

নড়াইলে
বসতঘরের ওপর পাথরবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে পড়ে শামীমা আক্তার সেতু (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রী
নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট বোন মিতু গুরুতর আহত হয়েছে।
রোববার
(৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা
ঘটে।
নিহত
সেতু নলদী গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজুর মোল্লার বড় মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের
৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। আহত মিতু (১০) তার ছোট বোন।
পারিবারিক
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার শেষে প্রতিদিনের মতোই ঘুমিয়ে ছিল সেতু ও মিতু।
রাত ১২টার দিকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক পথ ভুল করে নলদী গ্রামে হাফিজুর মোল্লার বাড়ির
সামনের সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি উল্টে সরাসরি
হাফিজুর মোল্লর বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘুমন্ত
দুই বোন ভারী পাথরের নিচে চাপা পড়ে।
পরে
স্থানীয়রা ছুটে এসে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে
নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শামীমা আক্তার সেতুকে মৃত
ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মিতুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নড়াইল
জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী আঘাতের কারণে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর শিশুর
চিকিৎসা চলছে।
এদিকে
ঘুমন্ত অবস্থায় এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো নলদী গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের
ছায়া। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করেছে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ
করেছে বিএনপি।
আজ রবিবার (১১ মে) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক
বিবৃতিতে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি আমরা প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সাক্ষাৎকালে
তার হাতে দেওয়া পত্রে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল
হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, গত ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সর্বশেষ সাক্ষাৎকালেও
তার হাতে দেওয়া পত্রে আমরা পতিত ফ্যাসিবাদী দল ও সেই দলীয় সরকারের সঙ্গে যারাই যুক্ত
ছিল, তাদের বিচার দ্রুত করে দেশের রাজনীতির ময়দানকে জঞ্জালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছি।
আলোচনায় আমরা স্পষ্ট করে বলেছিলাম যে, আইনি প্রক্রিয়াতেই ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগকে
নিষিদ্ধ করা সম্ভব ও উচিত। বিভিন্ন সভা, সমাবেশে ও আলোচনায় আমরা আমাদের এসব দাবি বার
বার উত্থাপন করেছি।
উল্লেখযোগ্য যে, আমরা প্রশাসনিক আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের
বিরুদ্ধে বলেই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে
নিষিদ্ধ ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিএনপি।
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা আনন্দিত যে, বিলম্বে
হলেও গত রাতে (১০ মে) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত করার এবং বিচারকার্য নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী
দল আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে যুক্ত সব সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায়
গুম, খুন, নিপীড়ন ও জনগণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অপশাসন চালনাকারী ফ্যাসিবাদী দলের বিচার
করার সিদ্ধান্তকে আমরা সঠিক বলে মনে করি। তবে আমাদের দাবি মেনে আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া
হলে চাপের মুখে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত অবস্থায় সরকারকে পড়তে হতো
না। ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মনে
রাখবেন বলে আমরা আশা করি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণ তাদের ভোটাধিকার
তথা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য গুম, খুন, জেল, জুলুম
সহ্য করেও অব্যহত লড়াই করেছে। তাদের সেই দাবি এখনও অর্জিত হয়নি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার
সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণঅর দাবিও ক্রমাগত উপেক্ষিত হওয়ায় জনমনে যে ক্ষোভোর সৃষ্টি
হচ্ছে, সে ব্যাপারে সচেতন হওয়ার জন্য আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৮০ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)–এর আমানগণ্ডা বিওপির টহল দল আদর্শ গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব গাঁজা উদ্ধার করে।
১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, সীমান্তে চোরাচালান ও আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা গাঁজা আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য চৌদ্দগ্রাম থানায় জমা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে
ভিসা সাক্ষাৎকারের নির্ধারিত সময় স্থগিত করেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চলমান অভিবাসনবিরোধী
কঠোর নীতির মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মার্কিন
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে একটি
বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে
পরিবর্তন আনা হয়েছে।
দপ্তরটি
বলেছে, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকারগুলো পুনঃনির্ধারণ
করা হবে। তবে এই পরিবর্তন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
মার্কিন
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী
শনাক্ত করতে আরও দক্ষ করে তোলা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল
হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের আরও ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন
নিশ্চিত করাও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।
এর
আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত বা পুনঃনির্ধারণের খবর প্রকাশ করে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত
সাক্ষাৎকার থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের সাক্ষাৎকার পুনঃনির্ধারণের
খবর পেয়েছেন। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।
ক্ষমতায়
ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপকভাবে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে
ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। রাজনৈতিক
মতামত কিংবা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ
নেওয়ার কারণেও কিছু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
চলতি
সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি
প্রস্তাব পর্যালোচনা শুরু করেছে। এই ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর হাজারো বিদেশি
পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। প্রস্তাবটি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে
শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এর ফলে বছরে অন্তত ১০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব
পড়তে পারে অথবা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা কিংবা বড় কোনো অর্থনৈতিক
খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
এ
ছাড়া পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে
থাকার চেষ্টা করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাও করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্পের
দাবি, আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া এই কঠোর অভিবাসন নীতির লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ
নিরাপত্তা বাড়ানো।
তবে
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করে দিয়েছেন,
যার আওতায় ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। বিচারকের
মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার
সীমা অতিক্রম করা হয়েছে।
ট্রাম্প
প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ব্যাপক সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ,
এসব নীতি বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন
করছে। অধিকারকর্মীরা আরও বলছেন, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক
নজরদারি বা পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানির আশঙ্কা বেড়েছে।
২০২৪
সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে
ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়িয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে
নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের
কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য দ্রুত মিশরের সঙ্গে
পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে
বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কূটনৈতিক
ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তির খসড়া অনুমোদনের জন্য
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিশরে পাঠানো হয়েছে। মিশরের পক্ষ
থেকে এটি অনুমোদিত হলে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হবে। তাছাড়া সাধারণ পাসপোর্টধারীদের
জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মিশরের
পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
ইস্যু, পুলিশের প্রশিক্ষণ, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস
দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক আইনি সহায়তা, সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা
বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূতকে
স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মিশর বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ।
দেশটি প্রাচীন সভ্যতা ও ইসলামি ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ নেটওয়ার্ক দমনের
বিষয়টি পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হতে হবে। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে
সহযোগিতা ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং পারস্পরিক আইনি
সহায়তা বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমানে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা
হুমকি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বড় ধরনের
কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে
একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ। কিছু রোহিঙ্গা সীমান্তে নিরাপত্তা সমস্যা
সৃষ্টি করছে।
উপদেষ্টা এ সময় মিশরকে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নৈতিক সহায়তার আহ্বান জানান।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে মিশর বাংলাদেশকে সহযোগিতা
করতে পারে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মিশরের সঙ্গে
ইসরায়েলের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বিরোধপূর্ণ সীমান্ত। তথাপি মিশরের
সীমান্তরক্ষী বাহিনী এটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করে আসছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কর্মশালা
ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এটি করা গেলে বিজিবি মিয়ানমার সীমান্তে আরও দক্ষতা ও নিপুণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে
সক্ষম হবে মর্মে আমি মনে করি।
এ সময় উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, গত ৫০ বছর
ধরে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক পারস্পরিক
শ্রদ্ধা ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে সেরা পুলিশ প্রশিক্ষণ
একাডেমি মিশরে অবস্থিত। মিশর বাংলাদেশকে পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা
করতে পারে। তাছাড়া মিশর বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল
গনি, জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব (রাজনৈতিক-১) মু. জসীম উদ্দিন খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক বি এম জামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল
রানা বলেছেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি
পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।’
সোমবার
(১ জুন) এ মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে
এসব কথা বলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।
এ
সময় তিনি দাবি করে, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ‘ডলার’ নামে একজন তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার
কথা বলেছিল। এ কথা বলার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং কাঠগড়া থেকে
নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যান।
সোমবার
এ মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে
অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য
আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেন আদালত।
এর
আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট
(অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান।
ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর চার্জশুনানির জন্য
আজকের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার
অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে
ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানা
যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের
রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে
আসামির রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না
পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্লাটের লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আসামির শয়ন কক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার
মাথাবিহীন লাশ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর বার্জার রংয়ের বড় বালতির ভেতর দেখতে পান।
এ
সময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, তার স্বামী সোহেল রানা
তার হীন কামনা চরিতার্থ করার লক্ষে বাদীর শিশু কন্যাকে বাথরুমের আটকে রেখে ধর্ষণের
পর গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ভিকটিমের মাথা,
ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুইহাত কাঁধ
থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে আসামিদের শয়ন কক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে।
ওই
রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে
সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। আর নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে
থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ
ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল
রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের
কারাগারে পাঠানো হয়।
রামিসার
বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া
বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও
একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে
লেখাপড়া করতো।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক ঘটনায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে তাদের চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত শিশুরা হলো চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের ছেলে আয়ান (১২), কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের ফরহান ইবনে মোস্তফার ছেলে মোহাম্মদ (২) এবং মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের মো. হাসানের ছেলে শাহাদাত (৬)।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে যাওয়া তিন শিশুকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসাবধানতা ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
একই দিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও বিরাজ করছে গভীর শোক।
মন্তব্য করুন


সোমবার (২২ এপ্রিল) রাত দেড়টায় এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানায়, তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ৪৬ হাজার ১৯৯ জন প্রার্থীকে
মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় ধাপের সংশোধিত ফল প্রকাশ করা
হয়েছে।
এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে (তিন পার্বত্য জেলা বাদে ২১টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার উত্তীর্ণ
হয়েছেন ৪৬ হাজার ১৯৯ জন।
গত ২৯ মার্চ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ
৪৯ হাজার ২৯৩ জন
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক
শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা
মোবাইলেও মেসেজ পাবেন।
মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।
গত বছরের ১৪ জুন এ নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।
মন্তব্য করুন


ভারতের
অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ পরিবার, বন্ধু ও প্রেমিকার
জন্য ব্যয় করার অভিযোগ উঠেছে এক কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম অবিনাশ শুক্লা। তিনি
মন্দিরের অনুদানের অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা আটজন কর্মীর একজন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট
সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অবিনাশ শুক্লা চুরি করা অর্থ থেকে নিজের ও পরিবারের জন্য
প্রায় ১৯ লাখ টাকা খরচ করার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে ভাইয়ের বিয়েতে প্রায় ৬ লাখ
টাকা ব্যয় এবং আরেক ভাইকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
সূত্র
জানায়, শুক্লা তার প্রেমিকাকে একটি আইফোন উপহার দিয়েছেন। এ ছাড়া তাকে প্রায় আড়াই লাখ
টাকা পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
লাখো
ভক্তের অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনায় পুলিশ এখন অর্থের উৎস, ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট
সম্পদের তথ্য যাচাই করছে। অভিযোগ গঠনের আগে এসব লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহ করতে তদন্ত
চলছে।
পুলিশের
নথি অনুযায়ী, শুক্লার বিরুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের
মধ্যে এ পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সর্বোচ্চ।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যার পানির মধ্যে ভেলায় একটি মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত ব্যক্তি হলেন কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের
বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকান (ড্রাইভার)।
ভিডিওটিতে
দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন ব্যক্তি কলাগাছের তৈরি একটি অস্থায়ী ভেলায় সাদা কাফনে আবদ্ধ একটি
মরদেহ বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, এবং সেটি বন্যাকবলিত এলাকায়
দাফনের সংকটের চিত্র হিসেবে প্রচারিত হতে শুরু করে।
তবে
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ভেলায় মরদেহ বহনের ঘটনাটি সত্য হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত।
স্থানীয়দের
কথায়, গত শুক্রবার ভোরে মোহাম্মদ ফোরকানের মৃত্যু ঘটে। তার স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর
পর মরদেহ দাফন করার বিষয়টি তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়ির চারপাশ এবং
পুরো এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় কবরস্থানে মরদেহ নেওয়ার স্বাভাবিক কোনো
ব্যবস্থা ছিল না।
এদিকে,
আশেপাশে দাফনের উপযোগী শুকনো জায়গাও পাওয়া যায়নি। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায়
কয়েকটি কলাগাছের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করা হয়। সেই ভেলায় মরদেহ কবরস্থানে
নেওয়া হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন কার্যটি সম্পন্ন করা হয়।
এ
বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন,
ঘটনাটি সত্য, তবে ভিডিওটি ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে স্ট্রোক
করে মারা যান। তখন সেখানে কোনো নৌকা ছিল না। তারা যে ভেলায় মাছ ধরছিলেন, সেই ভেলাতেই
মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে জানাজার পর স্বাভাবিক নিয়মে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়।
ইউএনও
আরও জানান, ভিডিওটি এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যেন বন্যার কারণে মাটি না পেয়ে মরদেহ
ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা ছিল না। আসলে, এমন কিছু ঘটেনি।
মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "ভিউ ব্যবসা" বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে বিকৃতভাবে
উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি
জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি ফ্যাক্ট-চেক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি সকলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে যাচাই-বাছাই করে
নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে,
সাতকানিয়ায় বন্যাকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন আরও তিনটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ইউএনও জানান, বাজালিয়া ইউনিয়নে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে একটি কবরস্থানের বেশ কয়েকটি
কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সেখান থেকে স্থানান্তরিত হওয়া তিনটি মরদেহ স্থানীয়রা অন্য
একটি নিরাপদ কবরস্থানে পুনরায় দাফন করেন।
মন্তব্য করুন


ভারতের
পুণের ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবাল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সিয়া গয়াল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে
চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিয়ে করতে তিনি রাজি নন—পরিবারের
কাছে এ কথা বলার চেয়ে কেতনকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়াই তার কাছে সহজ কাজ মনে হয়েছিল।
জানা
গেছে, গত ১৮ জুন লোণবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতন অগ্রবালকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার
অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সিয়া গয়াল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
তদন্ত
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া দাবি করেন, কেতন আলগা চুল ব্যবহার
করতেন, যা তার পছন্দ ছিল না। এ বিষয়ে জানার পরও কেন বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন—এমন
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবারের সম্মান ও ভাবমূর্তির কথা ভেবেই বিয়েতে মত দিতে
বাধ্য হয়েছিলেন।
পুলিশের
জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া আরও দাবি করেন, তিনি কেতনকে জানিয়েছিলেন যে তাকে বিয়ে করা সম্ভব
নয়। কিন্তু কেতন বিয়ে ভাঙতে রাজি হননি। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্ত
সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে
কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল দাবি করেছেন, তার ছেলে আলগা চুল ব্যবহার করতেন—এ
তথ্য সিয়ার পরিবার আগে থেকেই জানত। এ নিয়ে সিয়া বা তার পরিবারের কোনো আপত্তিও ছিল না।
তাই আগলা চুলের কারণে হত্যার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে
তদন্তে আরও জানা গেছে, সিয়া ও চেতনের সম্পর্কের বিষয়ে তার পরিবার আগে থেকেই জানত। তবে
আর্থিক অবস্থার পার্থক্যের কারণে পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা,
চেতনের কাছ থেকে সিয়াকে দূরে রাখতে কেতন অগ্রবালের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু
শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনার পরিণতি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে গড়ায়।
পুলিশ
জানিয়েছে, মামলার প্রকৃত কারণ জানতে সিয়া ও চেতনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি
সিয়ার ভাই সাহিল গয়ালকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মন্তব্য করুন