

আশা রহমান :
চলতি বছরে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশে এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন ৭৮১ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ২০৪ জনও ফেল থেকে পাস করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো: আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্নিরীক্ষণের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে ৩০ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী ৭৫০৮৫টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করে। এরমধ্যে ৭৮১ জনের ফল পরিবর্তন হয়। এরমধ্যে ৭৭ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আর ২০৪ জন ফেল থেকে পাস করেন এবং ৫০০ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: নিজামুল করিম বলেন, আবেদনের উত্তরপত্রগুলো পুনর্নিরীক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ জুন কলেজে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। আর ১৩ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পাসের হার ছিল ৭৯.২৩।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে ধ্বংস করা হয়েছে শতবর্ষী ২টি পুকুর ও ২২ একর প্রাকৃতিক জলাশয়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও পলাতক, হত্যা মামলার আসামী আবু জাহের রাতের আঁধারে গোমতী নদীর মাটি কেটে এই জলাধার ও পুকুর ভরাট করেন—যা পরিবেশ আইন ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
আইনের অপমান
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, খাল, নদী কিংবা প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু কারাগারের অভ্যন্তরের পুকুরসহ ২২ একর জলাশয় বুলডোজারের নিচে চাপা পড়েছে নিরব প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে।
ঐতিহাসিক জলাধার, আজ শুধু স্মৃতি
ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬৭ একর জমির মধ্যে দুটি পুকুর ও একটি ২২ একরের বিশাল জলাশয় রয়েছে। একসময় এ জলাশয়ে হাজারো অতিথি পাখির সমাগম হতো। পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছিল। এসব পুকুরে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দও গোসল করেছিলেন—স্মৃতি হিসেবে সেই ছবিও সংরক্ষিত আছে।
কিন্তু এখন সেই পুকুরগুলোর দুটি সম্পূর্ণভাবে ভরাট, অপরটি আংশিকভাবে ভরাটের প্রক্রিয়ায়। আর বিশাল জলাশয়টি রাতারাতি মাটি ফেলে সমতল করা হয়েছে।সেখানে গড়ে উঠেছে দশতলা চারটি ভবন।
ক্ষমতার ছত্রছায়ায় কাজ
সূত্র মতে, কারাগারের এই উন্নয়ন কাজটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে সাবেক এমপি আবু জাহের ও তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জলাধার ভরাটের ঠিকাদার ছিলেন আবু জাহের নিজেই। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থাৎ কোটি কোটি টাকার কাজ তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে দখলে রেখেছেন।অধিকাংশ কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর নির্লিপ্ত?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুসাব্বির হোসেন মোহাম্মদ রাজিব জানান, “আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ পর্যন্ত গিয়েছে। কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত আছে, তবে তারা আমাদের অনুমতি না নিয়েই জলাশয় ভরাট করেছে।”
গণপূর্ত বিভাগ দায় এড়ালো
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ৬১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি তাদের তত্ত্বাবধানে হলেও জলাধার ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন,খতিয়ান নাল জমি উল্লেখ আছে। “পুকুর ভরাটের জায়গার কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে, তবে কারা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।”
কর্তৃপক্ষের নীরবতা
সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী জানান, তিনি ব্যস্ত। পরে তাঁর সরকারি নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একইভাবে জেলার আব্দুল্লাহ আল-আমিনের নম্বরেও যোগাযোগ করা হলে সাড়া মেলেনি।
এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষার দাবিতে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
"শৃঙ্খলাই জীবন" এ শ্লোগান সামনে রেখে আস্থার স্বাস্থ্যসেবার ব্রত নিয়ে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর মুন্সেফ কোয়ার্টারস্থিত খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হসপিটাল (১০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল) এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনেযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মিস শারমীন এস মুরশিদ এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক (এনএইচএন) বোর্ড অব অ্যাডভাইজার্স এর চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজওয়ানুল কবির, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (রাজস্ব) এ. বি. এম মশিউজ্জামান, কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মোঃ সারোয়ার আকবর, প্রফেসর হাজেরা মাহাতাব, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব, সিরডাপের প্রাক্তন মহাপরিচালক ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম এটিএম শামসুল হক এর সহধর্মিণী মিসেস রাবেয়া হক, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক (এনএইচএন) এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. এম এ সামাদ।
উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- রাজনৈতিক ব্যক্তি, বীরমুক্তিযোদ্ধা, ঔষধ কোম্পানির বিপনন প্রতিনিধি, শিক্ষক, এলাকার জনসাধারণ, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ।
ওই অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন- বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।
উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মিস শারমীন এস মুরশিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন- স্বল্প খরচে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে কুমিল্লায় উদ্ভোধন হলো একশত শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হসপিটাল। কুমিল্লায় আধুনিক, সাশ্রয়ী এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই কুমিল্লার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে এই হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের মধ্যদিয়ে কুমিল্লা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হসপিটালের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান আস্থার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসকের সমন্বয়ে এ বিশেষায়িত হসপিটাল হবে দেশের অন্যতম সেরা মানবিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এই হসপিটাল দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং সবার জন্য বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, সময়ের সঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন হলেও এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন হয়নি। এই হাসপাতালের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের লোকজন চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা যেতে হবে না। এখানে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চেম্বার রয়েছে। ভালো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নির্ভুল রিপোর্ট দেওয়াই মানুষের আস্থা অর্জনের মূল ভিত্তি। চিকিৎসা খাতে আমরা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চাই। বিশ্বের উন্নত মানের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টাকার অভাবে কারো চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না এবং মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে ভালো সেবা প্রদানই আমাদের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন- এ ধরনের একটি হসপিটাল কুমিল্লার মানুষের জন্য প্রয়োজন ছিলো। আজ তা বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। একদিন এই হসপিটালটি ১০০ শয্যা হতে ২৫০ শয্যা উন্নতি হবে। এ বিশেষায়িত হাসপাতালে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। তারা বলেন- হাসপাতাল একটি ভবন নয়; এটি একটি মানবেতর প্রতীক। এর মাধ্যমে কুমিল্লার মানুষ সঠিক সেবা পাবেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান (মন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন), সাবেক সচিব এটিএম শামসুল হকের রুহের মাগফেরাত কামনায় দাঁড়িয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করেন।
এদিকে, অনুষ্ঠানে দেয়া লিফলেট সূত্রে জানা যায়- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির যৌথ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শর্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালে ডায়াবেটিসসহ সকল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবা। এরমধ্যে রয়েছে মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও হরমোন, সার্জারি, গাইনী, শিশুরোগ, কিডনি, অর্থোপেডিক, কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, চক্ষু ও দন্ত বিষয়ক রোগের চিকিৎসাসেবা এবং সর্বাধুনিক সুবিধা সম্বলিত ল্যাবরেটরিতে সুলভ মূল্যে প্যাথলজি পরীক্ষার সুবিধা, কম্পিউটারাইজ পদ্ধতিতে মানসম্মত ও নির্ভুলভাবে ইকো, ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, কালার ডপলার, ইসিজি, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন এবং অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) গাইনোকোলজিক্যাল এন্ড অবস্টেট্রিক্যাল অপারেশনসহ সবরকমের সার্জিক্যাল ও ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশনের সুব্যবস্থা। এছাড়াও থাকছে চোখের বিভিন্ন অপারেশনসহ ২৪ ঘন্টা (দিবা-রাত) জরুরি বিভাগ, এ্যাম্বুলেন্স ও ফার্মেসি সার্ভিস।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায়
চৌদ্দগ্রাম বাজার সংলগ্ন মহাসড়ক হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মহাসড়কের শৃঙ্খলা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মিয়াবাজার হাইওয়ে থানাধীন চৌদ্দগ্রাম বাজার সংলগ্ন এলাকা হতে মহাসড়কে থাকা অস্থায়ী স্থাপনা সমূহ উচ্ছেদ করা হয়।
এ সময় হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের এডিশনাল ডিআইজি মো: খাইরুল আলম, কুমিল্লা হাইওয়ে সার্কেল এএসপি ও অফিসার ইনচার্জ মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও এই অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার অফিসার এর নের্তৃত্বে একটি টিম, এসি ল্যান্ড ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে জেলায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।এর আগে সকালেই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর বশির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লার সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন রুবেল, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার আব্দুল মতিন, দৈনিক কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান, টাউনহলের সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক দুলাল, এ্যাডভোকেট গোলাম ফারুকসহ জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ ও চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের অবদান স্মরণ করে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
মন্তব্য করুন


ঋণ
খেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান
মুন্সীর নাম বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।
এর
ফলে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে
পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার
(৮ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে
প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার।
তিনি
জানান, বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
এর
আগে ঋণখেলাপির তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম
স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য,
কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সীমান্ত এলাকা থেকে ৪২০ বোতল
ফেনসিডিল এবং একটি সিএনজিসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)
সদস্যরা।
আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে চাঁনপুর
এলাকা থেকে আটক করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আরাফাত হোসেন অনি।
বিজিবি জানায়- মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর)
ভোর ৬টায় কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধীনস্থ কটকবাজার পোস্ট এর টহলদল মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত
অভিযানে বিজিবি টহলদল কর্তৃক সীমান্ত পিলার ২০৮০/এম হতে ০৪ কি. মি. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে
চাঁনপুর মসজিদ নামক স্থান হতে ৪২০ বোতল ফেন্সিডিল এবং একটি সিএনজি সহ এক জন মাদক চোরাকারবারিকে
আটক করে। আটককৃত সিএনজি এবং মাদকদ্রব্যের সর্বমোট মূল্য ৬,৬৮,০০০/- (ছয় লক্ষ আটষট্টি
হাজার) টাকা বলে ধারণা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক :
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম বলেছেন, গতকাল শেখ হাসিনার রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এই ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখব। বিচারবিভাগ স্বাধীন থাকবে। আমরা যদি নির্বাচিত হই বিচারবিভাগকে স্বাধীন রাখা হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায়ের ওপর।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের ভৌগই উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত উঠান বৈঠকের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ৮০ বছর বয়সে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাত- সাতটি বছর জেল খেটেছেন, কিন্তু তিনি অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করেননি। উনাকে বহুবার প্রেশার দেওয়া হয়েছিল বিদেশে পাঠিয়ে দিতে, আমাদের নেত্রী বলেছিলেন বিদেশে আমার কোন ঠিকানা নাই। ছয়বার নিশ্চিত মৃত্যুর থেকে আল্লাহ উনাকে বাঁচিয়েছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের উপর যেভাবে চেপে বসেছিল। দীর্ঘদিন আপন লোকদের জানাজায় যেতে পারিনি। তাদের দোয়ায় অংশ নিতে পারিনি। আমরা এসব ভুলে যাবো না।দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে সাত-সাতটি বছর জেল খেটেছেন। আমরা এসব ভুলে যাবো না। আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার তিন তিনটি আসনে মনোনয়ন নিয়েছেন। তার সম্মানার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে।
আবুল কালাম বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আমাকে লাকসাম এবং মনোহরগঞ্জের মনোনয়ন দিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিগত সময়ের নির্যাতন, মামলা-হামলার কথা বিবেচনা করেই আমার দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমাকে আমার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান বলেছেন, ভোগই হাই স্কুল মাঠে গিয়ে আমার সালাম দাও, ধানের শীষের সালাম দাও। আমি জনাব তারেক রহমানের পক্ষে আপনাদেরকে সালাম দেওয়ার জন্য এখানে এসেছি। আপনারা তারেক রহমানকে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বানাবেন এটা আশা করি।
এ সময় মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরোয়ার জাহান দোলনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় সার্কেল কাবাডি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের আয়োজনে ও কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় বুধবার ( ১৪ ফেব্রুয়ারি ) সকালে কুমিল্লা জিমনেসিয়ামে কাবাডি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
কাবাডি প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের ৮টি সার্কের টিম অংশ গ্রহন করে। দুটি গ্রুপে নক আউট পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিন জেলার চৌদ্দগ্রাম সার্কেল, সদর দক্ষিন সার্কেল, লাকসাম সার্কেল, সদর সার্কেল, হোমনা সার্কেল, দাউদকান্দি সার্কেল, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর সার্কেল টিম অংশ নেয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩ টায় আইজিপি কাপ ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ কাবাডি ও কুমিল্লা জেলা সার্কেল টিমের বিজয়ী কাবাডি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরন করা হবে।
কুমিল্লায় সার্কেল কাবাডি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার মংনে খোয়াই মারমা। প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার কামরান হোসেন, কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকির।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল:
কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি (যুদ্ধসমাধি)
থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
তাদের দেহাবশেষ জাপানে নেওয়া হবে। এরই মধ্যে জাপানের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যদের একটি ফরেনসিক
বিশেষজ্ঞ দল ওই ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন। যেটি
শেষ হবে আগামী ২৪ নভেম্বর।
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম
পাশে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান
হিসেবে পরিচিত। সেখানে রোববার বিকেল পর্যন্ত খনন করা হয়েছে ১০টি সমাধি। জাপানের বিশেষজ্ঞ
ফরেনসিক টিমকে সহায়তা করছেন বাংলাদেশ সরকার। পুলিশি নিরাপত্তায় খনন কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে
নিহত বিশ্বের ১৩টি দেশের ৭৩৭জন বীর সৈনিককে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ১৯৬২ সালে একজন সৈনিকের দেহাবশেষসহ সমাধির মাটি তার স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে
নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ২৪ জন জাপানি সৈনিকের মরদেহ রয়েছে। গত বুধবার থেকে খনন কাজ
শুরু হয়।
সমাধিস্থলের মাটি খুঁড়তেই মিলছে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈনিকদের মাথার খুলিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়। সেগুলো অত্যন্ত
যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন এই যুদ্ধ সমাধি ক্ষেত্র
তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে।
সমাধিস্থলের খননকাজে জাপানের প্রতিনিধিদের
সহায়তা করছেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.)
কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবর (সমাধি) শনাক্তকরণ, দেহাবশেষ
সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ সরিয়ে আনার কাজটিও করেছেন
তিনি। জাপানের প্রতিনিধিদলের পক্ষে পুরো কর্মযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, ‘জাপান
সরকার ২০১৩ সালে আমাকে তাদের দূতাবাসে ডেকেছিল এই ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে
নেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ওই সময়ে সেটি সম্ভব হয়নি। গত বছর থেকে তারা বিষয়টি
নিয়ে আবারও যোগাযোগ করে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাপান সরকার আমাদের সরকারের কাছে চিঠি
লেখে এবং কমনওয়েলথের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এই কাজ শুরু করেছে। এখানে জাপানের পক্ষ থেকে
সাতজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, যারা এ কাজে অত্যন্ত দক্ষ। তাদের ছয়জন জাপানি ও
একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এই সমাধিগুলো ৮১ বছরের পুরোনো। এরই মধ্যে খনন করে আমরা
১০ জনের দেহাবশেষ সমাধি থেকে উত্তোলন করতে পেরেছি।’
দেহাবশেষে কী কী পাওয়া যাচ্ছে, জানতে
চাইলে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘৮১ বছর পর খুব বেশি কিছু পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা
প্রতিটি সমাধির দুই ফুটের মতো খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে খুঁড়ছি। বাকিটা ম্যানুয়ালি
অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খনন করা হচ্ছে। কোনোটিতে তিন ফুট, আবার কোনোটিতে ছয় ফুট খননের
পর দেহাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত যেগুলো খনন করা হয়েছে, সেসব সমাধিতে মাথার খুলি,
শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় পাওয়া যাচ্ছে। তবে যা-ই পাচ্ছি, সবকিছুই জাপানের বিশেষজ্ঞ
দল যত্নসহকারে সংরক্ষণ করছে।’
তিনি বলেন, আমরা এক তরুণ সৈনিকের দেহাবশেষ
তুলতে গিয়ে মাথার খুলির মধ্যে বুলেটের চিহ্ন পেয়েছি। রেকর্ড অনুযায়ী ওই সৈনিকের বয়স
২৮ বছর ছিল। আমার তখন বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করেছে। এত তরুণ বয়সে পৃথিবী থেকে চলে গেছে
সে। এখানে জাপানের সৈনিকদের ২৪ সমাধির মধ্যে ২০টির নাম-পরিচয় আছে। বাকি চারটির পরিচয়
শনাক্ত করা এখনো সম্ভব হয়নি। নিশ্চয়ই তারা (জাপানের প্রতিনিধিদল) দেহাবশেষ নিয়ে গেলে
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।’
কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশনের পক্ষে
দায়িত্ব পালন করা কান্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আবদুর রহিম সবুজ বলেন, গত বুধবার সকাল
থেকে জাপানের প্রতিনিধি দল কার্যক্রম শুরু করে। এখানে সমাহিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময় নিহত বিশ্বের ১৩টি দেশের।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও আতশবাজিসহ একটি মিনি পিকআপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার যশপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিয়মিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাত ও রোববার সকালে দুটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এক পর্যায়ে যশপুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের প্রায় ২৫০ গজ ভেতরে মুড়াপাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মিনি পিকআপ জব্দ করে। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া একই সীমান্ত এলাকার পাহাড়পুর নামক স্থানে সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ ভেতরে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে বড় ধরনের ভারতীয় আতশবাজির চালান জব্দ করা হয়।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত মিনি পিকআপসহ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও আতশবাজির আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানায়, জব্দকৃত মালামাল প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবির অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন