

ইউরোপে
পরিবহনের সময় কিটক্যাট চকলেটের একটি বড় চালান চুরি হয়েছে। এতে ইস্টার উৎসবের আগে গ্রাহকদের
জন্য ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গার্ডিয়ানের
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ মার্চ প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট বার ট্রাক থেকে চুরি
হয়ে যায় বলে জানা গেছে, যার মোট ওজন প্রায় ১২ টন।
কিটক্যাটের
মূল কোম্পানি নেসলে জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরবরাহকারীদের নিয়ে বিষয়টি
তদন্ত করছে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, চুরি হওয়া ট্রাকটি ইতালির একটি কারখানা থেকে পোল্যান্ডে যাচ্ছিল। কিন্তু পথে
এই চুরির ঘটনা ঘটে। এখনপর্যন্ত ট্রাক বা চকলেটগুলোর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এ
ঘটনার পর কোম্পানি মজা করে তাদের বিখ্যাত স্লোগান ব্যবহার করে বলেছে, আমরা সবসময় মানুষকে
কিটক্যাটের সঙ্গে একটু বিরতি নিতে বলি, কিন্তু চোরেরা কথাটা খুব সিরিয়াসভাবে নিয়ে ১২
টনের বেশি চকলেট নিয়ে ‘বিরতি’ নিয়েছে!
এই
চকলেটগুলো ছিল কিটক্যাটের নতুন ফর্মুলা ওয়ান (এফ১) থিমের সিরিজ। এই চকলেটগুলো রেসিং
কারের মতো আকারে তৈরি করা হয়েছিল।
নেসলে
জানিয়েছে, এই চুরি হওয়া পণ্যগুলো অবৈধ বাজারে বিক্রি হতে পারে। তবে প্রতিটি চকলেটে
থাকা ব্যাচ কোডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এগুলো শনাক্ত করতে পারবে।
মন্তব্য করুন


কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও কমেনি শীতের দাপট। বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। হিমেল হাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলা। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গতকাল ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অপর দিকে ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। শীত উপেক্ষা করে বাড়ী থেকে বের হলেও কাজ পাচ্ছে না অনেকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুর্যের দেখা মিলছে না। দিনের অধিকাংশ সময় থাকছে মেঘাচ্ছন্ন। এ সময় উওরীয় হিমেল হাওয়ায় ঠাণ্ডার তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীত ও কনকনে ঠান্ডায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি কাশিসহ - শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের মিরাজুল বলেন, এই ঠান্ডায় বাইরে কাজ করতে যাচ্ছি। খুবই সমস্যা হচ্ছে,দুদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছি। শীতকালে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোয় মুসকিল হয়েছে। অভাবের সংসার, ছেলেদের গরমের কাপড় কিনবো তাও পারছি না।
কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান বলেন, ধরলা নদী বেষ্টিত এই ইউনিয়ন। এখানকার মানুষ বেশীরভাগ দিনমজুর। এখানে এ যাবত সরকারিভাবে ৩১০ টি কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জানুয়ারি মাস জুড়েই তাপমাত্রা এরকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ মাসের ২৫ তারিখের পর তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
হাদির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এ ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে। শরীফ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে আগামী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করছি। এ উপলক্ষে শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—যে
বিশ্বাস শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধারণ করতেন, যে বিশ্বাস দেশনেত্রী খালেদা জিয়া
ধারণ করেছেন—বাংলাদেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। সব অত্যাচার-নির্যাতনের
মধ্যেও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। বলেছেন, এই দেশের মানুষই তার পরিবার। আসুন, আমরা পরিশ্রম
করি, ঐক্যবদ্ধ থাকি, দেশকে গড়ে তুলি। কারণ সবার আগে—বাংলাদেশ।
সোমবার
(৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী
জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। জনসভায় ঢাকা–১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম
রবি সভাপতিত্ব করেন।
তারেক
রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে সমালোচনা করে নয়, জনগণের ভাগ্য বদলের সুস্পষ্ট
পরিকল্পনা দিয়েই দেশের উপকার করা সম্ভব বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক
রহমান বলেন, আজকের এই নির্বাচনী জনসভায় আমরা চাইলে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়ে
অনেক কথা বলতে পারি। বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু
শুধু কথা বললেই কি দেশের বা জনগণের কোনো লাভ হয়? না—লাভ হয় না। দেশ ও জনগণের প্রকৃত লাভ
তখনই হয়, যখন একটি রাজনৈতিক দলের হাতে থাকে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সুস্পষ্ট
পরিকল্পনা ও কার্যকর কর্মসূচি।
বিএনপি
কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কৃষি কার্ড, দেশের মায়েদের, গৃহিণীদের পাশে দাঁড়াতে ফ্যামিলি
কার্ড চালু করবেন বলে জানান তারেক রহমান। গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক, খেটে খাওয়া নারীদের
স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতেই এটি করা হবে বলেন তিনি।
সারা
দেশের স্কুলশিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রদানের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা
নিশ্চিত করা হবে বলেন তারেক রহমান। শহর ও গ্রাম—সব জায়গায় প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায়
স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
প্রায়
দেড় কোটির মতো প্রবাসী ভাই-বোনের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় দেশ চলে বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, তাদের হয়রানি কমাতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবন
নিশ্চিত করতে চালু করা হবে প্রবাসী কার্ড।
দেশের
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন
ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের
জন্য সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
বিএনপির
আরও অনেক পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সবগুলোর (পরিকল্পনা) মূল লক্ষ্য
একটাই, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষকবলিত
বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন, এমনকি খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যম বাংলাদেশকে ‘এমার্জিং টাইগার’ বলে স্বীকৃতি দেয়। তিনি (খালেদা জিয়া)
মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। এই ইতিহাসই
প্রমাণ করে—বিএনপি অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম।’
আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষের জন্য একটি কাঙ্খিত দিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১২
তারিখের নির্বাচন শুধু একটি ভোটের দিন নয়। এই নির্বাচন সেই ভোট, যার জন্য বাংলাদেশের
মানুষ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে।
নির্বাচন
নিয়ে ষড়যন্ত্র আছে, অপচেষ্টা আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, একটি
পক্ষের লোকজন নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তাই ঢাকা–১০
সহ সারা দেশের গণতন্ত্রপ্রত্যাশী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি বিকাশ নম্বর, এনআইডি
নম্বর বা অন্য কোনো তথ্য চায়, বুঝতে হবে সেখানে ষড়যন্ত্র আছে। এসব অপচেষ্টা রুখে না
দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।’
এর
আগে, বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বক্তব্য
দেন। সেখানে তিনি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপির
লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সব নাগরিক দিন–রাত
যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।
তারেক
রহমান আজ নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে মোট আটটি
জনসভায় অংশ নেবেন। বনানী ও কলাবাগানের পর ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গী মাজার রোডে, ঢাকা-৯
আসনে মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠে , ঢাকা-৫ আসনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে জনসভায় তারেক
রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে , ঢাকা-৬
আসনে ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে লালবাগ বালুর মাঠে তিনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
এর
আগে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমান ঢাকা উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে জনসভায় অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের টঙ্গীতে কেমিক্যাল গোডাউনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদা (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।
আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহিন আলম বলেন, গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) টঙ্গীর সাহারা মার্কেট এলাকায় একটি কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। তার শরীরের প্রায় ১০০ ভাগ পুড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী এই যোদ্ধার মৃত্যুতে সহকর্মীসহ পুরো ফায়ার সার্ভিস পরিবার শোকাহত। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
গতকাল একই ঘটনায় আরেক ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ মারা যান। তার শরীরেরও ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। বর্তমানে একজন ৪২ শতাংশ ও আরেকজনের পাঁচ শতাংশ দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে দুই যুবককে গণপিটুনিতে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, নিহতরা গরুচোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পুলিশ জানায়, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের সজের মোড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দশানী গ্রামের মজনু মিয়া (২৭) এবং ছয়আনি গ্রামের দীন ইসলাম (২২)।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, একই রাতে পাঁচ সদস্যের একটি চোরচক্র ইমামনগর গ্রামের ইউনুস মিয়ার বাড়ির গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করেছিল। বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসীরা চারপাশ থেকে তাদের ঘেরাও করে। চক্রের তিন জন পালিয়ে গেলেও মজনু মিয়া ও দীন ইসলামকে ধরে বিক্ষুব্ধ জনতা গুরুতরভাবে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে সিংগাইর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে এই চোরচক্র এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করছিল। এর আগেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে জামিনে বেরিয়ে তারা পুনরায় অপরাধে জড়িয়েছিল।
সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা তাদের অন্যান্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেছে।
ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং হত্যাকাণ্ডসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত দুই যুবকের নামে ইতোমধ্যে একাধিক চুরির মামলা দায়ের ছিল এবং তারা তালিকাভুক্ত অপরাধী ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বরের সামনে বন্দুকের মুখে নববধূকে অপহরণ করার এক চাঞ্চল্যকর
ঘটনা ঘটেছে ভারতের ওড়িশায়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফেরার পথেই প্রাক্তন প্রেমিক
সশস্ত্র অবস্থায় পথরোধ করে কনেকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ওড়িশা রাজ্যের বলাঙ্গির জেলাতে
এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলাঙ্গির জেলার বাসিন্দা হরিবন্ধু প্যাটেল
বিয়ের জন্য কান্তামাল এলাকায় যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতি ও পরিবারের সদস্যরা
গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তারভা রোডের বাদাবান্ধা এলাকার কাছে তাদের গাড়ির গতিরোধ
করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রেমিক আরও দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বরকে আগ্নেয়াস্ত্র
দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক নববধূকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযোগে বলা হয়, অস্ত্রের মুখে বর ও তার সঙ্গে থাকা স্বজনরা
অসহায় হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই আটকে থাকেন। পরে বর স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের
করেন।
তারভা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিতা কিডো জানান, বিয়ের
অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় তিন সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। তারা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে
ভয় দেখায় এবং কনেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং
অপহৃত নারীকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য
ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন


গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।
সরকার পদত্যাগের পর সারাদেশে বিভিন্ন থানায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ
জনতা। থানা ও ফাঁড়িতে হামলার পর অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। গত ৪ সেপ্টেম্বর
থেকে লুট ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। আর এ অভিযানে এখন পর্যন্ত
বিভিন্ন ধরণের ১১১ টি অস্ত্র উদ্ধার ও ৫১ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে
এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের
মধ্যে একে-৪৭ একটি, রিভলবার ৭টি, পিস্তল ৩০টি, রাইফেল ৯টি, শটগান ১৫টি, পাইপগান ৩টি,
শুটারগান ১৬টি, এলজি ১৫টি, বন্দুক ৫টি, গ্যাসগান একটি, চাইনিজ রাইফেল একটি, এয়ারগান
একটি, এসবিবিএল ৩টি, এসএমজি ৩টি ও একটি টিয়ার গ্যাস লঞ্চার রয়েছে।
উল্লেখ্য, যৌথ অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,
পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,
কোস্টগার্ড এবং র্যাব রয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী
বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা
ড. আসিফ নজরুল।
আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
নির্বাচনের সময় নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য
রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে মন্তব্য করে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান কোনো দলের
দায়িত্ব না এটা সরকারের দায়িত্ব। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি আগামী
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক দল তো বিভিন্ন
উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কথা বলে এবং ওইটা তো একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। আপনারা তো এটা সব
সময় দেখেছেন। বাংলাদেশে ট্রেডিশনালি এসব রাজনৈতিক কথাবার্তা হতো, এখনো ঠিক ওরকমভাবেই
কথাবার্তা হচ্ছে। কথাবার্তায় খুব বেশি গুণগত পরিবর্তন হয়নি। ফলে নির্বাচনের সময় নিয়ে
কে কী বলবেন এটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখবেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের
পক্ষ থেকে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আছি। আমাদের স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) সর্বজন স্বীকৃত একজন
বিশ্বপর্যায়ে নন্দিত মানুষ। উনি নিজে ঘোষণা করেছেন, তার এ ঘোষণা থেকে আমাদের পিছিয়ে
আসার বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অনেক সময় বেশি মূল্য ধরা হয়, এরপরে
পিডিবির বিষয় নিয়ে অনেক কথা হয়। আপনারা জানেন বালিশ কাণ্ডে কি হয়েছিল। আমরা আরো এরকম
বালিশ কাণ্ড চাই না। এজন্য দুদক সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে সেগুলো আমরা আইনের
পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে একজন অভিজ্ঞ কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আজ
থেকে কাজ শুরু করবেন। প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতি করা হয় এগুলো আসলে আমাদের বিষয়
না এটার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় রয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের রয়েছে তারা এগুলো দেখবে।
আমরা সর্বোচ্চ দুর্নীতির বিষয়গুলো দেখতে পারবো। এজন্যই দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো শক্তিশালী
করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর সাবেক
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দাফন করা হবে চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
দুপুরে
উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে উপদেষ্টা
পরিষদকে অবহিত করেছেন।
মঙ্গলবার
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শুরু হয় এক মিনিটি নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। আসিফ নজরুল
বলেন, গোটা জাতির মতো সরকারে যারা আছেন তারাও শোকাহত। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় খালেদা
জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আগামীকাল
সাধারণ ছুটি।
সরকার
জানাজা ও দাফন ঘিরে সব ধরনের সহযোহিতা দেবে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ
করেন। সবশেষ সেনাসদরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলাপ হয়েছিল। তিনি সভায়
সেদিনের স্মৃতিচারণ করেন।
আইন
উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে বেগম জিয়ার অবদান অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। এমন একজন নেত্রীর
চলে যাওয়াটা একটি বিশেষ মুহূর্ত। সবাই শোকাহত। সবার উচিত জানাজা ও দাফনে যথাযথ সম্মান
প্রদর্শন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
উপদেষ্টা
পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস ও হাইকমিশন আছে সেগুলোতে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।
এদিকে
দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গোটা জাতি আজ গভীর
শোক ও বেদনায় আচ্ছন্ন। তাঁর ইন্তেকালে আমরা এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছি। দেশের গণতান্ত্রিক
রাজনীতিতে তাঁর অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন