

তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।
"জয় জগন্নাথ... জয় জগন্নাথ..."—হাজারো কণ্ঠের একযোগে উচ্চারিত এই ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঘণ্টা-করতাল ও মহাহরিনাম সংকীর্তনের সুরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লা নগরী। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ আর সর্বজনীন সম্প্রীতির অপূর্ব মিলনে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর পবিত্র উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব। এর মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসবের।
দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। ফুল, আলোকসজ্জা ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত মন্দির এবং সুদৃশ্য রথ যেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ ভক্তিভরে অংশ নেন এই মহোৎসবে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি পরিণত হয় সৌহার্দ্য, মানবতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায়।
কুমিল্লার জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির এবং ঠাকুরপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর-নিতাই মন্দিরভিত্তিক আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজার্চনা, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ধর্মসভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এ মহোৎসব পালিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে নগরীর শ্রী শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরে সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শুরু হয় পূজার্চনা, দর্শন-আরতি, বিশ্বশান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, ভজন-কীর্তন এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ। কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এতে অংশ নেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে জগন্নাথদেবের দর্শন গ্রহণ করেন এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ধন্য মনে করেন।
দুপুরে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্টজন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ। উদ্বোধন করেন ইসকনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসূফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।
ধর্মসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির ইসকন কুমিল্লার সহ-সভাপতি শ্রীমান ভদ্র নিমাই দাস ব্রহ্মচারী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামলকৃষ্ণ সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন- মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমান রূপচন্দ্র শ্যাম দাস ব্রহ্মচারী। উদ্বোধনী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করেন শ্রীমান সদা শিব সিংহ দাস ব্রহ্মচারী এবং সভাপতিত্ব করেন শ্রীমান সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী।
ধর্মসভা শেষে শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত উল্টো রথযাত্রা। কীর্তনের তালে তালে হাজারো ভক্ত রথের রশি ধরেন। "হরে কৃষ্ণ, হরে রাম" এবং "জয় জগন্নাথ" ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লার প্রধান সড়ক। করতাল, মৃদঙ্গ ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে সুসজ্জিত রথ। দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ এ দৃশ্য উপভোগ করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে স্মরণীয় মুহূর্ত ধারণ করেন, আবার কেউ কেউ ভক্তিভরে রথকে প্রণাম জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রথের রশি স্পর্শ করা কিংবা রথ টানার সুযোগ পাওয়া পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তাই নারী-পুরুষ, শিশু, যুবক ও প্রবীণ—সবাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে রথ টেনে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন। অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আবেগ, আনন্দ ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির অনন্য প্রকাশ।
শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা, মহানগর ও আদর্শ সদর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে এক সর্বজনীন সম্প্রীতির বন্ধনে রূপ দেয়।
উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কে বক্তারা বলেন, রথযাত্রার সময় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবী মূল মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে গমন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে পুনরায় নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করেন। এই প্রত্যাবর্তনই উল্টো রথযাত্রা হিসেবে উদযাপিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মহোৎসবে অংশগ্রহণ করলে ঈশ্বরের বিশেষ কৃপা লাভ হয় এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, কল্যাণ ও সৌভাগ্য বয়ে আসে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার সভাপতি শ্রী সুকান্ত চক্রবর্তী (সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী) বলেন, "শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভক্তি, সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ ও বিশ্বশান্তির এক অনন্য বার্তা বহন করে। সকলের অংশগ্রহণেই এই মহোৎসব আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।"
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক অংশগ্রহণই সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম শক্তি। রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব সমাজে সহনশীলতা, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সফল করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজকরা জানান, ভক্তদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পুরো মহোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
নয় দিনব্যাপী এই রথযাত্রা মহোৎসবজুড়ে পূজার্চনা, ধর্মসভা, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ভজন-কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা, মানবসেবা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দিনশেষে যখন জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর রথ পুনরায় নিজ মন্দিরে ফিরে আসে, তখন ভক্তদের কণ্ঠে আবারও ধ্বনিত হয়—"জয় জগন্নাথ"। প্রার্থনায় মুখরিত হয় চারদিক। হাজারো ভক্তের বিশ্বাস, এই পবিত্র প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন আশীর্বাদ, নতুন আশা এবং মানবকল্যাণের এক চিরন্তন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজের সর্বস্তরে। কুমিল্লার এবারের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি পরিণত হয়েছে ভক্তি, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অবিস্মরণীয় মহামিলনমেলায়।
মন্তব্য করুন


খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ সকলকে মানবতার মহান ব্রতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আগামীকাল (২৫ ডিসেম্বর) ‘বড়দিন’ উপলক্ষ্যে দেওয়া আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) এক বাণীতে তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’ উপলক্ষ্যে এ সম্প্রদায়ের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিষ্ট এই দিনে বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেন। পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তন ছিল যীশু খ্রিষ্টের অন্যতম ব্রত। মহামতি যীশু বিপন্ন ও অনাহারক্লিষ্ট মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। তার জীবনাচরণ ও দৃঢ় চারিত্রিক গুণাবলির জন্য তিনি মানব ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
মন্তব্য করুন


গোপালগঞ্জে
যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নিহত
হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন যাত্রী। আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুরে
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শিপলু আহম্মেদ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কোটালীপাড়া
স্টার এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে অপর একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে
বিপরীতমুখী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়।
এ
সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারও সজোরে মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। ত্রিমুখী
এই সংঘর্ষের ফলে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়
এবং মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারটি সড়কের ওপর দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে মাইক্রোবাসের চালক
ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাস ও প্রাইভেটকারের যাত্রীরা আহত হন।
দুর্ঘটনার
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয়দের সহায়তায়
হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে গুরুতর
অবস্থায় ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া
হয়েছে। এই দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
থাকে ।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালেও ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কক্ষে পানি প্রবেশ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের মেঝেতে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। অনেক রোগী ও স্বজনকে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনেও কেউ কেউ কক্ষ থেকে বের হতে পারছেন না। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি অপারেশন রোগী রোজীনা বলেন, আমি অপারেশনের রোগী। বাইরে থেকে একটি ডাব আনানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নিচে এত পানি আর পোকামাকড়ের ভয় থাকায় বের হতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে।
আরেক রোগী বলেন, রাতে এত পানি ছিল না। সকাল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে পানি বাড়তে থাকে। এখন ওয়ার্ডের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে। এতে আমাদের চলাফেরা ও চিকিৎসা নিতে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল জানান, সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালেও পানি প্রবেশ করে। শহরের নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পানি প্রবেশ করেছে। পানি দ্রুত অপসারণ এবং রোগীদের যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর এ সমস্যা আজ নতুন নয় দীর্ঘ বছর ধরে হাসপাতালে পানি ঢুকে।
মন্তব্য করুন


আগামী ৩ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত
হতে যাচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ অধিনায়ক
নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরকে সামনে রেখে বিশ্বকাপের সূচি
প্রকাশ করে আইসিসি।
এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এবারের
আসরে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দশটি দল। এর আগে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ৮টি দল সরাসরি
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। বাকি দুটি দল উঠে আসবে চলমান বাছাইপর্ব থেকে।
স্বাগতিক বাংলাদেশ পড়েছে বি গ্রুপে।
যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাছাইপর্বের দ্বিতীয়
দল।
অপর গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত,
নিউজিল্যান্ড পাকিস্তান ও বাছাইপর্বের প্রথম দল।
১৯ দিনের এই আসরে দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত
হবে মোট ২৩টি ম্যাচ। বাংলাদেশসহ গ্রুপ 'বি' এর সকল ম্যাচগুলো হবে ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয়
স্টেডিয়ামে। গ্রুপ 'এ'- এর সবগুলো ম্যাচের ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। ২০
অক্টোবর ঢাকায় ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে বিশ্বকাপের নবম আসরের। প্রথম সেমিফাইনালে
সিলেট ও দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে ঢাকায়। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচের জন্যই থাকবে রিজার্ভ
ডে।
আসরের প্রথম দিন বাছাইপর্ব থেকে আসা
দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন


রাজবাড়ীর
কালুখালীতে নিখোঁজের পরদিন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি পাটক্ষেত থেকে আসাদুল ইসলাম
(২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার পর তার লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার
চেষ্টা করা হয়।
সোমবার
(১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের সূর্যদিয়া
মাদ্রাসার পাশের পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কালুখালী থানা পুলিশ।
এর
আগে রোববার রাত ১০ টার দিকে আসাদুল ইসলামের নিখোঁজের বিষয়টি থানায় অবগত করেন তার পরিবার।
আসাদুল
ইসলাম মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি বালিয়াকান্দির
মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী বলে দাবি
করেছেন জেলা জামায়াতে অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম।
জানা
গেছে, রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন আসাদুল ইসলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খোঁজাখুঁজি
করে সন্ধান না পেয়ে রাত ১০ টার দিকে স্থানীয় থানা পুলিশকে নিখোঁজের বিষয়টি অবগত করে
তার পরিবার।
সোমবার
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পাংশা
সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, সকালে পাটক্ষেতে থেকে নিখোঁজ হওয়া
আসাদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আসাদুলকে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা
হয়েছে। আসাদুলের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
হত্যার কারণ উদঘাটন ও এরসঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাজবাড়ী
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আসাদুল মদাপুর ইউনিয়নের
৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সেক্রেটারি ছিলেন। গতকাল বিকেলে সোনাপুর
হাটে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অবহিত করা
হয়। আজ সকালে একটি পাটক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অভিযান চালিয়ে ১৪৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে। সোমবার (১৮ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, আমাগন্ডা বিওপির একটি টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালায়। এসময় সীমান্ত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সপুয়া বাজার এলাকায় মোঃ ফাহাদ মিয়ার ফার্নিচার দোকানের পেছনের বাথরুম থেকে ১৪৮ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
উদ্ধারকৃত গাঁজা চৌদ্দগ্রাম থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখার অভিযোগে পলাতক আসামি মোঃ ফাহাদ মিয়া (২৮), পিতা- মোঃ কামাল মিয়া, গ্রাম- নোয়াপুর, থানা- চৌদ্দগ্রাম, জেলা- কুমিল্লার বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বগুড়ায়
অজ্ঞাত এক যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর
আহত হয়েছেন আরও একজন।
সোমবার
(২৫ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা
হলেন আনিছুর রহমান (৩৫) ও তার মেয়ে আয়শা খাতুন (৪)। আহত পুষ্পা আক্তার (২৮) নিহত আনিছুরের
স্ত্রী। তারা পাবনা জেলার সুজানগর থানার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বগুড়া
ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, রংপুরে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে কর্মরত
আনিছুর রহমান তার স্ত্রী আয়েশা বেগম এবং মেয়ে পুষ্পকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেলে
গ্রামের বাড়ি পাবনায় যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী
এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত এক যানবাহনের ধাক্কায় তারা মোটরসাইকেল থেকে মহাসড়কের ওপর ছিটকে
পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয় এবং আয়েশা বেগম আহত হন।
খবর
পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার
করেন এবং আহত পুষ্পা আক্তারকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
করেন।
শাজাহানপুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি
ফুটেজ দেখে অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
দেওয়ানগঞ্জে কুরবানির পশুর হাটে মহিষের আক্রমণে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার
(২৪ মে) উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী কুরবানির পশুর হাটে একটি মহিষের আক্রমণে
রুহুল আমিন নামে একজন নিহত হন। একই ঘটনায় মজিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। পরে সোমবার
(২৫ মে) রাতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মজিবুর রহমানের মৃত্যু
হয়।
নিহত
রহুল আমিন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা
ও মজিবুর রহমান সানন্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিক্রির উদ্দেশ্যে কয়েকটি মহিষ সানন্দবাড়ী হাটে
নিয়ে আসেন। হাটে আনার পর একটি মহিষ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ সময় মহিষটি নিয়ন্ত্রণের
বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে মহিষটি হাটজুড়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং সামনে থাকা লোকজনকে
আক্রমণ করতে থাকে।
মহিষের
আক্রমণ থেকে বাঁচতে হাটের মানুষ আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। এ সময় রাজিবপুর উপজেলার
জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জন মহিষের আক্রমণে আহত হন। গুরুতর
আহত রুহুল আমিনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।
অপরদিকে
গুরুতর আহত মজিবুর রহমানকে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।
পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় তিনি মারা যান।
দেওয়ানগঞ্জ
মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, হাটে মহিষের আক্রমণে আহত মজিবুর
রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনের প্রাণহানির ঘটনা
ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
মন্তব্য করুন


নিত্য প্রয়োজনীয়
পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর ২টি কাঁচাবাজার তদারকি
করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি টিম।
আজ শুক্রবার
(১১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে শাহআলী সিটি কর্পোরেশন মার্কেট কাঁচাবাজার ও
শনির আখরা কাঁচাবাজারে তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তদারকি কার্যক্রম চলাকালে টিম দুটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে
মোট চার হাজার ৫শ’টাকা জরিমানা করে।
শাহ্আলী সিটি
কর্পোরেশন মার্কেট কাচাঁবাজার তদারকি টিমের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র
সহকারী সচিব মোছা. ফুয়ারা খাতুন।
এ সময় নিত্য প্রয়োজনীয়
পণ্যের মধ্যে চাল, ডাল, আলু, ডিম, সবজি ও মুরগীর বাজারে তদারকি করা হয়।
টিমের সদস্যরা
মূল্য তালিকা হালনাগাদ করাসহ সকল পণ্য ক্রয় ও বিক্রয়ের রশিদ যাচাই করেন।
এছাড়াও মূল্য
তালিকা সঠিকভাবে না টাঙানো, যথাযথভাবে না লেখা ও সংরক্ষণ না করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে
সতর্ক করার পাশাপাশি এক হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করে।
এ সময় দোকান মালিক ও ভোক্তারা তদারকি টিমকে জানান,
গত কয়েক দিনের তুলনায় ডিমের দাম হালি প্রতি পাঁচ টাকা কমেছে।
অপরদিকে রাজধানীর
শনিরআখড়ার কাঁচাবাজারে ডিম, পিঁয়াজ, কাঁচামরিচ, মুরগী ও চালসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয়
পণ্যের ক্রয়মূল্য ও বিক্রি মূল্য যাচাই করা হয়।
এ সময় মুরগী,
চাল, আলু, পিঁয়াজসহ ও অন্যান্য পণ্যের হালনাগাদ মূল্য তালিকা টাঙানোর বিষয়ে তাগিদ দেওয়া
হয় ।
এ সময় কয়েকটি
প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স না থাকা ও মূল্য তালিকা টাঙানো না থাকায় তিন
হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ অভিযানে বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় ও তার আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও মাস্টাররোল স্টাফদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকালে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুসিকের ৮৩২ জন কর্মীর হাতে মোট ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি কর্মীদের হাতে ঈদ উপহারের অর্থ তুলে দেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নগর পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য এই ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন। প্রত্যেক কর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার সময় নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে কুরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে কুসিক কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের কথা থাকলেও কুসিক ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
ইউসুফ মোল্লা টিপু নগরবাসীর প্রতিও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্ধারিত স্থানে কুরবানির বর্জ্য রাখলে দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে।
ঈদ উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও। পরিচ্ছন্ন কর্মী আবুল হাসান বলেন, অতীতে তারা এমন ঈদ উপহার পাননি। তবে বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার পেয়েছেন তারা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও কুসিক প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই কর্মী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়া, নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন চিশতীসহ কুসিকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন