

বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শুভ বৈরাগী নামে এক শিক্ষার্থীর
ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আজ
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে তার বাড়ি গোপালগঞ্জের বৌলতলী থেকে ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা
হয়।
মৃত্যুর
আগে গত ১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে শুভ নিজের এবং
তার প্রেমিকার পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করে প্রেমের সম্পর্কের ঘটনা বর্ণনা দেন।
শুভ
তার প্রেমিকা ও প্রেমিকার পরিবারকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।
ফেসবুক
পোস্টে শুভ দাবি করেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে এক তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক
ছিল। প্রেমিকার জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে তিনি ওই তরুণীর বাড়িতে গেলে পরিবারের
কয়েকজন সদস্যের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। শুভর অভিযোগ, এ সময় তাকে
মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মিথ্যা ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করা হয়, যেখানে
তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে সেটার স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। পোস্টে শুভ আরও লেখেন, অর্থনৈতিক
দুর্বলতার কারণে তার সঙ্গে সম্পর্কটি মেনে নেওয়া হয়নি এবং এই অপমান ও সামাজিক হেয়প্রতিপন্ন
করার ঘটনাই তাকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। তিনি তার মৃত্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজন
ব্যক্তি ও ‘ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থা’-কে দায়ী করেন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার
বিষয়ে আইনি শাস্তির দাবি জানান।
বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মেষ রায় বলেন, ‘শুভর মৃত্যুতে আমরা
অত্যন্ত মর্মাহত। কিছুদিন আগেই তার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। হঠাৎ এ ধরনের
খবর পেয়ে আমাদের মন ভেঙে গিয়েছে।’
শুভ
বৈরাগীর সহপাঠীরা জানান, তিনি মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তার এমন মৃত্যুর খবরে
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুলকার
নাঈম বলেন, ‘শুভ আসলে আত্মহত্যা করেনি, ওকে একপ্রকার খুন করা হয়েছে! ওর খুনের সঙ্গে
জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


মদিনার
পবিত্র মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল নোমান
ইন্তেকাল করেছেন ।
সৌদি
আরবের দুই পবিত্র মসজিদভিত্তিক
ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ সামাজিক
মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে,আজ মঙ্গলবার ফজরের
পর মসজিদে নববীতে তার জানাজা আদায়
করা হয়। এরপর তাকে
মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন
করা হয় বলে জানা
গেছে।
শেখ
ফয়সাল নোমান দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে নববীর
মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার সুমধুর আজান ও ধর্মীয়
নিষ্ঠা বিশ্বের লাখো মুসলমানের হৃদয়ে
গভীর প্রভাব ফেলে।
শেখ
ফয়সাল নোমানের মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ এক নিবেদিতপ্রাণ খাদেমকে
হারাল।
ইনসাইড
দ্য হারামাইন জানিয়েছে, শেখ ফয়সাল নোমান
১৪২২ হিজরিতে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন নিযুক্ত হন। তিনি বংশ
পরম্পরায় মসজিদে নববীতে আজান দেওয়ার সৌভাগ্য
অর্জন করেছিলেন।
শেখ
ফয়সাল নোমান ১৪২২ থেকে ১৪৪৭
হিজরি পর্যন্ত ২৫ বছর ধরে
মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও আতশবাজিসহ একটি মিনি পিকআপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার যশপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিয়মিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাত ও রোববার সকালে দুটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এক পর্যায়ে যশপুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের প্রায় ২৫০ গজ ভেতরে মুড়াপাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মিনি পিকআপ জব্দ করে। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া একই সীমান্ত এলাকার পাহাড়পুর নামক স্থানে সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ ভেতরে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে বড় ধরনের ভারতীয় আতশবাজির চালান জব্দ করা হয়।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত মিনি পিকআপসহ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও আতশবাজির আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানায়, জব্দকৃত মালামাল প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবির অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বুধবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সাজজাদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চাকরিতে প্রবেশের বয়সীমা ৩৫ এবং অবসরের বয়সবৃদ্ধির দাবি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আবেদন করেন।
আর তখন করা সেই আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধির সম্পৃক্ততা থাকায় সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপর দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
সোমবার (১০ নভেম্বর) কুমিল্লা বার্ডের একটি অডিটোরিয়ামে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরুপণ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা এসব কথা বলেন কমিশনার।এসময় নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘নির্বাচনের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন জিহাদ ঘোষণা করেছে। দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই,আসন্ন নির্বাচনে কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা একটি ভালো নির্বাচন। অতীতে আমরা বহুবার কলঙ্কিত হয়েছি, এবার সেই কলঙ্ক মুছে দিতে হবে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আর মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিন বাকি। এরপরও কারো মনে যদি সন্দেহ থাকে নির্বাচন হবে না, তাহলে সেটি ভুল ধারণা। নির্বাচন হবেই, এবং তা হবে অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ।”
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ আব্দুল হালিম খান, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়সার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, এবং উপপ্রধান (উপ-সচিব) ও প্রকল্প পরিচালক, সিবিটিইপি প্রকল্প, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মুহাম্মদ মোস্তফা হাসান।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা কুমিল্লার মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিটি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ভোটকেন্দ্রই হলো গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি, তাই সেখানে সঠিক দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা চলবে না।শেষে প্রধান অতিথি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, ‘জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন দেশ আপনার পাশে আছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ
বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
সভাপতিত্বে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সেল-এর সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায়
সেলের কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করতে বলেছেন।
তিনি
জানান, সভায় সারাদেশে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্ম-পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে
আলোচনা হয়েছে।
অতিরিক্ত
প্রেস সচিব আরও জানান, সরকারি নার্সারি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা
সংগ্রহ করা হবে। সারাদেশে খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর দুই পাড়, সড়ক-মহাসড়কের দুই পাশ, বনাঞ্চলে
যেখানে বৃক্ষ নেই সেসব স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা প্রভৃতি স্থানে এসব বৃক্ষরোপণ
করা হবে। প্রতি শিক্ষার্থী একটি করে বৃক্ষরোপণ করবে এবং সেই বৃক্ষ তারা পরিচর্চা করবে।
বৈঠকে
বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রি পরিষদ
সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সরকারের উর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আপনারা সবাই আমার মা’র
জন্য দোয়া করবেন।
তারেক
রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ এক পোস্টে বলেন, ‘আমার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম
খালেদা জিয়া, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্না
লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।’
তিনি
বলেন, ‘অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী; অনেকের কাছে গণতন্ত্রের মা,
বাংলাদেশের মা। আজ দেশ গভীরভাবে শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক
পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন।’
‘আমার কাছে খালেদা জিয়া একজন মমতাময়ী
মা, যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। আজীবন লড়েছেন স্বৈরাচার,
ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে; নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র
প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে।’
তারেক
রহমান বলেন, ‘ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও, তিনি ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের অভিভাবক;
এমন একজন আলোকবর্তিকা যাঁর অপরিসীম ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্রেরণা
জুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সর্বোচ্চ নিপীড়নের
শিকার হয়েছেন। তবুও যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তিনি অদম্য সাহস,
সহানুভূতি ও দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিলেন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে।’
তিনি
বলেন, ‘দেশের জন্য তিনি হারিয়েছেন স্বামী, হারিয়েছেন সন্তান। তাই এই দেশ, এই দেশের
মানুষই ছিল তাঁর পরিবার, তাঁর সত্তা, তাঁর অস্তিত্ব। তিনি রেখে গেছেন জনসেবা, ত্যাগ
ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয়
হয়ে থাকবে।’
তারেক
রহমান বলেন, ‘আপনারা সবাই আমার মা’র জন্য দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি দেশবাসীর
আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।’
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আসিফ মাহমুদ। বৃহস্পতিবার বিদায়ী ক্যাবিনেট বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন।পোস্টে তিনি লিখেছেন, গত ষোলো মাস তাকে নানাভাবে শেখার সুযোগ করে দিয়েছে। নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন তিনি। বাধা, হুমকি কিংবা চাপ—সবকিছু উপেক্ষা করে কাজে অবিচল থাকার কথাও উল্লেখ করেন।তিনি আরও জানান, আল্লাহর রহমত ও মানুষের সমর্থনে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনায় অটল থাকার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন উদ্যোগ, কাজ এবং সিদ্ধান্তে প্রশংসা যেমন এসেছে, সমালোচনাও ছিল। তবে মানুষের চোখে যে চূড়ান্ত ফলাফল দেখা যায়, তার পেছনের পরিশ্রম ছিল অনেক বেশি কঠিন—এ কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তার ভাষায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর নীতিতে স্থির থাকার কারণে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরূপতার মুখে পড়তে হয়েছে, ভবিষ্যতেও এর মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবুও মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা তাকে শক্তি জোগায়, আর সেই কারণেই এসব ভয় তাকে আর দমাতে পারে না।
মন্তব্য করুন


বেসামরিক বিমান পর্যটন ও ভূমি উপদেষ্টা
এ এফ হাসান আরিফের মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ রবিবার (২২ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের এক বিশেষ সভায় এই শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহিত হয়।
সভায় রিজওয়ানা হাসান জানান, আগামীকাল
সকাল সাড়ে দশটায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের
কবরের পাশে হাসান আরিফকে সমাহিত করা হবে।
সভার শুরুতে উপদেষ্টা হাসান আরিফের
মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ
অন্য উপদেষ্টারা হাসান আরিফের স্মৃতিচারণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, আজ ছোট ছোট অনেক কথাই মনে পড়ছে, তিনি সবসময় আমাকে মনে করিয়ে দিতেন- আমরা
কিন্তু সমবয়সী। শিশুর মতো সরল ব্যবহার ছিল তার। যতরকম সমস্যা দেখা দিয়েছে, যেখানে কোনো
কোন্দল দেখেছেন, তিনি হাজির হয়েছেন তার সমাধানে। এ এক অপূর্ব লোক, আমাদের মাঝ থেকে
চলে গেলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন
আহমেদ বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন একজন বিরল ব্যক্তিত্ব এবং সদা হাস্যময়।
অতীতের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে
পাট বস্ত্র ও নৌপরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে হাসান আরিফের
মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ বলেন, এখানে কাজ করতে এসে উনার সঙ্গে একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে
উঠেছিলো। উনি আমাদের জন্য ছিলেন এক ইতিবাচক প্রেরণা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা
আখতার বলেন, আজকে আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আমরা হাসান আরিফকে মিস করছি। উনাকে
ছাড়া আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান
খান আইনজীবী হিসেবে হাসান আরিফের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, উনি ছিলেন
মানবাধিকার রক্ষায় সব সময় সোচ্চার।
সভায় আদিলুর রহমান জানান, মানবাধিকার
সংগঠন অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন হাসান আরিফ।
আইন ও বিচার এবং প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন একজন কর্মনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী মানুষ। সবগুলো নথি তিনি
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন,
হাসান আরিফ কখনো কোনো কাজকে কম গুরুত্বের সঙ্গে নিতেন না।
স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন অমায়িক এক মানুষ, যেকোনো সমস্যা উনার সঙ্গে আলোচনা
করে সমাধান করা যেত।
জ্বালানি ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ
ফাওজুল কবির খান বলেন, আমাদের সমাজে বিভেদ অনেক বেশি। এই বিভেদ জোড়া লাগানোর মানুষ
আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। সর্ব মহলে উনার গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় হাসান আরিফের ভূমিকা স্মরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা
সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, উনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষদের নিয়ে অনেক ভাবতেন। তাঁর মৃত্যুতে
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের।
স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ
মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে এসে হাসান আরিফকে চিনেছি, উনাকে সব সময় শিক্ষকের
মতো পাশে পেয়েছি।
তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, উনার
সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একবারও আমাদের বয়সের পার্থক্য বুঝতে পারিনি। তিনি সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে
মিশতেন।
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন,
২০০৮ সালে অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন আয়োজনে আন্তরিকভাবে কাজ করতে দেখেছি উনাকে। এবারও
উনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী পরিষদ
সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, বেসামরিক বিমান সচিব নাসরীন জাহান, ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ
আহমেদ।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লায় এবার কাঁচাবাজার পরিদর্শন করলেন কৃষি, মৎস্য এবং খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নগরীর রাজগঞ্জ কাঁচাবাজার পরিদর্শন করে বাজারের দর-দামের খোঁজ নেন তিনি। এ সময় তিনি নিজেও কাঁচা শাক-সবজি ক্রয় করেন।
জানা গেছে, মন্ত্রী ইয়াছিন ছুটির দিনে কুমিল্লা নগরীর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দর-দামের খোঁজ নিতে নিজেই বাজারে চলে আসেন।
এর আগে এদিন সকালে তিনি রাজগঞ্জ মাছ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের খোঁজ নেন এবং নিজের বাসার জন্য দেশীয় মাছ কেনেন।
দুপুরে পরিদর্শনকালে তিনি তরকারির বাজার দরের খোঁজ নেন। এ সময় অতিরিক্ত মূল্য না নেওয়া ও সাধারণ ভোক্তারা যেন কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য বিক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান মন্ত্রী। এ সময় তিনি ক্রেতা-বিক্রেতাদেরকে দেশীয় এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি ক্রয়-বিক্রয়ের পরামর্শ দেন।
মন্তব্য করুন


পরিবারের
মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন সায়েদ আহমেদ বিল্লাল (৩০)।
তার চোখে ছিল স্বচ্ছল জীবনের আশা। বুক ভরা ছিল পরিবারকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু
সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
প্রবাস
জীবনের মাত্র চার বছরের মাথায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনযাত্রা। থেমে
গেছে পরিবারের আশার আলো।
নিহত
সায়েদ আহমেদ বিল্লাল ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বারবাড়িয়া ইউনিয়নের পাকাটি গ্রামের
বাসিন্দা পান ব্যবসায়ী মো: রুহুল আমিনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় চার বছর আগে তিনি
সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
পারিবারিক
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরে কর্মস্থল
থেকে ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন সায়েদ আহমেদ বিল্লাল। এসময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক
দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
সোমবার
(১২ জানুয়ারি) সকালে বিল্লালের সাথে থাকা প্রবাসীদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর
খবর জানতে পারেন। এদিকে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তার পরিবারসহ এলাকায় নেমে আসে শোকের
ছায়া।
নিহতের
স্বজনরা জানান, বিল্লাল ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা
ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যে বিল্লালের দেশে ফেরার কথা ছিল। তার
এই অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে
পরিবারের পক্ষ থেকে তার লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন