজুহাতে
ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
রোববার
(২৮ জুন) দুপুরে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কালুখালি মধুপুর
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয়
বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, একটা মেয়ে অসুস্থ সেখানে আরেকটা মেয়ের দোষ কোথায়? আসলে
শিক্ষকদের উদাসিনতায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আধুনিকযুগে ছেলেমেয়েরা কী শিখছে? এ
ঘটনায় একদিকে যেমন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সম্মানহানি হলো অন্যদিকে সিনিয়া নামের মেয়েটার
লেখাপড়া সংকটে পড়লো।
এ
ব্যাপারে কালুখালি মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন,
এ ব্যাপারে আমরা (শিক্ষকরা) কিছুই জানি না। ক্লাস শুরুর আগেই ছাত্র-ছাত্রীরা এ কাজ
করেছে।
এ
ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার
জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেছি। তারপর বিষয়টি দেখবো।
আধুনিকযুগে
শিক্ষার্থীদের কালোজাদু নিয়ে মাবন্ধনের নেপথ্যে অন্য ঘটনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন
স্থানীয় সচেতন মহল। তারা এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি
সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার
(৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায়
ঘোষণা করেন।
রায়ে
সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি
এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে রায় যখন বাস্তবে কার্যকর হবে, তখন আমি শতভাগ সন্তুষ্ট হব।’তিনি
আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ এ মামলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করছি। আমি চাই প্রত্যেকটি রামিসা হত্যার বিচার হোক। এই ধরনের নৃশংসতা যেন আর না হয়।
যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর চাই।’
পাশাপাশি
সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
অর্থদণ্ডের টাকা রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টাকা দিতে না পারলে
আসামিদের স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার আগে আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে
কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে, গত ৪ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা
দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের
দিন ধার্য করেন।
মামলার
অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে
যায়। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুজি শুরু করেন
তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।
ডাকাডাকির
পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির
বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। এরপর জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার
করা হয়।
এ
ঘটনায় গত ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের
করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। গত ২০ মে মামলার
প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের
আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। একই দিন আদালত স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে
পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত
শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা
মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন।
গত
১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত
১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


খাগড়াছড়িতে ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে
মা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ মে) ভোরে জেলার দীঘিনালা,
রামগড় ও মাটিরাঙ্গায় এসব ঘটনা ঘটে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বজ্রপাতে টিনের
ঘরে আগুন লেগে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। ভোরে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের মধ্যবেতছড়ি গ্রামে
এ ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে নিহতরা হলেন- দীঘিনালার মধ্যবেতছড়ির
মো: ছাদেক মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০) ও তার ছেলে হানিফ মিয়া (৮)। ঘটনার সময় হাসিনা
বেগমের স্বামী ছাদেক মিয়া বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা
ঘরের আগুন নিভিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে ভারি বৃষ্টির
সঙ্গে বজ্রপাতে ছাদেক মিয়ার মাটির ঘরের টিনের চালে আগুন লেগে যায়। এ সময় ঘরের ভেতরে
থাকা তার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও ছেলে হানিফ মিয়া আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে মারা যান। তবে
এ সময় সঙ্গে থাকা তার আরেক ছেলে মো: হাফিজ (১১) প্রাণে বেঁচে যায়।
দীঘিনালা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মো: নুরুল হক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া
হবে।
এদিকে খাগড়াছড়ির রামগড়ে বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টির
সময় বাড়ির উঠানে থাকা দুটি গরুসহ গনেজ মারমা (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ভোরে
রামগড়ের দুর্গম হাজাছড়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে নিহত গনেজ মারমা দুর্গম হাজাছড়া
গ্রামের বাসিন্দা কংজ মারমার ছেলে।
একইদিন মাটিরাঙ্গায় বজ্রপাতে সুমিকা
ত্রিপুরা (২৭) নামে এক গৃহিণী নিহত হন। এসময় তার দুই ছেলে আহত হয়। এছাড়া তার ঘরে থাকা
তিনটি ছাগল মারা যায়। সুমিকা ত্রিপুরা মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের শশীকারবারী পাড়ার
বাসিন্দা সুশেন ত্রিপুরার স্ত্রী। তার দুই ছেলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
চিকিৎসাধীন আছে।
বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহমত
উল্যাহি বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, এ মৃত্যু বড়ই মর্মান্তিক। মাটিরাঙ্গা
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


৭০০
বছরের রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের
দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে।
সোমবার
(২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিলগালা করা দানের বড় তিনটি
ডেগের মুখ খোলা হয়।
শাহজালাল
মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন। এর আগে মাজারের ইতিহাসে এভাবে প্রকাশ্যে
দানের টাকা গণনা করা হয়নি।
হযরত
শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণের (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন
সিলেটের জেলা প্রশাসক (সদ্য প্রত্যাহার) মো. সারওয়ার আলম। এতে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা
দেখা দেয়। এরই মধ্যে রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সারওয়ার আলমকে
জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত
করা হয়।
এ
ঘটনায় সিলেটজুড়ে তোলপাড় চলছে। প্রত্যাহার করা জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে সিলেটে বহাল
রাখার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনর ব্যানারে আন্দোলন চলছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গণনা কার্যক্রমে মাদরাসার
শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। পুরো কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
জেলা
প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, গণনা শেষে মোট দানের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। পরে
এ অর্থ কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত
নেবে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ওয়াকফ এর প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন
আহমেদ।
বাংলাদেশ
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে ) সকালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত
হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান।
তিনি
আরো জানান, বাংলাদেশ ওয়াকফের প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় তাঁরা ওয়াকফ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
এ
সময়ে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং
ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে গুরুতর আহতদের
খোঁজ নিতে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আগারগাঁওয়ের
হাসপাতালটিতে পরিদর্শনে যান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
জুলাই-আগস্টে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গুরুতর
আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৮ শিক্ষার্থীসহ
গুরুতর আহত কমপক্ষে ১১ জন হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ সময় হাসপাতালের পরিচালক কাজী দীন
মোহাম্মদ বলেন, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ৪ শিক্ষার্থীর
অবস্থা প্রধান উপদেষ্টা দেখেছেন। চারজনেরই মাথায় গুলি লেগেছে। তাদের অবস্থার উন্নতি
হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি নারী শান্তিরক্ষী
নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টায়
বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আজ
রোববার (২০ এপ্রিল) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তি কার্যক্রমবিষয়ক
আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে
গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ
সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি যা উৎসাহিত করি তা হলো শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বাংলাদেশি
নারীর অংশগ্রহণ।
শান্তিরক্ষী
প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন দেশের একটি। বর্তমানে বাংলাদেশের ৫,৬৭৭
জন শান্তিরক্ষী ১১টি সক্রিয় মিশনের মধ্যে ১০টিতে কাজ করছে।
জাতিসংঘ
আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জানান, নারীদের শান্তিরক্ষায় সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে জাতিসংঘের
একটি নীতিমালা রয়েছে।
তিনি
বলেন, আমরা নারীদের নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।’ তিনি উল্লেখ করেন
যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার সব ক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগে সমর্থন দেবে।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, প্রয়োজনে বাংলাদেশ অতিরিক্ত সৈন্য ও পুলিশ পাঠাতে
প্রস্তুত। তিনি জাতিসংঘের পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেম (পিপিআরএস)-এর র্যাপিড
ডিপ্লয়মেন্ট পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত পাঁচটি ইউনিটের কথা উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় সদর দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ে বাংলাদেশি নেতৃত্ব
বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। জাতিসংঘ প্রতিনিধি বলেন, এ ব্যাপারেও তারা বাংলাদেশকে সমর্থন
দেবে।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, শান্তিরক্ষী নিয়োগে জাতিসংঘের যাচাই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ
কঠোরভাবে মেনে চলে এবং প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতায় জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আরও
সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়, যাতে মানবাধিকার প্রতিপালন আরও জোরদার হয়।
প্রধান
উপদেষ্টাকে জানানো হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল
আগামী ১৩ থেকে ১৪ মে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের
সম্মেলনে অংশ নেবে।
মিয়ানমারে
চলমান সংঘর্ষ, সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা, বেসামরিক নাগরিক হতাহত এবং নাফ নদী সংলগ্ন
এলাকায় জীবিকা বিঘ্নিত হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
তিনি
সতর্ক করেন, এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তা আরও অবনতি হয়ে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি
করতে পারে। তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।
প্রধান
উপদেষ্টা সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা স্মরণ করে বলেন, তার এই সফর রোহিঙ্গাদের নিরাপদ
ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে নতুন করে আশা জুগিয়েছে।
মন্তব্য করুন


মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে আন্তর্জাতিক
মঞ্চে রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার
রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্টিটস্কি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে
রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাইন অপসারণের কথা স্মরণ
করেন।
তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশের
অন্যান্য পণ্যও আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান। বর্তমানে রাশিয়ায় বাংলাদেশের মোট
রপ্তানির ৯০ শতাংশ তৈরি পোশাক।
বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায়
বাংলাদেশে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং খাদ্য নিরাপত্তা,
জ্বালানি অনুসন্ধান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সহায়তা বাড়ানোসহ পারস্পরিক স্বার্থ
সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের খাদ্যশস্য এবং সারের বড় একটি অংশ রাশিয়া থেকে আমদানি
করা হয় উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক
অংশীদার।
গত বছর রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন টনেরও বেশি গম
আমদানি করেছে এবং চলতি বছর আমদানির পরিমাণ ইতোমধ্যে ২ মিলিয়ন টন অতিক্রম করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি
কোম্পানি গ্যাজপ্রম ভোলা দ্বীপে এবং দেশের অভ্যন্তরে আরও পাঁচটি গ্যাস কূপ
অনুসন্ধান করতে আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ
চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আগামী বছর চালু হতে পারে।
তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশে এলএনজি রপ্তানিতে আগ্রহী।
প্রধান উপদেষ্টা অর্থনৈতিক ও শিক্ষা সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের
মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
মন্তব্য করুন