

রাজধানীর
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে
করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়েছে।
আজ
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১টায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ
হোসেন এ তথ্য জানান।
জাহিদ
হোসেন জানান, মেডিকেল বোর্ডে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে সিসিইউতে
নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন খালেদা জিয়া।
এ
সময় দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
এর
আগে গতকাল রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুলশানের বাসা ফিরোজা
থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয় খালেদা জিয়াকে। এরপর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে
তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া
হচ্ছে।
খালেদা
জিয়ার শারীরিক সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির
পর থেকে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা চলছে।
এদিকে
খালেদা জিয়া তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান জাহিদ।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহ।
বৃহস্পতিবার
(১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দফতরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে
সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট
প্রদানের অগ্রগতি, জনশক্তি রফতানি ও পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশের জাতীয়
নির্বাচনের প্রস্তুতি, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য 'বিশ্ব প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী'-তে বাংলাদেশের
অংশগ্রহণের আমন্ত্রণপত্র বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা
করা হয়।
রাষ্ট্রদূতকে
স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ। তিনি বলেন,
সৌদি আরব বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শুধু ইসলাম ধর্মের
পবিত্র ভূমি হিসেবে নয় বরং আমাদের ৩২ লক্ষেরও বেশি প্রবাসী কর্মীর দ্বিতীয় আবাসস্থল
হিসেবেও এটি বাংলাদেশিদের হৃদয়ের গভীরে আসীন রয়েছে। সৌদি প্রবাসীদের অবদান বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
উপদেষ্টা
এসময় বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক হারে জনশক্তি আমদানির জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে
বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত
উপদেষ্টাকে সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক)
বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। এর জবাবে উপদেষ্টা বলেন,
এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এবং বাংলাদেশের বহিরাগমন
ও পাসপোর্ট অধিদফতর এ বিষয়ে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে। এটি ত্বরান্বিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি বিশেষ টিমও পাঠানো হয়েছে। তবে মিশনে আসা আবেদনের তুলনায় পাসপোর্টের
এনরোলমেন্টে উপস্থিতির হার অনেক কম রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সৌদি আরবের
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন পরিচালনার
মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে
জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত
রয়েছি। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে
প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন
সংক্রান্ত একটি পরিপত্রও জারি করা হয়েছে। অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযান বেগবান
করা হয়েছে। 'ডেভিল হান্ট ফেইজ-২' সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চলছে।
রাষ্ট্রদূত
উপদেষ্টাকে আগামী ০৮-১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মেয়াদে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব
প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী-তে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান এবং এ সংক্রান্ত সৌদি স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের একটি আমন্ত্রণপত্র উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন। উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে তিনি
এ ইভেন্টে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং উপযুক্ত প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত
করেন।
বৈঠকে
আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফয়সল
আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মু. জসীম উদ্দিন খান।
মন্তব্য করুন


সদ্য
সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিজয়ী জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, ‘আমাদের পুরো হাতিয়া যে ঐক্য দেখিয়েছে
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- এটাই আমাদের জয়। আমি বলছি, সন্ত্রাস যা করার করে নিন, বেশি
দিন করতে পারবেন না। তারা মনে করেছে দল ক্ষমতায় এসেছে, তাই যা ইচ্ছা তা করতে পারবে।
তারা আমাদের চানন্দী ইউনিয়নের বাশার মাঝির কথা ভুলে গেছে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল,
বাশার মাঝি আওয়ামী লীগ করেও রক্ষা পায়নি। আজিম তাকে ছাড় দেননি। তাদের বলে দিতে চাই-
বাংলাদেশের সরকার তারেক রহমান হোক, হাতিয়ার সরকার আমরা।’
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে আয়োজিত এক বিজয়ী পথসভায় তিনি
এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
পথসভায়
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হাতিয়াবাসী সন্ত্রাসীদের
জবাব দিয়েছে। হাতিয়ার মানুষ এমন তাণ্ডবের বিপরীতে দাঁড়িয়ে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে
এই প্রথম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। মা–বোনেরা রাস্তা দিয়ে যেতে পারেনি, কিন্তু
জমি দিয়ে হেঁটে গিয়ে ভোট দিয়েছে। অনেক জায়গায় লাঠি দিয়ে তিনবার বাড়ি দিয়েছে, চতুর্থবার
আবার গিয়ে ভোট দিয়েছে। অনেক রিকশাওয়ালাকে পিটিয়েছে, সে আবার সেই রিকশা নিয়ে গিয়ে ভোট
দিয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, ‘আমাদের পুরো হাতিয়া যে ঐক্য দেখিয়েছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- এটাই আমাদের
জয়। আমি বলছি, সন্ত্রাস যা করার করে নিন, বেশি দিন করতে পারবেন না। তারা মনে করেছে
দল ক্ষমতায় এসেছে, তাই যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। তারা আমাদের চানন্দী ইউনিয়নের বাশার
মাঝির কথা ভুলে গেছে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, বাশার মাঝি আওয়ামী লীগ করেও রক্ষা
পায়নি। আজিম তাকে ছাড় দেননি। তাদের বলে দিতে চাই- বাংলাদেশের সরকার তারেক রহমান হোক,
হাতিয়ার সরকার আমরা।’
আমরা
কোনও সংঘাত চাই না উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমরা হানাহানি চাই না। আমরা শান্তি
চাই। চাঁদাবাজি–ধান্দাবাজি যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে
আমি আগে দাঁড়াবো- সে যে দলেরই হোক। চাঁদাবাজ–ধান্দাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ
ঘোষণা করা হলো। আমাদের শান্তি দরকার।’
তিনি
আরও বলেন, ‘এই হাতিয়ার মানুষ অনেক বেশি লাঞ্ছিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে- আর হাতিয়ার মানুষকে
নিপীড়িত, নির্যাতিত, লাঞ্ছিত হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা হাতিয়ার মানুষকে বাঁচাবোই, বাঁচাবোই,
বাঁচাবোই- ইনশাআল্লাহ।’
তিনি
বলেন, ‘আমরা ঘাট সিন্ডিকেট বন্ধ করেছি, ভবিষ্যতেও এই ঘাট সিন্ডিকেট বন্ধ থাকবে—
ইনশাআল্লাহ। আমি চেষ্টা করবো আগামী সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে সাড়ে ১১ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন
করতে। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন আমার দেয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে পারি।’
প্রসঙ্গত,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করেন। এনসিপি মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ ৯১ হাজার ৮৯৯
ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান
শামীম পান ৬৪ হাজার ২১ ভোট। বাকি ৮ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তরুণদের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার
আধুনিকায়নের আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব
ভূঁইয়া।
বুধবার (৯ অক্টোবর) ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের (২য় পর্যায়) উদ্বোধনের পর এ আহ্বান জানান
তিনি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে এ
আয়োজন করে যুব উন্নয়ন অধিদফতর। দুই দিনব্যাপী এই কোর্সের আওতায় প্রতি ব্যাচে ৩০০
জন করে সাতটি ব্যাচে মোট ২ হাজার ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
বলেন, ‘যানজট বাংলাদেশের একটি অন্যতম সমস্যা। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের পর
তিন দিন দেশে সরকার ছিল না। ঠিক সেই সময় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায়
নেমে আসে। যানজট নিরসনে ছাত্ররাই প্রথম ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। কোনও
প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও তরুণ ছাত্র-যুবরা দিন-রাত সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়
নিরলসভাবে কাজ করেন। দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা তারুণ্যের শক্তিকে
কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক সুন্দর দেশ গড়তে চাই। এ জন্য ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সবাইকে
সচেতন হতে হবে। ট্রাফিক আইন বিষয়ে সবার মাঝে সামাজিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে আধুনিকায়নে উত্তরণ ঘটাতে হবে।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.
রেজাউল মকছুদ জাহেদী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নজিরবিহীন
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল; যার সুফল আমরা পেয়েছি। উপদেষ্টার দিক-নির্দেশনা এবং সবার
সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন
অধিদফতরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে একে 'এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ' বলে
বর্ণনা করেছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
আজ
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপের
কথা তিনি তুলে ধরেন।
মাহদী
আমিন বলেন, আজ ১৭ মার্চ। ঠিক এক মাস আগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি
মুহূর্তে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু
প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।
প্রতিমন্ত্রী
পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্বে রয়েছেন।
স্ট্যাটাসে
মাহদী আমিন সরকারের ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, এসব পদক্ষেপ সামাজিক
সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের
প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে। মাহদী আমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা প্রধানমন্ত্রীর
২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ সমূহ হলো-
সামাজিক
সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা
১.
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি: ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে, প্রতিটি
কার্ডে মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা। মাত্র ২১ দিনে বাস্তবায়ন, সরকারের মানবিক অগ্রাধিকারের
উদাহরণ।
২.
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী: ৪,৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের
পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।
৩.
ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ: নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি
রুমাল বরাদ্দ। সকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার।
৪.
প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা:ু দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে
সহায়তার জন্য আলেম মাশায়েখদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা
চালুর উদ্যোগ।
কৃষি
ও গ্রামীণ অর্থনীতি
৫.
কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ: প্রায় ২৭,০০০ কৃষককে বহুলপ্রত্যাশিত কৃষক কার্ড প্রদানের
মাধ্যমে শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ
১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, নতুন উদ্যমে চাষাবাদে সহায়তা।
৬.
দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি: ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন, ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায়
শুরু। সেচ উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনিক
সংস্কার ও সুশাসন
৭.
সাপ্তাহিক অফিস ও অফিস সময়: প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন। কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার
মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
৮.
ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস: প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন
পরিবর্তন, জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত।
৯.
বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত: উপস্থিত থাকবেন একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ
সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
১০.
এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল: শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক
সিদ্ধান্ত, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।
অর্থনীতি
ও বাজার স্থিতিশীলতা
১১.
বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা: রমজান ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বৈশ্বিক জ্বালানি
অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি ক্রয়।
১২.
বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ: ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া।
১৩.
শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ: সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস
সময়মতো পরিশোধ। পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
১৪.
রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু:ু পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ
কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
১৫.
স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা,
হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা
ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইকোসিস্টেম তৈরী শুরু।
শিক্ষা
ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
১৬.
পুনর্ভর্তি ফি বাতিল ও লটারী বাতিল:ু প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারীর পরিবর্তে
আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ।
১৭.
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা: রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন
ব্যাংক গ্যারান্টি।
১৮.
ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ: ৯,০০০ শিক্ষক নিয়োগ, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার।
১৯.
ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি: শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত, নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কোরআন
তেলাওয়াত উদ্যোগ, উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ
শুরু।
স্বাস্থ্য
ও জনকল্যাণ
২০.
ই-হেলথ কার্ড ও চিকিৎসা কেন্দ্র: স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী
নিয়োগ শুরু যার ৮০ ভাগ হবেন নারী।
২১.
ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান: সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি
সমন্বয়ে কার্যক্রম।
আইনশৃঙ্খলা
ও নিরাপত্তা
২২.
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
২৩.
নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস: সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত পিংক বাস চালুর নির্দেশ, সাইবার
বুলিং প্রতিরোধ।
রাষ্ট্রীয়
শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ
২৪.
রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়: সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি, অপচয়
রোধে ইফতার সীমিত।
২৫.
অবৈধ দোকান উচ্ছেদ: কক্সবাজার সুগন্ধা সি বিচে ২০ বছর পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং
দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ।
২৬.
শহীদ সেনা দিবস: ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’
ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ।
২৭.
ঢাকা হয়রত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল: উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক
আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ।
২৮.
বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট: ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ
আমানত ও এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থার নির্দেশ
ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন।
স্ট্যাটাসের
শেষ দিকে মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের প্রথম ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের
দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তাঁর নেতৃত্ব
এভাবেই সাধারণ মানুষের আশা ও অনুভূতিকে ধারণ করছে, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন
করছে। অভূতপূর্ব এ পথযাত্রায় নতুন প্রজন্মও দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে,ইনশাআল্লাহ।
তাই তো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, 'সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আজ
শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে জামায়াত আমিরকে দেখতে আসেন প্রেস
সচিব। সাক্ষাতের পর গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।
প্রেস
সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখানে আসার
আগে আমি উনার (প্রধান উপদেষ্টার) হয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কয়েকবার কথাও বলেছি।
তিনি
বলেন, জামায়াত আমির সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।
প্রেস
সচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশের সব দলের রাজনৈতিক নেতারা সুস্থ থাকুন,
ভালো থাকুন। দেশ গড়ার কাজে সবাই অবদান রাখুন।
মন্তব্য করুন


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের নিজ উপজেলা বা থানা (একই উপজেলা/থানার ভেতর) অনলাইন বদলি শুরু হয়েছে যা চলবে আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
শুক্রবার (২৯ মার্চ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদন করবেন। ২ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক কর্তৃক যাচাই সম্পন্নকরণ এবং ৩ ও ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যাচাই সম্পন্নকরণ হবে।
৫-৭ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যাচাই ও অগ্রায়ন সম্পন্নকরণ, ৮-১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক সহকারী শিক্ষকের যাচাই ও অনুমোদন এবং প্রধান শিক্ষকের। যাচাই ও অগ্রায়ন সম্পন্নকরণ; ১৫-১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগীয় উপপরিচালক কর্তৃক যাচাই ও অনুমোদন সম্পন্ন করবেন।
এতে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ ৩টি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে পছন্দ করবেন। তবে কোনো শিক্ষকের একাধিক পছন্দ না থাকলে শুধুমাত্র ১ বা ২টি বিদ্যালয় পছন্দ করতে পারবেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বদলির আদেশ জারি হলে তা বাতিল করার জন্য পরবর্তীতে কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
যাচাইকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর জারিকৃত সর্বশেষ 'সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা (সংশোধিত) ২০২৩ অনুযায়ী আবেদনকারীর আবেদন ও অন্যান্য কাগজপত্রাদি যাচাই করে অগ্রায়ণ করবেন।
যাচাইকারী কর্মকর্তা সতর্কতার সঙ্গে সংযুক্ত তথ্য ও কাগজপত্রাদি যাচাই করবেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলির আদেশ জারি হলে তা বাতিল করার জন্য পরবর্তীতে কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনকারীর পছন্দক্রম অনুযায়ী বদলি হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। একাধিক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীকে সফটওয়্যারের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনায় নির্বাচিত করা হয় বিধায় কোনো রকম হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
মন্তব্য করুন


২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার ) থেকে শুরু হবে। এর আগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে ফল আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে ফল আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। পরে ফরম পূরণ আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে।
মন্তব্য করুন


বিদ্যমান আইনকে
আরও শক্তিশালী করে প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন)
অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে এই
আইন কার্যকর হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে
পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে বিদ্যমান আইনে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা
করা হয়েছে। এ ছাড়া ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্যান্য অপরাধের শাস্তিও বাড়ানো
হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।
বার্তায় এ আইনের
মূল উদ্দেশ্যে বলা হয়, তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা
দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন, ই-সিগারেট,
ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ ইমাজিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
ধূমপান ও তামাকজাত
দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংযোজন:
১. ‘তামাকজাত
দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ
তামাকজাত দ্রব্যের
সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, Electronic Necotin Delivery System (ENDS), Heated Tobacco
Product(HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার এরূপ যেকোন
পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এছাড়াও,
‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনসহ ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে
সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
২. পাবলিক প্লেসে
নিষেধাজ্ঞা
সকল পাবলিক
প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে।
৩. বিজ্ঞাপন
ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক,
ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, OTT প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ,
বিক্রয়স্থলে (Point of Sales) প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ, CSR কার্যক্রমে
তামাক কোম্পানির নাম/লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান/কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির
আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ
করা হয়েছে।
৫. ই-সিগারেট
ও উদীয়মান তামাকপণ্য (ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
উৎপাদন, আমদানি,
রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। বিধান লংঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাস
কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
৬. কুম্ভি পাতা
ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ
উৎপাদন, বিপণন
ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল
করা হয়েছে।
৭. আসক্তিমূলক
দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ
তামাক বা তামাকজাত
দ্রব্যের সাথে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিধান
রাখা হয়েছে।
৮. স্বাস্থ্য
সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং
প্যাকেটের ৭৫%
জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত
দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৯. শাস্তি ও
প্রয়োগ জোরদার
জরিমানা ও কারাদণ্ডের
পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের
বিধান রাখা হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান সন্নিবেশ করা
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


চলতি
বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি
বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে আগামী বছরের জুনের মধ্যে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত
হবে, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম সামনে এগিয়ে নিতে সহায়ক
হবে।
আজ
বুধবার (২৮ মে) জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ
লিগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসো টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে
গেলে তিনি এ কথা বলেন।
চার
দিনের সরকারি সফরে প্রধান উপদেষ্টা আজ দুপুরে টোকিও পৌঁছান। সফরকালে তিনি নিক্কেই ফোরামে
অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাপানি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
সাবেক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের বন্ধু তারো আসো, যিনি জেবিপিএফএলের সভাপতির
দায়িত্ব পালন করছেন, অধ্যাপক ইউনূসকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর
করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং একটি মসৃণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য সাধারণ নির্বাচন
অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি প্রধান বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে—সংস্কার, খুনিদের বিচার ও
সাধারণ নির্বাচন আয়োজন।
তিনি
আরও বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং
ঋণ পরিশোধে সরকার উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
'পূর্ববর্তী
সরকার আমাদের দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, যার ফলে তরুণ সমাজের মধ্যে বিদ্রোহ
সৃষ্টি হয়েছে। সেই তরুণরাই আমাকে এই বিশৃঙ্খলা দূর করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে,' বলেন তিনি।
তিনি
বলেন, 'গত ১০ মাসে জাপান আমাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে। আমি জাপানকে আন্তরিক
ধন্যবাদ জানাই। এক অর্থে, এটি একটি কৃতজ্ঞতা সফর।'
প্রধান
উপদেষ্টা ড. ইউনূস তারো আসোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে তিনি নিজের চোখে
পরিবর্তনগুলো দেখতে পারেন।
সাক্ষাতের
সময় তারো আসোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন জাপানি সংসদ সদস্য বলেন, ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট
(ইপিএ) স্বাক্ষর বাংলাদেশে বৃহত্তর পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ
পদক্ষেপ হতে পারে।
বাংলাদেশ
আগামী আগস্টের মধ্যে আলোচনার কাজ শেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রত্যাশা
করছে।
এই
চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে জাপান হবে বাংলাদেশে ইপিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।
প্রধান
উপদেষ্টা রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি সম্পর্কে জাপানি সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের সহায়তা কামনা করেন।
তিনি
বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট অন্যান্য শরণার্থী সংকটের থেকে ভিন্ন, কারণ তারা অন্য
কোনো দেশে যাওয়ার জন্য অনুনয় করছেন না, বরং নিজ দেশে ফেরার দাবি করছেন।
বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে
সিদ্দিকী এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
মন্তব্য করুন


আগামী বছর ২০২৫ সালের সরকারি ছুটির
তালিকা অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী
আদেশ মিলিয়ে মোট ২৬ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। শুক্রবার
৫টি ও শনিবার ৪টি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর
তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে
পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আগামী বছর সাধারণ ছুটি ১২ দিন ও নির্বাহী
আদেশের ছুটি ১৪ দিন। ছুটি গত বছর থেকে মোট ৪ দিন বেড়েছে।
অনুমোদিত ছুটির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত বিষয়সমূহ হলো:
(১) জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের
গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে ১২ (বার) দিন সাধারণ ছুটি। এ ছুটির মধ্যে ৫টি সাপ্তাহিক
ছুটির দিন (৩টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার)।
(২) বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি। এর মধ্যে ৪টি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (২টি শুক্রবার
ও ২টি শনিবার)।
(৩) ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষ্যে প্রজাতন্ত্রের
কর্মচারীদের বছরে অনধিক ০৩ দিনের এচ্ছিক ছুটি ভোগের জন্য ধর্মীয় পর্বসমূহের বিবরণ।
(৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর
বাইরে কর্মরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব
বৈসাবি বা অনুরূপ সামাজিক উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি। এ ছুটির মধ্যে
একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (০১টি শনিবার)।
(৫) ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের জন্য ১২ দিন
সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ
প্রস্তাবিত মোট ছুটি (০৯ দিনের সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে ৫টি শুক্রবার ও ৪টি শনিবার ব্যতীত)
২৬ - ০৯ = ১৭ দিন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনুমোদিত
মোট ছুটি (২ দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ব্যতীত) ছিল ২২ - ০২ = ২০ দিন।
মন্তব্য করুন