

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার শান্তিনগর এলাকা থেকে এক নৈশপ্রহরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন।স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত রাজারহাট উপজেলার মেরিস সিগারেট কোম্পানির কার্যালয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতি প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে নৈশপ্রহরী তপন কুমার সরকারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাত দল প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন মালামালসহ কয়েক লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নম্বর বান্দরবান আসনের ১৮২ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে দুর্গম ১২টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী ও নির্বাচনী জনবল আনা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে হেলিকপ্টার ।
রোববার দুর্গম ও যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় এসব কেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ১২টি হেলিস্যুটি ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রোয়াংছড়ি উপজেলায় ১টি, রুমা উপজেলায় ৩টি, থানচি উপজেলায় ৭টি ও আলীকদম উপজেলায় ১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানের ৭ উপজেলার ২ পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮হাজার ৫৮৩জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৬ জন। ১৮২টি কেন্দ্রে ভোটকক্ষ থাকবে ৭২৭টি।
বান্দরবানের রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্গম এলাকার ১২টি হেলিস্যুটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সহায়তায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে যাবতীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আনা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।
মন্তব্য করুন


পবিত্র শবে বরাত কবে পালিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ সোমবার। এ লক্ষ্যে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায়, মাগরিবের নামাজের পর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা দ্রুত ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য নির্ধারিত ফোন নম্বর ছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে তথ্য জানানো যাবে।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী শাবান মাসের ১৫তম রাতেই (১৪ শাবান দিবাগত রাত) পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়। এই মাস শেষ হলেই শুরু হয় মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান।
চাঁদ দেখা গেলে সোমবার থেকেই শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং সে অনুযায়ী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাবান মাসের প্রথম দিন ধরা হবে। তখন পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে।
অন্যদিকে, যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে মঙ্গলবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং শাবান মাস শুরু হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। সে ক্ষেত্রে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, উত্তরাঞ্চল কৃষক প্রধান এলাকা। কৃষির সঙ্গে জড়িত দেশের অনেক কোম্পানি।
আমরা সেসব কোম্পানির সাথে কথা বলেছি। ঈদের পর তাদের সাথে বসব। উত্তরাঞ্চল থেকে কৃষিভিত্তিক
ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেখানে কৃষকদের সন্তানরা চাকরি পাবেন।
সোমবার
(১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া খাল খনন পরবর্তী আয়োজিত
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক
রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে অনেক কথা বলেছি। বলেছি সারাদেশে ৪ কোটি পরিবারের ফামিলি
কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আমরা সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড দিতে শুরু করেছি। মধ্যপ্রাচ্যে
অনেক মানুষ কাজ করে। তাদের বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে
যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে অর্থনীতির ওপর চাপ পড়েছে। কিন্তু আমরা যে ওয়াদা করেছি সেগুলো
এরই মধ্যে শুরু করেছি।
তিনি
বলেন, খাল কাটার কাজ শুরু করেছি। আগামী মাস থেকে কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র,
প্রান্তিক ও মধ্য কৃষকরা কার্ড পাবেন। শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকদের বন্ধু।
আমরা কৃষকদের বন্ধু। কৃষক, কৃষানি ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব। তাই তাদের ভালো রাখতে
চাই। দেশের কৃষকদের শক্তিশালী ভিত্তির ওপর রাখতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, আমরা এমন একটি দল করি, যেই দলের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ।
যেই কাজ করলে সাধারণ মানুষ খুশি হয় আমরা সেই কাজ করি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সাহাপাড়া খাল
খনন শুরু হলো, খালটি ১২ কিলোমিটার খনন শেষ হলে ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। এই খাল থেকে
পানি নিয়ে কৃষকরা ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারবে। সুবিধার আওতায় আসবে সাড়ে ৩
লাখ মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয় এই এলাকার কৃষকরা যে ফসল উৎপাদন করছে, তার থেকে ৬০ হাজার
মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এই খালের দুই পাশে রাস্তা নির্মাণসহ ১০ হাজার
বৃক্ষরোপণ করা হবে। খাল খনন শেষ হলে আমি আবার পুনরায় দেখতে আসব।
প্রধানমন্ত্রী
আরও বলেন, গ্রামের মানুষদের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি। কৃষি যদি বাঁচে তাহলে কৃষক বাঁচবে,
তাহলেই দেশ বাঁচবে। খালগুলো খনন না হওয়ার কারণে ভরাট হয়ে গেছে। নদীও ভরাট হয়ে গেছে।
বর্ষার মৌসুমের অনেক খরা হয়, পানি পাওয়া যায় না। আমরা এই বর্ষার পানিতে কাজে ব্যবহার
করতে চাই। আমরা এমনভাবে পানি ব্যবহার করতে চাই, যাতে করে সমগ্র এলাকার মানুষ উপকার
পায়। আজকে খাল খনন শুরু করলাম। আগামী ৫ বছর সমগ্র দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন
করব। উজান থেকে যখন পানি আসে তখন নদীর পাশের মানুষ ও পশুর ক্ষতির পাশাপাশি ঘর-বাড়ি
নষ্ট হয়।
তিনি
বলেন, আমরা খাল খননের পর বর্ষার সময়ে অতিরিক্ত পানির ধরে রাখব। উজান থেকে নেমে আসা
পানি ধরে রাখতে পারলে আমরা সবাই উপকৃত হব। শুষ্ক কিংবা বর্ষা মৌসুমে কৃষকের পানি সরবরাহ
করতে পারি। কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমরা এত মানুষের খাবার বিদেশ থেকে আনা সম্ভব নয়।
তাই কৃষকের উপরে গুরুত্ব দিতে হবে। তাই পানিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
পরিকল্পনার
পাশাপাশি সজাগ থাকবে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারা বিশৃঙ্খলা করতে চায় তাদের বিষয়ে
খেয়াল রাখতে হবে। এই কাজগুলো আমার পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজগুলো
করতে হবে। নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে যেমন আমরা সরকার গঠন করেছি। তেমনি আপনাদের সমর্থন
ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়। জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। এই দেশের মালিক
জনগণ।
এই দেশের মালিক আপনারা। আপনারা যদি আমাদের সঙ্গে থাকেন তাহলে যে কোনো পরিকল্পনা কাজ
বাস্তবায়ন করতে পারব।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা
পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার
আহমেদ কচির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার
মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ মন্ত্রী
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ
হোসেন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের
হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের এমপি
সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি, জনগণের রায়ে বিএনপির
সরকার গঠনের পর আমরা সেগুলো একের পর এক বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।
আজ
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন,
খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
কর্মসংস্থান
সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তারেক রহমান আরো বলেন,
'সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের জন্য
আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করে আমরা সবাই
মিলে ভালো থাকবো, জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।
এখন সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু
করেছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে এই কার্ড সারাদেশে সবাই পাবেন। আগামী ১৪ এপ্রিল তথা পয়লা বৈশাখ
থেকে চালু হচ্ছে 'ফার্মার্স কার্ড' বা 'কৃষক কার্ড'। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে
শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।'
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, 'আজ থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয়
গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে
এই সহায়তা দেয়া হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি
নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু
দিয়ে চেষ্টা করবে।'
নাগরিক
কিছু দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি
কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের
প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, আমি আশা করি, আগামী ১০ বছরে রাজনৈতিক এবং
অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পাবো।'
নাগরিকদের
দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের
প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের
দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ
কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। আমি বার বার একটি কথা
বলি, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।'
ধর্মীয়,
সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অর্থনৈতিকভাবে
সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে হয়তো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে কিন্তু ধৈর্য,
সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায়
কিংবা দয়া, এই সকল বৈশিষ্টগুলো অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে
উঠতে পারে না। এ ধরণের মানবিক বৈশিষ্টগুলো অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে
উজ্জীবিত হওয়া জরুরি।' তিনি বলেন, 'প্রতিহিংসা এবং সহিংসতা' মুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ
বিনির্মাণের ক্ষেত্রে ধর্মের উদারনৈতিক শিক্ষণীয় বক্তব্যগুলো অতুলনীয়। আমার বিশ্বাস,
একটি নৈতিকতা সমৃদ্ধ মানব সমাজের গঠনের জন্য
প্রতিটি
ধর্মেই ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। সুতরাং, একটি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ
মানসিকতা তৈরীর ক্ষেত্রে আপনাদের মতো ধর্মীয় জ্ঞান সম্পন্ন মানুষদের ভূমিকা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম,
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহি বাকি, শায়েখে চরমোনাই ও ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


রমজানে
সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলো আগামী ২১ মার্চ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ২৫ মার্চ পর্যন্ত
খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রমজানে
খোলা রাখা বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর মঙ্গলবার (১২ মার্চ) এ সিদ্ধান্তের কথা
জানানো হয়।
শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ মার্চ - ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৫ দিন সরকারি-বেসরকারি
মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুলের শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত
বছরের ১৩ ডিসেম্বর সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুলের ২০২৪ সালের (১৪৩০-১৪৩১
বঙ্গাব্দ) শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৫ দিন সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক
ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুলের শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে।
প্রাথমিক
ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, সরকারি প্রাথমিক
স্কুলগুলো ১০ রমজান পর্যন্ত খোলা থাকবে।
মন্তব্য করুন


নিজেকে
কোনো নির্দিষ্ট ইমেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি। তাই
অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তিনি বারবার ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন। বাস্তব
ঘটনার প্রেরণায় নির্মিত সাম্প্রতিক ছবি ‘হক’-এ তাঁর অভিনয় আবারও সেই ধারারই প্রমাণ।
এই ছবি, ফিটনেস, চরিত্র নির্বাচন এবং দীর্ঘ অভিনয়জীবন—সবকিছু
নিয়েই সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ইমরান।
মুম্বাইয়ের
একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকারে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন
প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি। বয়স ৪৬ হলেও ইমরানের ফিটনেস এখনো চোখে পড়ার মতো। ফিট
থাকার রহস্য জানতে চাইলে মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘কোনো রহস্য নেই। আমার স্ত্রী আমাকে
ঠিকমতো খেতে দেয় না।’ এরপর গম্ভীর হয়ে যোগ করেন, শৃঙ্খলাপূর্ণ
জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই আসল চাবিকাঠি। করোনা সময়ের কথাও
টেনে এনে তিনি বলেন, ‘অনেকে তখন যা খুশি খেয়েছে, আমি বরং ফিটনেসে মন দিয়েছিলাম। এখন
তার সুফল পাচ্ছি।’
ইয়ামি
গৌতমের সঙ্গে অভিনীত ‘হক’ ছবিটি ১৯৮০ সালের আলোচিত শাজিয়া বানো
মামলা থেকে অনুপ্রাণিত। বাস্তব ঘটনার ছায়া থাকায় দায়িত্ববোধ ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই
মনে করেন ইমরান। তাঁর ভাষায়, ‘সংবেদনশীল বিষয় হলে আরও বেশি সতর্ক হতে হয়। যাঁদের জীবনের
ঘটনা থেকে গল্প এসেছে, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান রাখতে হয়।’
তিনি জানান, ছবিটির জন্য বিস্তর গবেষণা করা হয়েছে, যাতে বাস্তব কাহিনি বিকৃত না হয়।
ইদানীং ইমরানকে ধূসর চরিত্রে বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি নিজে কোনো চরিত্রকে নেতিবাচক
বা ধূসর হিসেবে দেখতে চান না। বলেন, ‘চরিত্রকে বিচার করতে শুরু করলে অভিনয়েও পক্ষপাত
চলে আসে।’ ‘হক’ ছবিতে তাঁর চরিত্র আব্বাস খান—শাজিয়া
বানোর স্বামী। ইমরানের মতে, আব্বাস নিজের বিশ্বাস ও যুক্তির জায়গা থেকেই লড়াই করেছে।
