

গাজীপুরের
কালিয়াকৈরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে নিহতের
২ ভাই ও ২ ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১।
মঙ্গলবার
সকালে র্যাব-১ এর স্পেশালাইজড কোম্পানি গাজীপুরের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার
মেজর মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
জানা
যায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের সাজনধারা
এলাকার কলেজ শিক্ষক রেজা সাইদ আল মামুনকে (৫৩) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত মামুন কালিয়াকৈরের
সাজনধারা গ্রামের এলাকার মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত ব্যক্তি কালিয়াকৈরের চন্দ্রা
এলাকায় অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক
হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গ্রেফতারকৃত
আসামিরা হলো: হত্যা মামলার প্রধান আসামি নিহতের ছোট ভাই মো: মজিবর রহমান (৫০), তার
ছেলে মো: সুমন (২৮) ও মো: সিজান (২০) এবং নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী (৬৫)।
মেজর
মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে নিহত কলেজ শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিন
ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে গত ২৮ জানুয়ারি বিকাল সোয়া
৩ টার দিকে আসামিরা কালিয়াকৈরের সাজনধারা এলাকায় তাদের চাষকৃত ধানী জমিতে আগাছা পরিষ্কার
করা জন্য পৌঁছালে তার কিছুক্ষণ পর কলেজ শিক্ষক রেজা সাইদ আল মামুনও তার চাষকৃত ধানী
জমিতে যান। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামিরা কাঠের লাঠি, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে
মামুনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে আসামিরা নিহতের
বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করাসহ হুমকি-ধামকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ২৯ জানুয়ারি নিহতের
স্ত্রী হাসিনা আক্তার বাদী হয়ে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা
দায়ের করেন। হত্যা মামলার হুকুমদাতা হিসেবে এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ আলিকে (৬৫)
হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব। পরে তাকে থানা পুলিশের
কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ জানুয়ারি ভোররাতে র্যাব-১ তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে
ও গোপন সূত্রে জানতে পারে, মামলার আসামি মো: মজিবুরসহ অন্য আসামিরা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের
কোনাবাড়ি থানার জয়েরটেক এলাকায় আত্মগোপনে আছে। র্যাব এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাদের
গ্রেফতার করেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ উপজেলা ও সেনানিবাস এলাকা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিনব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করেন।তিনি সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুভপুর বড় মসজিদ থেকে গণসংযোগ কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর শুভপুর, চানপুর, গাংচর, গর্জনখোলা, ঋষিপট্টি, আমীর দিঘী ও চকবাজার এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি এবং মহানগরীর ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, ৫ নং পাঁচথুবী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা কাজী আব্দুল কাদির সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।গণসংযোগে সভাপতিত্ব করেন ৬ নং ওয়ার্ডের আমীর মোঃ মোজাম্মেল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি এস. এম. কাদির হোসাইন সানি।এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর যুব বিভাগের টিম সদস্য ও চকবাজার অঞ্চল সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, সেক্রেটারি মাওলানা মাকসদুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুল হাই হাসিব, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক আরিফুর রহমান বাবু, সহকারী সেক্রেটারি মোশারফ হোসেন রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাজাদা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রাসেল, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা কামরুজ্জামান গাফ্ফারী, সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মাওলানা মতিউর রহমান, পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরীর সেক্রেটারী মোঃ মোশারফ হোসেন,এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ইকবাল হোসেন, আব্দুল কাদের, আব্দুল হক, আব্দুল মান্নান, সাহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী, দেলোয়ার হোসেন, হারুনুর রশিদ, বাবুল চৌধুরী সহ স্থানীয় শ্রমিক নেতারা গণসংযোগে অংশ নেন।চকবাজার এলাকায় গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সমাজের মুরুব্বিরাও পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানান।
বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ সদর দক্ষিণ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন। সেখানে স্থানীয় জনগণ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গণসংযোগ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, “আমরা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। জনগণের দোয়া ও সহযোগিতা পেলে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে এই পরিবর্তন বাস্তবে রূপ নেবে।”
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সবুজ, সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাঃ ফজলুল হক লিটন, অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুফতি মাহবুবুর রহমান, তামিরুল উম্মাহ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রাশেদুল হক, ইউনিয়ন আমীর অধ্যাপক মাওলানা নুরুল হুদা, চেয়ারম্যান প্রার্থী আই আর আশিক আহমেদ শাহীন, সাবেক ছাত্র নেতা বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আমিরুল ইসলাম মুসা, জামায়াত নেতা হেলাল উদ্দিন বশির,আব্দুল জলিল,কামাল উদ্দিন বেপারী,মোঃ শাহআলম, আলমগীর, আব্দুল্লাহ আল মামুন, দোকানদার কামাল হোসেন, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা
আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় আজ সকালে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়ছার।
এ
সময় তিনি বলেন ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট এই স্থানেই ছাত্র-জনতার উপর নির্মম হামলা চালানো
হয়েছিল। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এখানে স্থাপিত হচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। এতে প্রতিটি শহীদের নাম
যুক্ত থাকবে। এছাড়াও যেসব এলাকায় শহীদরা নিহত হয়েছেন,সেসব স্থানে নির্মাণ করা হবে
‘রোড মেমোরি স্ট্যান্ড’।”
জেলা
প্রশাসক জানান, প্রতিবছর ৫ আগস্ট স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিশেষ শ্রদ্ধা
নিবেদনের আয়োজন করা হবে।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ নাজির আহমদ খান, মহানগর বিএনপির সভাপতি
উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, অতিরিক্ত
জেলা প্রশাসক পঙ্কজ বড়ুয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম, সিভিল
সার্জন ডা. মোঃ আলী নূর মোহাম্মদ বশির, এনসিপি নেতা মাছুমুল বারী কাউসার,উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহানসহ জেলা প্রশাসনের
বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি
সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা নজরুল ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক আল আমিন। দোয়া পরিচালনা
করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আইসিটি মাস্টার ট্রেইনার আব্দুল্লাহ নোমান।
শহীদদের
স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভ কুমিল্লার ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে, এমনটিই
প্রত্যাশা সকলের।
মন্তব্য করুন


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয়
উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
আজ রবিবার (৭ জুলাই) আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের
দ্বিতীয়া তিথিতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) কুমিল্লা জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী
জগন্নাথ দেবের মন্দির ও নগরী ঠাকুরপাড়া রামকৃষ্ণ গৌর নিতাই মন্দিরের যৌথ আয়োজনে শ্রী
শ্রী জগন্নাথপুর মন্দিরে সকাল ৭টা হতে যথাক্রমে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের পূজা ও দর্শন
আরতী, বিশ্ব শান্তি কামনায় অগ্নিহোম যজ্ঞ, ভজন কীর্তন, বাউল সংগীত ও পদাবলী কীর্তন
এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ ও দুপুর ২টায় ধর্মসভা শেষে ভক্ত সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
পৃথক পৃথক রথারোহণ, শুভ আরতি ও মহা হরিনাম সংকীর্তন সহযোগে জগন্নাথ মন্দির হতে চকবাজার-রাজগঞ্জ-কান্দিরপাড়
হয়ে ঠাকুরপাড়া শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর নিতাই মন্দির এসে শেষ হয় বর্ণাঢ্য শুভ রথযাত্রা।
ওই শোভাযাত্রায় লাখো পূণ্যার্থী ও ভক্তের সমাগম ঘটে। এতে সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতি
ছিলো চোখে পড়ার মতো। এরপর সন্ধ্যায় গুন্ডিচা মন্দিরে সন্ধ্যারতি কীর্তন ও ভজন কীর্তন
এবং রাত ৮টায় ঠাকুরপাড়া শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর নিতাই মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথ লীলামৃত
ও মহাপ্রসাদ বিতরণ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথদেব
হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন
জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয়
না। এই বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমূর্তি রেখে রথ নিয়ে যাত্রা করেন
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
আজ কুমিল্লা জগন্নাথ মন্দিরে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর দুইটায় ধর্ম সভা শেষে সাড়ে ৪টায় বেলুন উড়িয়ে রথযাত্রার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম । এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা-৭ সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।
রথযাত্রা মহোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম
বলেন- অসম্প্রদায়িক দেশ গড়তেই বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল দেশের
হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকল ধর্ম জাতির মানুষ সম্মিলিতভাবে স্বপ্নের সোনার বাংলা
বিনির্মাণ করবে। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫আগস্ট নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্য্যা করে এই
স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করতে চেয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী চক্র৷ পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিলো
ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে৷ এই বিভাজন আমরা মানতে পারিনি বলে পরবর্তীতে অসম্প্রদায়িক
চেতনাকে বুকে ধারণ করে দেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশে তাই কোন ধর্মীয় বৈষম্য থাকবে না৷
শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সভাপতি
শ্রীমান সুদর্শন দাশ ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে ধর্মসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার
মু. মুশফিকুর রহমানসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুরের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির হতে রথযাত্রার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে শ্রী জগন্নাথদেব, বলদেব ও শুভদ্রাদেবের ৩টি পৃথক রথারোহনের মাধ্যমে মাসির বাড়ি পাথুরিয়া পাড়া আগমন করেন। সেখান তিনি প্রায় আটদিন অবস্থান করার পর পুনরায় উল্টো রথে নিজ বাড়ীতে ফিরে যাবেন। প্রতি বছর হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমাগম ঘটে থাকে রথযাত্রা উৎসবে।
এদিকে, আগামী ১৪ জুলাই রবিবার (উল্টো
রথযাত্রা) গুন্ডিচা মন্দিরে সকাল ৭টা হতে যথাক্রমে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব এর পূজা ও
দর্শন আরতি, বিশ্ব শান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, ভজন কীর্তন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং
দুপুর ২টায় ধর্মসভা শেষে ভক্ত সমাবেশ ও পৃথক পৃথক রথারোহণ, শুভ আরতি ও মহাহরিনাম সংকীর্তন
সহযোগে ঠাকুরপাড়া শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর নিতাই মন্দির হতে কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ ও
চকবাজার হয়ে জগন্নাথপুর মন্দির পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা'র মধ্যদিয়ে শেষ হবে রথযাত্রা
মহোৎসব।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় রেললাইনের পাশে দুলাল হোসেন নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নেয়। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। একই সঙ্গে লাশ গুমে ব্যবহৃত একটি নোহা গাড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে মাথায় জখম ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নসহ অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়—তিনি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ভল্লবপুর গ্রামের জব্বর মালের ছেলে দুলাল হোসেন (৩৫)।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এরপর র্যাব-১১ এর একটি চৌকস দল ১৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার, লাকসাম এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুলাল হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, মোঃ ফারুক (৪৫), মোঃ মফিজুল ইসলাম (৪৫), তাজুল ইসলাম (৪২), রুবেল আহাম্মেদ (৩৯), আবুল হাসেম (৩৪), মরিয়ম (৩৭) এবং ফাতেমা আক্তার সিনথিয়া (১৯)।
র্যাব জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে দুলালের সঙ্গে ফাতেমা আক্তার সিনথিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দুলাল স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। এ সময় সিনথিয়ার সঙ্গে ইমুতে পরিচয় হয় দুবাইপ্রবাসী আবুল হাসেমের, যা পরবর্তীতে পরকীয়ায় রূপ নেয়।
দুলালের সঙ্গে ডিভোর্সের পর সিনথিয়া হাসেমকে বিয়ে করে। কিন্তু দুলাল তা মেনে নেয়নি; হাসেমের অনুপস্থিতিতে প্রায়ই সিনথিয়ার বাসায় গিয়ে ভীতি প্রদর্শন করত।
এ পরিস্থিতিতে সিনথিয়া, তার বর্তমান স্বামী হাসেম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে দুলালকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন সিনথিয়া স্বামী হাসেমের পরামর্শে দুলালকে ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস খাওয়ায়। দুলাল অচেতন হয়ে পড়লে গ্রেফতারকৃত আসামিরা মিলে তাকে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার জন্য ড্রাইভার রুবেল নোহা গাড়িতে করে লাশ লালমাই রেললাইনের পাশে ফেলে আসে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় বর্ণাঢ্য র্যালী আলোচনা সভা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড বিষয়ক মহড়ায় সচেতনতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমী থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জিলা স্কুল মাঠে ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ মহড়ায় অংশ নেয়। মহড়া শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী, কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল হাফিজ, ফায়ারা সার্ভিসের সহকারি পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম ভূইয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
মন্তব্য করুন


লালমনিহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় স্বামী হাসান আলীর মৃত্যুর ৭ ঘণ্টা পরই স্বামীর শোকে স্ত্রী মঞ্জু আরা বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শনিবার (১৫ জুন) ভোর ৪টায় পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়রের রসুলপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন স্বামী হাসান আলী (৫৫)। এরপর স্বামীর মৃত্যুর শোকে বেলা ১১ টায় মৃত্যুবরণ করেন স্ত্রী মঞ্জু আরা বেগম (৪৫)।
হাসান আলী ও মঞ্জু আরা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন আরেক মেয়ে স্থানীয় সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
স্বামীর শোকে মঞ্জু আরা বেগম ভোর থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর বেলা ১১ টায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় বাউড়া বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসান আলী একজন সুস্থ-সবল মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিদিনের ন্যায় বাজার থেকে রাতে বাড়ি ফিরেন তিনি। এরপর ভোর ৪টার দিকে ঝড়ে পড়া আম খেয়ে কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে হাসান আলী।
স্থানীয়রা বলেন, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসার বন্ধন ছিল দৃঢ়। একজন আরেকজনকে খুবই ভালোবাসতেন। স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে তাদের বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
স্থানীয় সাহেব হোসেন জানান, হাসান আলী একজন সাদামনের মানুষ ছিলেন। আমরা জীবনে এমন মৃত্যু দেখি নাই। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু।
পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাবিউল ইসলাম মিরন জানান, স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছি।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা, কচুয়া প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়ায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৯জন তন্মধ্যে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫১ জন, পাসের হার শতকরা ৯২.৭১ ভাগ। আলিমে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮ জন ও পাসের হার শতকরা ৯১.৩৯ভাগ।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ৯টি কলেজ থেকে মোট ২ হাজার ১শ ৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে তন্মধ্যে পাস করে ১হাজার ৯শ ৮৩জন। এছাড়া ১৩টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৪শ ৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে তন্মধ্যে পাস করে ৪শ ৩৫জন।
ফলাফলের দিক থেকে আশেক আলী খান স্কুল এ্যান্ড কলেজ ও ড. মনসুর উদ্দীন মহিলা কলেজ শীর্ষে রয়েছে। আশেক আলী খান স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে ২৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ কৃতকার্য হয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন।
অপর দিকে ড. মনসুর উদ্দীন মহিলা কলেজ থেকে ১৪৬জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ কৃতকার্য হয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ জন। এছাড়া আলিম পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে কাদলা এসএস ফাজিল মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসা থেকে ৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ কৃতকার্য হয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা চকবাজার এলাকায় সাধারণ পোলাও
এর চালকে "চাষী ভাই সুগন্ধি চিনিগুড়া চাল" ব্রান্ডের নামে প্যাকেটে
ভরে বিক্রি করা সময় ভোক্তা অধিদপ্তরের তদারকি টিমের হাতে ধরা পড়ল।
আজ (৩০মে) কুমিল্লার চকবাজার এলাকায়
অভিযানের সময় দেখা যায়, মেসার্স এস আর রাইছ এজেন্সি নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাজার
থেকে কেনা মদিনাসহ অন্যান্য সাধারণ চিনিগুড়া চাল স্কয়ার কোম্পানির "চাষী"
ব্রান্ডের আদলে "চাষী ভাই" নামের প্যাকেটে নিজেরাই মোড়কীকরণ করে
বিক্রয় করছে। ভোক্তাদের সাথে এমন প্রতারণা করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬০ হাজার টাকা
জরিমানা করা হয়। এ সময় অনুমোদনহীন নকল মোড়ক জব্দ করা হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি এমন
কাজ আর করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন।
এছাড়াও কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে
আজ চকবাজার এলাকার বিভিন্ন মসলার বাজারও তদারকি করা হয়। নানা অনিয়মের অভিযোগে
মোট তিন প্রতিষ্ঠানকে ৬৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো: আছাদুল ইসলাম।
অভিযান পরিচালনা করার সময় চকবাজার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে রাতে ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করেছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামাল হোসেন।
তিনি গত সোমবার (১৮ই আগষ্ট) রাত ৮.৩০ঘটিকা থেকে রাত ১০.০০ঘটিকা পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম বাজার ও আশেপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন কালে তিনি দেখতে পান, শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে না বসে বাহিরে বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দিচ্ছে এবং ধুমপান করছে। অভিযানে , শিক্ষার্থীদের সাথে অনেক অছাত্রদের আড্ডা দিতে দেখা যায়, যারা অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারে।
এসময় ইউএনও শিক্ষার্থীদের প্রথম বারের মতো সতর্ক করে তৎক্ষণাৎ বাসায় গিয়ে পড়তে বসার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন এবং রাত ৮ টার পর কেউ যাতে পড়া রেখে বাহিরে অহেতুক ঘোরাফেরা/আড্ডা না দেয় সে বিষয়ে কড়া বার্তা প্রদান করেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামাল হোসেন জানান, আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে রাত ৮ টার পর কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে আড্ডা/অহেতুক ঘোরাফেরা করা অবস্থায় পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং যার বা যাদের দোকানে বসে আড্ডা দিবে সে সকল দোকানীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে মর্মে জানান তিনি।
উপজেলার সকল অভিভাবকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান যে- আপনার সন্তানের খবর রাখুন, সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে বসা নিশ্চিত করুন এবং কার বা কাদের সাথে মেলামেশা করছে সে বিষয়ে অধিকতর সংবেদনশীল আচরণ করুন।
মন্তব্য করুন


ফাতেমাতুজ জোহরা তন্বী, প্রতিবেদক:
নিটোল
পায়ে রিনিক ঝিনিক,পায়েলখানি বাজে
মাদল
বাজে সেই সংকেতে
শ্যামা
মেয়ে নাচে...
এস
ডি বর্মণের কণ্ঠে সেই প্রখ্যাত গান। বলছিলাম উপমহাদেশের সংগীতের রাজপুত্র কুমার শচীন
দেববর্মণের কথা।
শচীন
দেববর্মণ (১ অক্টোবর, ১৯০৬-৩১ অক্টোবর, ১৯৭৫) বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় বাংলা ও হিন্দী
গানের কিংবদন্তীতুল্য ও জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, গায়ক ও লোকসঙ্গীত। আগরতলার বাসিন্দা হলেও শচীন দেবের শৈশব কেটেছে কুমিল্লায়
এবং শেষ জীবন মুম্বাইতে। তাঁর সহধর্মিণী মীরা দেবী এবং একমাত্র পুত্র রাহুল দেববর্মনও
মুম্বাই চিত্রজগতের প্রতিষ্ঠিত কণ্ঠশিল্পী।প্রায়শ তাঁকে এস ডি বর্মণ হিসেবেই উল্লেখ
করা হয়। কিছুটা অনুনাসিক কণ্ঠস্বরের জন্য তিনি তার শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
প্রায় একশো বছর পার করেও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তার কালোত্তীর্ণ গানের আবেদন
কিছুমাত্র লঘু হয়নি। কেবল সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেও তিনি সার্থক।
তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পুত্র রাহুল
দেববর্মণ ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। তাঁর ছাত্রী এবং পরবর্তীতে
সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি রবি গুহ মজুমদার এর
অনেক গানে সুর দিয়েছেন এবং তা শিল্পে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি ২ বার (১৯৫৫ ও ১৯৭৪)
সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং ১৯৭০ সালে শ্রেষ্ঠ নেপথ্য গায়ক হিসেবে
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত) লাভ করেন।
শচীন
দেব বর্মণ তার যুগের তুলনায় অনেকাংশে আধুনিক ছিলেন। তার অনেক গানই আজকাল রিমিক্স হচ্ছে
এবং জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানছেন না, গান গুলোর আসল
সুরকার এবং গায়ক শচীন দেববর্মণ। শচীন দেব অনেক বাংলা গানে সুর দিয়েছেন। ১৯৩৪ সালে
নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মিলনে গান গেয়ে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩৭ সাল থেকে পরপর
কয়েকটি বাংলা ছায়াছবিতে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এক্ষেত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য
ছায়াছবি হলো: রাজগী, ছদ্মবেশী, জীবন-সঙ্গিনী, মাটির ঘর ইত্যাদি। তার বিখ্যাত কিছু
গান যেমন-
শোনো
গো দখিন হাওয়া
হৃদয়ে
দিয়েছো দোলা
কে
যাসরে
ঝিল
মিল ঝিল মিল
তুমি
আর নেই সেই তুমি
রজ্গীলা
তুমি
এসেছিলে পরশু ইত্যাদি।
প্রতি
বছর দু-তিন দিন জুড়েই পালিত হয় 'শচীন মেলা'। স্নিগ্ধতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যাখ্যা
দেয় সোনালী অতীতের। শচীন দেববর্মণের মতো মানুষরা অমর প্রজন্মের পর প্রজন্মে।
বাংলা ও হিন্দি গানের কিংবদন্তি সুরকার শচীন দেববর্মণ এর জন্মভিটা কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থায়। একসময় রাজবাড়ি হলেও এখন সেটি ইতিহাসের কান্না বয়ে চলা এক পরিত্যক্ত ভবন।
সরকারি উদ্যোগে ‘সংস্কৃতি কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাড়িটি পড়ে আছে অযত্নে-অবহেলায়।
আমরা কি তবে শচীন কর্তার সুরের স্মৃতি হারাতে বসেছি?
মন্তব্য করুন