

ফেনীতে
অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ দাফনের একমাত্র স্থান ফেনী পৌর কবরস্থান। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তির
মরদেহ পৌরসভার ময়লার গাড়িতে করে কবরস্থানে নিয়ে গোসল-জানাজা ছাড়াই দাফন করা অভিযোগ
উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ
রয়েছে, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে অজ্ঞাত
মরদেহগুলো নিয়ে যাওয়া হয় পৌর কবরস্থানে। মরদেহ বহনের উপযুক্ত যানবাহনের পরিবর্তে মরদেহ
নেওয়া হয় পৌরসভার ময়লার গাড়িতে। এরপর গোসল-জানাজা ছাড়াই দাফর করা হয়।
সরেজমিনে
দেখা যায়, কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় পুরো এলাকাজুড়ে নেই সীমানা প্রাচীর। নিরাপত্তার
জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। কবরস্থানের ভেতরে গরু ও ছাগলের অবাধ বিচরণ।
সন্ধ্যার
পর অনেকটা অন্ধকার ও নির্জন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে দিন-রাত
কবরস্থানে বসে মাদকসেবী ও তাসের আড্ডা বসে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, ফেনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড সুলতান পুরো এলাকায় ১৯৬৬ সালে তৎকালীন
মহকুমা প্রশাসক সরকারি এই কবরস্থানের জায়গা নির্ধারণ করেন। নাম দেওয়া হয় মুসলিম
কবরগাহ। সে থেকে গত ৬০ বছরে এখানে হাজার হাজার পরিচিত-অপরিচিত মানুষের মরদেহের স্থান
হয়েছে।
বিশেষ
করে ফেনীর উপর দিয়ে রেল, সড়ক, মহাসড়ক বয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় দুর্ঘটনায়
নিহত বেওয়ারিশ মরদেহের ঠিকানা এখানে। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষকে
দাফন করা হয় এই কবরস্থানে। ফেনী শহরতলীর সুলতানপুরে অবস্থিত এই পৌর কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ
ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। সঠিকভাবে দাফন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
স্থানীয়
জনসাধারণের দাবি, অজ্ঞাত মরদেহ পরিবহনে ময়লার গাড়ির ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত একটি আলাদা
ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গোসল ও জানাজার মতো ধর্মীয়
ও মানবিক আনুষ্ঠানিকতাও যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দাবি তাদের।
এদিকে
কবরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ফেনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের
সামর্থ্য যেটুকু সেটুকুর আলোকে তারা কাজ করছেন। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয়
মানুষকে দাফন করা হয় এই গোরস্থানে। কবরস্থানটিকে আরো উন্নত করার জন্যও তাদের পরিকল্পনা
রয়েছে।
এ
বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, ময়লার গাড়িতে একটি বেওয়ারিশ
লাশ নিয়ে দাফন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


দেশের
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী,
আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি
জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র
জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ আগস্ট
পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে।
আখতার
আহমেদ বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা
নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি
আরও জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল জাতীয় সংসদের সদস্যরাই ভোটার
হিসেবে অংশ নেন। ফলে সংসদ সদস্যদের তালিকা নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে
নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখ্য,
গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী
আগামী ২০ আগস্ট দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন
স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নতুন প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে সুনাগরিক
হিসাবে গড়ে তুলতে স্কাউট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে
বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় কাউন্সিলের ৫২তম বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি ও চীফ স্কাউট বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের
সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে তথ্য-প্রযুক্তি, কম্পিউটার, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভাষাসহ
জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বশেষ প্রায়োগিক কলা-কৌশল রপ্ত করতে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ
করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে
দেশের যুব সম্প্রদায়কে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত দক্ষ ও মানবিক
মূল্যবোধসম্পন্ন স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গতানুগতিক
স্কাউটিং কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন
কার্যক্রমে জনমত গড়ে তুলতেও স্কাউট নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন।
কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে ‘স্মার্ট নাগরিক’ হিসেবে গড়ে তুলতে স্কাউট
প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শিশু, কিশোর ও যুব
সমাজকে ব্যাপকভাবে স্কাউটিংয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, মাদকাসক্তি, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার আমাদের কিশোর
তরুণদের ওপর মারাত্মক কু-প্রভাব ফেলছে। শহর-উপশহরে কিশোর গ্যাং এর উত্থান ও সন্ত্রাসী
কার্যক্রম এসবেরই বহিঃপ্রকাশ।তাই শিশু, কিশোর ও যুবকদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে
এবং মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্কাউট নেতৃবৃন্দকে
আরো বেশি তৎপর হতে উপদেশ দেন চীফ স্কাউট।
বর্তমানে স্কাউটের সংখ্যা ২৫ লাখ ৮৭ হাজার যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল বলে উল্লেখ
করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ স্কাউটস এর ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান-২০৩০ অনুসারে
স্কাউট সদস্য ৫০ লক্ষে উন্নীত করার পাশাপাশি এর গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া
ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরকেও স্কাউটিংয়ে সমানভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বৃক্ষরোপণ, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য-শিক্ষা, ইপিআই কর্মসূচি, বিদ্যুৎ
ও জ্বালানি সাশ্রয়ী হতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং পরিবেশ সচেতনতার মতো স্কাউটদের সেবাধর্মী
কাজ তৃণমূল পর্যন্ত আরো বিস্তৃত হলে দেশের মানুষও এর সুফল পাবে।
রাষ্ট্রপতি জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে দেশের যে কোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে
অগ্নিকা-ে আহত-নিহতদের সেবাদানেও স্কাউটদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এ সময়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের বিগত
বছরের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রশিক্ষণ, প্রোগ্রাম, সমাজ উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যক্রমসহ
স্কাউটিং সম্প্রসারণে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট
অ্যাওয়ার্ড’, স্কাউটসের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘রৌপ্য ব্যাঘ্র’ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
অ্যাওয়ার্ড রৌপ্য ইলিশ” প্রদান করা হয়। পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান চীফ স্কাউট। তিনি
সেখানে পুরস্কার প্রাপ্তদের সাথে একটি ফটোসেশনেও অংশ নেন।
স্কাউটিং এর সার্বিক কর্মসূচিকে সময়োপযোগী এবং দেশের টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে স্কাউটদের
সক্রিয় অবদান রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।
বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি
মোঃ আবুল কালাম আজাদ এমপি এতে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রধান জাতীয়
কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খানও বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


ভারতের
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বহুল আলোচিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম
এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং
জবাবদিহির দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগপত্রে
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তার ভাষায়,
বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্মান বা ভাবমূর্তির নয়; বরং দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বার্থ
রক্ষার প্রশ্ন।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত চিঠিতে তিনি লেখেন, দেশের গণতন্ত্রের শক্তি এবং তরুণদের
স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি তার অটল বিশ্বাস রয়েছে। তরুণরাই ভারতের ভবিষ্যৎ এবং একটি
উন্নত ভারতের নির্মাতা।
তিনি
আরও বলেন, দেশের তরুণদের শক্তি যেন বিভ্রান্তির জালে আটকে না পড়ে, সেই বিবেচনা থেকেই
তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দিল্লির যন্তর-মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান আন্দোলনের
প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিস্থিতির সুযোগ যেন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিতে না পারে,
দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ন থাকতে হবে এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়।
এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে
পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
বিদায়ী
শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন,
দেশের সেবা করাই সবসময় তার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল এবং ভবিষ্যতেও ওডিশার জনগণ
ও দেশের তরুণদের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
গত
জুনের শুরু থেকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। গত ২০ জুলাই
আন্দোলন বড় আকার ধারণ করে, যখন হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী দিল্লির যন্তর মন্তরে
সমবেত হয়ে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেন।
আয়োজকদের
দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ছাত্র-যুব আন্দোলনগুলোর একটি ছিল এটি। আন্দোলনের
মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের
সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের
পদত্যাগ।
পরবর্তী
সময়ে দিল্লির বাইরে মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সংহতি মিছিল ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের সময় কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আন্দোলনকারীদের
আটক এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান সিজেপি নেতারা।
ভারতের
মেডিকেল কলেজে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম বড় পরীক্ষা নিটে প্রশ্নফাঁস ও
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ
সৃষ্টি হয়। অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো একাধিক তদন্ত শুরু করে এবং বিষয়টি
আদালতেরও নজরে আসে।
গত
২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, সরকারি পরীক্ষার পবিত্রতা নষ্টকারীদের
বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর শাস্তি’ নিশ্চিত করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের
আশ্বস্ত করে বলেন, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। জাতীয় গণতান্ত্রিক
জোট (এনডিএ) সংসদীয় দলের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর
এই বার্তা গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।
আন্দোলনে
নতুন মাত্রা যোগ করেন শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। পরবর্তীতে
তার শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং অনশন ভাঙার আহ্বান দেশজুড়ে ব্যাপক
আলোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে
আন্দোলন তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলও বিভিন্ন মাত্রায় সমর্থন
জানায়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, নিট পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে চলছে
এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিজেপির
দাবি, তাদের আন্দোলন শুধু নিট পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর
জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের তরুণদের বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধানের বৃহত্তর
দাবির অংশ।
মন্তব্য করুন


ঢাকা
শিক্ষা বোর্ডে আগে টাকার বিনিময়ে জিপিএ ফাইভ বিক্রির অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে শিক্ষা
এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন আর এমন কথা শোনা
যাবে না।
বৃহস্পতিবার
(২ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এইচএসসি
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন
অনেক সচেতন। অভিভাবকরাও সচেতন। এখন আর শুনবেন না, ঢাকা বোর্ডে ৫ লাখ টাকায় জিপিএ ফাইভ
বিক্রি হয়। এগুলো আর হবে না। যারা এসব করত, তারা চলে গেছে। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট থেকে
শুরু করে সব ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা এসেছে। আমরা ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তদারকি করছি।
বডি ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এইচএসসি
পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণত এসএসসি পাসের পর এইচএসসিতে
একটি নির্দিষ্ট হারে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। যেমন—অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়, আবার কেউ
কেউ পরিবারের সহায়তার জন্য কাজে যোগ দেয়। কিন্তু এবার দেখা গেছে, মাদরাসা শিক্ষায় ৪৪
শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।
এটি একটি বড় সংখ্যা।
মন্ত্রী
বলেন, প্রশাসন নকল ও অসদুপায় (আনফেয়ার মিনস) বন্ধ করেছে এবং পরীক্ষার মান বাড়িয়েছে।
ফলে অনেক শিক্ষার্থী হয়তো মনে করেছে তাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। তবে এটি একটি উদ্বেগজনক
বিষয়, যা আমাদের সমাধান করতে হবে। এ কারণে আমরা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে আরও গুরুত্ব
দিচ্ছি।
তিনি
আরও বলেন, আমরা সমস্যার মূল কারণ নিয়ে কাজ করছি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত আপনাদের প্রতিবেদনগুলোও
আমাদের কাজে সহায়ক হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালের
২৫ জুন প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর দেশের বৃহত্তম সেতু ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতু উদ্বোধন
করেছিলেন। নিজস্ব অর্থায়নে ৩২ হাজার ৬০৫.৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পদ্মা সেতু নির্মাণে নেওয়া ঋণ পরিশোধের ৭ম ও ৮ম কিস্তি হিসেবে ৩১৪,৬৪,৮৬,৯৬৩ টাকার
বেশি গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি প্রধানমন্ত্রীর
কাছে পদ্মা সেতুর ঋণের সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি হিসেবে ৩১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৩ টাকার
চেক হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব
মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম. নাঈমুল ইসলাম খান, অর্থ বিভাগের
সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণভবনে উপস্থিত
ছিলেন।
অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু
কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়া
হয়।
২০২২ সালের ২৫ জুন সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু থেকে মোট ১৬৫৩,৭১,৬৫,৫৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
৫ এপ্রিল, সেতু বিভাগ প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি হিসাবে সেতু থেকে টোল আদায় হিসাবে অর্জিত
রাজস্ব থেকে ৩১৬,৯০,৯৭,০৫০ টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ শুরু করে।
সর্বশেষ কিস্তিসহ সেতু বিভাগ এই পর্যন্ত সরকারকে মোট
১২৬২,৬৬,০৬,৫৪৮ টাকা পরিশোধ করেছে।
মন্তব্য করুন


চীনের
মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকং-এ অবস্থানরত শেনচৌ-২৩ মিশনের তিন নভোচারী মহাকাশে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক
পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন।
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ হলো- অণুমাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে ধান চাষের যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন তারা।
এই তিন নভোচারী হলেন চু ইয়াংচু, চাং চিইউয়ান ও লাই খা-ইং।
গেল
২৪ মে উৎক্ষেপণ হওয়া শেনচৌ-২৩ মহাকাশযানে ধানের বীজসহ বিভিন্ন গবেষণা উপকরণসহ থিয়ানকং-এ
পাঠানো হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় পরিচর্যার পর নভোচারীরা প্রথম ধাপের ধানের নমুনা
সফলভাবে সংগ্রহ করেছেন।
এই
গবেষণার লক্ষ্য হল- মহাকাশে ‘বীজ থেকে বীজ, আবার বীজ’—এভাবে
ধানের দুটি পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অণুমাধ্যাকর্ষণ ধানের জিনগত
স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা বের করা।
এ
ছাড়া নভোচারীরা মহাকাশ চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলোক পরিবেশের প্রভাব, জরুরি উদ্ধার মহড়া
এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি
সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদী মানব অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন


সাভারে
ছাত্রদল নেতার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে তার স্ত্রী রিয়া মনির (১৯) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তবে ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রদল নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন।
সোমবার
( ০৯জুন ) বিকেলে পৌরসভার ছায়াবিথি মহল্লার ডা. তৌহিদুজ্জামানের বাড়ির দ্বিতীয় তলার
তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার
করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
পরিবারের
দাবি, রিয়ার স্বামী সদ্যঘোষিত পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রনি ইসলাম স্ত্রীকে
হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। নিহত রিয়া মনি (১৯) নোয়াখালী জেলার মাইজদী
থানা এলাকার রৌফ চৌধুরীর মেয়ে। তার বাবা-মা দুজনই প্রবাসী।
থানা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌরসভার ছায়াবিথি মহল্লার ডা. তৌহিদুজ্জামানের
ভাড়া বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে রনি ও রিয়া দম্পতি ভাড়া থাকতেন। কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর
জেরেই রিয়াকে হত্যা করে ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় রনি।
নিহতের
মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, রনি ইসলাম সম্প্রতি পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার
পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে রিয়ার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
পারিবারিক
বিরোধের জেরেই রনি রিয়াকে হত্যা করে বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে গেছে বলে দাবি করেন
তিনি। এ ছাড়া রিয়াকে হত্যার বিষয়টি মুঠোফোনে রনি তার মাকে জানালে হত্যার কথা প্রকাশ
পায়। পরে বিকেলে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে
লাশটি উদ্ধার করেন। ঘটনার পর থেকেই রনি ইসলামের মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আত্মগোপনে
আছেন। নিহতের নানি জাহানারা বেগম বলেন, ‘রিয়ার বাবা-মা দুজনই প্রবাসী।
আমাদের
মেয়েকে ওই রনি পরিকল্পিতভাবে খুন করে পালিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও রনির দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি চাই।
সাভার
মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে বিকেলে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটের
তালা ভেঙে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটি ময়নাতদন্তের
জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
অনুমতিক্রমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।’
এদিকে,
রাজনৈতিক পদধারী নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের
মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পলাতক পৌর ছাত্রদল নেতা রনি ইসলামের বিষয়ে জানতে ঢাকা
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালের মুঠোফোনে
একাধিকবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
সরাইল রিজিয়নে ময়মনসিংহ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১২০০ কিলোমিটারে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইন চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবি। সর্বশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্তে অনুপ্রবেশ চেষ্টাকারী চারজনকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ভারত থেকে এই পুশইন ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের (সরাইল) রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবির ব্যবস্থাপনায় তিন বছরে কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন ও ৬০ ব্যাটালিয়নের মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানান, গত তিন বছরে এ দুই ব্যাটালিয়ন ২০ হাজার ২০০ অপারেশন চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আটক ও জব্দ করেছে। এ সময় ৫২৬ জনকে মাদকসহ হাতেনাতে ধরা হয়েছে এবং পলাতক রয়েছে আড়াইশরও বেশি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার, ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, ১০ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ, র ্যাব অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক সার্কেল পরিদর্শক নজরুল ইসলামসহ অন্যরা।
বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি এবং ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও জব্দ করে। এর মধ্যে ভারতীয় ফেনসিডিল ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল, ভারতীয় স্কাফ সিরাপ ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল, ভারতীয় বিয়ার ১৮ হাজার ৪৯ বোতল, ভারতীয় হুইস্কি ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল, ভারতীয় গাজা ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি, ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ৩ লাখ ১০৫৯৮ পিস, খোলা মদ ২৪.৫ লিটার।
এছাড়া আইপি ইনজেকশন ১৩ হাজার ৩৩৮ পিস, সেনেগরা ট্যাবলেট ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২ পিস্, টার্গেট ট্যাবলেট ২৮হাজার ৮২০ পিস, নিমোসলাইড ট্যাবলেট ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪০ পিস, সিপরোহিপটাডিল ট্যাবলেট ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৫০ পিস্, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ৪ লাখ ৪২ হাজার ১০২১ পিস্, হার্বেচ রেট ২৩৮ বোতল, ডেক্সোন ট্যাবলেট ১৯ হাজার ২১০ পিস্, সিনিক জেড ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ পিস্, ল্যাব জিনসেন ২ হাজার ২৮০ পিস সহ বিপুল পরিমাণ সিগারেট, জর্দা ও বিড়ি।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, কুমিল্লার ১০ ব্যাটালিয়নের অধীনে ৯৬.১০ কিলোমিটার ও সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধীন ৭৯.১০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি একক অভিযান এবং বিভিন্ন টাস্কফোর্স এর মাধ্যমে আটক এসব মাদকদ্রব্য গত তিন বছরে জব্দ করা হয়। জনস্বার্থে এসব মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে ধ্বংস করে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, সীমান্তরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি মাদক উদ্ধারে সফলতা দেখাচ্ছে। আমরা আশা করব সব বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদকের চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। আমরা সবাইকে সতর্ক ও সচেতন করতে চাই। যত
বিজিবি সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মূলত এই ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান। পুরো রিজিয়নে এই মাদক উদ্ধারের পরিমান আরো বেশি। আমরা চাই সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় মাদকের এই সরবরাহ চেইন ধ্বংস করতে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসা মাদকের আগ্রাসনে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হোক- সেটা আমরা চাই না।
মন্তব্য করুন


যা কিছুই ঘটুক না কেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সেনাপ্রধান তার কার্যালয়ে বসে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যেন নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেবেন।
আগস্টের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করেন। পরে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রয়টার্সকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর তার পূর্ণ সমর্থন আছে। সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করার একটি পথের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমি তাকে (মুহাম্মদ ইউনূস) সমর্থন করব। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন। যেন তিনি তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
মুহাম্মদ ইউনূস দেশের বিচার বিভাগ, পুলিশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণ হওয়া উচিত। তবে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, যদি আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব, এ সময়ের মধ্যে আমাদের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত।
বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর আগে আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধানের প্রতি সপ্তাহেই বৈঠক হচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অশান্ত পরিস্থিতির পর দেশকে স্থিতিশীল করতে সরকারের প্রচেষ্টায় সামরিক বাহিনীর সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত, যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করি, তবে ব্যর্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মন্তব্য করুন


দেশের বেশিরভাগ জায়গায় রাতের তাপমাত্রা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আজ রাতেও তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে ।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাজশাহীতে। একদিন আগে সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে আগামী কয়েকদিন সারাদেশে কুয়াশা ফের বেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ সময়ে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। কুয়াশার কারণে সারাদেশে দিনে ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।
বুধ ও বৃহস্পতিবার সারাদেশে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বুধবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
তবে পরবর্তী পাঁচদিনে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও জানান তরিফুল নেওয়াজ কবির।
মন্তব্য করুন