

কুমিল্লার
১৪ উপজেলাতেই লেগেছে বন্যার ছোবল। স্মরণকালের ভয়াবহতার শিকার হয়েছেন কুমিল্লাবাসী।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িচং, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা অন্তত
আড়াই শ’ গ্রাম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলাজুড়ে ৭২৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে গোমতী, সালদা ও ঘুংঘুর নদীর ভাঙনের মাঝে পড়ে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষ এখন পানির তলায়। ডুবছে দেবিদ্বারও। লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, তিতাস উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। বন্যায় বাড়ছে প্রাণহানি, ভাঙনের তোড়ে ভেসে গেছে বাড়িঘর খেত খামার, মাছের প্রজেক্ট।
সরকারি হিসেবে, বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ২ শিশুসহ ৪ জন। বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬৭ হাজার। বেসরকারি হিসেবে, এসব সংখ্যা ছাড়িয়েছে বহু গুণ।
বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ায় খোঁজও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না দুর্গত এলাকাগুলোর।
এ দিকে কৃষি বিভাগের তথ্য, ৬০ হেক্টর কৃষি জমি আক্রান্ত হয়েছে বন্যায়। পনিতে তলিয়ে যাওয়া সবজির আবাদ সবই বিনষ্ট হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায়। তবে নৌকা ও স্পিডবোট কম থাকার কারণে সেসব ত্রাণও সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে উদ্ধার কাজও ব্যাহত হচ্ছে প্রকটভাবে।
পানি
উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বিপৎসীমার
১ সেন্টিমিটার ওপরের পানিও ঝুঁকির। বর্তমানে গোমতীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার
ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘণ্টায় দেড় থেকে ২ সেন্টিমিটার পানি কমছে।
মন্তব্য করুন


বিয়েতে
আনন্দ হৈ-হুল্লোড় স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এবার সামনে এসেছে ভিন্ন ঘটনা। রসগোল্লা কম পড়ায়
বিয়ে বাড়িতে ঘটেছে লঙ্কাকাণ্ড। এখানেই শেষ নয়, এ ঘটনা গড়িয়েছে শেষ পর্যন্ত থানা পুলিশে।
আজ
বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো
হয়েছে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, এ ঘটনায় বিয়ে ভেঙে গেছে। এরপর বরপক্ষের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেছে কনের
পরিবার। ভারতের বিহারের বুদ্ধগয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বুদ্ধগয়ার একটি হোটেলে বিয়ের
আয়োজন করা হয়। সেখানে রসগোল্লা কম পড়ায় পাত্র এবং পাত্রীর পরিবারের মধ্যে কার্যত লড়াই
বেঁধে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, এ ঘটনায় উভয়পক্ষ একে অপরকে ঘুষি, ধাক্কা
এমনকি চেয়ার তুলে মারামারি শুরু করেন। গত ১৯ নভেম্বরে এমন কাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ দিন হোটেলে বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে বিয়ের আচার মিটতেই পাত্র পক্ষের লোকজন রসগোল্লা
কম পড়ায় অভিযোগ করেন। এরপর মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ আসে।
পুলিশের
এক কর্মকর্তা জানান, মারামারিতে দু’পক্ষের কয়েক জন আহত হন। এরপর বরপক্ষের
বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে কনের পরিবার। পাত্রের বাবা জানান, রসগোল্লার ঘাটতি নিয়েই
মারামারি হয়েছিল। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তারা বিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু কনের পরিবার বেঁকে
বসেছিল।
অন্যদিকে
কনের মায়ের অভিযোগ, মেয়েকে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য আনা গয়না নিয়ে গেছে পাত্রের পরিবার।
কনের কাকা জানান, এত কিছুর পরেও তারা সমঝোতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ
হয়নি।
মন্তব্য করুন


বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত
করতে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে পুনঃতদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন
সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর
থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি
প্রথম থেকেই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সোচ্চার ছিলাম
এবং এখনো রয়েছি। এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবার এবং গত ৪
নভেম্বর বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বার ঘোষণা দেই, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত
হয়েছে। শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে নয়, একজন সাধারণ
নাগরিক ও সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য হিসেবে আমি শুরু থেকেই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার
দাবি করে আসছি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার
লক্ষ্যে জনগণের অধিকার, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। বিডিআর হত্যাকাণ্ডে
ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অবসরপ্রাপ্ত
বিচারক, সিভিল সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এই
কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সদস্য সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সদস্য ৫ জন, ৭
জন, ৯জনও হতে পারে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা একটু বেশি থাকবে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কী পুনঃতদন্তের
দিকে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেই আদেশ দিতে পারে আদালত। আর আমরা হলো
একটা শুধু প্রেস ইনকোয়ারি করতে পারি।
কতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে এমন
প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পাঁচ কার্যদিবসের সময় আমরা বলব। আগে কমিটি
গঠনের জন্য নামগুলো নিতে হবে। আপনারা জানেন এসব কমিটিতে সবাই আসতে চায় না। নাম সংগ্রহে
যদি সময় না লাগতো তাহলে অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে যেত। নাম পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে
তারপর আমরা সময়টা বলতে পারব।
কাজের পরিধি কী হবে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর
আলম বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার পর বলতে পারব।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত ড. নাসিম আহমেদসহ
বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লা জেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর বশির, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনউদ্দিন চিশতি, বিএডিসি (সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী রুবাইয়াত ফয়সাল আল মাসুম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান হীরা, সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন, কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
সভায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাস্তা ও ড্রেনের অবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যানজট সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই শহীদদের কবরের নির্মাণকাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া গৃহহীন জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য ঘর নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, মুরাদনগর উপজেলায় আহত ও গৃহহীন জুলাই যোদ্ধার জন্য ইতোমধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকতে হবে।” তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নথিপত্র সংরক্ষণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ কার্যালয়ের নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে।
সভায় কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন, নির্বিচারে কৃষিজমি ধ্বংস করা হচ্ছে। ড্রেজার ও এক্সকেভেটর ব্যবহার করে ইটভাটার জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) তুলে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, টপ সয়েল তৈরি হতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগে। এই টপ সয়েল রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে কৃষিজমি নিচু ও অনুর্বর হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকল দপ্তর প্রধানকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়
মন্তব্য করুন


রাজধানীর ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে তিনটি বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
আজ শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দিকে জাতীয় জরুরিসেবা নম্বর ৯৯৯-এ এমন সংবাদ পাওয়া যায়। ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ বোমা পাওয়ার সংবাদে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, আনন্দ সিনেমা হলের সামনে বোমাসদৃশ বস্তু আছে। এমন সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। তিনটি বোমাসদৃশ বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে কাজ করছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন একটি
দিন, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি
একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।২০২৪
সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদি
সরকার। তারা নির্বিচারে গুলি করেছে, গ্রেপ্তার করেছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের
তথ্য লুকাতে চেয়েছে, রাতের অন্ধকারে এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদের আটক করেছে।
তিনি
দেশবাসীকে কোন ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা না নোয়াতে এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণকর
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টে গুলিবিদ্ধ আহতদের তারা হাসপাতালে চিকিৎসা
নিতে দেয়নি। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন আহতদের ভর্তি না করা হয়। এ কারণে
বহু মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল
জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। ভালো ফলাফল করেও
চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি,
তদবির বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি
তার চাকরি হয়নি। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক
কোটা পদ্ধতি, যেটা মূলত ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটা হাতিয়ার, এর বিরুদ্ধে তরুণ
সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদী শাসকের টনক নড়েনি। দীর্ঘ এই সময়
প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল, যারা
আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে, কাজ করবে। স্বৈরাচারের
পক্ষের সঙ্গী হলেই তার চাকরি হবে, কাজ মিলবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এমনকি বিচার ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক
মণ্ডলেও এই ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। এদেশের গরীব-মেহনতি মানুষের পয়সা
লুট করে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। সীমাহীন দুর্নীতির
কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।
বিগত
১৬ বছরের নিপীড়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দেড় যুগে প্রতিটি নায্য
দাবি, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের
পিটিয়েছে। গত ১৬ বছরে যারাই সরকারের সমালোচনা করেছে, নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে কথা
বলেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার অথবা গুম করা হয়েছে। লাখ লাখ বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের
নির্বিচারে আটক-গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের
ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ—সবাই একত্রিত হয়েছে এক নতুন দিনের প্রত্যাশায়।
সমস্বরে তারা বলে ওঠে, এবার ফ্যাসিবাদকে যেতে হবে। তবু দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে
শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবসে জাতির সূর্য সন্তান জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত
কামনা করছি। জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টি হারিয়েছেন জাতির
পক্ষ থেকে আমি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এ জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ
থাকবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ এবং
যাবতীয় বিষয়াদির প্রশাসনিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা
হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৮৩৬টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি শহীদ পরিবারকে মোট ৯৮ কোটি ৪০
লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট যাঁরা আছেন,
তাঁদেরও কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর
পাশাপাশি আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ টাকা ও চেক বাবদ
মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও জানান, এর মধ্যে ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত জুলাইযোদ্ধাকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড,
তুরস্ক এবং রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বাবদ এ পর্যন্ত
৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
জুলাইযোদ্ধাদের
চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জেলা ও উপজেলা
পর্যায়ের সকল সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ
থেকে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জুলাইয়ের মহানায়কদের
আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন এই দেশকে আমরা একটি সত্যিকারের জনকল্যাণকর দেশ হিসেবে
গড়ে তুলতে পারব। আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের
সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এদেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র
থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বৈষম্যহীন
ও জনকল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, আজ আমরা কেবল অতীত
স্মরণ করতে আসিনি,আমরা একটি শপথ গ্রহণ করতে এসেছি। শপথ এই যে—আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের
কাছে মাথা নোয়াব না, আমরা প্রতিষ্ঠা করব একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র, যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ
আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাঁদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথচলার প্রেরণা। তাঁদের স্বপ্নই
হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।
মন্তব্য করুন


আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টকটন শহরে এক শিশুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গুলি চালার ঘটনায় চারজন নিহত এবং দশজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় স্টকটনের একটি রেস্তোরাঁয় এই ঘটনা ঘটে, জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লুসিল অ্যাভিনিউর ১৯০০ ব্লকে সন্ধ্যা ৬টার আগে হামলাটি সংঘটিত হয়। পুলিশের ধারণা, এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং তদন্ত চলছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। স্টকটনের ভাইস মেয়র জেসন লি ফেসবুক পোস্টে জানান, “এক শিশুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গুলি চালানো হয়েছে। ঠিক কী ঘটেছে তা বোঝার জন্য আমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”
হতাহতদের মধ্যে পূর্ণবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরাও রয়েছেন। বেশির ভাগ আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের জরুরি চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় শেরিফ অফিস জানিয়েছে, প্রথমে তারা ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পায়; তাদের মধ্যে চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ হামলাকারীর সনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারের জন্য কাজ করছে।
এ ধরনের সহিংস ঘটনা মার্কিন শহরগুলিতে সাধারণ হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং কমিউনিটি নেতারা এই ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


আগামী
২৬ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন ও একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই দিন সকালে একুশে পদক প্রদান করবেন এবং বিকেলে বাংলা একাডেমি
প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী
নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে
রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি
হিসেবে গুণিজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর
বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি
হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের
বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে সরকার।
এ সিদ্ধান্তকে প্রকাশকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
অনুষ্ঠান
দু’টি ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


মানববন্ধনে
বক্তব্য দেওয়ার সময় স্ট্রোক করে ইন্তেকাল করেছেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক
আবুল হাশেম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ সোমবার ( ১৯ জানুয়ারি ) বিকেলে তিনি ইন্তেকাল
করেন।
এদিন
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান জামায়াতের এমপিপ্রার্থী
মুফতি আমির হামজা।
ওই
পোস্টে তিনি বলেন, আমার অভিভাবককে হারিয়ে ফেলেছি।
আমাকে
হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আজ বাদ আসর বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য চলাকালীন সময় আমার অভিভাবক
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম স্ট্রোক করে দুনিয়ার সফর শেষ
করেছেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী
শরিফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী
পরিবেশে এমন সহিংস হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের
জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’আহত ওসমান হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত
করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এ ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয়
দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
একই
সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে হামলায়
জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে
আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং হামলার পেছনে
কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা থাকলে তা উন্মোচনের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা
হবে না। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
দোষীরা যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি
দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষ, কর্মী-সমর্থক এবং নাগরিকদের প্রতি শান্তি ও সংযম বজায় রাখার
আহ্বান জানান, যাতে আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত
হতে পারে।
ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন
হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে
ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি
এখন কোমায় আছেন বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস)
ডা. মোশকাত আহমেদ। তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদীর অবস্থা খুবই গুরুতর। তার মাথায় গুলিবিদ্ধ
হয়েছে। তিনি এখন কোমায় আছেন।
মন্তব্য করুন


বর্তমান পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি
ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল কীভাবে হবে, তা পরে
সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান
তপন কুমার সরকার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে, এসএসসির ফলাফলের সঙ্গে সমন্বয়
করে এইচএসসির ফলাফল প্রকাশের দাবিতে সচিবলায়ে বিক্ষোভ করেন এইচএসসির পরীক্ষার্থীরা।
সকাল থেকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হন তারা। দুপুরের দিকে স্লোগান দিতে
দিতে সচিবালয়ে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা।
তারা জানান, বন্যা, কোটা সংস্কারসহ
নানা কারণে গত ৫ মাস ধরে পরীক্ষার মধ্যে আছেন। এ ছাড়া কোটা সমন্বয় ও সরকার পতনের এক
দফা আন্দোলনে অনেক পরীক্ষার্থী নিহত ও আহত হয়েছেন। অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি। এমন পরিস্থিতিতে
বারবার পরীক্ষার পেছানোর ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। তাই আহতদের রেখে
এ বছর আর পরীক্ষা দিতে চান না তারা।
এ ছাড়াও তাদের এসএসসি ফলাফলের সঙ্গে
সমন্বয় করে দ্রুত এইচএসসির ফলাফল প্রকাশের দাবিও জানান তারা।
মন্তব্য করুন