

সম্প্রতি
চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে। মা-মেয়েকে একসঙ্গে হত্যা করে ২১
দিন ওই দুই লাশ নিজ ফ্ল্যাটে রেখেই পরিবার নিয়ে দিব্যি বসবাস করছিলেন হত্যাকারী।
গত
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জের
কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় নুসরাত মীম নামে এক শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে স্কুলছাত্রী
জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ
ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত মীম (২৪), তাঁর স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮), মীমের ১৫ বছর ও ১১
বছর বয়সী দুই বোনকে আটক করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসাবাদে লোমহর্ষক তথ্য
পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের পর ২১ দিন ধরে মা-মেয়ের লাশ
ফ্ল্যাটে রেখেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন ওই শিক্ষিকা।
এর
আগে গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান (১৪) ও তার মা রোকেয়া
রহমান (৩২)। এ ঘটনার পরদিন রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ
ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অপহরণের
মামলা করেন তিনি।
নিজ
কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল
আলম বলেন, গ্রেপ্তার নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার
ছিলেন তাঁর শিক্ষার্থী জোবাইদার মা রোকেয়া রহমান। নির্ধারিত সময়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ
করতে না পারায় রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এনজিও কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে রোকেয়া ও নুসরাতের
মধ্যে একাধিকবার কথা–কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। ২৫ ডিসেম্বর
বিকেলে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে নুসরাতের ছোট বোনের (১৫) সঙ্গে তার
বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাতেমাকে গলা চেপে হত্যা করে তার ওই বোন।
ওসি
সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি আড়াল করতে ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয় নুসরাতের
বোন, যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয় ফাতেমা নিজেই বাসা ছেড়ে চলে গেছে। ওই ঘটনার প্রায়
দুই ঘণ্টা পর ফাতেমার মাকে ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান নুসরাত। তৎক্ষণাৎ মেয়েকে
নিতে নুসরাতের বাসায় ঢুকলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়ার গলা চেপে ধরেন তিনি। একপর্যায়ে
তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন নুসরাত। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধে রোকেয়াকে হত্যা
করেন।
পুলিশের
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার পর রোকেয়ার লাশ নুসরাতের শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে
এবং ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। দুটি লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই
অভিযুক্ত দুই বোন ও তাদের পরিবার প্রায় ২১ দিন সেখানে বসবাস করে আসছিল।
তিনি
বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার
করেছেন। ইতোমধ্যে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের
কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না,
সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


শনিবার রাতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা একটি টিম কুমিল্লা জেলার সকল থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান ডিউটি করাকালীন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার আমতলী এলাকার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গামী মহাসড়কের রাস্তার উপর হতে ২৬ কেজি গাঁজাসহ ১জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম মোঃ আরিফুল ইসলাম (২০), পিতা-এরশাদ মিয়া।
আসামী কুমিল্লা জেলার মুরাদপুর থানার দিলালপুর গ্রাম নিবাসী।
উক্ত ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে সামনে রেখে ৩৩ বছর পর একই দিনে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এই কর্মসূচির নেতৃত্বে রয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক ও তৃণমূল থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীর। তার আহ্বানে ইতোমধ্যেই রেজিনগরে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে এবং আয়োজকদের দাবি, মোরাদিঘির কাছে ২৫ বিঘা জমিতে প্রায় ৩ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। শুধু স্থানীয় নয়—বিভিন্ন রাজ্যের ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি সৌদি আরব থেকেও ধর্মগুরুদের আসার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন, মাত্র তিন কাঠা জায়গা নিয়ে এত বিরোধিতা থাকলেও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কার্যক্রম থামানো হয়নি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ বিঘা জমিতে মসজিদের পাশাপাশি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্ক নির্মাণ হবে। এসব প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা মুর্শিদাবাদসহ মালদা, উত্তর–দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দিনাজপুর, হাওড়া, হুগলি ও দুই মেদিনীপুরের মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত হবে।
হুমায়ুন কবীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি রাজ্য সরকারের কোনো টাকা গ্রহণ করে মসজিদ নির্মাণ করবেন না, কারণ এতে “মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হবে।”
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেস তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রেজিনগর থানায় তাকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
তবে তার আগেই তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সমস্ত প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন, এবং কর্মসূচি যেকোনোভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া ও পূর্ব নুসা তেঙ্গারা অঞ্চলে আলাদা দুটি নৌদুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের উদ্ধারে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দিনভর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে পূর্ব নুসা তেঙ্গারার কোমোডো জাতীয় উদ্যানের পাদার দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় একটি পর্যটকবাহী নৌযান ডুবে গেলে চারজন স্প্যানিশ নাগরিক নিখোঁজ হন। অন্যদিকে, এর আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় পাপুয়া প্রদেশের ইয়াপেন দ্বীপপুঞ্জ রিজেন্সিতে সেরুই শহর থেকে ওয়াইন্ডুর উদ্দেশে যাত্রাকালে ২১ আরোহী নিয়ে চলা একটি স্পিডবোট তীব্র বাতাস ও উত্তাল সাগরের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ওই ঘটনায় তিনজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও শনিবার বিকেলে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং বাকি ১৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জাকার্তা গ্লোবের বরাতে জানা গেছে, দুই ঘটনার ক্ষেত্রেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে রোববারও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা
ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে। আচরণবিধি
প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
আজ
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ও গণভোট উপলক্ষে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেল’-এর
সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এরআগে ‘ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন
টিম’ -এর সঙ্গেও মতবিনিময় সভা করেন নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচন
কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা
করা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় যেসব নিরাপত্তা-সংবেদনশীল
বিষয় রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে
কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা
হচ্ছে।
রাজনৈতিক
দল ও প্রার্থীদের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনে তাদের
মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তঃদলীয় সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, যা একটি
ইতিবাচক লক্ষণ। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসুক, কোনো দল যেন সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে- এভাবে
একটি উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করাই সবার প্রত্যাশা।
তিনি
বলেন, আজ আমরা যে সমন্বিত বাহিনীর প্রস্তুতি দেখেছি, তাতে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। বৃহত্তর
চট্টগ্রামে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে তুলে ধরা গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব।
অপতথ্য ও গুজব রোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অপতথ্য ছড়ানো যেমন
অপরাধ, তেমনি অপতথ্য শেয়ার করাও অপরাধ- এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচন
নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে,
তাহলে নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ
অস্ত্রধারীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট
ফেজ-২’ নামে অভিযান চলছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা
ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। অতীতে যে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ছিল, সামনে তার
পুনরাবৃত্তি হবে না- ইনশাআল্লাহ।
এরআগে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময় সভায় ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আপনারা যে অপারেশনগুলো
করছেন, অপারেশনের পরে তা মিডিয়ায় দিয়ে দিবেন। কোনো গোষ্ঠী বা দল যদি অপকর্ম করে পার
পেয়ে যেতে চায় তাহলে তারা যেন উৎসাহিত বোধ না করে। কারণ তারা জানবে অপকর্ম করলে ধরা
পড়তে হবে এবং অপকর্ম লোকালি থাকবে না জাতীয় বিষয় হয়ে যাবে। লোকাল ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয়
ক্ষতি হবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করুক।
নির্বাচনকে
ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য
রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকায় (চট্টগ্রাম) সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে
ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে
পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মতবিনিয়ম
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের
ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার
নাজির আহমদ খাঁন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


ভারী বৃষ্টিপাতজনিত ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধসে বিপর্যস্ত বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে দেশটির হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং বহু রাস্তাঘাট নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সরকার এক বিরল পদক্ষেপ নিয়েছে—বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হাতিকে কাজে লাগানো হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য। ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও হাতির ব্যবহার মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সুমাত্রা দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আচেহ প্রদেশে এক অভিনব দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বেসরকারি সংবাদমাধ্যম কমপাস টেলিভিশন জানিয়েছে, আচেহ-এর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা (বিকেএসডিএ) বন্যায় রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়া অঞ্চলে চারটি হাতি পাঠিয়েছে। এই এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বন্যায় বড় বড় গাছের গুঁড়ি এবং ধ্বংসস্তূপ জমে রাস্তা পুরোপুরি অচল হয়ে আছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে ভারী যন্ত্রাংশ নিয়ে ওই অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণেই বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাতিদের ব্যবহার করা হচ্ছে গাছের গুঁড়ি ও ধ্বংসাবশেষ টেনে সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করার জন্য। বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৩২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া এই দুর্যোগের ফলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়েছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এই বাস্তুহারাদের উত্তর ও পশ্চিম সুমাত্রাসহ আচেহ অঞ্চলের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার এই চরম দুর্যোগের সময় প্রতিবেশী দেশ চীন সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। দেশটি ইন্দোনেশিয়ায় জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তার
ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার
(১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ারের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
জাহিদ হোসেন
বলেন, বেগম জিয়াকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন। চিকিৎসকরাসহ
সবাই অত্যন্ত আশাবাদী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে যাবেন।
বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র
ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন তারা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করছেন।
বিএনপির স্থায়ী
কমিটির এ সদস্য আরও জানান, ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। তার (বেগম
জিয়ার) ছোট ভাই, বোন সবাই খোঁজ নিচ্ছেন।
চলতি বছরের
২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
সেদিন স্বেচ্ছায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বেগম জিয়াকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।
তার একদিন পরেই
শ্বাসকষ্টের জটিলতা প্রকট হওয়ায় ঘটে স্বাস্থ্যের অবনতি। ২৩ নভেম্বর ভর্তি হন রাজধানীর
এভারকেয়ার হাসপাতালে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে হার্ট এবং ফুসফুসে। অবস্থার আরও অবনতি হলে
তাকে স্থানান্তর করা হয় সিসিইউতে। এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত
একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ।
আগামীকাল দ্বিতীয় ধাপের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের (খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ বিভাগ) লিখিত পরীক্ষায় ২০-২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে টিকিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেন তারা।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন-জয়পুরহাটের পাঁচবিবি কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুস্তম আলী, মো. ইশান ইমতিয়াজ, গোকুল, বগুড়া সদর এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের রোকনুজ্জামান। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত লিখিত পরীক্ষার প্রাক্কালে জালিয়াতিচক্রের এ ধরনের প্রলোভনে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। জালিয়াতি চক্রের কোনো তৎপরতার সন্ধান পাওয়া গেলে নিকটস্থ থানায় অভিযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, প্রথম পর্বের পরীক্ষার সময়ও এ ধরনের চক্র সক্রিয় ছিল। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সজাগ ও সতর্ক ভূমিকার কারণে তাদের অপপ্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকানোর জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামীকালের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই
রেবেলস সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ রেজওয়ানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার
করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো.
মাসুম এবং মো. ফাহিম খান। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর
উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টর এলাকায় জুলাই রেবেলস সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ রেজওয়ানের ওপর হামলা
চালায় দুর্বৃত্তরা। আহতবস্থায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতাল নেওয়া হয়।
ডিএমপি
জানিয়েছে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ রাজধানীর
বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার
দিকে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় বর্ণিত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার
করে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ।
মামলার
সুষ্ঠু তদন্ত এবং এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত
রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
মন্তব্য করুন


তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের
সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত বিষয়টি ঝুলে থাকার কারণে এতে কোনো দেশেরই
লাভ হচ্ছে না বলে জানান তিনি। (খবর এনডিটিভির)
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম পিটিআইকে দেয়া
এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন ড. ইউনূস। ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎকার দেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, আমি যদি জানি, আমি কতটুকু পানি পাব, সেটা ভালো হতো। এমনকি পানির পরিমাণ
নিয়ে যদি আমি খুশি নাও হই, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। এই বিষয়টি সমাধান হতেই হবে। কারণ
পানি বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে বসে থাকার ফলে এতে কোনো কাজ হচ্ছে না।
তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে অন্তর্বর্তী
সরকার ভারতকে চাপ দেবে কিনা- পিটিআইয়ের এমন প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, চাপ শব্দটি অনেক
বড়। আমি এই কথা বলছি না। আমরা আলোচনা করব। তবে আমাদের একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করতে
হবে।
২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর অনেকটা চূড়ান্ত হয়ে
গিয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই চুক্তিকে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানানোর
ফলে চুক্তি আর হয়নি। তখন মমতা দাবি করেছিলেন, তার রাজ্যেই পানির সংকট রয়েছে।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন নতুন কোনো ইস্যু নয়, এটি অনেক পুরাতন ইস্যু।
বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। এমনকি পাকিস্তান পিরিয়ডেও কথা হয়েছে। আমরা সবাই
চেয়েছি এটির সমাধান করতে, এমনকি ভারত সরকারও এর জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের
সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমরা চাই এর সমাধান করতে। ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের
পানি পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
মন্তব্য করুন


ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মণির এক ব্যতিক্রমধর্মী
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বড় বড়
রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পরিবর্তে ভোটারদের কাছে ‘বিয়ের উপহার’ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভোট
চাইছেন তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায়
গণসংযোগকালে এক সাক্ষাৎকারে আশা মণি বলেন, তরুণ ভোটারদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত বিয়ের
ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক তরুণ ভাই আমাকে বলছেন
আপা, আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তাদের উদ্দেশে আমার কথা, আমাকে একটা করে ভোট দিন,
আমি বিজয়ী হলে আপনাদের বিয়ের ব্যবস্থা সহজ করে দেব।
শুধু তরুণ ভোটার নয়, দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা-চাচিসহ
সব বয়সী ভোটারের কাছেই ‘বিয়ের উপহার’ হিসেবে একটি করে ভোট চেয়েছেন তিনি।
আশা মণির এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
হাস্যরসের জোয়ার বইছে। জয়দেব দেবনাথ নামে এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, কেউ দিতে চাচ্ছে
বেহেশত, কেউ ফ্যামিলি কার্ড, আর আশা মণি আপা দিতে চাচ্ছেন বউ অথবা স্বামী!
উল্লেখ্য, এর আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন
আশা মণি। তবে সে সময় তিনি অল্প কয়েকটি ভোট পেয়েছিলেন। ভোটের ফলাফল যাই হোক, স্থানীয়
সমাজকর্মী আম্বিয়া খাতুন মনে করেন, নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আশা মণি
একজন সাহসী পথযাত্রী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে
আশা মণিসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরো ঠাকুরগাঁও জেলায় তিনটি
সংসদীয় আসনের বিপরীতে নারী প্রার্থী রয়েছেন মাত্র দুজন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে
জাতীয় পার্টির নূরুন্নাহার বেগম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে
লড়ছেন আশা মণি।
মন্তব্য করুন