দর্শকের চোখে সে ভুল হতে পারে, কিন্তু চরিত্রটির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে। এখানেই গল্পের
আসল শক্তি। চরিত্র প্রস্তুতির প্রসঙ্গে ইমরান জানান, প্রথমে তিনি পরিচালক ও লেখকের
দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেন। একজন আইনজীবীর চরিত্র হওয়ায় আদালতের নিয়মকানুন, সংলাপের
ভাষা—সবকিছু নিয়েই গবেষণা করেছেন। পরিচালক সুপর্ণ ভার্মার নির্দেশনায়
অতিনাটকীয়তা এড়িয়ে আদালতের মর্যাদা বজায় রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য।
একজন
মুসলিম অভিনেতা হিসেবে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করা কঠিন ছিল কি না—এই
প্রশ্নে ইমরান স্বীকার করেন, শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল। তবে তিনি নিশ্চিত ছিলেন, ছবিটি
কোনো সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে না। ‘আমরা বিচার করিনি, শুধু ঘটনার প্রেক্ষাপট
দেখিয়েছি,’ বলেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে টিকে থাকার বিষয়ে ইমরানের স্পষ্ট মত—বিভিন্ন
ধরনের চরিত্রে কাজ করাই একমাত্র উপায়। তাই এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেছে কাজ করেন।
বছরে এক বা দুইটির বেশি ছবি করেন না। তাঁর কথায়, ‘৫০টির বেশি ছবির পর নতুন কিছু খুঁজে
পাওয়া কঠিন, কিন্তু একই জায়গায় ঘুরপাক খেতে চাই না।’
আরিয়ান
খান পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’-এ তাঁর অভিনীত দৃশ্যগুলো দর্শকদের
মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘আমিও অবাক হয়েছিলাম। এতটা ভাইরাল
হবে ভাবিনি।’ সিরিজটির প্রশংসা করে তিনি আরিয়ান খানকে একজন পরিশ্রমী
ও মেধাবী নির্মাতা হিসেবেই দেখেন। সব মিলিয়ে, ইমরান হাশমির কাছে গল্পই আসল। ইমেজ ভাঙা,
নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া আর নিজেকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করাই তাঁর অভিনয়জীবনের মূল
দর্শন।
মন্তব্য করুন


পার্বত্য অঞ্চলে হামলায় কারা জড়িত তাদের
বের করতে শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী
উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ।
ভূমি উপদেষ্টা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে
সম্প্রীতি নষ্ট করতে বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা এসব হামলা চালিয়েছে তারা
কোত্থেকে এসেছে কেউ জানে না।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ের
স্থানীয় সরকার বিভাগ কার্যালয়ে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স হেলেন লাফেইভের
নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপদেষ্টা হাসান আরিফ বলেন, আমরা
ছাত্র-জনতা-শ্রমিকের ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করছি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা
করতে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু
নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রণালয়গুলো ব্যক্তি নির্ভর হওয়া উচিত না, সিস্টেম নির্ভর হওয়া উচিত। এমন একটা সিস্টেম
প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যাতে মন্ত্রী হিসেবে যে ব্যক্তিই আসনে অধিষ্ঠিত হোক না কেন, সিস্টেমের
কোনো ব্যত্যয় না ঘটে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত রাষ্ট্রদূতদের বাংলাদেশিদের জন্য তাদের ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে সরিয়ে ঢাকায় অথবা প্রতিবেশী অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের অনুরোধ জানান।
আজ সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা এই মিসইনফরমেশন ঠেকাতে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।
১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে ১৫ জন প্রতিনিধি তাদের মতামত তুলে ধরেন। বৈঠকে শ্রম অধিকার, বাণিজ্য সুবিধা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনাল অ্যাক্ট, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে উভয়ের অঙ্গীকার ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, ডিসেম্বর মাসে গোটা মাসজুড়ে আমরা বিজয় উদযাপন করি। বিজয়ের মাসে আপনাদের সঙ্গে এমন একটি ইনট্যারক্টিভ আলোচনায় অংশ নিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।
বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি গত ১৬ বছর ধরে অত্যাচার, শোষণ, বলপূর্বক গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরেন। অধ্যাপক ইউনূস অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রের বিষয় উল্লেখ করে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ব্যাংকিং সিস্টেমকে কীভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছিল সে সব কথা জানান।
বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্যাপক আকারে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা এই মিসইনফরমেশন ঠেকাতে
আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা যে ব্যাপক টাকা পাচার করে নিয়ে গেছে তা দিয়ে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইইউ প্রতিনিধিদের বিশদভাবে জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত রাষ্ট্রদূতদের বাংলাদেশিদের জন্য তাদের ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে সরিয়ে ঢাকায় অথবা প্রতিবেশী অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সীমিত করায় অনেক শিক্ষার্থী দিল্লি গিয়ে ইউরোপের ভিসা নিতে পারছেন না। ফলে তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। ভিসা অফিস ঢাকা অথবা প্রতিবেশী কোনো দেশে স্থানান্তর হলে বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই উপকৃত হবে।’
বৈঠকে উপস্থিত পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, ইতোমধ্যে বুলগেরিয়া বাংলাদেশিদের জন্য তাদের ভিসা সেন্টার ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে স্থানান্তর করেছে। তিনি অন্য দেশগুলোকেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান।
সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানান ইইউ প্রতিনিধিরা। বেশ কিছু পরামর্শ ও সুপারিশ তুলে ধরে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রইস খান নামে এক পাকিস্তানি নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন।
আজ
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার সময় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২
থেকে তিনি মুক্তি পান। পরে দুপুর দেড়টার সময় লাল রঙের গাড়িতে করে মূল ফটক দিয়ে
বের হয়ে যান তিনি।
কাশিমপুর
কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার মো. আল মামুন কালবেলাকে তথ্যটি নিশ্চিত
করেছেন।
রইস
খান পাকিস্তানের করাচি জেলার গুলজার হিজরি থানার দিন মোহাম্মদের ছেলে। তিনি মাদকদ্রব্য
নিয়ন্ত্রণ আইনে রমনা থানার করা মামলায় কারাভোগ করছিলেন।
কারাগার
সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কারাভোগ করছিলেন। পরে ২০০৫ সালের
৭ জুলাই তার সাজা হয়। চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তার সাজার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। দীর্ঘদিন
ধরে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ আটক ছিলেন।
এ
বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার মো. আল মামুন জানান, দীর্ঘদিন
ধরে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে তিনি কারাগার-২ এ আটক ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে
১২টার সময় বিশেষ শাখার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দূতাবাসের প্রতিনিধিদের নিকট তাকে হস্তান্তর
করা হয়।
মন্তব্য করুন


২৭
লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী মেহজাবীন
চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
আজ
সোমবার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. আদনান জুলফিকার শুনানি
শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ
বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বলেন, আমরা দুজনের পক্ষে আদালতে জবাব দাখিল
করেছি। আদালতকে বলেছি মামলার ৭৯ লাইনের বক্তব্য সাজানো ও মনগড়া।
বাদীর
সঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাইয়ের কোনো দেখা হয়নি। হুমকি-ধামকির কোন প্রশ্নই আসেনা।
শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি নথিজাত করেছেন।
এদিন
মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান আদালতে উপস্থিত হন।
এসময়
মেহজাবীনের মুখে কাল মাস্ক ছিল। পরে তাদের উপস্থিতি শুনানি হয়। শুনানি শেষে তারা আদালত
প্রাঙ্গণে ছেড়ে যান।
এর
আগে গত ১০ নভেম্বর পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ও হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জারি করা হয়।
এ
বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। পরে ১৬ নভেম্বর
মেহজাবীন ও তার ভাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন।
মামলার
সূত্রে জানা গেছে, আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে
মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং
বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক
কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিবো,
কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা
চাইতে যান তিনি।
তাকে
১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন
ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
তারা
বলেন "এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না।তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে
জানে মেরে ফেলব।' এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন
করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের
করার জন্য পরামর্শ দেয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন