

হবিগঞ্জের
বাহুবল উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন
আহত হয়েছেন।
বুধবার
(৮ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায়
আকিজ ভেঞ্চার কোম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের
মধ্যে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইউনিক পরিবহনের বাসচালক কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসিন্দা
তাজুল ইসলাম (৫০)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ডুবাঐ বাজার
এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি
সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের
তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
অন্যদিকে লাকি পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায়
ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন লাকি পরিবহনের চালকসহ উভয় বাসের
অন্তত ২০ জন যাত্রী। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার
করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
দুর্ঘটনার
পর প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে
থানা পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শেষে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি
সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শায়েস্তাগঞ্জ
হাইওয়ে থানার এসআই মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ইউনিক পরিবহন ও লাকি পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী
বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের মধ্যে আরও
একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


আজ শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সেনাবাহিনী প্রধান
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের
উদ্যোগে আয়োজিত শুভ কঠিন চীবর দান ও জাতীয় বৌদ্ধধর্মীয় মহাসম্মেলন-২০২৪ উপলক্ষে
ঢাকার মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন। সেনাবাহিনী
প্রধান সবাইকে শুভ কঠিন চীবর দান উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। সেই সাথে
পার্বত্য জেলাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান হতে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে প্রতিটি ধর্মের নিজ নিজ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে
উদযাপনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম গ্রহণে সদা প্রস্তুত।
একইসাথে তিনি সম্প্রীতির দেশ গঠনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থেকে একে
অপরকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায়
উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য অনুষ্ঠানে আগত ঢাকাস্থ বিদেশী মিশনের সম্মানিত
কূটনীতিকগনকে ধন্যবাদ জানান।
সেনাবাহিনী প্রধান পার্বত্য জেলা সমূহে শান্তি ও
সম্প্রীতির উন্নয়ন ঘটিয়ে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে পার্বত্য এলাকায়
বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালিদের সচেষ্ট থাকতে অনুরোধ করেন। এছাড়াও প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যমন্ডিত পার্বত্য জেলাসমূহে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয়
ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবন বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পার্বত্য জেলাসমূহে অধিকতর স্কুল, কলেজ ও
বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতাকে দেশে ও বিদেশে
ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে।
সবশেষে তিনি সারা দেশব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণ
কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীসহ সকল
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করায় বুদ্ধিস্ট
ফেডারেশনের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সেনাসদরে
সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের
প্রতিনিধি দল। সেসময় সেনাবাহিনী প্রধান তিন পার্বত্য জেলায় শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা
ও কঠিন চীবর দান উদযাপন উপলক্ষে আর্থিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার
ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎসব সমূহ পালন করার
জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল কার্যক্রম গ্রহণের আশ্বাস প্রদান
করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ বাংলাদেশ
বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের অনুকূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে এক কোটি টাকার চেক
অনুদান হিসেবে প্রদান করেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এ বছর পার্বত্য চট্টগ্রামসহ
সারাদেশে ২৬৬টি বৌদ্ধ বিহারে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুভ কঠিন চীবর
দান পালিত হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব
জেনারেল স্টাফ ও জিওসি ৯ পদাতিক ডিভিশন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানের সভাপতি
শাসনস্তম্ভ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের মহোদয়, প্রধান ধর্মদেশক ভদন্ত এস লোকজিৎ মহাথের
মহোদয়সহ বিভিন্ন বিহার থেকে আগত পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ, সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপদস্থ
কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব, ঢাকাস্থ বিদেশী মিশনের কূটনীতিক ও
সর্বস্তরের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গন এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


দুর্নীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। সীমান্তে পিঠ প্রদর্শন করবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা। সেখানে এসব নির্দেশনা দেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, দুর্নীতিকে কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। যারা ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত,তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে। বিজিবিকে আইন অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধ বিজিবির মূল দায়িত্ব। এ সময় তিনি বিজিবিকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না। সীমান্তে পিঠ প্রদর্শন করবেন না। নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করুন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও টেলি কনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে বিজিবির সব রিজিয়ন কমান্ডার, সেক্টর কমান্ডার, ব্যাটালিয়ন কমান্ডারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১১ নারীকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে
পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে তাদের আটক করা
হয়।
বিষয়টি
নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম মিয়া জানান, গোপন
তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ওই নারীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবার বাড়ি জেলার
নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামে।
পুলিশের
দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া নারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রী সেজে চলাচল করতেন।
সুযোগ বুঝে নারী যাত্রীদের গলার চেইন, কানের দুলসহ স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
রেলওয়ে
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন
থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো
হয়েছে।
এ
ধরনের অপরাধ দমনে রেলওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান
তিনি।
মন্তব্য করুন


গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।
সরকার পদত্যাগের পর সারাদেশে বিভিন্ন থানায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ
জনতা। থানা ও ফাঁড়িতে হামলার পর অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। গত ৪ সেপ্টেম্বর
থেকে লুট ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। আর এ অভিযানে এখন পর্যন্ত
বিভিন্ন ধরণের ১১১ টি অস্ত্র উদ্ধার ও ৫১ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে
এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের
মধ্যে একে-৪৭ একটি, রিভলবার ৭টি, পিস্তল ৩০টি, রাইফেল ৯টি, শটগান ১৫টি, পাইপগান ৩টি,
শুটারগান ১৬টি, এলজি ১৫টি, বন্দুক ৫টি, গ্যাসগান একটি, চাইনিজ রাইফেল একটি, এয়ারগান
একটি, এসবিবিএল ৩টি, এসএমজি ৩টি ও একটি টিয়ার গ্যাস লঞ্চার রয়েছে।
উল্লেখ্য, যৌথ অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,
পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,
কোস্টগার্ড এবং র্যাব রয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।সোমবার (১৮ মে) রাতে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী ভোমরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১১ কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু।
গ্রেপ্তার আসামির জহির ইসলাম ওরফে জহির হিজড়া (৪৬)। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জাপর আলীর ছেলে। নিহত হিজড়ার নাম এনামুল হক শিশির (২৯)।
র্যাব জানায়, গত ১৩ মে সকালে বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি টিনশেড বাসায় এনামুল হক শিশির (২৯) নামে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তির হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মে ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেখানে জহিরকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, নিহত শিশির ও আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করতেন। তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তারা নিহত শিশির ও আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বের মাদক মামলাও রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও বাকি কেউ জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার ও সুয়াগাজী এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে কয়েক মিনিটের এ মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে আটক এবং পাঁচটি যানবাহন জব্দ করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হঠাৎ করেই শতাধিক নেতাকর্মী মহাসড়কে জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি দেখা যায়। মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মহাসড়কের একটি অংশ প্রদক্ষিণ করেন। প্রায় তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত এ কর্মসূচি শেষে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল পিয়াসের নেতৃত্বে এ ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এদিকে মিছিলের খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা যুবদল নেতা এরশাদ এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা রবিউলের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে মিছিলকারীদের ধাওয়া দিলে তারা বিভিন্ন দিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে ৪৫ জনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে মিছিলকারীদের বহনে ব্যবহৃত তিনটি মাইক্রোবাস ও দুটি বাসসহ মোট পাঁচটি যানবাহন জব্দ করা হয়।
সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন যত দেরি হবে, ষড়যন্ত্র তত
বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, সাবেক স্বৈরাচার দেশি-বিদেশি
প্রভুদের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করেই চলেছে।
বিএনপির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সম্মেলন-২০২৪
এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।
আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গার
স্থানীয় টাউন ফুটবল ময়দানে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল
ইসলাম আলমগীর।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির
এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুধুমাত্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের
মাধ্যমেই সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব বলে এ সময় মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যে সংস্কারের
কথা বলছে সেই সংস্কার বিএনপিও চায়। বেশি সংস্কার করতে গিয়ে নির্বাচন করতে দেরি হলে
ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ নিতে পারে।
একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে
বিদ্যমান সমস্যা সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
চুয়াডাঙ্গায় জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক
কাউন্সিলের আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। সেখানে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
নির্বাচন করা হয়। রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখার ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি বিষয়ক বিভাগীয়
প্রশিক্ষণ কর্মশালার ও আয়োজন করা হয়।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশিসহ
বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
আগামীকাল
(১১ এপ্রিল) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন,মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের
বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মাঝে
ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ঈদের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে, গ্রামগঞ্জে,
সারা বাংলায়, সারা বিশ্বে। এদিন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের
আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন। ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর ঐক্যের
বন্ধন। ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানির স্থান নেই। মানবিক
মূল্যবোধ, সাম্য ও পারস্পরিক সহাবস্থান এবং পরমতসহিষ্ণুতাসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ইসলাম
ধারণ করে। ইসলামের এই সুমহান বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। বিশ্বব্যাপী
নানাবিধ সংকটের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ মন্দার
প্রভাব দৃশ্যমান। ফলে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাভাবিক জীবনধারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি
হচ্ছে। এমতাবস্থায়, আমি সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর
আহ্বান জানাচ্ছি, যেন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই ঈদের আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা
মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের
সাক্ষ্যগ্রহণ দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার
(২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী ও ভিকটিমের
বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
পরে
পর্যায়ক্রমে ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর
রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয়
তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন এবং কনস্টেবল রোমা আক্তার আদালতে
সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।
পরে
আদালত দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কার্যক্রম মূলতবি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী
পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, বাকি সাক্ষীরাও আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। সময় সংকুলান হলে আজই
সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে।
এর
আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে
এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। তাদেরকে ঢাকা
মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের আগে দুই আসামিকে এজলাসে
হাজির করা হয়।
সোমবার
আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বাদীসহ ১৭
সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
গত
২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন। এর আগে একই
দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার
উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার
সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে
নিয়ে যান আসামি স্বপ্না আক্তার। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে আসামিদের
কক্ষের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ
করলে কক্ষের ভেতর শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে মাথা দেখতে পান তারা।
জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা
হয়। এ ঘটনায় ২০ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন


তিস্তাসহ
বিভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একমত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইংয়ের বৈঠকে
এ ঐকমত্য হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
চীনের
রাজধানী বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’-এ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপ-প্রেস
সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা কামনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের
যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকারের চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে পানিসম্পদ
ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
দপ্তর জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে
চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা চান। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইং ইতিবাচক সাড়া দিয়ে
বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিস্তা
মহাপরিকল্পনা হল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা;
যার মূল লক্ষ্য—নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ।
এই
পরিকল্পনার আওতায় নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, খনন ও প্রশস্তকরণ, জলাধার ও ব্যারেজ উন্নয়ন,
এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। তাতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি কমানো
এবং বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
প্রকল্পটি
বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং নদীভাঙন
কমবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়বে।
তবে
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন। উজানে ভারতের পানি
ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশে তিস্তার পানিপ্রবাহ মৌসুমভেদে ব্যাপকভাবে
ওঠানামা করে। ফলে প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর
পানি বণ্টন চুক্তির ওপর।
২০১৬
সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি
সমীক্ষা চালিয়ে এই মহাপরিকল্পনার নকশা চূড়ান্ত করে।
পরে
ভারতও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে এই প্রকল্পে যুক্ত হতে এবং অর্থায়নে প্রবল আগ্রহ
প্রকাশ করে, যার ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্পটি ঝুলে যায়।
২০২৪
সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী
সরকার পুনরায় চীনের অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ২০২৯ সালের মধ্যে
প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
পাঁচ
বছর মেয়াদি প্রথম ধাপের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা (৭৫০ মিলিয়ন
ডলার)। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বা ৫৫০ মিলিয়ন ডলার চীনের কাছে ঋণ হিসেবে
চাওয়া হয়েছে এবং বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হবে।
এ
প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার
প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকার আশা করছে।
২০০৫
সালে সই হওয়া দুই দেশের সমঝোতা স্মারক এবং চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের গত বছরের বাংলাদেশ
সফরের প্রসঙ্গ টেনে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায়
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।
বাংলাদেশের
নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীন সরকারের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
চীনের
পানিসম্পদ মন্ত্রী লি কুওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে
লাগাতে পারে।
বাংলাদেশের
পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং এ খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান
জানান চীনের এ মন্ত্রী।
বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র
বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী
আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
মন্তব্য করুন