

আফগানিস্তানে
প্রথমবারের মতো বাল্যবিয়েকে আইনি স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে তালেবান সরকার। মানবাধিকার কর্মীদের
মতে, গত সপ্তাহে অনুমোদিত এই নতুন ‘লজ্জাজনক’ বিবাহবিচ্ছেদ আইনটি কার্যকর হলে কোনো
মেয়ে বা তরুণীর পক্ষে তার স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ নেওয়া অসম্ভব
হয়ে পড়বে। তালেবানের এই পদক্ষেপকে আফগান নারী
ও শিশুদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতা হিসেবে দেখছেন দেশটির অধিকার কর্মীরা।
আফগানিস্তানে
জোরপূর্বক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান না থাকলেও আন্দোলনকারীরা
বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ১১ বছরের বেশি
বয়সী মেয়েদের শিক্ষার ওপর তালেবানের নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই এই প্রবণতা তীব্র রূপ নিয়েছে।
একটি
বেসরকারি খসড়া সমীক্ষা বলছে, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে
কম বয়সে বা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশেরই বয়স ১৮ বছরের কম। তালেবান
শাসনে বাল্যবিয়ের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা তো নেই-ই, বরং নতুন এই আইনটি এমন
এক পরিস্থিতি তৈরি করছে যেখানে কোনো মেয়ে যদি দাবিও করে যে তার অমতে বিয়ে হয়েছে, তবুও
স্বামী রাজি না থাকলে সে কোনোভাবেই আইনি বিচ্ছেদ পাবে না। এমনকি স্বামী নিখোঁজ থাকলে
বা ভরণপোষণ না দিলেও একজন নারী এককভাবে ডিভোর্স চাইতে পারবেন না।
এই
বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বেশ কিছু নারী অধিকার রক্ষা
আন্দোলন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ফাতেমা নামের এক আফগান নারী আন্দোলনকারী ক্ষোভ প্রকাশ
করে বলেন, নারীবিরোধী শত শত ডিক্রি জারির পর তালেবান এখন বাল্যবিয়েকে তাদের আনুষ্ঠানিক
আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার
নিশ্চিত করার পরিবর্তে তারা নারীবিরোধী আইন জারি এবং মানুষের স্বাধীনতা দমনে ব্যস্ত।
আফগানিস্তানে
জাতিসংঘের সহায়তা মিশনও (ইউনামা) এই আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই
ডিক্রি আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার হরণের আরও একটি বড় ধাপ এবং এটি আইনের মাধ্যমে
নারীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যকে পাকাপোক্ত করছে।
অবশ্য
আন্তর্জাতিক মহলের এবং দেশের ভেতরের এই তীব্র সমালোচনাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে
তালেবান সরকার। তালেবান নিয়ন্ত্রিত জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, যারা এই ব্যবস্থার শত্রু, ইসলামের ওপর যাদের ক্ষোভ রয়েছে
এবং যারা ইসলামিক ব্যবস্থার ভিত্তির বিরোধিতা করে, তাদের এই ধরণের বিক্ষোভে কান দেওয়ার
কোনো প্রয়োজন সরকারের নেই।
আফগানিস্তান
হিউম্যান রাইটস সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বাল্যবিয়ের শিকার অধিকাংশ মেয়েই
চরম পারিবারিক সহিংসতা এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি
দেশটির দাইকুন্দি প্রদেশে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরী স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার
হয়ে মারা গেছে। তার বাবা জানান, বিয়ের মাত্র দুই মাস পর থেকেই তার মেয়ের ওপর নির্যাতন
শুরু হয় এবং প্রতিবারই স্থানীয় প্রবীণরা সালিশের মাধ্যমে তাকে স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে
বাধ্য করেন।
আফগানিস্তান
ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের আব্দুল আহাদ ফারজাম এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা
দিয়ে বলেন, তালেবানের নতুন এই সংহিতা বাল্যবিয়েকে বৈধতা দিচ্ছে এবং বিয়েতে নারীর স্বাধীন
সম্মতির অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এটি মূলত পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী
করছে এবং নারীদের একটি আইনগতভাবে অসম ও অধীনস্থ অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন


যশোরে
বিশেষ অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। এ সময় তাদের
কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল
জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ
জানায়, গত ১৫ জুলাই
দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে
যশোর সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই (নিরস্ত্র) মো. জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে একটি দল কোতোয়ালি মডেল
থানার আরবপুর ইউনিয়নের ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার পশ্চিম পাশের সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. ইমদাদুল হক জিসান (২৪)
ও মো. তৌহিদুজ্জামান রাসেল (২৪)-কে আটক করা
হয়। এ সময় আরও
কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশের
দাবি, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সরকার কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়ার প্ল্যাটফর্ম
ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন ও অনলাইন জুয়ার
কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো পর্যালোচনা করে অনলাইন জুয়া পরিচালনার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে
আটক দুইজনের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি সুজুকি
মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আটকরা হলেন শার্শা উপজেলার গোকর্ণ এলাকার বাসিন্দা মো. ইমদাদুল হক জিসান এবং
ট্যাংরালী এলাকার বাসিন্দা মো. তৌহিদুজ্জামান রাসেল। পুলিশ জানায়, ১৬ জুলাই তাদের
আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত
ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত
আহমেদ শুক্রবার প্রথম প্রহরে (রাত ১২ টার পর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে
অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় বলেছেন, বাঙালি জাতি সত্ত্বার
একটি প্রাথমিক স্তম্ভ একুশ। ব্যক্তিগতভাবে এক আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে আমার একুশের
সঙ্গে। আমার মা একজন ভাষা সৈনিক, ভাষা কন্যা।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার পর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের
নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ
মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় দেশের ভাষা আন্দোলনে
শহীদদের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়, এবং জাতির গৌরবোজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনের
ঐতিহ্যকে ধরে রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধান বিচারপতির মা বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের অবদানের জন্য ২০০২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী থাকাবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
মন্তব্য করুন


পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ এ কুমিল্লা জেলা পুলিশ সারাদেশে সেরা হবার গৌরব উজ্জ্বল কৃতিত্ব অর্জন করেছে ।
চলমান পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ এর দ্বিতীয় দিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স এ ২০২৩ সালে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযান ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়নে কৃতিত্ব অর্জনকারী কুমিল্লা জেলা পুলিশকে পুরস্কার প্রদান করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম ।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল কামরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) পুরস্কার গ্রহণ করেন ।
সারা দেশে পুলিশের সকল ইউনিটের মধ্যে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ১ম স্থান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়নে ১ম স্থান ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ২য় স্থান অর্জন করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের জন্যে এটি এক গৌরবময় অর্জন।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) জেলা পুলিশের অপরাধ শাখাসহ সকল ইউনিটের সদস্যদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ছাত্র জনতার কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫
এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ
বৃহস্পতিবার (২২ মে) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ
ইউনূস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ২৯ তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।
বিকেলে
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমন মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মুক্তিযুদ্ধ
বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে উত্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ছাত্র জনতার
কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং
সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে যা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো
হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরো জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ছাত্র জনতার কল্যাণ ও পুনর্বাসন
অধ্যাদেশ ছাড়াও আরো কয়েকটি বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
এর
মধ্যে রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন দ্য প্রটেকশন এন্ড কনজারভেশন অব
ফিশ (আমেনমেন্ট) ২০২৫ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের
ভেটিং সাপেক্ষে এটির অনুমোদন দেয়া হয়।
বাংলাদেশ
ও নেদারল্যান্ড সরকারের মধ্যে নৌ প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংক্রান্ত সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা
স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগ থেকে উত্থাপিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ সমূহের
বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান বিষয়ে বলা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত সংস্কার
কমিশনের সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়নযোগ্য কিনা, বাস্তবায়নযোগ্য হলে সম্ভাব্য সময় এবং বাস্তবায়নের
প্রভাব সংশ্লেষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ দফা ওয়ারী সুচিন্তিত মতামত মন্ত্রী
পরিষদ বিভাগের মাধ্যমে উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে
সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
মন্তব্য করুন


ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম। অতঃপর বছর দুই বছর আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ১১ বছরের অনামিকা আক্তার জুঁই ও ২০ বছরের যুবক শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া। একসময় কোলজুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। সেই শিশুকে কেড়ে নিয়ে মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। ১৩ বছরের জুঁই ৭ মাসের ছেলেকে ফিরে পেতে দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের।
মঙ্গলবার
(২৮ জুলাই) ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইডের বিচারক মো. সায়েম খান বাচ্চাটিকে তার শিশু মায়ের
কাছে থাকার আদেশ দেন। আড়াই মাস পর ছেলেকে কোলে ফিরে পেয়েছেন জুঁই।
আড়াই
মাস আগে শিশুটিকে রেখে মা জুঁইকে বাসা থেকে বের দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে গত ১ জুলাই
লিগ্যাল এইডে এমন অভিযোগ দেওয়া হয় শাকিল এবং তার মা আছমার বিরুদ্ধে। বাচ্চাকে উদ্ধারের
প্রার্থনা জানান জুঁই। তাদের ১৬ জুলাই লিগ্যাল এইডে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ওইদিন তারা হাজির হননি। এজন্য বিচারক সায়েম খান শিশুটিকে উদ্ধার করতে চকবাজার থানা
পুলিশকে নির্দেশ দেন। নির্দেশমতে গতকাল সোমবার শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার
শাকিল ও তার মা আছমা লিগ্যাল এইডে হাজির হন। শিশুটিকেও নিয়ে আসা হয়। আসেন জুঁইও। পরে
শুনানি শুরু হয়।
প্রথমে
বিচারক সায়েম খান শিশুটির বাবাকে ডেকে নিয়ে পাশে বসান। এরপর জুঁইকেও ডেকে নিয়ে সামনে
বসানো হয়। এসময় জুঁইয়ের কোলে ছিল তার ৭ মাসের বাচ্চাটিও। সেখানে দুপক্ষের আইনজীবীরাও
উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিচারক জুঁইয়ের কাছে জানতে চান, ‘তোমার বাবু?’ জুঁই বলেন, ‘হ্যা।
আমার ছেলে।’ ছেলেকে পেয়ে খুশি কি না জানতে চান বিচারক। জুঁই বলেন,
‘অনেক খুশি।’
এরপর
বিচারক সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জুঁই প্রথম যেদিন এখানে আসে, বিশ্বাস করিনি ওর বাচ্চা
আছে। বিশ্বাস করার মতোও না বিষয়টা। সে নিজেও একটা বাচ্চা।’
এরপর বিচারক শাকিলের কাছে তার বয়স জানতে চান। শাকিল বলেন, ‘২২ বছর বয়স।’এটুকু
মেয়েটাকে কীভাবে নিয়ে গেলে বিচারক জানতে চাইলে শাকিল দাবি করেন, ‘যখন নিয়ে গেছি প্রাপ্তবয়স্ক।
ওর একটা মামাতো বোন আছে। ওর চেয়ে এক বছরের ছোট। তার থেকে ওকে তিন গুন বড় দেখায়।’
জোর
করে আটকে রাখা হয়েছে কি না বিচারক জানতে চান। শাকিল বলেন, ‘না আটকে রাখিনি।’
এসময় জুঁইয়ের আইনজীবী মৃনাল কান্তি মিত্র বিচারককে বলেন, ‘পারিবারিক কোর্টে গার্ডিয়ানশিপের
মামলাও করে দিয়েছে।’ পরে বিচারক শিশুটি তার মায়ের কাছে
থাকবে মর্মে জানান।
এ
পর্যায়ে শাকিলের আইনজীবী খন্দকার মো. শাহজাহান ইসলাম বিচারককে বলেন, ‘বাচ্চাকে আটকে
রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ যদি মনে করি তাহলে বিষয়টা একপক্ষে চলে যায়। আমরা বিশ্বাস করি
বা না করি, ঘটনা কিন্তু ঘটে গেছে। মা তার বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। এজন্য তাকে
আর তার মায়ের কাছে দেওয়া যায় না। এজন্য গার্ডিয়ানশিপের মামলা করি। এখন বাচ্চাটা মায়ের
কাছে গেলে বিষয়টা সাংঘর্ষিক হয়ে যায় না?’
তখন
বিচারক বলেন, ‘যেহেতু বাচ্চাটাকে নিয়ে আসা হয়েছে, মায়ের কাছে থাকুক। মানবিক দিক তো
দেখতে হবে।’
বাচ্চাকে
মায়ের কাছে রাখার আদেশ দিয়ে আগামী মঙ্গলবার শুনানির পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন
লিগ্যাল এইড অফিসে কর্মরত (জেল অর্ডার) মো. লুৎফর রহমান। শুনানি শেষে জুঁই বিচারকের
কাছে জানতে চান, বাচ্চা তার কাছে থাকবে কি না। বিচারক বলেন, ‘হ্যা, তোমার কাছে থাকবে।
জুয়েল খান ও লিমা আক্তারের একমাত্র কন্যা জুঁই। জুয়েল খান অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা
নির্বাহ করেন। আর লিমা আক্তার দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব যান। মেয়েকে নিয়ে
জুয়েল খান হাজারীবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। এদিকে সৌদি আরবে থাকাবস্থায় লিমা মেয়ের বিয়ের
কথা শুনতে পান। ১৪ দিন আগে দেশে ফিরেছেন। আজ তিনিও লিগ্যাল এইড অফিসে উপস্থিত হন। তার
স্বামী জুয়েল খানও ছিলেন।
লিমা
অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে পড়াশোনা করতো। এই ছেলে ফুঁসলায়ে আমার মেয়েকে নিয়ে অনেক
দিন রাখে। এরপর নিয়ে আসি। আবার আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে। আমি তো শুরু থেকেই এই ছেলের
কাছে মেয়ে দেবো না। আমার যদি ছেলের ফ্যামিলি দেখে পছন্দ হয় নাই। আমি মেয়ে দেব কেন?
আমার মেয়ের তো বিয়ের বয়স হয়নি। ওর কেবল ১৩ বছর বয়স।’
জুয়েল
খান বলেন, ‘তাকে (শাকিলকে) বলি আমার মেয়ে মেট্রিক পরীক্ষা দিবে তারপর বিয়ের কথা বলবো।
ও আমার মেয়েকে ভাগায় নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ রাখে। মান-সম্মানের দিকে তাকায়ে কিছু বলিনি।
পরে আবার ভাগায়ে নিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করছে। কোন জায়গায় গিয়ে বিয়ে করছে তাও আমি জানি
না। আমাকে অনেক হুমকি-ধমকি দিছে।’
শাকিল
বলেন, ‘ফেসবুকে ওর সঙ্গে আমার পরিচয়। পরিচয়ের মাসখানেক পর আমাকে বলে, তাকে নিয়ে আসতে।
না নিয়ে আসলে মরে যাওয়ার হুমকি দেয়। কিছু চিন্তা না করে নিয়ে গেছি। বিয়ে করছি। আমার
মা ওরে মাইন্যা নিছে। আমার মা ওরে নামাজ-কালাম পড়তে কয়। আমার মাকে আজে-বাজে কথা বলতো।
মায়ের সাথে বনতো না। ওর জন্য আমি আমার কাছেও অনেক অত্যাচার করছি।’
তিনি
বলেন, ‘পরে ও চলে যায়। ওর বাপে ওকে বরিশালে নিয়ে আটকে রাখে। বাচ্চা হওয়ার পরে আবার
আমার বাসা সোয়ারীঘাটে নিয়ে আসি। আনার পর ওর বাবা যখন আমাদের বাসায় আসতো, তখন ঝগড়া বাঁধতো।
একা থাকলে ঝগড়া হতো না। আমাকে ঘরজামাই থাকতে বলে। আমি থাকি না। ওর বাপে স্ট্রোক করছে
এ কথা বলে তিন মাস আগে এক ঘণ্টার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। বাচ্চা রেখে যাই। এরপর
আর কোনো খোঁজ-খবর নেয় নাই তিন মাসের মধ্যে। এখন তারা দরদ দেখাইতেছে।’
জুঁইয়ের
চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাকিল। জুঁইয়ের আইনজীবী মৃনাল কান্তি মিত্র বলেন, ‘শুটিং
স্পট দেখানোর কথা বলে মেয়েটাকে নিয়ে সেখান থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে আটকে রাখে। শারীরিকভাবে
নির্যাতন করে। ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বলে বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর অধিকার
দেখিয়ে তাকে বারবার নির্যাতন করে। গত ১ জানুয়ারি বাচ্চা ডেলিভালি হয়। বাচ্চাকে রেখে
গত মে মাসে ভিকটিমকে বিদায় করে দেয়। বাচ্চাটাকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে নিতে গার্ডিয়ানশিপের
মামলা করে। তারা নিরুপায় হয়ে লিগ্যাল এইডে আসে। বাচ্চা উদ্ধারে সার্চ ওয়ারেন্ট দেওয়া
হয়। আজ বাচ্চাকে এখানে নিয়ে আসা হয়। বাচ্চাটা মায়ের কাছে থাকবে এমন আদেশ এসেছে।’
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত চার বিচারপতি আজ শপথগ্রহণ করেছেন।
শপথগ্রহণ করা আপিল বিভাগের চার বিচারপতি হলেন, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ আপিল বিভাগের চার নবনিযুক্ত বিচারককে শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা।
শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
চার বিচারপতি নিয়োগ কার্যকরের মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চার বিচারপতিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চারজন বিচারককে তাদের শপথগ্রহণের তারিখ থেকে আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শপথগ্রহণের দিন থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত শনিবার (১০আগস্ট) দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৭। শনিবার রাতে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। পরদিন রোববার (১২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট এই তিন বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
মন্তব্য করুন


পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে শুরু করে পান্তা-ইলিশ শোভা পায় বাঙালির পাতে।
ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মাছের বাজারে রুপালি ইলিশের কদর থাকে বরাবরই তুঙ্গে।
এবারও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে যথারীতি বাজারে ইলিশের চাহিদা রয়েছে। তবে সে তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বেশি দামেই ইলিশ মাছ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
মাছ ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, অন্যান্য সময়ের চাইতে এখন ইলিশ ধরা পড়ছে কম। এজন্য বাজারে সরবরাহ কম, ফলে দাম বেশি। সাধারণত সরবরাহ বেশি হলেই দাম কম হয়। কিন্তু এবার পাইকারি বাজারেও ভিন্ন চিত্র।
বড় আকারের ইলিশের দেখা খুব একটা মিলছে না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজির নিচে, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে জাটকা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতিকেজি জাটকা বিক্রি করছেন সাড়ে ৬ শ' থেকে ৭ শ' টাকায়। ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ দাম ১২০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ইলিশের দাম ১৩৫০ থেকে দেড় হাজার টাকার মতো। ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৫৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ।
এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে এবার পহেলা বৈশাখের ছুটি একসঙ্গে হওয়ায় অনেক মানুষ শহরে নেই ফলে অন্যান্যবারের পহেলা বৈশাখের মতো ইলিশ বেচাবিক্রির ধুম সেভাবে চোখে পড়ছে না।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা কম থাকায় বেশিরভাগ দোকানি অলস সময় পার করছেন। ঈদে শাকসবজির দাম বাড়েনি। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। সোনালি বা লেয়ার মুরগির দামও বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। এছাড়া বেশিরভাগ দোকানে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা, আর খাসির মাংসের দাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। সার্বিকভাবে বাজার স্বাভাবিকই আছে। তবে ঈদের ছুটির কারণে চাহিদা কম, ফলে সরবরাহও কম। একই প্রভাব পড়েছে ইলিশের বাজারে, যার ফলে বড় আকারের ইলিশেরও দেখা মিলছে না।
মন্তব্য করুন


চীনের
‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।
দেশটির বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লির জন্য তৈরি সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকের গুরুত্বপূর্ণ
পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। এই চুম্বকই ভবিষ্যতের ফিউশন শক্তি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনা
বিজ্ঞান একাডেমির প্লাজমা পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটে ৫৮২ টন ওজনের এই সুপারকন্ডাক্টিং
চুম্বকের মূল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এটি এমন একটি চুম্বক, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও
বেশি উত্তপ্ত প্লাজমাকে চুল্লির দেয়ালে স্পর্শ না করিয়ে স্থির রাখতে সাহায্য করবে।
চীনের
‘কৃত্রিম সূর্য’ হলো এমন একটি পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লি,
যার মাধ্যমে সূর্যের মতো নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়া পৃথিবীতে পুনরায় তৈরি করার চেষ্টা
করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে পরিষ্কার ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা।
নিউক্লিয়ার
শক্তির দুটি প্রধান প্রক্রিয়া হলো ফিশন ও ফিউশন। ফিশনে ইউরেনিয়ামের মতো ভারী পরমাণু
ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে ফিউশনে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো হালকা পরমাণু একত্রিত
হয়ে বিপুল শক্তি তৈরি করে।
বিজ্ঞানীরা
পরীক্ষাগারে ফিউশন বিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ
উৎপাদন করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
সূর্যের
কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় চাপ
পরমাণুগুলোকে কাছাকাছি এনে ফিউশন ঘটায়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন মহাকর্ষ নেই।
তাই
বিজ্ঞানীরা প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ান, যাতে
হাইড্রোজেনের পরমাণুগুলো দ্রুত সংঘর্ষে ফিউশন তৈরি করতে পারে। কিন্তু এত উত্তপ্ত প্লাজমাকে
কোনো সাধারণ বস্তু দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব নয়।
এই
কারণে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে প্লাজমাকে একটি অদৃশ্য খাঁচার মধ্যে আটকে
রাখা হয়।
চীনের
তৈরি টোকামাক আকৃতির ফিউশন চুল্লিতে ১৬টি বিশাল ডি-আকৃতির সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বক ব্যবহার
করা হবে। এগুলো ৬.৫ টেসলা শক্তির চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করবে, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের
চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী।
প্রতিটি
চুম্বকের আকার প্রায় ২১ মিটার বাই ১২ মিটার এবং ওজন ৫৮২ টন। এটি এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে
বড় সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন চুম্বকগুলোর একটি।
একদিকে
১০ কোটি ডিগ্রি, অন্যদিকে মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি
এই
প্রযুক্তির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো একই চুল্লিতে দুটি বিপরীত তাপমাত্রা বজায় রাখা।
ফিউশন
চুল্লির ভেতরে প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও সুপারকন্ডাক্টিং
চুম্বককে রাখতে হয় প্রায় মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এটি সম্ভব হয় বিশেষ
শূন্যস্থান নিরোধক ও অতিশীতলীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে।
চীনের
এই চুম্বকের বিশেষত্ব হলো—এর সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দেশটির নিজস্ব
প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ফিউশন গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের
ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে বেইজিং।
এর
আগে চীনের পরীক্ষামূলক উন্নত সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক (ইস্ট) যন্ত্র ১০ কোটি ডিগ্রি
সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমা ১ হাজার ৬৬ সেকেন্ড ধরে রাখার বিশ্ব রেকর্ড করেছিল।
চীনের
লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালে ফিউশন চুল্লির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা এবং ২০৩০ সালের
মধ্যে ফিউশন শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন
বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো মানবজাতির জন্য বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন
কমিশন গঠন হয়ে গেছে। এখন ধাপে ধাপে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে সরকার বলে মন্তব্য
করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান
আরিফ।
আজ
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বিআইসিসিতে এশিয়ান আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যমেলার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা
এ এফ হাসান আরিফ বলেন, নির্বাচন কমিশনে যারা এসেছেন সবাই অভিজ্ঞ। তারা ভালো একটি
নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন।
উপদেষ্টা
আরও বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে কাজ চলছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা
এ দেশে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেসরকারি
উদ্যোগে মেলা আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের মেলার আমেজ এ
মেলায় পেলাম। এ ধরনের মেলায় বিদেশিরাও আসেন। তারা বাংলাদেশে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য দেখতে
মেলায় আসেন। মেলাগুলো আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার একটা জায়গা। এ মেলা আমাদের পর্যটন
বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত
৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আদলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী
সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে ১৭ দিনব্যাপী এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলা শেষ হবে আগামী
২৩ নভেম্বর।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের (ফিতরা) হার নির্ধারণ করা হয়।
রমজানে এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর (২০২৩) সর্বোচ্চ ফিতরা ২ হাজার ৬৪০ টাকা, তবে সর্বনিম্ন ফিতরা ১১৫ টাকাই ছিল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।
সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী শরীয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন। এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। গম ও আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়।
হাফেজ মুফতি মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন জানান, উন্নতমানের আটা বা গমের ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) বা এর বাজার মূল্য ১১৫ টাকা। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৪০০ টাকা ফিতরা দিতে হবে।
এছাড়া ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ১৪৫ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ৪৭৫ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৯৭০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।
ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে বলেও জানান মাওলানা রুহুল আমিন।
নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ) মালের মালিক হলে মুসলমান নারী পুরুষের ওপর ঈদের দিন সকালে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ বা ১১ এপ্রিল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
মন্তব্য করুন