

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমেছে। মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বৃহস্পতিবার (২ মে) বিইআরসি হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো: নূরুল আমিন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ নতুন দাম কার্যকর হবে। এপ্রিল মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৪৪২ টাকা।
প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিইআরসি প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা দাম ১৬ টাকা ৮ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী সাড়ে পাঁচ থেকে ৪৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারগুলোর দাম কমেছে।
মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামে যোগ দিতে আগামী ১২ অক্টোবর (রোববার) ইতালির রাজধানী রোম যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ১২ অক্টোবর রোমে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামে যোগ দেবেন তিনি। পাশাপাশি উচ্চ পর্যায়ে অনেকের সঙ্গে বৈঠকও করবেন।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা সভার বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, সভায় ভিসা জটিলতা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।
শিক্ষার বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, দেশে অনেক বেশি বিবিএ গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তা মার্কেটে অতিরিক্ত। তাই সার্বিক পরিস্থিতিতে সায়েন্স ভিত্তিক গ্রাজুয়েশন বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে সবার মতামত নেওয়া হয়েছে।
দেশের ৯টি রেজিম কোম্পানিকে সরকার অতি দ্রুতই অবসায়ন করবে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-৮
আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক
ও অপরিবর্তিত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
আজ
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে একটি সিটি স্ক্যান করার পর এক ব্রিফিংয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের নিউরোসার্জন ড. মো. আব্দুল আহাদ জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলির অনেক
অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে স্প্লিন্টারের কিছু অংশ মস্তিষ্কে থেকে গেছে। মস্তিষ্কে
অক্সিজেনের স্বল্পতা ছিল এবং সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে আছে।
তিনি
আরও বলেন, হাদির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। সকালে তার পুনরায় সিটি স্ক্যান করা হয়েছে।
এতে দেখা গেছে, মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। মস্তিষ্কের পাশাপাশি কিডনির কার্যক্ষমতাও
কাজ করছিল না, যদিও পরে কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে এসেছে। এ ছাড়া গুলি মস্তিষ্কের টেম্পোরাল
ব্যারিয়ার ভেদ হয়ে গেছে।
হাদিকে
এক্সপার্ট হাতে গুলি করা হয়েছে জানিয়ে আব্দুল আহাদ বলেন, খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা
হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে রক্তনালিগুলো রয়েছে, সেগুলোর পাশ দিয়েই গুলি
ভেদ করে গেছে। গুলির অনেকটাই সরিয়ে ফেলা গেছে। তবে অপারেশনের পরেও স্প্লিন্টারের কিছু
অংশ মস্তিষ্কে থেকে গেছে। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের স্বল্পতা ছিল এবং সেখানে রক্ত জমাট
বেঁধে আছে। লাইফ সাপোর্টে ফুসফুস অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, হাদি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। এ অবস্থায় পরিবার তাকে বিভিন্ন
জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। মেডিকেল বোর্ড যদি কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে বিদেশে
নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পরিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ইতোমধ্যে বিদেশে তার
চিকিৎসা সংক্রান্ত কেস সামারি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে
বিভিন্ন গ্রুপে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। তাদের
মুঠোফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ কারণে তাদের মধ্যে এই অনিরাপত্তা কাজ করছে।
গত
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে
শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ঘটনার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়। পরে রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল
বোর্ড বর্তমানে তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রেখেছে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
সংসদ নির্বাচনের জন্য ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটির প্রতিনিধি দল।
আজ
সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আসনটিতে
বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম।
সকাল থেকেই সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে
এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয়।
মনোনয়নপত্র
জমা দেওয়া শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, আল্লাহর রহমতে আমরা
সুন্দরভাবে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্রটি জমা দিতে পেরেছি। দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের যে নেতাকে
তারা প্রবাস জীবনে বাধ্য করেছিল, আজ আল্লাহর রহমতে জনগণের দোয়ায় তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই নির্বাচনের জন্য আমরা অপেক্ষা করেছি।
আব্দুস
সালাম বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার দিন নগরবাসী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বরণ
করে নিয়েছেন, সে জন্য আমরা নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। ঠিক একইভাবে আগামী ফেব্রুয়ারির
১২ তারিখের নির্বাচনেও ঢাকা-১৭ আসন এলাকার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের নেতার পক্ষে
ভোট দেবে বলে আমরা আশা করি। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি ভোটের জন্য
অপেক্ষা করছে। নতুন প্রজন্ম গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। নতুন প্রজন্মের সব
ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক, এটাই আমরা আশা করি।
তিনি
বলেন, এখনও যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা ভেদ করে একমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই এই দেশের
সব জনগণের পক্ষে কথা বলবে।
এ
সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকা
মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী আমিনুল হক, মহানগর উত্তর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি
মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন
জুয়েলসহ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক
নেতা-কর্মী।
বিএনপি’র
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঢাকা-১৭ আসনকে ঘিরে দলটির প্রস্তুতি বেশ কিছুদিন ধরেই
চলছিল। দেশে ফেরার পর গত শনিবার তারেক রহমান
ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হন। এরপর থেকেই বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা তাকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে
নির্বাচন করার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। গুলশান-বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকা নিয়ে
গঠিত ঢাকা-১৭ আসন। এই আসনে বিএনপি’র
জোটসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের
নির্বাচন করার কথা শোনা যাচ্ছিল।
তবে
তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার
ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি’র চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে বগুড়া-৬ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনটি
আসন— বগুড়া-৭, ফেনী-১ ও দিনাজপুর-৩ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন
বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


গণভোটে 'হ্যাঁ'র প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা কোনো দলকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দেয়ার এজেন্ডা নয়; এটি রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা, যা বাংলাদেশের সকল মানুষের। এই গণভোট হলো জনগণের সম্মতি নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া: যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসন।
ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম ওঢাকা রেন্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় ‘একবাক্যে’ মত পেয়েছি-গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল–জুলুম–নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন-তারাই আমাদের দুইটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর এই দেশ কেমনভাবে চলবে, আজ আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা এবং দুর্বার গতিতে সাফল্য ও সমৃদ্ধির এগিয়ে যাবার আয়োজন করা।
আলী রীয়াজ বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন; তারা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার কর্তব্য এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। সেই দায়িত্বের আলোকে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিও নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী করার জন্য জাতীয় সংসদের একটা কমিটি করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ থেকে ২৬টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনী ছেলে খেলায় পরিণত যাতে আর না থাকে সেটা বন্ধ করা দরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই। সেটি হলো—আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?
তিনি বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরী করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে অ্যাবিউজ করেছে নিজেদের হীন স্বার্থে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
সভায় ঢাকা বিভাগের জেলা সমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকেও আমি নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার নিয়োগে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, নেপালের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে সুশীলা কারকির দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
তিনি বলেন, একজন দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনার দক্ষ নেতৃত্বে নেপাল ও এর দৃঢ়চেতা জনগণ শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাবে।
প্রধান উপদেষ্টা নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ আরোগ্য কামনা করি।
অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক তার নেতৃত্বে আরও জোরদার হবে। তিনি সুশীলা কারকির সুস্বাস্থ্য ও সফলতা এবং নেপালের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে, রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে
লাশ উত্তোলন করা শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ রবিবার সকাল সাড়ে
৯টার দিকে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এ তথ্য জানান।
আজ
রবিবার ( ০৭ ডিসেম্বর ) সকাল থেকে মরদেহ উত্তোলনের
কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। মরদেহগুলো তোলার পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা নিয়ে আবার যথাযথ
প্রক্রিয়ায় দাফন করা হবে।
ছিবগাত
উল্লাহ বলেন, ‘এই কবরস্থানে যারা নাম-পরিচয়হীন অবস্থায় শুয়ে আছেন, তাদের পরিচয় তখন
যাচাই-বাছাই করা হয়নি। তাদের পরিচয় উদঘাটন করা জাতির প্রতি আমাদের একটি দায়িত্ব। আজ
সেই মহান কাজের সূচনা হলো।’
জাতিসংঘের
মানবাধিকার সংস্থার (ওএইচসিএইচআর) মাধ্যমে আর্জেন্টিনা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস
ফন্ডিব্রাইডার ঢাকায় এসে পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি
আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এ ব্যাপারে অজ্ঞাত শহীদদের পরিবার
আবেদন করেছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এসব কাজ পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ
করে কবরস্থান থেকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে।
সিআইডি
প্রধান বলেন, ‘লাশ শনাক্তের জন্য ইতিমধ্যে ১০ জন আবেদন করেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা
করা হচ্ছে, এখানে শহীদের সংখ্যা ১১৪ জনের বেশি। প্রকৃত সংখ্যা লাশ উত্তোলনের পর জানা
যাবে।
তিনি
আরো বলেন, ‘লাশগুলোর পোস্টমর্টেম করা হবে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পরে ডিএনএ
প্রোফাইল তৈরি করে ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে পুনঃদাফন করা হবে।
মো.
ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় শনাক্ত হলে, পরিবার চাইলে
লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ডিএনএ সংগ্রহের পর, যে কেউ আবেদন করলে সহজেই শনাক্ত
করা যাবে। সিআইডির হটলাইন নম্বরগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন।’
গত
৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ১১৪টি মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ
দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের
পরিচয় শনাক্তের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত
১১৪ জন শহিদকে অজ্ঞাত পরিচয়ে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, এমন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগামী ২০ এপ্রিলের পর শুরু হবে। এতে প্রথম ধাপে ১৫২টি উপজেলার মাঠ পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. শরিফুল আলম জানান, সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ সব নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধানের উপর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এর আওতায় আগামী ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১ম ও ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ এবং ২য় পর্যায়ের তফসিলে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এছাড়া বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডি নথিবিষয়ক প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে।
আবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নতুন করে যোগ দেওয়া এবং সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ১ম ও ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও চলমান রয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী— সাইবার সিকিউরিটি প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাজ্য
সফররত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ লন্ডনে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয়
চার্লসের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন। সেখানে তাঁরা বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম
নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকের
বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আজ সকাল ১১:২০ মিনিটে
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়, যা
ছিল একেবারে ব্যক্তিগত।
বৈঠকে
বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রেস
সচিব শফিকুল আলম জানান, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম
সম্পর্কে রাজা চার্লসকে অবহিত করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের এ বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ
ছিল। যেহেতু রাজা চার্লস বহুদিন ধরে প্রফেসর ড. ইউনূসকে চেনেন, সেহেতু নানা বিষয় নিয়ে
তাদের আলোচনা হয়েছে।
প্রেস
সচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, এই পুরো সফরের মধ্যে আমি বলব, এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ঘটনা।
একান্ত
সাক্ষাতের পর, রাজা ও রাণীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি ছবি উপহার হিসেবে প্রফেসর ড. ইউনূসকে
প্রদান করা হয়, যা প্রধান উপদেষ্টার জন্য একটি বড় সম্মানের ছিল বলে জানান প্রেস সচিব।
বাকিংহাম
প্যালেসে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূসকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের জন্য স্বাগত জানান
রাজা চার্লস।
নিয়মিত
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাক্ষাতের পাশাপাশি রাজা চার্লস এমন ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ দেন, যারা
তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন- বিশেষ করে যারা রাজকীয় নিয়োগ
পেয়ে থাকেন বা তাদের নামে প্রদত্ত পুরস্কার গ্রহণ করছেন।
ব্যক্তিগতভাবে
সাক্ষাৎ করে বা ‘অডিয়েন্স’
প্রদান করে রাজা চার্লস নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের কাজের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন এবং
তাঁদের সম্পর্কে আরও জানার পাশাপাশি রাজকীয় অভিজ্ঞতা উপভোগ করার সুযোগ করে দেন।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম মুরাদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি,
কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর উপজেলায়
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজীবপুর ডাক বাংলোতে অনুষ্ঠিত এক সভার মাধ্যমে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। যা পরবর্তী দিন অনুমোদন করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে দৈনিক মানবকণ্ঠের রাজীবপুর প্রতিনিধি মোঃ সহিজল ইসলাম (সজল)-কে সভাপতি এবং ঢাকা প্রকাশের প্রতিনিধি মোঃ জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ)-কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজীবপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক আমিনুর রহমান (মাস্টার)। সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শেষ হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন— মোঃ রফিকুল ইসলাম, সি. সভাপতি (আমার সংবাদ), মোঃ শরিফুল ইসলাম (দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ), মোঃ হাবিবুর রহমান আল হাবিব (বাংলাদেশ টাইমস), মোঃ মাইদুল ইসলাম (দৈনিক নাগরিক সংবাদ) ও মোঃ রফিকুল ইসলাম (বাংলাদেশ সমাচার)।
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম (ঢাকা প্রকাশ) এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সুজন মাহমুদ (দৈনিক খোলা কাগজ)। এছাড়া সহ-যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. হামিদুল ইসলাম (সুমন) (দৈনিক ভোরের চেতনা)।
কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিতরা হলেন— সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ সাব্বির মামুন (দৈনিক সংগ্রাম), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ শহিদুল্লাহ ফারাজী (ভোরের দর্পণ), কোষাধ্যক্ষ: জিয়াউর রহমান জিয়া (প্রতিদিনের বাংলাদেশ), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: মোহাম্মদ আল আমিন (দৈনিক জবাবদিহি), দপ্তর সম্পাদক: মোঃ রেজাউল হক (আজকের দর্পণ), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মোঃ তারিকুল ইসলাম তারা (দৈনিক গণকণ্ঠ), সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক: মোঃ ফরিদুল ইসলাম (মনোযোগ প্রকাশ), সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক: মোঃ রাকিবুল ইসলাম (দৈনিক আমাদের খবর)।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন— মোঃ শাহাদাত হোসেন হিরো (আলোকিত প্রতিদিন), মোঃ সজিব মাহমুদ (নির্ভীক টিভি), মোঃ সানাউল্লাহ সরকার (মর্নিং পোস্ট), মোঃ গোলাম মোস্তফা (দৈনিক আমার কথা), মোঃ মনোয়ার হোসেন (কুড়িগ্রাম সংবাদ), মোঃ কামরুল হাসান (মনোযোগ প্রকাশ – বিশেষ), মোহাম্মদ হাবিব (প্রথম খবর) এবং মোঃ রাকিবুল ইসলাম (বড়) (দৈনিক নব দিগন্ত ডাক)।
মন্তব্য করুন


নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায় ঘোষণা করেন বিচারক মোছাঃ মরিয়ম মুন মুঞ্জুরি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামের রুক্কু মিয়া ও কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের রুবিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে শুরু থেকেই দম্পতির মধ্যে বনিবনা ছিল না এবং প্রায়ই কলহের অভিযোগ উঠত।
একপর্যায়ে অভিমান করে রুবিনা আক্তার বাবার বাড়িতে চলে যান। ২০২১ সালের ১৫ মে স্বামী রুক্কু মিয়া স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য কৈলাটি গ্রামে যান। সেই রাতে রুবিনা আক্তার ধারালো কুড়াল দিয়ে স্বামীর মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। নিহত রুক্কু মিয়ার ছোট ভাই মো. আসাদ মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি রুবিনা আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলার সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি শক্ত ও ইতিবাচক বার্তা যাবে। আমরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি।”
মন্তব্য করুন