

একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার মন্নাস আলী ছিলেন ২০ বছরের তরুণ। সেসময়
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে সেটি তার পেটে লাগে। প্রচুর রক্তক্ষরণ
হয়; কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
সেই
সময় থেকে গুলিটি তার পেটেই ছিল। সারাজীবন এজন্য তাকে অনেক ভোগান্তি ও কষ্ট পোহাতে হয়েছে।
কিন্তু টাকার অভাব আর ভয়ের কারণে গুলিটি আর বের করা হয়নি।
এখন
যন্ত্রণা অসহ্য পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। ৫৫ বছর পর শনিবার দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মন্নাস আলীর গুলিটি বের করেছেন।
মন্নাস
আলীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব
দেওয়া দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তানজিরুল
ইসলাম রায়হান। মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।
স্বজনরা
বলেন, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময়
গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে মাটিচাপা
দেন।
এর
প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে হামলা চালায়।
হামলার সময় তারা অর্ধশতাধিক মানুষকেও আটক করে। পরে তাদেরকে একটি ঘরের ভেতরে আটকে রেখে
বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি করা হয়।
এতে
অধিকাংশই নিহত হন। মাত্র কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে পারেন। মন্নাস আলীও তাদের
মধ্যে একজন ছিলেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি গুলি তার পেটে
বিদ্ধ হয়।
মন্নাস
আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, “বাবা বেশিরভাগ সময়ই অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা
করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করা নিয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় বাবার শরীর থেকে গুলিটি
বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।”
মন্নাস
আলীর পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, “আমার শ্বশুর সব সময় বলতেন, তার শরীরে গুলি রয়েছে।
আজ গুলি বের করার পর আমরা নিজের চোখে সেটি দেখলাম। বাবা বলতেন, মৃত্যুর পর যেন গুলি
বের না করে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন, আজ গুলিটি বের
হয়েছে।
দুর্গাপুর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, “টাকার অভাবে তিনি
এতদিন চিকিৎসা নিতে পারেননি। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করেছি।”উদ্ধার
হওয়া গুলির বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক।
মন্তব্য করুন


‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (০৭ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নারীদের সম্ভাবনা ও কর্মদক্ষতাকে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের নারীরা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
ড. ইউনূস বলেন, ৮ মার্চ- আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। নারী অধিকার রক্ষায় এই দিনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর উদযাপিত হয়। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়: ‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন-নারী ও কন্যার উন্নয়ন’।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-শ্রমিক-জনতা যে অভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিল গত জুলাই-আগস্টে তার সম্মুখ সারিতে ছিল নারী। লাখ লাখ ছাত্রী বিভিন্ন ক্যাম্পাসে দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। একাধিক নারী এই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদতবরণ করেছেন। আমি এই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তারা এগিয়ে যাচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতিত, দুস্থ ও অসহায় নারীদের জন্য শেল্টার হোম, আইনি সহায়তা দিতে ‘মহিলা সহায়তা কেন্দ্র’, কর্মজীবী মহিলাদের আবাসন ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সহায়তা ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ড. উইনূস বলেন, বাংলাদেশের অদম্য মেয়েরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ফুটবল
বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াইয়ে এই
দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মাঝে টানটান উত্তেজনা।
চলমান
টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার এই দুই জায়ান্ট। আর
তাতেই ফুটবলবিশ্বে নতুন করে রোমাঞ্চের হাওয়া বইতে শুরু করেছে—
আবারও কি দেখা হচ্ছে এই দুই চিরশত্রুর?
চলমান
আসরে আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপ এবং ব্রাজিল ‘সি’
গ্রুপ থেকে রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট কেটেছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নকআউটের এই
ধাপ পার হতে পারলে দলগুলোকে খেলতে হবে শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের বৈতরণী।
তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর খবর হলো, ফাইনালের আগেই মাঠে গড়াতে পারে ‘সুপার
ক্লাসিকো’।
অবশ্য
হাইভোল্টেজ এই মহারথ দেখতে হলে দুই দলকেই পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা
যদি নিজ নিজ গ্রুপ থেকে রাউন্ড অব ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা সফলভাবে
টপকাতে পারে, তবে সেমিফাইনালেই একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান
চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই নকআউট নিশ্চিত করেছে।
তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ মেলাতে আলবিসেলেস্তেদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে জর্ডানের
বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত।
মেসিরা
যদি গ্রুপসেরা হতে পারে, তবে রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এইচ’
গ্রুপের রানার্সআপ দল।
অন্যদিকে,
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপপর্বের শুরুটা করেছিল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের
ড্র দিয়ে। তবে পরের দুই ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফেরে সেলেসাওরা। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে
উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে পা রেখেছে তারা। রাউন্ড অব ৩২-এ ব্রাজিলের
প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ (নেদারল্যান্ডস,
সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে যেকোনো একটি দল)।
পরিসংখ্যানের
পাতায় দুই দলের লড়াই সবসময়ই সেয়ানে সেয়ানে। এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল ১০৬টি ম্যাচে মুখোমুখি
হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার জয় ৪১টি ম্যাচে, আর ব্রাজিল জিতেছে
৩৯টিতে। বাকি ২৬টি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে। এবার সেমিফাইনালে দুই পরাশক্তির দেখা
হলে সেই লড়াই যে আরও জমজমাট হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মন্তব্য করুন


এবারের পূজা খুব ভালোভাবে হবে। কোনো ধরনের কোনো অসুবিধা হবে না। এ জন্য আপনাদেরও সহযোগিতা চাই। প্রতিবার তো পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকে, এবারে বাড়তি র্যার, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিগগিরই বাজার একটি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে মনে করেন তিনি। যদি কোনো সিন্ডিকেট থাকে, সেটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভেঙে দেবে।
কৃষিক্ষেত্রে উন্নতিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রশংসা করেন তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আমাদের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু আবাদযোগ্য ভূমি কিন্তু বাড়েনি। মনে রাখতে হবে, দেশের উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা এই কৃষিক্ষেত্রের। কৃষির উন্নতির জন্য কাজ করছে এই ইনস্টিটিউট।’
এ সময় উপস্থিত
ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবদুল্লাহ ইউছুব আখন্দ, কৃষি সচিব মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়া, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীন, পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আযাদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


সুনামগঞ্জে
মাদক কারবারি ‘পাথর বাবা’সহ আরও চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ
সময় তাদের সঙ্গে থাকা বিপুল পরিমাণ গাঁজা, হেরোইন সদৃশ পাউডারসহ মাদক সেবনের নানা উপকরণ
জব্দ করা হয়।
রোববার
(২৬ জুলাই) গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সদর উপজেলার কলাইয়া গ্রামে থেকে তাদের
আটক করা হয়।
আটকরা
হলেন- কলাইয়া গ্রামের মজিবুর রহমান ওরফে পাথরশাহ (৫৫), আব্দুল হাই (৪৭), জুবায়ের (২৮)
এবং দিরাই উপজেলার সাকিতপুর গ্রামের আক্কাস মিয়া (৩২)।
জানা
গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার আড়ালে রাখতে লালসালু গায়ে নিজেকে পাথর শাহ নামে পরিচিত
করে তোলেন মজিবুর রহমান। মানুষের কাছে হয়ে ওঠেন ‘পাথর বাবা’।
বিভিন্ন সময় চতুর্দিকে পাথর বসিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে ভক্তদের নিয়ে চলে গাঁজা-ইয়াবা সেবনের
আসর। এসব ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কোনোভাবে
খবর পেয়েই সটকে পড়তেন তারা। পরে রোববার রাতে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অভিজিৎ ভৌমিকের
নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশকে ক্রেতা সাজিয়ে পাঠিয়ে হাতেনাতে চারজনকে মাদক
বেচাকেনার অপরাধে আটক করা হয়।
সুনামগঞ্জ
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাথর বাবা’
তার মাদক ব্যবসাকে আড়ালে রাখতে একটা দোকান খুলে বসে পাথর শাহ নাম দিয়ে। আমরা কয়েকবার
অভিযান চালিয়েছি কিন্তু তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। রাতে তাকেসহ চারজনকে হাতেনাতে আটক করা
হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন


বিশ্বব্যাপী আলোচিত এবং সমাদৃত প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ এবং ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ধারণাটি
বাস্তবায়নে সমবায় অধিদপ্তর অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী
উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব
ভুঁইয়া।
আজ রোববার (৫ জানুয়ারি) ঢাকায় সমবায়
অধিদপ্তর পরিদর্শন এবং পায়রা সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী
গৃহীত ‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’ একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যার ভিত্তি হচ্ছে
শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ। এ সময় ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’
এবং ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ধারণাটি বাস্তবায়নে কাজ করতে সমবায় অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সমবায় অধিদপ্তরের
প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং পারফরম্যান্স নিম্নমুখী বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু তা ঊর্ধ্বমুখী
করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমবায় আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের
নির্দেশনা দেন তিনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার
বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সমবায় অধিদপ্তরের সদস্যদের
নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে পাইলটিং প্রকল্প গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। এছাড়াও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সুষম সম্পদের বণ্টনের
জন্য সমবায় অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভার শুরুতে সমবায় অধিদপ্তরের
নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সমবায় কার্যক্রম সম্পর্কে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন
দেন যুগ্ম নিবন্ধক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মোখলেছুর রহমান। সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রবল
বৃষ্টিপাতের জেরে মিয়ানমারের একটি পরিত্যক্ত জেড পাথরের খনিতে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ
ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে মূল্যবান পাথর বা পাথরের অংশবিশেষের খোঁজ করছিলেন কয়েকজন মানুষ।
তাদের মধ্যে পাঁচ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এখনো
১৫ জন নিখোঁজ আছেন। ধারণা করা হচ্ছে তারা ধসে পড়া আবর্জনার নিচে চাপা পড়ে আছেন। আজ
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ব গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা
এএফপি। মিয়ানমারের খনিজ আহরণ খাতে বিধিনিষেধ মেনে না চলার প্রবণতা আছে। বিশেষত, উত্তর
কাচিন রাজ্যে। ওই এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেড পাথরের উৎস হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবেশী
চীনসহ এশিয়ার অনেক দেশে ধর্মকর্ম ও অন্যান্য কাজে মূল্যবান এই পাথরের বিশেষ কদর আছে।
২০২১
সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সুচির গণতান্ত্রিক সরকারের পতনের পর থেকেই
মিয়ানমারে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে আছে।
বর্তমানে
মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি মূল্যবান পাথরের খনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কবলে আছে। তারা এসব
খনি থেকে আহরিত সম্পদ থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে নিজেদের যুদ্ধের অর্থায়ন করে।
রোববার
কাচিন-এর হাকান্ত টাউনশিপে ফ্লাডলাইটের আলোতে প্রায় ২০জন অনিবন্ধিত জেড আহরণকারী কাজ
করছিলেন। আকস্মিক ভূমিধসে তারা চাপা পড়েন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের খবরে জানানো
হয়।
গ্লোবাল
নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানায়, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পুরনো খনিটির
ভেতর থাকা আবর্জনার স্তূপগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।‘অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
প্রায় ১৫ জন নিখোঁজ আছেন। নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য খনন কার্যক্রম চলছে’,
জানায় পত্রিকাটি। বর্ষাকালে মিয়ানমারের খনিগুলোতে
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই হয়।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে
রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার
আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত "গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী
তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৫ জুলাই যখন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে?
রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে
বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল
এই আন্দোলনের সাথে।" দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার
প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ
দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য
আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের
প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই
নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে
‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী
সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।”
বিগত
স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।” তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে
আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আওয়ামী
লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ
বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার
(Judicial Process) মাধ্যমে
ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক
ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের
কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের
দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের
মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ
ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার
মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা
চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।”
সালাহউদ্দিন
আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার
বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর
মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার
বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে
হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।
জুলাই
আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না
করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই জুলাই বিপ্লবের
কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ
মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ
সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা
হচ্ছে। মন্ত্রী '৭১ ও '২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের
একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব
হাবিব উন নবী খান
সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা
করা হয়।
মন্তব্য করুন


সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বুধবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সাজজাদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চাকরিতে প্রবেশের বয়সীমা ৩৫ এবং অবসরের বয়সবৃদ্ধির দাবি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আবেদন করেন।
আর তখন করা সেই আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধির সম্পৃক্ততা থাকায় সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ডে-কেয়ার সেন্টারের শিশুদের সঙ্গে আজ প্রাণোচ্ছ্বল
সময় কাটিয়েছেন।
আজ
মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সোয়া ১১টায় ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে
তিনি মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শনে
যান।
ডে-কেয়ার
সেন্টারজুড়ে তখন শিশুদের খেলনার টুংটাং শব্দ, কোথাও কচি কণ্ঠের হাসি আর আনন্দময় চিৎকার।
ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপে মুখর চার দেয়াল। এমন প্রাণচঞ্চল মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিরাপত্তার কড়া দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ১৮ মিনিট সময়
কাটান শিশুদের সঙ্গে। এ সময় তিনি যেন ফিরে গেলেন সেই নির্ভার শৈশবে। প্রধানমন্ত্রীকে
কাছে পেয়ে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা আনন্দে বিভোর হয়ে ওঠে।
প্রবেশের
পরপরই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান সরকার প্রধান তারেক রহমান। মুহূর্তেই তাকে ঘিরে ধরেন
ছোট্ট শিশুরা। কেউ হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে, কেউ টেনে নিয়ে যায় খেলনার কাছে। কয়েকজন
নিজেদের হাতে আঁকা ছবি দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীও মন দিয়ে সেসব দেখেন,
মুগ্ধ হাসিতে প্রশংসা করেন। কখনও আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন শিশুদের মাথায়, কখনও তাদের
কথায় হেসে ওঠেন প্রাণ খুলে।
এ
সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘিরে থাকা ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন। শিশুদের বিভিন্ন
রকমের চকলেট, টফি ও ললিপপ নিজ হাতে দিয়েছেন। দিয়েছেন গিফট ব্যাগও। চকলেট-টফি দিতে দিতে
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কেউ কি বাকি আছে? পেয়েছো তোমরা সবাই?
প্রধানমন্ত্রী
আরও বলেন, ‘আজকে কার জন্মদিন বলো তো? একেক জনকে বলতে শোনা যায়, আংকেল আমার, আংকেল আমার।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো আমরা এক সঙ্গে কেক কাটি।’
শিশুদের নিয়ে হাতে হাতে রেখে কেক কাটেন সরকার প্রধান। এ সময়ে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে
পুরো কক্ষ। ‘শিশুরা আনন্দে বলছিলো হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থ ডে।’
এর মধ্যে একজন শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মুখে তুলে কেক খাইয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীকে
কাছে পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন ছোট্ট শিশু আরিবা। সে বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী আংকেলকে
দেখে আমি যে কী খুশি বলতে পারছি না। আংকেলের সঙ্গে মজা করে কেক খেয়েছি। আংকেলও কেক
খেয়েছেন। কি মজা কি মজা। আংকেল খুব ভালো, খুব সুইট।’
টেবিলে
রাখা পুতুল আর চকলেট, ললিপপ দেখিয়ে দিয়ে আরিবা বলে, এই যে আংকেল আমাদের গিফটও দিয়েছেন।
ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না এখানে শিশুদের কিভাবে যত্ন নেওয়া
হয় তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী
ওই সময়ে জানতে চান, শিশুদের কি কি খাবার দেওয়া হয়। ওদের মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে
কি না তা খেয়াল রাখতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে থাকা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মহিলা
ও শিশু মন্ত্রণালয় এইসব শিশু দিবাযন্ত্র কেন্দ্র পরিচালনা করে। ঢাকাসহ সারাদেশে এ ধরনের
ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে ২০টি। তিনি আরও জানান, চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এই কেন্দ্রে
সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। এই কেন্দ্রে শিশুরা সংখ্যায় ৬০ জন। আজ উপস্থিত ৫৫ জন।
প্রধানমন্ত্রী
ডে কেয়ার সেন্টারটিতে আনন্দঘন অবস্থান শেষে
হাত নেড়ে ‘টা-টা’ দিয়ে শিশুদের কাছ থেকে বিদায় নেন।
প্রধানমন্ত্রী
যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন শিশুরা হাত নেড়ে, সালাম দিয়ে বিদায় জানান। শিশুদের নিষ্পাপ
হাসি আর ভালোবাসার ভেতর প্রধানমন্ত্রী যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন দায়িত্বের
কঠিন বাস্তবতা। সেন্টারটি পরিদর্শনের সময়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ছাড়াও ভূমি প্রতিমন্ত্রী
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


পানি
সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার
কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় এ কার্যক্রম শুরু
হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
(৭ মে) সকাল পৌনে ৮টায় উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদিতে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন
কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
পানি
সম্পদ মন্ত্রী বলেন, খাল খনন ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি কর্মসূচি।
সেই
ধারাবাহিকতায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
অনুযায়ী নতুনভাবে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খাল খননের মাধ্যমে নতুন জাগরণ সৃষ্টি
হয়েছে।’
তিনি
আরো বলেন, ‘খাল খননের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে,
গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে, কৃষির উন্নয়ন ও পরিবেশগত উন্নয়ন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর
আমরা নতুনভাবে এ উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। ভবিষ্যতেও আরো খাল খনন কার্যক্রম শুরু হবে।
খাল
খননে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব স্থানে বড় অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, সেগুলো
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। পরে মন্ত্রী কাজলী নদী পরিদর্শন করেন এবং
নদীতে কলকারখানার বর্জ্য দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময়
উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো.
মেনহাজুল আলম পিপিএম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, এবং উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন।
মন্তব্য করুন