

মুরাদুল ইসলাম মুরাদ রৌমারী ( কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলারয় শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এ প্রচণ্ড শীতের মধ্যে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উষ্ণতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের খেদাইমারী এলাকায় অবস্থিত বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন প্রাঙ্গণে এই শীত বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। খেদাইমারী বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন প্রতিষ্ঠান কার্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব শীত বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন, শিশু সদনের শিক্ষকবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, “শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিশুদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হয়। শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এবং তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সরকার সবসময় সচেষ্ট। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ শীতপ্রধান বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। অনেক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার শীতবস্ত্রের অভাবে কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই শীতের এই সময় শিশুদের জন্য উষ্ণতার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
কম্বল পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, তারা খুবই আনন্দিত। এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা অনেক খুশি। কম্বল পেয়ে শীতে আমাদের কষ্ট কম হবে।” আরেক শিক্ষার্থী জানায়, “এবারই প্রথম আমরা সরকারি ভাবে কম্বল সহায়তা পেলাম। আগে কখনো এভাবে পাইনি।”
শিশুরা আরও বলেন, “প্রতি বছর যদি সরকারি ভাবে আমাদের কম্বল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়, তাহলে শীতের সময় আমাদের পড়াশোনা করতে সুবিধা হবে। আমরা আল্লাহর কাছে এটাই আশা করি।”
এ ধরনের উদ্যোগ শীতার্ত শিশুদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলতে নামবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে অনলাইনে শুরু হয় এই ম্যাচের টিকিট বিক্রি। শুরু হওয়ার পর মাত্র ছয় মিনিটেই শেষ হয়ে যায় সাধারণ গ্যালারির সব টিকিট।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রতিযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান ও নির্বাহী সদস্য, সাবেক জাতীয় ফুটবলার গোলাম গাউস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“মাত্র ছয় মিনিটেই সাধারণ গ্যালারির সব টিকিট বুকিং হয়ে গেছে। এখন ক্রেতারা পেমেন্ট সম্পন্ন করছেন, এর মধ্যেই অর্ধেকের বেশি পেমেন্ট শেষ হয়েছে। সাধারণ গ্যালারির কোনো টিকিট অবিক্রিত নেই; এখন রেড বক্স ও হসপিটালিটি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।”
এর আগে ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ছিল ৪০০ টাকা। কিন্তু ভারত ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বিবেচনা করে টিকিটের মূল্য বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাফুফে।
দাম বাড়লেও উৎসাহী সমর্থকদের চাহিদায় কোনো ভাটা পড়েনি। টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাধারণ গ্যালারির সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে এবার টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
আগামী ১৮ নভেম্বরের ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, যারা আগের অ্যাওয়ে ম্যাচে শিলংয়ে ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল। এই ম্যাচটি ঘিরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এখন তীব্র উত্তেজনা ও প্রত্যাশা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন


বেশ
কয়েকটি বিস্ফোরক মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)
পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। তার পদত্যাগের দাবিতে সবধরনের খেলা বয়কটের ডাক দিয়েছে ক্রিকেটার্স
ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। তাদের দাবির মুখে এবার অর্থ কমিটির প্রধানের
পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে এই বোর্ড পরিচালককে।
বিসিবির
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, ক্রিকেটারদের তীব্র আপত্তি ও কোয়াবের আল্টিমেটামের
প্রেক্ষিতে বোর্ড জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
নাজমুল
ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্য ক্রিকেটারদের সম্মানহানিকর ও পেশাদারিত্ববিরোধী বলে বিবেচিত
হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে
নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে বোর্ড পরিচালকের পদ থেকে নাজমুলকে সরাতে পারবে না বিসিবি।
বিসিবির গঠণতন্ত্র অনুযায়ী শুধুমাত্র মৃত্যু হলে, মানসিক ভারসাম্য হারালে, শৃঙ্খলাজনিত
শাস্তি হলে, অর্থনৈতিভাবে দেওলিয়া হলে, পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকলে অথবা
নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে কারো পরিচালক পদ শুন্য হয় না। এখানে প্রথম পাঁচটি কারণ নাজমুলের
ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
তবে
তিনি নিজ থেকে পদত্যাগ করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।
এর
আগে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ
দল না গেলে বোর্ডের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
এমন মন্তব্যে ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা
খরচের প্রসঙ্গ টেনে খেলোয়াড়দের দায়ী করার বক্তব্য এবং সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতীয় দালাল’ বলেও আখ্যা দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে
আরও জটিল করে তোলে।
এই
ঘটনার জেরে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সরাসরি নাজমুল
ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না এলে বিপিএলের ম্যাচ
বর্জনের আল্টিমেটাম দেয়। আজ দুপুরে ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়েই কোয়াব সংবাদ সম্মেলনের
ডাক দেয়, যা মাঠে খেলা না গড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিল।
পরিস্থিতি
সামাল দিতে গভীর রাতে বিসিবি ও কোয়াব নেতাদের মধ্যে বৈঠক হলেও সেখানে কোনো সমাধান আসেনি।
শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের অবস্থান ও লিগের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে বিসিবি নাজমুলকে ফিন্যান্স
কমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়ায় তিন দিনের সরকারি সফর শেষে আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) দেশে ফিরেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে গত সোমবার তিনি কুয়ালালামপুরে যান।
বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন অধ্যাপক ইউনূস। এছাড়াও তিনি একাধিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই
আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
আজ
বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি ) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল
ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন
করেছিল তেমনই ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার
উন্মোচন করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। জুলাই অভুত্থ্যানে
ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার কারণেই মহাশক্তিশালী এক সরকারের
পতন ঘটেছিল। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল খাতই বর্তমানে মূল খাত। কারণ এটি থেকেই পরিবর্তন আসবে।
এ খাত থেকেই অন্যান্য সব খাত প্রভাবিত হবে।’
নাগরিক
সেবার ডিজিটাইলেশন কাগজে কলমে হলেও আদতে বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন,
‘সরকার শুধু একধরনের সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে ছেড়ে দিবে। জনগণ নিজেদের মতো করে
তা ব্যবহার করবে। এটিই তথ্য প্রযুক্তির শক্তি।’
পার্বত্য
চট্টগ্রাম নিয়ে তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের তিন জেলায় থাকা আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র
১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। যে স্কুলে শিক্ষক নেই, ইন্টারনেটই
সে স্কুলের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারবে।’ সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা একটি
ভুল জিনিস উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি দাস প্রথার সামিল। উদ্যোক্তা
হওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে।’
সরকারি
কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন,
‘তাহলে তার মাইন্ড সেট হয়ে যায়। সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর
পর নতুন করে শুরু করা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তন হলেও মানুষরা সেই
প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে রয়েছে।’
জালিয়াতি
প্রথা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হয়েছে। এতে বিদেশে
ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমাদেরকে প্রযুক্তিতে ভালো করতে হলে এই জালিয়াতি বন্ধ করতে
হবে। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমাদের সেই সামর্থ্য রয়েছে।’
মন্তব্য করুন


আবদুল হান্নান পেশায় দিনমজুর। পাঁচ কাঠা জমি আর টিনের ছাপরার একটি ছোট ঘরেই ছয় সদস্যের পরিবারের ঠিকানা। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে কোনোরকমে। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করেননি তিনি। তাঁর স্ত্রী গৃহস্থালি সামলানোর পাশাপাশি সব সময় মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। অনেক কষ্ট ও সংগ্রামের পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত এ দম্পতির দুই মেয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। মা–বাবা ও ভাই–বোনদের নিয়ে এখন তাঁরা সেই পরিশ্রমের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।
আবদুল হান্নানের
বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বিসিএস
ক্যাডার হওয়া দুই মেয়ে হলেন মোসা: সারমিন আক্তার ও মোসা: খাদিজা আকতার। ছোট বোন খাদিজা
৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন। এবার বড় বোন সারমিন ৪৪তম বিসিএসে পশুসম্পদ
ক্যাডার পেয়েছেন। দুই বোনের ভাষ্যমতে, তাঁদের এ অবস্থানে আসার পেছনে মায়ের অবদানই সবচেয়ে
বেশি।দুই মেয়ের সাফল্যে মা–বাবার আনন্দ সীমাহীন। বাবা আবদুল হান্নান
বলেন, ‘কষ্ট কর্যাছি, মেয়েরা বাপ–মায়ের কষ্টের মর্ম বুঝ্যাছে। তারা সফল
হয়্যা দ্যাখিয়্যা দিয়াছে। বাপ–মাকে সম্মানের জাগাতে লিয়া গেছে। গাঁয়ের
মানুষ হামারঘে এ্যাখুন অনেক সম্মান দ্যাখায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দ্যায়।’
সারমিন খাতুন
২০০৮ সালে বালিয়াডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫
পান। একই বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে জিপিএ–৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন খাদিজা খাতুন।
তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দুই
বোনের গল্প নিয়ে প্রথম আলোর ‘অদম্য মেধাবী’
সিরিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এরপর সারমিন পান ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য
মেধাবী তহবিলের শিক্ষাবৃত্তি এবং খাদিজা পান হামদর্দ লিমিটেডের সহায়তা।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগে ভর্তির পর ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট
অদম্য মেধাবী তহবিলের বৃত্তির টাকাই ছিল সারমিন খাতুনের মূল ভরসা। ছোট বোন খাদিজাও
ভর্তির সুযোগ করে নেন একই বিভাগে। তখন বৃত্তির টাকা ভাগাভাগি করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন
দুই বোন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সারমিনের জন্য বরাদ্দ সিঙ্গেল সিট ব্যবহার করতেন ছোট
বোন খাদিজা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে। একই বিষয়ে পড়ায় দুজনের জন্য আলাদা করে বইপত্র কিনতেও
হয়নি।
কঠিন পথ পেরিয়ে
বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সারমিন বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কষ্টের পথ অনেক
লম্বা ছিল। প্রথম আলো ট্রাস্টের বৃত্তির সহায়তা ও মা–বাবার
ত্যাগ না থাকলে আজকের অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না।’স্থানীয় মানুষ দুই বোনের অর্জনকে এলাকার
মেয়েদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন বলে জানালেন শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক। তিনি
বলেন, দিনমজুর বাবার ঘামঝরা কঠিন পরিশ্রম ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বড় হওয়া সারমিন ও খাদিজা
আজ বিসিএস ক্যাডার। তাঁদের গল্প কেবল একটি পরিবারের নয়, এটি প্রমাণ করে যে সুযোগ, সহায়তা
ও দৃঢ়সংকল্প থাকলে দারিদ্র্যও শেষ পর্যন্ত হার মানে। গ্রামের ছোট্ট ঘর থেকে সারমিনদের
পথচলা শুরু। বাবা দিনমজুর হলেও তাঁর জেদ ছিল মেয়েদের পড়াশোনা যেন থেমে না যায়। মা ছিলেন
সেই জেদের বড় শক্তি—মেয়েদের পড়ার সময় কোনো বাধা না আসে, তা
তিনি নিশ্চিত করতেন। এখন গ্রামের মানুষ এই বাবা–মাকে সম্মান করে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত
দেয়। দুই বোন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর প্রয়াত শিক্ষক সিদ্দিক আহমেদের নামে গড়ে ওঠা
সংগঠন ‘সিদ্দিক আহমেদ শ্রদ্ধা নিবেদন পরিষদ’ তাঁদের সংবর্ধনার আয়োজন করে।
আবদুর রাজ্জাক
আরও বলেন, প্রথম আলো ট্রাস্টের বৃত্তি শুধু খাতা–কলম বা পরীক্ষার ফি নয়, সারমিনের জীবনে
উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দেয়। এই সহায়তায় তিনি পার করেছেন উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়,
সঙ্গে এগিয়ে নিয়েছেন ছোট বোনকেও। পরিশ্রম ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। সীমাবদ্ধতার মধ্যেই
রাতজাগা পড়া, বই সংগ্রহ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি—সবই
করেছেন সারমিন। শেষ পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।
কুপির আলোয়
পড়ার জন্য যখন কেরোসিন তেল কিনতে পারতেন না, তখন প্রতিবেশীর বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের আলোয়
পড়েছেন বলে জানান সারমিন আক্তার। সেই প্রতিবেশী আত্মীয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি
আরও বলেন, বালিয়াডাঙ্গা ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়াত সহকারী শিক্ষক মোখলেসুর
রহমান, বালিয়াডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক, নাম
প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষানুরাগী, প্রথম আলো ও প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি তিনি
কৃতজ্ঞ।
সারমিন আক্তার
বলেন, ‘আমার অর্জন শুধু আমার নয়, আমার মা–বাবারও। তাঁদের ত্যাগ না থাকলে কিছুই
সম্ভব হতো না। আর প্রথম আলো ট্রাস্ট আমাকে যে সহায়তা দিয়েছে, সেটা ছিল এগিয়ে যাওয়ার
সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া খাদিজা আকতার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন,
‘এমন মা–বাবার জন্য আমরা গর্ব করি। আর বড় বোনের ছত্রচ্ছায়ায় আমি লেখাপড়া
এগিয়ে নিতে পেরেছি।’
মন্তব্য করুন


সড়ক,
রেলপথ, নৌপরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঢাকা বরিশাল
মহাসড়ক, দুই লেনের রাস্তা। ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত যে রাস্তা এটায় চলাচল করা গেলেও
আরও প্রশস্ত করা দরকার। এটা সরকার উপলব্ধি করে, আমরাও উপলব্ধি করছি। আর এবার এসে সরাসরি
দেখে গেলাম।
দ্রুত
কীভাবে কাজটা শুরু করা যায় সেই পরিকল্পনা সরকারের আছে, দ্রুত আপনারা সুখবর পাবেন।
বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, এ সরকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষ করে
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া একটি জাতি সমৃদ্ধ হতে পারে না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত
হয়।
মঙ্গলবার
(১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গোমা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রীর
ভাষ্য, সব গণমাধ্যম রিপোর্ট করছে, কোনো অভিযোগ নেই, ভাড়া বাড়ছে না। স্বস্তিতে মানুষ
যাচ্ছে, খুব বেশি যানজট বা অব্যবস্থাপনা সড়কে নেই। মনে রাখতে হবে, মাত্র ২/৩ দিনের
মধ্যে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়ছে। তাদের যাত্রাটা স্বস্তিদায়ক করা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু
আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি, তাতে আমরা নিশ্চিত যে যাত্রীরা
স্বস্তিতে, স্বাচ্ছন্দ্যে আরামদায়ক যাত্রার মাধ্যমে স্বজনদের কাছে যাবে।
শেখ
রবিউল আলম আরও বলেন, গোমা সেতু এই এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ২৮৩ মিটারের
মতো দূরত্ব সেতুটির। আমার বিশ্বাস এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য এ সেতু একটি
যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসময়
সড়ক ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি,
বরিশাল-৬ আসনের সাংসদ আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা
উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত,
রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯ বছর পর। সেতুটির
দৈর্ঘ্য ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার ও প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। মঙ্গলবার উদ্বোধনের পর সেতুটি
যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সেতুটি চালু হওয়ায় বরিশালের বাকেরগঞ্জের সঙ্গে
পটুয়াখালীর দুমকির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। দুই জেলার প্রত্যন্ত এলাকার
অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি লাঘব হয়েছে এ সেতুর মাধ্যমে। যাতায়াতের
সময়ও কমে আসবে প্রায় দুই ঘণ্টা।
২০১৭
সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে সেতুটি অনুমোদন পায়।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে
কাজ শেষ হয়নি। শুরুতেই উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। তাদের দাবি ছিল, নদীপথ
সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা আরও বাড়াতে হবে। প্রথম নকশায় সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের
সময় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬২ মিটার, পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা
হয়। এই পরিবর্তনের কারণে পুরো নকশাই সংশোধন করা হয়। নতুন নকশায় সেতুর মাঝে স্টিল
ট্রাস স্প্যান যুক্ত করতে হয়। নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদী শাসনের কাজ যুক্ত
হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর ব্যয় দাঁড়ায়
৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক ধারণার তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি।
মন্তব্য করুন


জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠান মালা-২০২৫ উদযাপনের অংশ হিসেবে সেনাসদরের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন, কুমিল্লা এরিয়ার ব্যবস্থাপনায় প্রায় দেড় হাজার অসহায় গরীব ও অসুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
সোমবার
(২৮ জুলাই) কুমিল্লা নগরীর শাকতলা এলাকার দ্যা
ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্সে এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লা সেনানিবাস হতে আগত মেডিসিন, সার্জারী, গাইনি, শিশু রোগ, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার ও প্যারামেডিক্স এর সমন্বয়ে বিশেষায়িত মেডিকেল দলের মাধ্যমে এই চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
পুরুষ,
স্ত্রী ও শিশুসহ আনুমানিক প্রায় দেড় হাজার
স্থানীয় জনসাধারণকে বিনামূলো চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী প্রদান করা
হয়েছে।
এছাড়াও একটি ফিল্ড অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হয়, যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইনর অপারেশন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এই মহতী কার্যক্রমের পরিকল্পনা করায় স্থানীয় জনসাধারণ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির বিষয়ে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


যশোরের অভয়নগরে ট্রাকের চাপায় এক কৃষক নিহত হয়েছেন।আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার যশোর-খুলনা মহাসড়কের চেঙ্গুটিয়া আলীপুর ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষক আবুল কালাম (৫৫) উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে কৃষক আবুল কালাম বাইসাইকেলে করে সবজি নিয়ে নওয়াপাড়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। আলীপুর ব্রিজের কাছে পৌঁছালে খুলনাগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কের ওপরে পড়ে গেলে ট্রাকটি চাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার (ওসি) “ ফজলুর রহমান” জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা–১৭ সংসদীয় আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র
সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিএনপি
চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সকাল ১১টার দিকে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর
আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ জানান, তারেক রহমান বগুড়া–৬
আসনের পাশাপাশি ঢাকা–১৭ আসন থেকেও নির্বাচনে অংশ নেবেন।
একই সময়ে ঢাকা–১৭ আসন ছেড়ে ভোলা–১ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।
বিএনপি
সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর ঢাকা–১৭ আসনের ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন
তারেক রহমান। পরবর্তীতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে এই আসন থেকে নির্বাচন করার অনুরোধ
জানান। এ সিদ্ধান্তের কথা জানার পর তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে ঢাকা–১৭
আসন ছেড়ে ভোলা–১ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আন্দালিব রহমান
পার্থ।
উল্লেখ্য,
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা–১ আসন থেকে বিএনপির সমর্থনে সংসদ সদস্য
নির্বাচিত হয়েছিলেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তার বাবা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নাজিউর রহমান
মঞ্জুও এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
এদিকে
এর আগে বগুড়া–৬ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা
হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন—বগুড়া–৭,
ফেনী–১ ও দিনাজপুর–৩—থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে দলীয়
সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা নগরীর পাথুরিয়া এলাকায় বেকারি পণ্য ও শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওজনে কম দেওয়া, শিশু খাদ্যে নিষিদ্ধ রং ব্যবহার, পোড়াতেল দিয়ে শিশু খাদ্য ভাজা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে ‘আরব বেকারি’কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, পার্টি কেক বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি দুই পাউন্ডে প্রায় ৭০ গ্রাম করে কম দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিশু খাদ্য তৈরিতে নিষিদ্ধ রং ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণসহ স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। এ সময় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নমুনা সংগ্রহকারী মো. সাকিব উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া জানান, জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন