

ভারতের
বিহারের সীতামার্চি জেলায় এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের
মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার(১৬ জানুয়ারি) সকালে
পাপরি থানার জাঝিহাট গ্রামে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাক সপ্তম শ্রেণির
ছাত্র রিতেশ কুমার গোলুকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কাটি এতটাই প্রবল ছিল যে ঘটনাস্থলেই
শিশুটির মৃত্যু হয়। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার চেয়েও বড় অমানবিক দৃশ্য দেখা যায় দুর্ঘটনার
পরবর্তী কয়েক মিনিটে যা স্থানীয়দের বিবেক নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। খবর এনডিটিভির।
দুর্ঘটনার
কবলে পড়ে ট্রাকটি উল্টে গেলে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে
নিহত গোলুর নিথর দেহ পড়ে ছিল এবং তার স্বজনদের আর্তনাদে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল।
কিন্তু সেই শোকাতুর পরিবেশকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় উৎসুক জনতা মৃত শিশুর পাশে থাকা
মাছ লুটে মেতে ওঠে। তারা অ্যাম্বুলেন্স ডাকা বা শোকগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য করার পরিবর্তে
বস্তায় ভরে মাছ নিয়ে চম্পট দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
পুলিশ
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ট্রাকটি জব্দ করে। লুটপাটকারীদের সরিয়ে
দিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রকাশ্য
দিবালোকে একটি প্রাণের চেয়ে কয়েক কেজি মাছের গুরুত্ব বড় হয়ে ওঠার এই ঘটনা পুরো এলাকায়
তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অমানবিকতার এই নজির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক
নিন্দার ঝড় তুলেছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সকল নাগরিককে কয়েকজন
বিচ্ছিন্ন উগ্র গোষ্ঠীর দ্বারা সংঘটিত নব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় সতর্ক থাকার
আহ্বান জানিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ
ও জানমাল ধ্বংসের সকল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা দৃঢ় ও দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা প্রকাশ
করে।
আজ শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া
বিবৃতিতে জানানো হয়, ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের
মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। যারা বিশৃঙ্খলাকে পুঁজি হিসেবে নেয় এবং শান্তির পথ উপেক্ষা
করে—এমন অল্প কয়েকজনের কারণে এই অগ্রযাত্রা কোনভাবেই ব্যাহত হতে দিতে পারি না এবং দেওয়া
হবে না। আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক অনুশীলন নয়; এগুলো একটি গুরুতর জাতীয়
অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে সেই স্বপ্নের সঙ্গে, যার জন্য শহীদ
শরিফ ওসমান হাদি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। হাদির আত্মত্যাগ ও স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে
হলে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণা প্রত্যাখ্যানের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার প্রয়োজন বলে
সরকার উল্লেখ করেছে।
সংবাদমাধ্যমের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী
বিবৃতিতে জানানো হয়, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও নিউ এজ-এর সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকার। সাংবাদিকরা যে সন্ত্রাস ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তার জন্য গভীর
দুঃখও প্রকাশ করা হয়েছে। সন্ত্রাসের মুখেও
সাংবাদিকদের সাহস ও সহনশীলতা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সাংবাদিকদের
ওপর হামলা মানেই সত্যের ওপর হামলা এবং এ ঘটনায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া
হয়েছে।
এছাড়াও, ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার
ঘটনায় গভীর নিন্দা জানিয়ে সরকার বলেছে, নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার স্থান নেই।
এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে সংকটময় এই মুহূর্তে প্রত্যেক নাগরিকের
প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরকার বলেছে, সহিংসতা, উসকানি ও ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধের
মাধ্যমে শহীদ হাদির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
মন্তব্য করুন


বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত সাত কলেজের
ছাত্রদের ভেতরে বহিরাগত প্রবেশ করছে এমন অভিযোগ আসছে। তাই কোনো ধরনের উসকানির ফাঁদে
না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ বুধবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফরেন
সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের
বৈঠকে হওয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাতে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, যখন সাত
কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করল, তখন তাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা
এবং আমি সেই আলোচনায় ছিলাম। সেখানে যথেষ্ট ভাল আলোচনা হয়েছে এবং তারা সন্তুষ্ট ছিল।
সেখানেই বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেখানে সমাধানের পথটা দেখানো হয়েছিল। এ দ্রুত শিক্ষার
ব্যাপারে এমন দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সেই জায়গা থেকে তাদের সঙ্গে একটা কনসালটেশন
হয়েছিল।
তিতুমীর কলেজের আন্দোলন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
আসিফ মাহমুদ বলেন, তিতুমীর কলেজে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলছেন অনুপ্রবেশকারীরা,
আমরা দেখেছি কীভাবে ট্রেনের ভেতরে পাথর ছুড়ে একটা বাচ্চার পর্যন্ত মাথা ফেটে গেছে।
এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। আজও ঢাকা কলেজ-সিটি কলেজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এখনও স্পষ্ট
না কি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ অঞ্চলটাতে প্রায়ই এমন ঘটনা দেখে থাকি।
এক্ষেত্রে ছাত্রদের প্রতি আহ্বান থাকবে কোনো ধরনের উসকানির ফাঁদে না পড়ার, যেন আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি বজায় থাকে। আহ্বান জানাচ্ছি, ছাত্ররা যেন নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করে।
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে দিয়েছে ছাত্ররা। তাই তাদের মধ্যে
অনেক আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবির প্রতি আমরা সহনশীল। তবে সেই দাবি দাওয়া নিয়ে আমাদের
সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানাই। চাইলে সমাধান করতে পারি। সরকার এ ব্যাপারে খুব পজিটিভ।
আসুক কথা বলব। সরকার কথা শুনছে চাইলে সমাধান করা যায়। যারা আন্দোলন করছেন তাদের কাছে
দাবি থাকবে আপনারা আসুন, আলোচনা করি। কোনো উসকানিতে পা দেবেন না। সরকার আপনাদের শুনতে
ইচ্ছুক। যেহেতু ছাত্ররা গণঅভ্যুত্থান সফল করেছে আমি মনে করি ছাত্ররা দায়িত্বশীলতার
পরিচয় দেবেন।
এ প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
বলেন, রাতারাতি এক কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ফেলার জন্য রাস্তা বন্ধ করে জনমানুষের
ভোগান্তি তৈরি করবেন, এটা কতটুকু সমীচীন, সেটা একটু বিবেচনা করে দেখতে ছাত্রদের প্রতি
আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড় ডুমরাশুর এলাকায় সাভানা ইকোপার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্রদল নেতা মিকাইল হোসেন হামলার শিকার হন। রাতেই তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মিকাইলের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেলে তিনি সাতপাড় এলাকায় বিএনপির প্রার্থী কে এম বাবরের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে কয়েকজনসহ সাভানা পার্কে ঘুরতে যান। পার্কের ভেতরে মোটরসাইকেল নেওয়া নিয়ে এক স্টাফের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পার্কের ম্যানেজার ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা করেন।
তার দাবি, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পার্ক থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে এবং লাঠি ও ঘুষি–থাপ্পড় মেরে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আফজাল হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে—পার্কের এক স্টাফের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির সময় মিকাইলের সঙ্গে থাকা একজন যুবক ওই স্টাফকে থাপ্পড় মারেন। এরপর মিকাইল পার্ক ছাড়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন ও পার্কের স্টাফরা তার ওপর হামলা চালায়। তবে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
মন্তব্য করুন


চব্বিশের
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে দেশ গঠনের যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাকে ঐক্যবদ্ধভাবে
কাজে লাগানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেমিক সকল শক্তিকে এখন এক হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে
এই বিজয়ের জন্য দেওয়া আত্মত্যাগ বৃথা না যায় এবং একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র
প্রতিষ্ঠা করা যায়।’
আজ
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান
জানান। অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং তার প্রয়াত স্ত্রীর গ্রন্থ প্রকাশনা উপলক্ষ্যে
এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা
সভায় বিএনপি মহাসচিব অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহকে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে
‘এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব ও দূরদর্শী চিন্তাবিদ’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন
করেন। তিনি বলেন, ‘ড. মাহবুব উল্লাহ শুধু একজন শিক্ষাবিদ নন, তিনি ছিলেন নাগরিক অধিকার,
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতির জন্য সংগ্রাম করা এক আপসহীন যোদ্ধা।’
অধ্যাপক
ড. মাহবুব উল্লাহ এবং তার প্রয়াত স্ত্রীর গ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্যরা
মির্জা
ফখরুল বিশেষত দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ল্যান্ডস্কেপে ড. মাহবুব উল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ
অবদানের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’
রূপরেখা প্রণয়নের পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের চিন্তাভাবনা এবং তাত্ত্বিক
অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রকাশিত গ্রন্থাবলীতেও জাতির জন্য তার আদর্শ
ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।’অনুষ্ঠানে বক্তৃতার শেষ দিকে মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীর অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে
তার ছোট মেয়ের জন্মদিনেও শুভকামনা জানান। এ ছাড়াও, আজ উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত
বেগম রোকেয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল
কবির খানসহ দেশের বহু বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত
ছিলেন।
মন্তব্য করুন


চাঞ্চল্যকর
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের নয়ডায়। সেখানে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে গাড়ির
ভেতরে এক যুবক তার প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ
উঠেছে। পরে গাড়ি থেকে দু’জনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও কার্তুজও জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা
বলে মনে করা হলেও, তরুণের পরিবার দাবি করেছে- দু’জনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
প্রাথমিকভাবে
প্রেমিকের হাতে পিস্তল ও একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার সূত্রে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিললেও
পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডার
সেক্টর ৩৯ থানা এলাকায়। এলাকাবাসী গুলির শব্দ শুনে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে
পৌঁছে একটি গাড়ির মধ্যে এক পুরুষ ও এক নারীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। গাড়িটি ভেতর
থেকে লক করা ছিল এবং পরে গাড়িটি জব্দ করে এলাকা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিলগালা করা
হয়।
এদিকে
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন- নয়ডার সেক্টর ৫৮–এর
বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী রেখা এবং দিল্লির ত্রিলোকপুরীর বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সুমিত।
পুলিশ জানিয়েছে, আগের দিন থেকে তারা দু’জনই নিখোঁজ ছিলেন এবং এ নিয়ে থানায়
জিডি করা হয়েছিল। তাদের প্রায় ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল এবং বিষয়টি দুই পরিবারই জানত।
কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, গাড়িটি ভেতর থেকে লক করা ছিল এবং সুমিতের হাতে একটি পিস্তল পাওয়া যায়।
ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো
হয়েছে।
সূত্রের
বরাতে জানা গেছে, সুমিত হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা লিখে রেখে গেছেন। ওই বার্তায় তিনি
তাদের ১৫ বছরের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আত্মহত্যার কারণ ব্যাখ্যা করেন। বার্তায়
লেখা ছিল: “আমি সুমিত, আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। রেখা এ জন্য দায়ী। সে ১৫ বছর ধরে আমার
সঙ্গে সম্পর্কে ছিল এবং আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন সে অন্য কাউকে বিয়ে
করতে যাচ্ছে। তাই আমি আত্মহত্যা করছি, কারণ রেখা আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
তবে
সুমিতের পরিবার পুলিশের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা
নয়- বরং দু’জনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরিবার অভিযোগ করেছে,
জাতিগত কারণে মেয়ের পরিবার সম্পর্কটি নিয়ে কটূক্তি করত। এমনকি তাদের কাছে হুমকিমূলক
ফোনও এসেছে, যার মধ্যে বিদেশি নম্বর থেকেও কল ছিল।
এক
আত্মীয় বলেন, গাড়িটি রেখার গ্রাম সালারপুর থেকে কয়েকশ’
মিটার দূরে পাওয়া গেছে, আর এটিই তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাদের দাবি, জাতিগত
কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে এবং তাদের পক্ষ থেকে সম্পর্ক নিয়ে কখনোই কোনও চাপ ছিল না।
সুমিতের
এক চাচাতো ভাই বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দু’জনকেই হত্যা করা হয়েছে এবং তারা জাতিগত
বৈষম্যের শিকার। তারা এক দশকের বেশি সময় ধরে সম্পর্কে ছিল এবং দুই পরিবারই বিষয়টি
জানত। সুমিত আমার ছোট ভাই। মেয়েটি আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিত। আমাদের পক্ষ
থেকে কখনও কোনও চাপ ছিল না।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালের
২৫ জুন প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর দেশের বৃহত্তম সেতু ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতু উদ্বোধন
করেছিলেন। নিজস্ব অর্থায়নে ৩২ হাজার ৬০৫.৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পদ্মা সেতু নির্মাণে নেওয়া ঋণ পরিশোধের ৭ম ও ৮ম কিস্তি হিসেবে ৩১৪,৬৪,৮৬,৯৬৩ টাকার
বেশি গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি প্রধানমন্ত্রীর
কাছে পদ্মা সেতুর ঋণের সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি হিসেবে ৩১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৩ টাকার
চেক হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব
মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম. নাঈমুল ইসলাম খান, অর্থ বিভাগের
সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণভবনে উপস্থিত
ছিলেন।
অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু
কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়া
হয়।
২০২২ সালের ২৫ জুন সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু থেকে মোট ১৬৫৩,৭১,৬৫,৫৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
৫ এপ্রিল, সেতু বিভাগ প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি হিসাবে সেতু থেকে টোল আদায় হিসাবে অর্জিত
রাজস্ব থেকে ৩১৬,৯০,৯৭,০৫০ টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ শুরু করে।
সর্বশেষ কিস্তিসহ সেতু বিভাগ এই পর্যন্ত সরকারকে মোট
১২৬২,৬৬,০৬,৫৪৮ টাকা পরিশোধ করেছে।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আজ (১৪ মার্চ) সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
রাজধানীর তেজগাঁও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস দুইজন কক্সবাজার সফরে যাবেন। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করার পাশাপাশি আরো কিছু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
মন্তব্য করুন


সিরাজগঞ্জ, ১০ ডিসেম্বর, বুধবার: সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের সলঙ্গা থানাধীন এলাকায় দূরপাল্লার একটি বাসে ডাকাতি চেষ্টাকালে তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়। ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাহেবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ফাঁকা এলাকায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার ধলটেংগর গ্রামের ট্রাকচালক নাজমুল হোসেন (৩০), তার সহকারী সোলাইমান হোসেন (২৫) এবং ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের আমিনুর ইসলাম (২৪)। জরুরি কলে পুলিশের দ্রুত সাড়া হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মহাসড়কে নিয়মিত টহল চলাকালীন সময়ে জরুরি সেবা '৯৯৯'-এর মাধ্যমে ডাকাতির চেষ্টার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ দল পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা দ্রুত তাদের ট্রাকে করে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করে নিউ মায়ের আঁচল হোটেলের সামনে থেকে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং ট্রাকটি জব্দ করে। তবে, ট্রাকে থাকা তাদের সহযোগী আরও ৮ থেকে ১০ জন ডাকাত রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায় বলে জানান ওসি ইসমাইল হোসেন। বিচারকের বাসে ডাকাতির চেষ্টা ওসি ইসমাইল হোসেন আরও জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শাহ ফতেহ আলী নামক একটি বাসে এই ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই বাসের যাত্রী কুমিল্লা স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহাসিনুল হক পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র ডাকাতরা ট্রাক দিয়ে মহাসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে বাসে ডাকাতির চেষ্টা শুরু করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক ডাকাতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মণির এক ব্যতিক্রমধর্মী
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বড় বড়
রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পরিবর্তে ভোটারদের কাছে ‘বিয়ের উপহার’ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভোট
চাইছেন তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায়
গণসংযোগকালে এক সাক্ষাৎকারে আশা মণি বলেন, তরুণ ভোটারদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত বিয়ের
ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক তরুণ ভাই আমাকে বলছেন
আপা, আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তাদের উদ্দেশে আমার কথা, আমাকে একটা করে ভোট দিন,
আমি বিজয়ী হলে আপনাদের বিয়ের ব্যবস্থা সহজ করে দেব।
শুধু তরুণ ভোটার নয়, দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা-চাচিসহ
সব বয়সী ভোটারের কাছেই ‘বিয়ের উপহার’ হিসেবে একটি করে ভোট চেয়েছেন তিনি।
আশা মণির এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
হাস্যরসের জোয়ার বইছে। জয়দেব দেবনাথ নামে এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, কেউ দিতে চাচ্ছে
বেহেশত, কেউ ফ্যামিলি কার্ড, আর আশা মণি আপা দিতে চাচ্ছেন বউ অথবা স্বামী!
উল্লেখ্য, এর আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন
আশা মণি। তবে সে সময় তিনি অল্প কয়েকটি ভোট পেয়েছিলেন। ভোটের ফলাফল যাই হোক, স্থানীয়
সমাজকর্মী আম্বিয়া খাতুন মনে করেন, নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আশা মণি
একজন সাহসী পথযাত্রী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে
আশা মণিসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরো ঠাকুরগাঁও জেলায় তিনটি
সংসদীয় আসনের বিপরীতে নারী প্রার্থী রয়েছেন মাত্র দুজন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে
জাতীয় পার্টির নূরুন্নাহার বেগম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে
লড়ছেন আশা মণি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
ও পাকিস্তানের মধ্যে নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠকে পাকিস্তানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার
চেয়েছে ঢাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশ করাচি বন্দর ব্যবহার করতে পারবে বলে সম্মতি দিয়েছে পাকিস্তান।
সোমবার
(২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত
হয়।
বৈঠকে
কৃষি গবেষণা, হালাল ফুড, তথ্যপ্রযুক্তি ও নৌপরিবহণসহ কয়েকটি
বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
প্রায়
তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।
সভা
শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আজকে আমরা বাংলাদেশ পাকিস্তান নবম জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের একটা সভা করেছি। এইটা দুই যুগ পরে হয়েছে। এটা একটা রিমার্কেবল ব্যাপার। ২০০৫ সালের পরে এমন সভা আর হয়নি। অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং করেছি।
পাকিস্তানের
জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে
এ আলোচনার কারণে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়বে, এ কারণে দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। বাংলাদেশ থেকে পাট, ওষুধ নেওয়ার বিষয়ও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন