

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা–৬ (সদর, সদর দক্ষিণ, সেনানিবাস এলাকা ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আমিন–উর–রশিদ ইয়াছিনের মনোনয়ন প্রত্যাশায় শুক্রবার শহর ও গ্রামের অসংখ্য মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক মানববন্ধন, সমাবেশ, নফল রোজা, গণ–ইফতার ও মিলাদ মাহফিল কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এবার ধর্মীয় পরিবেশে দোয়া ও মোনাজাতের উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কান্দিরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ঠাকুরপাড়া, চৌধুরীপাড়া, টমছমব্রিজ, চকবাজার, চর্থা, ঝাউতলাসহ মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সদর দক্ষিণ ও সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের মসজিদেও একই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মোনাজাতে অংশ নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, তরুণসমাজ, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবে আমিন–উর–রশিদ ইয়াছিনকে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তৃণমূলের মানুষ। এলাকার উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে “যোগ্য নেতৃত্ব” জরুরি উল্লেখ করে তাঁরা মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
দোয়া মাহফিলে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের সুস্বাস্থ্য ও সফলতার জন্য মোনাজাত করা হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মোহনপুর ফেরিঘাট এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মোহনপুর ফেরিঘাট সংলগ্ন ব্রিজের পাশে অস্ত্রের একটি চালান হাতবদলের সময় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী।অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ৫টি ইস্টানগান, ৪টি থানায় ব্যবহৃত লোডার/কার্তুজ, ৩টি তাজা পিস্তলের অ্যামুনিশন, ৮টি পিস্তলের খালি অ্যামুনিশন এবং ১টি পিস্তলের ফায়ারিং পিন উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের চালানটি মেঘনা নদীপথ হয়ে তিতাস নদীতে প্রবেশ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানটি তিতাস আর্মি ক্যাম্পের একটি বিশেষ অভিযানি দল পরিচালনা করে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৫৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের অবৈধ বাজি উদ্ধার করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।
গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লা সদর উপজেলার রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এসব বাজি উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১০ বিজিবির সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ।
বিজিবি জানিয়েছে, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাতে ব্যাটালিয়ন সদরের বিশেষ টহল দল একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলাধীন রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালায়। এই অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার ১০০ পিস বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ভারতীয় বাজি মালিকবিহীন অবস্থায় আটক করা হয়, যার সর্বমোট মূল্য ৫৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা। জব্দকৃত চোরাচালানী মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা করা হবে।
এ বিষয়ে ১০ বিজিবির সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে তারা সর্বদা সজাগ রয়েছে এবং নিয়মিত টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে দেশ একটি যোগ্য ও সুন্দর প্রজন্ম পাবে।
আজ সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে হাজী মোঃ জহিরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে নেউরা এম. আই. উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রাথমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আল্লাহ ধন-সম্পদ দেওয়ার আগে মানুষের মনকে সমৃদ্ধ করেন। আয়োজক জহিরুল ইসলামের এই উদ্যোগ তার উদার মানসিকতারই প্রমাণ। তিনি বলেন, আজকের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি মহৎ কাজ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, সময় ও যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার ধরণ ও শিক্ষার্থীদের চাহিদাও বদলেছে। বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্কুল ব্যাগও একজন শিক্ষার্থীর জন্য বড় সহায়তা হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করে এবং সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
মন্ত্রী সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যার যার অবস্থান থেকে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। আজ যেসব শিক্ষার্থী সহায়তা পাচ্ছে, ভবিষ্যতে তারাই দেশের সম্পদ হয়ে সমাজের কল্যাণে অবদান রাখবে।
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য—এই তিনটি খাত দেশের অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারলেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
হাজ্বী মোঃ জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি ও প্রত্নতত্ত্ব
বিভাগের যৌথ উদ্যোগে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৬ মে) সকাল ১০ টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মেলন শুরু হয়। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের হল রুমে দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান চলবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য
অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর
ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। আরও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব
উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরমা জাকারিয়া চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম।
সম্মেলনে উপস্থিত গুণী ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের স্বাগত জানিয়ে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষাদানের
জায়গা নয়। এখানে দুটি কাজ হয়, একটি জ্ঞান সৃষ্টি, আরেকটি জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া। আজকের
আয়োজন জ্ঞান সৃষ্টি ও ছড়িয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে উপকৃত হবে আমাদের ছাত্র ও উপস্থিত সকলেই।
তিনি আরও বলেন, প্রত্নতত্ত্ব কেবলমাত্র অতীতের উপাত্ত সংগ্রহের একটি
পন্থা নয়, বরং এটি আমাদের সভ্যতার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সামাজিক বিকাশের এক অমূল্য
দৃষ্টান্ত। আমাদের দেশের সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে চিহ্নিত করা এবং তা বিশ্বমঞ্চে
তুলে ধরা আমাদের সকলের একান্ত দায়িত্ব।
ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, পুরনোকে নতুনভাবে উপস্থাপন
না করে, পুরনোকে পুরনোভাবে রেখে ইতিহাসকে খোঁজা, সহযাত্রী হওয়া, শিক্ষা নেওয়া, উপস্থাপন
করা, লালন করা এবং আত্মস্থ করা প্রত্নতত্ত্বের জ্ঞান। আমরা ছাত্রজীবনে এই পাঠগুলো পাইনি,
যার ফলে একটা বড় গোষ্ঠী এগুলো নিয়ে সচেতন নয়। আমরা জাতি হিসাবে পিছিয়ে আছি, কেননা আমাদের
এই জিনিসগুলো নিয়ে আমরা সচেতন নই।
তিনি আরও বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক যুগ পূর্তিতে এই আয়োজন আন্তর্জাতিক
মানসম্পন্ন জ্ঞান বিনিময় প্লাটফর্ম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে শুধু
গবেষণার গুণগত মানই বৃদ্ধি পাবে না, বরং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে দেশি এবং বিদেশি
গবেষকদের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম বলেন, আমার কাছে মনে হয়,
ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে কষ্টিপাথরে যাচাই করা জ্ঞান সৃষ্টি করে প্রত্নতত্ত্ব। আমরা
যদি ইতিহাসকে বিভিন্ন লেয়ারে ভাগ করি, প্রাচীণ, মধ্য, আধুনিক, তাহলে ফাউন্ডেশন লেয়ারে
আমরা প্রত্নতত্ত্বকে পাবো।
তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশে ময়নামতি সংক্রান্ত বিষয় জানতে পারার জন্য ময়নামতির
কাছে এসে এই সম্মেলন হওয়ায় আমরা কৃতার্থ। এই যে
ল্যান্ড অফ ভ্যারাইটিজ যেখানে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিষয় আছে, সেখানে আসতে পেরে
আমরা আসলেই গর্বিত।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ এবং অনুষ্ঠানে
স্বাগত বক্ত্য রাখেন বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরমা জাকারিয়া
চৌধুরী।
উল্লেখ্য, সম্মেলনে দেশি-বিদেশি শিক্ষক, প্রত্ন-গবেষক ও শিক্ষার্থীদের
শতাধিক প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার চান্দিনায় গরুর গোবর ফেলাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাতে খুন হলো আপন বড় ভাই হানিফ মিয়া (৩৫)।
বুধবার (২৭ মার্চ) দুপুরে চান্দিনা উপজেলা সদরের আনিছ মোহাম্মদ এর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চান্দিনা থানার এস.আই মো. গিয়াস উদ্দিন।
নিহত হানিফ মিয়া ওই এলাকার আনু মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় হানিফ। হত্যাকারি আনিছ মিয়া নিহতের আপন ছোট ভাই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা দুই ভাইয়ের পৃথক গরুর খামার আছে। বাড়ির পাশের একটি অন্যের খালি জায়গায় দুই ভাই দীর্ঘদিন যাবৎ গরুর গোবর ফেলে আসছে। বুধবার দুপুরে ওই স্থানে গরুর গোবর ফেলাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। চরম উত্তেজনার মধ্যে মেঝ ভাই আনিছ মিয়া বড় ভাই হানিফ মিয়াকে মারধর করে এক পর্যায়ে তাকে কাঠের চোখা টুকরো দিয়ে আঘাত করায় ওই কাঠের চোখা অংশ বাম চোখের ভিতর দিয়ে মাথায় ঢুকে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুর রহমান জানান, তার শরীরের বিভিন্ন অংশের ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রচন্ড রক্তক্ষরণ ও মস্তিস্কে আঘাত জনিত কারণে মৃত্যু ঘটে তার।
ঘটনাস্থল থেকে চান্দিনা থানার এস.আই মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঘটনার পরপর হত্যাকারী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থাসহ হত্যাকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, নিজস্ব
প্রতিবেদক:
আজ
বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী
হয় পথচারীরা। চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ করেই রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে
পড়ে—কোনো নির্ধারিত স্টপেজ
কিংবা সংকেত ছাড়াই।
বাসটির
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বাস থেকে নামতে শুরু করেন। অনেকে
প্রাণ ভয়ে ডিভাইডারের ওপর লাফিয়ে উঠেন। একজন যুবক নিরাপদে পার হলেও তার ঠিক পেছনে থাকা
দুই মাদ্রাসাছাত্র ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান রাস্তায়।
ঠিক
তখনই সামনে দিয়ে ঝড়ের গতিতে ছুটে আসে একটি মোটরসাইকেল। মুহূর্তের মধ্যে সবাই শ্বাসরুদ্ধ
হয়ে চেয়ে থাকেন সেই ভয়ংকর দৃশ্যের দিকে।
তবে
সৌভাগ্যক্রমে, মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হন মোটরসাইকেল চালক এবং রক্ষা পান ওই
দুই ছাত্রও।
স্থানীয়রা
জানান, সেই মুহূর্তে পুরো এলাকা থমকে গিয়েছিল। আতঙ্ক আর বিস্ময়ে অনেক পথচারীর মুখ ফ্যাকাশে
হয়ে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, "মনে হচ্ছিল, সবাই যেন মৃত্যুর খুব কাছ থেকে
ফিরে এল।"
ঘটনাটি
যানবাহনের নিয়ম না মানা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ রোডে অব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ বলে
মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। এ নিয়ে প্রশাসনের আরও কড়া নজরদারি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সিটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের সময়সূচি:
সকাল ৮ টায়-
*কেন্দ্রীয় কারাগার ঈদগাহ
*রেইসকোর্স সুন্নিয়া জামে মসজিদ
*বাগিচাগাঁও বড় মসজিদ
*কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা
সকাল ৮:৩০ মিনিটে-
*কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ
*পুলিশ লাইন জামে মসজিদ
*মুন্সেফ বাড়ি জামে মসজিদ
*মুন্সীবাড়ি জামে মসজিদ
*কালিয়াজুরী বড় মসজিদ
*শুভপুর শাহী ঈদগাহ ময়দান
*রানীর বাজার জামে মসজিদ
*জানু মিয়া জামে মসজিদ
*আড়াইওড়া শাহী ঈদগাহ
*সার্ভে ইনস্টিটিউট জামে মসজিদ
*দূর্গাপুর দিঘিরপাড় ঈদগাহ
সকাল ৯ টায়-
*দারেগা বাড়ী জামে মসজিদ
*রেইসকোর্স নুর মসজিদ
*ছোটরা মোহাম্মদ আলী ঈদগাহ
*জেলা মডেল মসজিদ কুমিল্লা
মন্তব্য করুন


বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখে আন্দোলনের নামে গ্রাহক ভোগান্তি, রাষ্ট্রবিরোধী আচরণ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ১৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন ঘোষ ওই মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে আন্দোলন করে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে লাখ লাখ গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
আটককৃতরা হলেন- কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বাইমানা গ্রামের নূরুল আনোয়ারের ছেলে সহিদুল ইসলাম (২৬), চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার কামানকান্দি মাথাভাঙ্গা গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে নূর মোহাম্মদ (২৮), চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারি উপজেলার খন্দকিয়া গ্রামের সিকদার চৌধুরীর ছেলে ফয়সাল চৌধুরী (৩৭), নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পবনপুর তারাবো গ্রামে ফরিদ উদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমেদ (৩৩), ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলা সদরের খায়রুল কবিরের ছেলে মিজানুর রহমান সাগর (৩০)। তারা সকলে চান্দিনাস্থ কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কর্মকর্তা।
সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় দফা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলন করাকালে চান্দিনার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেড়াও করে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। এ সময় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করে। পরে দায়ের হওয়া মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নাজমুল হুদা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনকালে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় আন্দোলনকারীরা। এতে সমিতির আওতাধীন চার উপজেলার লাখ লাখ গ্রাহকের ভোগান্তি দেখা দেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ আমরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করি। সন্ধ্যার পর আবারো তারা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কার্যালয় ঘেড়াও করে। এ সময় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে নাশকতা, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত করায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মামলা করেন। ওই মামলায় তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল অভিযানে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে আদর্শ সদর উপজেলার কুমিল্লা হাউজিং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. মিজানুর রহমান। তিনি আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত সাদেক সরদারের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন।
সেনা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদে সেচ প্রকল্প সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সেনাবাহিনীর টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পলাতক আসামি মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়।তার বিরুদ্ধে কোটয়ালী মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মামলা নং ৬৯, তারিখ ২০২৫; ২৭মে ধারা ১৪৩/১১৪/১৪৭/১৪৯/৩২৩/৩০২/১০৯/৩৪ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং Explosive Substances Act 1908 (ধারা ৩/৪)।মামলা নং ৪৮, তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৯; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (ধারা ৩৬(১) সারণির ১০ (ক)/৪১)।
মামলা নং ৭৭, তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫; ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ দণ্ডবিধি ১৮৬০।সেনা সদস্যরা জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরে তাকে কোটয়ালী মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।সেনা সূত্র আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কোরবানির পর পশুর মাংস হাড় কাটতে গিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এছাড়া দুপুরে একটা পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা বেশিরভাগই যুবক। শখের বশে কোরবানির পশুর মাংস কাটতে গিয়ে তারা আহত হয়েছেন। তবে আহতদের মধ্যে কয়েকজন পেশাদার কসাইরাও আছেন।
আহতরা বলছেন, মাংস কাটাকাটিতে অনভিজ্ঞ হওয়ায় হাত পা কেটেছে তাদের। যারা গুরুতর আহত হয়েছেন তাদেরকে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
কুমিল্লা সদর উপজেলার ধনপুর ইমরান আহমেদ আহমেদ বলেন, ঈদের খুশিতে বাড়ির সবাই মিলে কোরবানি দেই। তারপর মাংস কাটার সময় পিছলে আমার আঙুলে লাগে। প্রথমে টের পাইনি, পরে দেখি রক্ত ঝরছে। হাসপাতালে আসার পর তিনটি সেলাই দিয়েছে।
সদর উপজেলার ভুবনঘর এলাকার চল্লিশোর্ধ্ব কাশেম তালুকদার গরুর হাড় কাটতে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন হাতের কব্জিতে। তিনি বলেন, আল্লাহ বাঁচিয়েছে- আরেকটু জোরে লাগলে আমার হাতের কব্জি হয়তো আলাদা হয়ে যেত। জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে বলে এখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
টিক্কার চর এলাকা থেকে আসা মো. রাসেল বলেন, অভিজ্ঞতা ছাড়া মাংস কাটতে গেলে এরকম দুর্ঘটনা ঘটবেই। কারণ মাংস কাটাকাটির সময় ছুরি বা চাপাতি পিছলে যায়। তাই অভিজ্ঞতা ছাড়া এ কাজে না আসাই ভালো।
ঝাউতলা থেকে আসা পেশাদার কসাই জাহঙ্গীর আলম বলেন, হাড্ডি কোপাতে গিয়ে আমার পায়ে চাপাতি লেগেছে। সদর হাসপাতালে রাখেনি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে।
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার মো. জোবায়ের জানান, আহত যারা এসেছেন তারা বেশিরভাগই একদিনের জন্য মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। সবারই প্রায় হাতের আঙুলে ও পায়ে আঘাত। শনিবার ঈদের দিন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আমরা অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি। গুরুতর আহত যারা তাদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন