

শীত এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েসের আয়োজন শুরু হয়। খেজুরের রস আর গুড়—এই দুটিই যেন শীতের অমৃত। শীতের শুরুতেই বাজারে নতুন গুড় উঠতে থাকে, যার মিষ্টি ঘ্রাণ সবাইকে মুগ্ধ করে।
শুধু স্বাদ নয়, গুড় চিনির তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই বিশেষজ্ঞরাও চিনির বদলে গুড় ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে বাজারে ভেজাল গুড়ের চল বেড়েছে। তাই গুড় কেনার সময় কিছু বিষয় জানা জরুরি।
গুড় কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
গুড় ভেঙে একটু চেখে দেখুন। নোনতা স্বাদ হলে ভেজাল থাকতে পারে।
দুই আঙুল দিয়ে চাপ দিন—নরম হলে ভালো, খুব শক্ত হলে এড়িয়ে চলুন।
কেমিক্যালবিহীন গুড়ের রং হয় গাঢ় বাদামি বা কালচে। সাদা, হলুদ বা লালচে হলে বুঝবেন কৃত্রিম রং মেশানো।
অতিরিক্ত চকচকে গুড় সাধারণত চিনি বা কেমিক্যাল মেশানো।
ঘরে বসে গুড় পরীক্ষার সহজ উপায়
এক গ্লাস পানিতে গুড় দিন:
সম্পূর্ণ মিশে গেলে → আসল গুড়
নিচে তলানি পড়লে → ভেজাল
(ল্যাব পরীক্ষায়) গুড়ে কনসেনট্রেটেড হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দিলে রং গোলাপি হলে বুঝতে হবে এতে রাসায়নিক আছে।
গুড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা
গুড়ে আছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস।
রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়—অ্যানিমিয়ার রোগীদের জন্য উপকারী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জি কমায়।
হজম শক্তি বাড়ায়, শরীরের দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে।
গুড়ের পানি সর্দি-কাশি, হাত-পা ঠান্ডা হওয়া সমস্যায় উপকারী।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বক সতেজ রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
গুড়ের পানি কেন খাবেন?
হালকা গরম পানিতে গুড় মিশিয়ে পান করলে—
হজম ভালো হয়
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
শরীর ও ত্বক দুটোই উপকৃত হয়
মন্তব্য করুন


ঝিনাইদহে
পেট্রোল পাম্পে তেল কিনতে এসে কথা কাটাকাটির জের ধরে পিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় মেসার্স তাজ ফিলিং স্টেশনে
এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ
জানিয়েছে, শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে তেল নিতে আসেন আল মিরাজ নিরব (২৩) নামে এক
যুবক। সে সময় পাম্পের কর্মচারীরা তেল দিতে
অপারগতা প্রকাশ করে। পরে নিরব পাশের পাম্পে চলে যান। ফেরার পথে হারুন মিয়ার তাজ ফিলিং
স্টেশনে অন্য এক ব্যক্তিকে বোতলে তেল দেওয়া দেখে প্রতিবাদ করলে পাম্পের কর্মচারীদের
সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পাম্পের কর্মচারীরা লাঠি দিয়ে নিরবকে পিটিয়ে গুরুতর
জখম করে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত
ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পাম্পের তিন কর্মচারীকে আটক করেছে ঝিনাইদহ র্যাব-৬।
নিহত
নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর বিশ্বাসের ছেলে।
তিনি ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পাশে ফাস্টফুডের ব্যবসা করতেন। এ ছাড়া নিহত
নিরব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি ঝিনাইদহ সরকারি কেসি
কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়ন করতেন।
ঝিনাইদহ
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে
জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সুমন পাল বলেন, গুরুতর অবস্থায় নিরবকে ভর্তি করা হয়।
এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। উল্লেখ্য, তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক ঝিনাইদহের
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৃজনী বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক হারুন অর রশীদ ওরফে সৃজনী হারুন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে টিকিটবিহীন যাত্রা রোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক দিনে প্রায় দুই হাজার যাত্রীকে শনাক্ত করেছে। মোট ৭৬টি ট্রেনে পরিচালিত এই অভিযান থেকে ভাড়া ও জরিমানা মিলিয়ে ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৭৫ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রেলওয়ের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ নভেম্বর পরিচালিত এই অভিযানে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে মোট ১০১ জন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) অংশ নেন। তারা সারাদিন ধরে ট্রেনভিত্তিক টিকিট যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং টিকিট ছাড়া ভ্রমণকারী যাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে টিকিটবিহীন মোট ১,৯৭১টি যাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৫ টাকা এবং অতিরিক্ত জরিমানা হিসেবে আরও ১ লাখ ২৭ হাজার ২৩০ টাকা আদায় করে রেল কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে রেলওয়ের এক দিনের আয় দাঁড়ায় ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৭৫ টাকা।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীসেবা উন্নত করা এবং অনিয়ম কমানোর অংশ হিসেবে নিয়মিতই ট্রেনে টিকিট–পরিদর্শন জোরদার করা হচ্ছে। টিকিট ছাড়া ভ্রমণ প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই না থাকাতে ভেঙে গেছে সংস্থার চেইন অব কমান্ড। তাই পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমানকে ফোকালপারসন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর রমনার ইস্কাটন গার্ডেনে পুলিশ অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি (চাকরিচ্যুত) খান সাঈদ হাসান।
নির্যাতিত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে এই ঘোষণা করে তিনি বলেন, পুলিশে কমান্ড দেওয়ার মতো এই মুহূর্তে কেউ নেই। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাকে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বর্তমান
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই শহীদ হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি
আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর ) বিকেলে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে
এ কথা জানান।
এ
সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, হাদি হত্যা মামলা চলাকালীন এ যাবত ১১ জনকে গ্রেফতার
করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো— ঘটনার মূল হোতা ফয়সাল করিম মাসুদের
বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ
শিপু, গার্লফ্রেন্ড মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল,
সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম রাজু ও মো. আব্দুল হান্নান।
তিনি
আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৬ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে
এবং ৪ জন সাক্ষীও ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছে।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জব্দকৃত উল্লেখযোগ্য আলামতসমূহ হলো— হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুইটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড
গুলি, ম্যাগাজিন ও ছোরা, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট, ঘটনাস্থল
থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত গুলির খোসা, বুলেট, ভিডিওচিত্র সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য
আলামত এবং প্রায় ৫৩টি একাউন্টের মোট ২১৮ কোটি
টাকার স্বাক্ষরিত চেক।
তিনি
আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত রয়েছে— তা উদঘাটনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর সদস্যদের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মো.
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি
ও উদ্ধারকৃত আলামত পর্যালোচনা ও সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী
১০ দিনের মধ্যে (৭ জানুয়ারি ২০২৬) এ মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা
প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এর আগে গত (০১ ডিসেম্বর ) সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ধানবান্ধি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
সংঘর্ষে ব্যবহৃত পিস্তলসহ ২ রাউন্ড গুলিও পরে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তুষার মন্ডল ঈশ্বরদী উপজেলার ভেলুপাড়ার আবু তাহেরের ছেলে।
পাবনা–৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা তুষারের ছবিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেন, তুষার জামায়াতকর্মী।
তবে জামায়াত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ নভেম্বর ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ি মোড়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় তুষার মন্ডল প্রকাশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। সংঘর্ষের পর বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি ২ টি মামলা হয়।
ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে ধানবান্ধি এলাকা থেকে তুষারকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বরদীর ভেলুপাড়ায় বালুর নিচে পুঁতে রাখা পিস্তল ও ০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে তুষার পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর সংঘর্ষে প্রদর্শিত আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ ও চকবাজার এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এর নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা ট্রাফিক বিভাগের অ্যাডমিন সরওয়ার মোহাম্মদ পারভেজ।
অভিযান চলাকালে রাজগঞ্জ ও চকবাজার এলাকার ফুটপাত দখল করে বসানো অবৈধ হকার ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি রাস্তার পাশে দোকানদারদের ফেলে রাখা মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।
ট্রাফিক বিভাগের অ্যাডমিন সরওয়ার মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ও যানজট সৃষ্টি করে এমন অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন কার্যকর অভিযানে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তারা আশা করছেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে নগরীর যানজট ও ফুটপাত দখলের সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর, ফ্রি ও ফেয়ার।
নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। তবে কেউ সহিংসতা, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির
চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত
আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগের নির্বাচনগুলোতে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে,
এবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এবার যে পরিমাণ
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে, অতীতে কোনো নির্বাচনে তার নজির নেই।
ভোটকেন্দ্রে
সিসিটিভি, ড্রোন নজরদারির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি
ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা রাখা
হয়েছে।
যেসব
ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী বাউন্ডারি নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের ঘেরা দিয়ে নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, এবার বিশেষ ব্যবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভোট প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ
রাখা হয়েছে। আমাদের জ্যেষ্ঠ সচিব প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেছেন, যাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
ভোটারদের
নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টিকে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেজন্য প্রশাসন
ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বোরকা
পরিহিত ভোটারদের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে পরিষ্কার
নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নারী আনসার সদস্য থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে তারাই
বিষয়টি দেখভাল করবেন।
সভায়
সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি। এ সময় আরো উপস্থিত
ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকসহ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা
বাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের মাদারগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (০১ ডিসেম্বর) আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে পৌর শহরের জোনাইল বাজারের উত্তরপাশে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত জামায়াত নেতা পরাগ আহমেদ জোনাইল পূজাঘাঁটি এলাকার বাসিন্দা ও পৌরসভার ০৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। ফায়ার সার্ভিস ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্র জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত৷ এতে সেমিপাকা ঘরসহ আসবাবপত্র মিলে ১৬-১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ওই জামায়াতের নেতা।
তিনি বলেন, আমি একটি বেসরকারি হাইস্কুলে চাকরি করি৷ দুপুর ২টার দিকে আমার কাছে স্ত্রী ফোন দিয়ে জানায় বাড়িতে আগুন লেগেছে। আমি আসতেই দেখি আমার বাসার ০২ রুমে থাকা সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে৷ আমার স্ত্রী আমার ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে প্রাণ নিয়ে রুমে থেকে বের হতে পেরেছেন। স্ত্রীর কাছে শুনলাম বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত৷ প্রতিবেশী ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি আগুন লাগার খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে জানানো হয়। খবর পাওয়ার ৮ মিনিট পরেই তারা ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে৷ পরিবারটি খুবই অসহায়। সরকার তাদের সহযোগিতার হাত বাড়ালে পরিবারটির উপকার হতো। অগ্নিকাণ্ডের খবরে ছুটে আসেন পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আতিকুর রহমান সেলিম। তিনি দল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ওই নেতার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে আগুন লাগার খবর পাই৷ আমাদের স্টেশন থেকে ঘটনাস্থল অতি কাছে হওয়ায় ৫ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সেখানে পৌঁছায়৷ পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু ততক্ষণে বাসা ও ২ রুমের ভেতরে থাকা সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও হজের কোটা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে হজ নিবন্ধন। সরাসরি হজযাত্রী পাঠাতে এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা ৫০০ নির্ধারণ ছিল। হজ এজেন্সিগুলো হজের কোটা পূরণ করতে না পাড়ায় শঙ্কা দেখা দেয় হজযাত্রী পাঠানো নিয়ে।
আর এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার সৌদি সরকারের নিকট অনুরোধ করে সরাসরি হজযাত্রী পাঠাতে কোটা কমানোর জন্য। সৌদি সরকার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা অর্ধেক করে ।
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এবং এজেন্সিগুলোকে এটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর ২৫০ জন হজযাত্রী থাকলেই সরাসরি হজে পাঠাতে পারবে হজ এজেন্সিগুলো।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কোটা কমানোর চিঠিতে জানিয়েছে, সৌদি সরকার ২০২৪ সালের হজের জন্য বাংলাদেশসহ সব দেশের হজ এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা প্রথমে দুই হাজার জন এবং পরবর্তী সময়ে ৫০০ জন নির্ধারণ করে পত্র প্রেরণ করে। সর্বনিম্ন কোটা ৫০০ জনের পরিবর্তে পূর্বের ন্যায় বাংলাদেশের সব এজেন্সিকে হজযাত্রী প্রেরণের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সৌদি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার আবদুল ফাত্তাহ সুলেমান মাশাত এবং হজ অ্যাফেয়ার্স অফিসের মহাপরিচালক ড. বদর আলসোলামির সঙ্গে টেলিফোনে কোটার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান।
অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ জানুয়ারি ভাইস মিনিস্টারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের হজ এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা ৫০০ জনের পরিবর্তে ২৫০ জন নির্ধারণের কথা ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়।
এর আগে গত ২৯ নভেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হজ এজেন্সিগুলোকে জানানো হয়, সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৫/২০২৪ সনের হজ মৌসুমে অনুমোদিত প্রতিটি হজ এজেন্সির সর্বনিম্ন ৫০০ জন হজযাত্রী থাকলে ওই এজেন্সি সৌদি আরবে সরাসরি হজযাত্রী পাঠাতে পারবে।
এ বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কোনো হজ এজেন্সি ২৫০ জন হজযাত্রী থাকলে সরাসরি সৌদি আরবে পাঠাতে পারবে। যেসব এজেন্সির হজযাত্রীর সংখ্যা ২৫০-এর কম সেসব এজেন্সিকে অন্য এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে লিড এজেন্সি নির্ধারণ করে হজযাত্রী পাঠাতে হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৬ জুন (১৪৪৫ হিজরি সনের ৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরও (২০২৪ সাল) বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এরমধ্যে সরকারি মাধ্যমের কোটা ১০ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি এজেন্সির কোটায় এক লাখ ১৭ হাজার জন হজ পালন করতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।এবার হজে যেতে সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয় গত ১৫ নভেম্বর। গত ১০ ডিসেম্বর নিবন্ধন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধনে সাড়া না পাওয়ায় তিন দফা সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ বাড়ানো নিবন্ধনের আট দিন সময় ১ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.
শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
শনিবার ( ১৪ ফেব্রুয়ারি ) এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের উদ্দেশে বলেন,
‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক
অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তী সময় নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে
গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি
বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার
রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের
আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।’
তিনি
বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ
ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি,
প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের
প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে
আরো শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই
দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।’
তিনি
বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক
ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন
করবে।
নীতিগত
বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই
আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতের দিনগুলোতে
তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমি মহান আল্লাহ
তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।
মন্তব্য করুন