

ফেনীর
ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নে গভীর রাতে ঘরের টিনের চাল কেটে ভেতরে ঢুকে এক প্রবাসীর
স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার
(২৭ জুন) রাতে দক্ষিণ তালবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাজল আক্তার ওই এলাকার
কুয়েত প্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী এবং স্থানীয় ইসমাইল মাস্টারের ভাইয়ের পুত্রবধূ।
নিহতের
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিন সন্তানের জননী কাজল আক্তার রাতে ঘরে সন্তানদের
নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আধাপাকা ঘরের টিনের চাল কেটে
ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা কাজলের হাত-পা বেঁধে তাঁকে হত্যা করে। তবে এসময় ঘরে তাঁর
সন্তানরা থাকলেও দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর কোনো হামলা করেনি।
খবর
পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের
মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


প্রেমিকের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাওয়ায় রাজধানীর কেরানীগঞ্জে কিশোরী তানজিলা আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তবে ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার
(৩০ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য
জানান পিবিআই ঢাকা জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
তিনি
জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তানজিলা হত্যা মামলার মূল
আসামি রানা হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত
চাকুও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই
জানায়, গত ২৭ জুলাই বিকেলে রানা হাওলাদার তার নিজস্ব অটোরিকশায় করে প্রেমিকা তানজিলাকে
ঘুরতে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিরোধের
একপর্যায়ে রানা প্রথমে তানজিলার গলা চেপে ধরেন। পরে ফল কাটার চাকু দিয়ে তার গলা কেটে
হত্যা করেন।সংবাদ প্রতিবেদন
হত্যাকাণ্ডের
পর ভুক্তভোগীর কাছে থাকা দুটি স্মার্টফোন ও একটি রুপার চেইন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে
যান রানা। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের
সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ঢাকায় গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে ‘হেল্প’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপে দেওয়া নারীর প্রতি যেকোনো সহিংসতা ওই ঘটনার প্রাথমিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে।
আজ শনিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহনে কোনো নারী সহিংসতার শিকার হলে তাৎক্ষণিক সহায়তা চাইতে পারবেন, জরুরি সেবা নিতে পারবেন এবং ঘটনাটি রিপোর্ট করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পটি রাজধানীর বছিলা থেকে সায়েদাবাদ সড়কে বাস্তবায়ন করা হবে। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত চলাচলকারী বাসে কিউআর কোড স্থাপন ও এই অঞ্চলে অবস্থানরত স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় সহিংসতার শিকার নারীরা এই সেবা নিতে পারবেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের দ্য ডেইলি স্টার ভবনের হলরুমে অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, ‘হেল্প’ অ্যাপে দাখিলকৃত নারীর প্রতি যেকোনো সহিংসতা এখন থেকে ওই ঘটনার প্রাথমিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশুদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা পীড়াদায়ক। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতেও দ্বিধা বোধ করেন। তা ছাড়া তাদের অভিভাবকরাও নানা কারণে ঘটনাগুলো গোপন রাখেন’
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘গৃহকর্মীরা আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত। অনেক সময় তারাও শ্লীলতাহানির শিকার হন। সুনাগরিক হিসেবে গৃহকর্মীদের থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য।’
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সভাপতি রেজোয়ানুল হকের সভাপতিত্বে এই অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। এ ছাড়াও আর অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের মাটিতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
আজ রবিবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারা আমাদের জন্য ভালো মাইলফলক হবে। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশ একটা সংকটকালীন পার করছে, আবার একইসঙ্গে যারা আমাদের মেহমান হয়ে আসবেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। সবকিছু বিবেচনায় এটা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই, এখন এটা রাষ্ট্রীয় ব্যাপার। ড. মুহাম্মদ ইউনূস (অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) স্যার আছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নতুন নিয়োগ পেয়েছেন। সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব। আইসিসির সঙ্গেও আমাদের আলোচনা চলমান আছে। তারপর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।
বেশ কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে আগামী ২০ আগস্ট ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে বসবে আইসিসি। তারা চাচ্ছে সেই সময়ের মধ্যে যেন বিসিবি নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।
সূচি অনুযায়ী আগামী ৩-২০ অক্টোবর বাংলাদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যার জন্য আয়োজকদের হাতে আর মাত্র দেড় মাস বাকি। সে হিসেবে দ্রুত জটিলতার অবসান চায় আইসিসি।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী
লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ
সদস্য, চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ভারতের ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে
ক্লাস নিচ্ছেন প্রাণ গোপাল।
সম্প্রতি
কলেজটির ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি
জানা যায় ।
ওই
ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে
বক্তব্য রাখছেন। তার পেছনে থাকা ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত
হচ্ছিল। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তার লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন।
প্রাথমিক
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তিনি টনসিল বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো একটি বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের
ক্লাস নিচ্ছিলেন।
শনিবার
(২৭ জুন) ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের এক স্টাফ নার্স জানান, বাংলাদেশি চিকিৎসক
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত তাদের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন। তবে তিনি এখানে
কতদিন ধরে কাজ করছেন তা সেই নার্স জানেন না।
গত
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের
বহু মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। দেশে তার
বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো সঠিক
তথ্য না থাকলেও, ত্রিপুরার এই মেডিকেল কলেজের ভিডিওটি সামনে আসার পর নিশ্চিত হওয়া গেল
যে তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য,বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান নাম- বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের
(বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও প্রখ্যাত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত
২০১২ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে
তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বর্তমানে
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম দেশে কার্যত নিষিদ্ধ ও দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী যখন
পলাতক বা কারাবন্দী, তখন ভারতে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের এই শিক্ষকতা পেশায় ফেরার ভিডিওটি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন


আজ
পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জামায়াতে ইসলামী নেয়নি। এমনকি দলের কেউ আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল বলেও দাবি করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা
ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা বলিনি, আমাদের দলের এতজন শহীদ হয়েছেন। সেটা জনগণই তার সাক্ষী।
বৃহস্পতিবার
(৩০ জুলাই) দুপুরের দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদ
পরিবার ও আহত জুলাই
যোদ্ধাদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের
আমির বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল জামায়াত। জাতির প্রয়োজনেই দলটি বারবার মাঠে নেমেছে। আন্দোলনে আহত যোদ্ধারা আহত হওয়ার পরও পিছু হটেননি। কিন্তু জুলাই শহীদদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে; বরং তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
তিনি
আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। অথচ এখন রাষ্ট্রের প্রায় সবখানেই দলীয়করণ চলছে। প্রশাসনের এই নির্লজ্জ দলীয়করণ
জাতির জন্য লজ্জাজনক। বর্তমান সরকারও বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে এবং আগের সরকারের পথেই হাঁটছে।
জামায়াতের
আমির বলেন, গণভোট নিয়ে জামায়াতকে আপসের জন্য নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়েছে। তবে দলটি কোনো প্রলোভনে পা দেয়নি। গণভোটের
গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত
সংসদ ও রাজপথ, উভয়
জায়গায়ই জামায়াত সোচ্চার থাকবে। অন্যায়ের কাছে জামায়াত কখনও মাথানত করবে না। জনরায় উপেক্ষা করে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সরকারকে সেই পথ থেকে সরে
এসে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা বাস্তবায়নের আহ্বান
জানান তিনি।
তিনি
আরও বলেন, জনগণের অধিকার এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তবে যত নির্যাতন ও
হামলাই হোক না কেন, জনগণের
অধিকার আদায়ে জুলাই যোদ্ধা ও বিরোধীদলগুলো সোচ্চার
থাকবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনটি পণ্যবাহী গাড়ির সংঘর্ষে এক ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দুর্ঘটনার পর তিনটি গাড়ির চালকই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
শনিবার (২৭ জুন) রাত দেড়টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা নতুন রাস্তা এলাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হেলপারের নাম সিয়াম (২৫)। তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, একটি কাভার্ডভ্যান মহাসড়কে চলন্ত অবস্থায় কোনো ধরনের সংকেত না দিয়েই হঠাৎ রাস্তার বাম পাশে থামার চেষ্টা করে। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি মালবোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে কাভার্ডভ্যানটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ এবং কাভার্ডভ্যানটির পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার সিয়াম ও ট্রাকে থাকা আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর একই দিক থেকে আসা আরেকটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দিলে ট্রাকটির পেছনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলপার সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, ‘নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। রেকারের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা
মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের
সাক্ষ্যগ্রহণ দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার
(২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী ও ভিকটিমের
বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
পরে
পর্যায়ক্রমে ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর
রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয়
তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন এবং কনস্টেবল রোমা আক্তার আদালতে
সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।
পরে
আদালত দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কার্যক্রম মূলতবি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী
পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, বাকি সাক্ষীরাও আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। সময় সংকুলান হলে আজই
সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে।
এর
আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে
এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। তাদেরকে ঢাকা
মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের আগে দুই আসামিকে এজলাসে
হাজির করা হয়।
সোমবার
আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বাদীসহ ১৭
সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
গত
২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন। এর আগে একই
দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার
উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার
সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে
নিয়ে যান আসামি স্বপ্না আক্তার। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে আসামিদের
কক্ষের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ
করলে কক্ষের ভেতর শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে মাথা দেখতে পান তারা।
জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা
হয়। এ ঘটনায় ২০ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকাসহ
দেশের ১৬ জেলার ওপর দিয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো
হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে
আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দেশের
অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে
বলা হয়, শুক্রবার রাত ১টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, পাবনা, ফরিদপুর,
কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার
এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার
বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সময় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিরও শঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়ার
নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ
উপকূলীয় এলাকায় বিরাজমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তর
উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর
বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের
মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমিবায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়
এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এ
অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকালের মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়
এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা
হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের
কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময় সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা
সামান্য কমতে পারে।
মন্তব্য করুন


রংপুরের
কাউনিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার
পলাতক আসামি আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসকে (২৬) প্রায় দুই মাস পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন এলাকা থেকে র্যাব-১-এর সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার
করা হয়।
পরে
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে
পাঠানো হয়েছে।
মামলার
তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল
আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎস কাউনিয়া
উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার সারাই জাগরণ পাগড়া গ্রামের তারিকুল ইসলামের ছেলে।
মামলার
নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আজমাইন বিবাহিত হলেও বিষয়টি গোপন রেখে
প্রায় ১৮ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রথমে
প্রেমের প্রস্তাব দিলেও তরুণী তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটস
অ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
অভিযোগে
বলা হয়, গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আজমাইন তরুণীকে রংপুর আদালত সংলগ্ন
লেকের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে একটি স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করিয়ে তাকে বিশ্বাস করানো
হয় যে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর একই দিন হারাগাছের ধুমগড়া এলাকার একটি বাড়িতে
নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময় বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে
একাধিকবার তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা
হয়েছে।
তদন্তকারী
কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমীন বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরে বৈধ কাবিননামা দেখতে চাইলে অভিযুক্ত
বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। এতে তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়।’
মামলার
বিবরণ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী কয়েকজন সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে আজমাইনের
বাড়িতে গেলে তিনি জানান, তিনি আগেই বিবাহিত এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব
নয়। অভিযোগ রয়েছে, এসময় তিনি স্বীকার করেন যে বিয়ের নাটক সাজিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন।
পাশাপাশি ঘটনাটি প্রকাশ না করতে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব এবং আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার
হুমকিও দেন।
হারাগাছ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, ‘ভুক্তভোগী গত ৬ মে রংপুর আদালতে
মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ১২ মে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা রুজু হয়। মামলা
হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে
পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর র্যাব-১-এর
সহযোগিতায় ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পরে
মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
পুলিশ
জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিকও খতিয়ে
দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চারদিনের সম্মেলনে দুই দেশ সীমান্ত হত্যার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাসহ বেশ কিছু বিষয়ে একমত হয়।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। অপর দিকে বিএসএফের মহাপরিচালক দলজিৎ সিং চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিহতের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশসহ হত্যার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসএফ মহাপরিচালকের প্রতি জোর আহ্বান জানান। এ ছাড়া আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরে সীমান্তে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সম্মেলনে যেসব বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ একমত হয়েছে, সেগুলো হলো—
১. সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো, হত্যা, আহত বা মারধরের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যৌথ টহল বৃদ্ধি, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী উপকৃত হবে, এমন তাৎক্ষণিক এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্য একে অপরের মধ্যে আদান-প্রদান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, বিভিন্ন ধরনের আর্থসামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং সীমান্তে যেকোনো হত্যা সংঘটিত হলে তার যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২. আলোচনায় সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা, কাঁটাতারের বেড়া, প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত হয়, এমন কোনো স্থাপনা বা বাংকার নির্মাণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ পরিদর্শক দলের পরিদর্শন এবং যৌথ আলোচনার দলিলের ভিত্তিতে নির্মাণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বন্ধ থাকা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের ব্যাপারে যথোপযুক্ত পর্যায়ে জয়েন্ট ভেরিফিকেশনের (যৌথ যাচাই) মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে।
৩. বিভিন্ন ধরনের আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, বিশেষ করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও গবাদিপশু পাচার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, স্বর্ণ, অস্ত্র, জাল মুদ্রার নোট প্রভৃতি চোরাচালান রোধ এবং এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান করা হবে।
৪. আন্তর্জাতিক সীমানা আইন লঙ্ঘন করে উভয় দেশের নাগরিক ও বাহিনীর সদস্যদের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ফলে সৃষ্ট ভুল–বোঝাবুঝি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্তে উভয় বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
৫. মানব পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বিশেষ করে মানব পাচারের মতো অমানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত উভয় দেশের অপরাধী বা দালালচক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধে পরস্পরকে সহায়তা এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত দেশের আইন অনুযায়ী উদ্ধার ও পুনর্বাসন করা হবে।
৬. উভয় পক্ষ ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার’ আওতায় পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে উভয় বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষ আগামী দিনে যৌথ খেলাধুলা, জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনিসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।
৭. এ ছাড়া আগরতলা থেকে আখাউড়ার দিকে প্রবাহিত সীমান্তবর্তী চারটি খালের বর্জ্য পানি অপসারণে উপযুক্ত পানি শোধনাগার স্থাপন, জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে রহিমপুর খালের মুখ উন্মুক্তকরণ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন