

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সরাইলে মাদক কেনাবেচায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রায়হান (১৫) নামে
এক কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার সৈয়দটুলা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা
ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন। নিহত রায়হান উত্তরপাড়া এলাকার ছুটুন
মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উত্তরপাড়া এলাকার সজীব মিয়া স্থানীয় এক
যুবককে ইয়াবা কিনে আনার জন্য ৩০০ টাকা দেন। তবে ওই যুবক ইয়াবা না কিনে সেই টাকা দিয়ে
বিস্কুট কিনে খেয়ে ফেলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে
হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
মাদকের
বিরুদ্ধে কাজ করা স্থানীয় যুবক কামাল, জসিম, দেওয়ান উদ্দিনসহ কয়েকজন বিষয়টি সম্পর্কে
জানতে চান। এ সময় সজীব মিয়ার পক্ষ নিয়ে শাহীন ও রতন মিয়া নামে আরও দুই যুবক ক্ষুব্ধ
হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে থাকলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র
নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।
স্থানীয়রা
জানান, রাতের আঁধারে টর্চলাইটের আলোয় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এতে পুরো এলাকায়
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রায়হান গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক
মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরাইল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, মাদক-সংক্রান্ত বিষয়কে
কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে এনেছে। সংঘর্ষে রায়হান নামে একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। এ
ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


সারা
দেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আগামী ৩০ জুনের
মধ্যে বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে
জমি সুরক্ষিত রাখতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে,
কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই নাগরিকরা এখন ঘরে বসে land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে
তাদের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্মার্ট
ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে।
ভূমি
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নাগরিককে প্রথমে নির্ধারিত পোর্টালে
(land.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে খতিয়ান ও জোত
সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে করের পরিমাণ জানা যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে
তা পরিশোধ করা যাবে।
মন্ত্রণালয়ের
বার্তায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন এবং নিজের জমি
সুরক্ষিত রাখুন।
নির্ধারিত
সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী বকেয়ার ওপর সুদ যুক্ত হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে।
সাধারণত
সরকারি অর্থবছর শেষ হয় ৩০ জুন। তাই বছরের হিসাব চুকিয়ে দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে
এই সময়ের মধ্যেই খাজনা পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়। অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে এখন আর ইউনিয়ন
ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়ছে না, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ
দুটোই সাশ্রয় করছে।
ভূমি
মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ভূমি কর আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে এবং
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।
মন্তব্য করুন


সিলেটের
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে এবার ৩৪ দিনে পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার
৬৭২ টাকা। এ ছাড়া দুই ভরি এক রতি স্বর্ণ, ১৫ ভরি দুই আনা রৌপ্য এবং ১৯টি দেশের বৈদেশিক
মুদ্রাও পাওয়া গেছে। সংবাদআর্কাইভ
শনিবার
(১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে গণনা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিলেট
সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এর
আগে, শনিবার সকাল ১০টায় মাজারের তিনটি দানের ডেগ ও তিনটি দানবাক্স সিলগালা অবস্থায়
খোলা হয়।
গণনা
শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, দানবাক্স ও ডেগ থেকে মোট ৭০ লাখ ৮৮
হাজার ৬৭২ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুই ভরি এক রত্তি স্বর্ণ এবং ১৫ ভরি ২ আনা
রৌপ্য পাওয়া গেছে।
তিনি
জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ পাউন্ড ৩১ পাউন্ড
১১ পয়সা, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি রুপি ৬০ রুপি, সৌদি রিয়াল ৭০
রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৮৩ রিঙ্গিত, মার্কিন ডলার ৪ ডলার, নেপালি রুপি ১০০ রুপি,
ওমানি মুদ্রা ১০০০ বায়সা ও ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৬৪ দিরহাম ২২ সেন,
ইরাকি দিনার ২৫০ দিনার, তুর্কি লিরা ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ডং ১০০০ ডং, জাপানি ইয়েন
১০০০ ইয়েন, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০ পাউন্ড, মিশরীয়
পাউন্ড ১০ পাউন্ড, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১ ডলার।
এর মধ্যে ভারতীয় রুপির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ২৪৮ রুপি।
জেলা
প্রশাসক জানান, নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির পৃথক হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের
কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত,
গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার
আলম। পরবর্তীতে তার নির্দেশে ১৮ জুন পুরাতন তিনটি ডেগে সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসানো
হলে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থার মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার
করে নেয় সরকার।
তবে,
প্রত্যাহারের আদেশ হলেও গত ২২ জুন সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের
প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা গণনা করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য
ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউজে
এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী
স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এক
মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত জমা দেওয়ার কথা বললেও গঠনের পর প্রায়
দেড় মাস পার হয়ে গেলেও কমিটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা রূপরেখা দিতে
পারেনি।
মন্তব্য করুন


বিশ্বব্যাপী আলোচিত এবং সমাদৃত প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ এবং ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ধারণাটি
বাস্তবায়নে সমবায় অধিদপ্তর অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী
উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব
ভুঁইয়া।
আজ রোববার (৫ জানুয়ারি) ঢাকায় সমবায়
অধিদপ্তর পরিদর্শন এবং পায়রা সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী
গৃহীত ‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’ একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যার ভিত্তি হচ্ছে
শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ। এ সময় ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’
এবং ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ধারণাটি বাস্তবায়নে কাজ করতে সমবায় অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সমবায় অধিদপ্তরের
প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং পারফরম্যান্স নিম্নমুখী বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু তা ঊর্ধ্বমুখী
করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমবায় আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের
নির্দেশনা দেন তিনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার
বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সমবায় অধিদপ্তরের সদস্যদের
নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে পাইলটিং প্রকল্প গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। এছাড়াও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সুষম সম্পদের বণ্টনের
জন্য সমবায় অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভার শুরুতে সমবায় অধিদপ্তরের
নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সমবায় কার্যক্রম সম্পর্কে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন
দেন যুগ্ম নিবন্ধক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মোখলেছুর রহমান। সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


এমদাদুল হক সোহাগ:
কাজাখস্তানের আলমাতিতে অনুষ্ঠিত 'আইএইউপি সেন্ট্রাল এশিয়া রিজিওনাল কনফারেন্স ২০২৬'-এ এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে কুমিল্লার স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (CCN-UST)। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে তুলে ধরতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনে বিশ্বের ৬টি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পৃথক পৃথক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই ঐতিহাসিক চুক্তিগুলোর মাধ্যমে শিক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো। সিসিএন-ইউএসটি-এর পক্ষে সমঝোতা স্মারকগুলোতে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও অনারারি ডিরেক্টর (অ্যাডমিন) ইফতেখারুল ইসলাম চৌধুরী সিয়াম।
চুক্তি স্বাক্ষরিত বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, কাজাখস্তানের আলমাতি ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি ও আলীখান বোকেইখান ইউনিভার্সিটি, তুরস্কের ইস্তাম্বুল নিশান্তাসি ইউনিভার্সিটি, উজবেকিস্তানের সেন্ট্রাল এশিয়া ইউনিভার্সিটি, পোল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড আর্টস ইন অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস এবং আজারবাইজানের খাজার ইউনিভার্সিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অসামান্য অর্জন আন্তর্জাতিকীকরণের প্রতি সিসিএন-ইউএসটি-এর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে বিশ্ব দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করার দূরদর্শী ভাবনারই এক সফল প্রতিফলন। 'কুমিল্লা থেকে বিশ্বমঞ্চে'—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


যশোরের
কেশবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আরাফাত হোসেন (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি কেশবপুর উপজেলার কাস্তা গ্রামের রুস্তম আলী খানের ছেলে। বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুর
খাদ্য গুদামের সামনে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে । AirTravel
জানা
গেছে, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি মোটরসাইকেলযোগে কেশবপুরে আসছিলেন। সকাল
৯টার দিকে কেশবপুর খাদ্য গুদামের সামনে পৌঁছালে একটি আলমসাধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ
হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়ার পথে ডুমুরিয়া
এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আরাফাত
হোসেন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও সম্ভাবনাময় একজন তরুণ। তাঁর এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু
পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মরদেহ
বাড়িতে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
বকশীগঞ্জে গাছের সঙ্গে ঝুলে থাকা মোতালেব সরকার (৫৫) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে
পুলিশ।
বৃহস্পতিবার
(২ জুলাই) সকালে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারী গ্রামের নিজ বাড়ির কামরাঙা গাছ থেকে ওই
মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মোতালেব
সরকার আইরমারী গ্রামের মৃত আবদুল হাই সরকারের ছেলে।
স্থানীয়
সূত্র ও পুলিশ জানায়, কৃষক মোতালেব সরকার বুধবার রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে
বাড়ির সামনের একটি কামরাঙা গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় বাড়ির লোকজন। পরে বকশীগঞ্জ
থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
বকশীগঞ্জ
থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা
ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য ‘শূন্য বর্জ্য ও শূন্য কার্বন’-এর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন জীবনধারা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
বুধবার (১৩
নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ২৯-এর ওয়ার্ল্ড লিডারস ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি আহ্বান করেন।
একটি নতুন পৃথিবী গড়ার লক্ষে তিনটি শূন্যভিত্তিক তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের কথাও উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের আরেকটি সংস্কৃতি গঠন করতে হবে। একটি ভিন্ন জীবনধারার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি পাল্টা সংস্কৃতি গড়তে হবে। এটি হবে শূন্য বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে। এ সংস্কৃতি নিত্য পণ্যের ব্যবহারকে সীমিত করবে, কোন বর্জ্য অবশিষ্ট রাখবে না। এ জীবনযাত্রাও হবে শূন্য কার্বনের ওপর ভিত্তি করে যেখানে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি থাকবে না, শুধুমাত্র পুনঃনবায়নযোগ্য শক্তি থাকবে। এতে এমন একটি অর্থনীতি হবে যা প্রাথমিকভাবে সামাজিক ব্যবসার মতো ব্যক্তিগত পর্যায়ে শূন্য মুনাফার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। সামাজিক ব্যবসার একটি বিশাল অংশ পরিবেশ ও মানবজাতির সুরক্ষায় মনোযোগ দেবে। সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জীবন কেবল সুরক্ষিতই হবে না, গুণগতভাবে উন্নত হবে। এটি যুবকদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজতর করবে। উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন শিক্ষার মাধ্যমে তরুণরা প্রস্তুত হবে। চাকরিপ্রার্থী তৈরির শিক্ষা উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক শিক্ষা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
পরিবেশের সুরক্ষার জন্য একটি নতুন জীবনধারার প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, নতুন জীবনধারা চাপিয়ে দেয়া হবে না, এটি হবে পছন্দ বেছে নেওয়া। তরুণরা সে জীবনধারাকে পছন্দ হিসেবে বেছে নেবে। প্রতিটি যুবক তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে। এগুলো হচ্ছে- শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শুধুমাত্র সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলার মাধ্যমে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ও নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত করার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব। প্রত্যেক মানুষ তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং সারাজীবন তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে থাকবে। এটি নতুন সভ্যতা গড়ে তুলবে। এটা করা যেতে পারে আমাদের যা করতে হবে তা হল এ গ্রহের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন জীবনধারা গ্রহণ করা যেখানে সবাই বসবাস করে। আজকের তরুণ প্রজন্ম বাকিটা করবে। তারা তাদের আমাদের গ্রহকে ভালোবাসে। আমি আশা করি আপনারা এ স্বপ্ন দেখায় আমার সাথে যোগ দেবেন। আমরা যদি একসাথে স্বপ্ন দেখি তবে তা সম্ভব হবে। জলবায়ু সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং সে কারণে মানব সভ্যতা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানুষ আত্ম-বিধ্বংসী মূল্যবোধের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আত্ম-রক্ষাত্মক ও আত্ম-শক্তিবর্ধক একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের জন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক ও যুব শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা, এই গ্রহের মানব বাসিন্দারা এই গ্রহের ধ্বংসের কারণ। মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করছে এবং তারা এমন একটি জীবনধারা বেছে নিয়েছে যা পরিবেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। তারা এটিকে একটি অর্থনৈতিক কাঠামো দিয়ে ন্যায্যতা দেয়, যা এ গ্রহ ব্যবস্থার মতো প্রাকৃতিক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অর্থনৈতিক কাঠামো সীমাহীন খরচের ওপর ভিত্তি করে চলছে। আপনি যত বেশি ব্যবহার করবেন তত বেশি প্রবৃদ্ধি পাবেন। যত বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবেন, তত বেশি অর্থ উপার্জন করবেন। সর্বাধিক মুনাফা অর্জনকে সিস্টেমের সবকিছুকে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভূমিকা পালনের শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন


বাড়িতে
ফিরেই দুই সন্তান ও নিজের জন্য
খাবার তৈরি করতে বলেছিলেন স্বামী। কিন্তু স্ত্রী তখন নাচের ক্লাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রান্না করতে অস্বীকৃতি জানানোয় দুই সন্তানের সামনেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি
ঘটেছে। খবর এনডিটিভির। এ ঘটনায় জড়িত
থাকার অভিযোগে ৪১ বছর বয়সী
অভিযুক্ত কৃষ্ণ লাল যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম যামিনী কৃষ্ণ লাল যাদব (৩৮)।
পুলিশ
জানিয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। খাবার বানানো নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সন্তানদের চোখের সামনেই স্ত্রীর ঘাড় ও পেটে প্রচণ্ড
আঘাত করেন। হামলায় গুরুতর আহত যামিনী মারাত্মক যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার
প্রাথমিক পর্যায়ে এটিকে স্বাভাবিক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মনে করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর সত্য বেরিয়ে
আসে। প্রতিবেদনে নিহতের ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন, হাড় ভাঙা ও শ্বাসরোধের আলামত
উদ্ধার করেন চিকিৎসকেরা।
ময়নাতদন্তের
চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই কৃষ্ণ লালকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে নাগপুর পুলিশ। পরে হত্যা মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনার বিষয়ে
বিস্তারিত অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন


অভিনেত্রী
ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। লিভারসংক্রান্ত
জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। শেষ
পর্যন্ত তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
মেয়েকে
বাঁচাতে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা
ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ।
গত
এক সপ্তাহ ধরে লিভারসংক্রান্ত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি কারিনা কায়সার। শুরুতে ফ্যাটি
লিভার ও শরীরে ইনফেকশন ধরা পড়লেও দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর মধ্যে তিনি হেপাটাইটিস
এ-তেও আক্রান্ত হন। শুক্রবার (৮ মে) রাতে লিভার ফেইলিউর হলে চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে
লাইফ সাপোর্টে নিতে বাধ্য হন।
উন্নত
চিকিৎসার জন্য কারিনাকে এখন ভারত বা সিঙ্গাপুরে নিতে চায় তার পরিবার। কিন্তু এ বিশাল
অঙ্কের ব্যয়ভার বহন করা বাবা কায়সার হামিদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কায়সার
হামিদ বলেন, আমার ভাই ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, দুই বছর তার চিকিৎসায়
পরিবারের অনেক টাকা সেখানে খরচ হয়েছে। এখন এ মুহূর্তে এত টাকা জোগাড় করা আমাদের জন্য
প্রায় অসম্ভব।’
সরকারের
সহায়তা কামনা করে কায়সার তিনি আরও বলেন, জমি বিক্রি করে টাকা ব্যবস্থার চেষ্টা করছি।
কিন্তু এতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। জানি না, সরকারিভাবে কোনো সাহায্য পাব কি না। সরকারসহ
সাধারণ সবার কাছে আমি সহায়তা চাই। এই মুহূর্তে আমার মেয়েকে সুস্থ করে তোলাটাই আমাদের
কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তাই সবার সহায়তা এখন খুব দরকার।
কেবল
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেই নয়, কারিনা কায়সার একজন মেধাবী চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী
হিসেবেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’
এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’-এর মতো কাজে তার অবদান দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্ট
মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত
হোসেন। তবে তা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রেখেছে
বলেও জানান তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেডিকেলের প্যাথলজি বিভাগে মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি
যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি
বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
ও অধিদপ্তর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রেখেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই মাস ধরে সরকার জেলা-উপজেলা
পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের
চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বলেন, থানা, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুর এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া
ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগী বাড়লে সেগুলো চালু করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু
করে মসজিদের ইমামসহ সবাইকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই ডেঙ্গু
নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এডিস
মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লার্ভা ধ্বংস করার জন্য
একটি বিশেষ মেডিকেল ট্যাবলেট আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছোট ছোট জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা বা টায়ারে এই ট্যাবলেট ব্যবহারে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস
হবে।
ডেঙ্গু
রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক সময় রোগী মারা যায়। এজন্য বিশেষজ্ঞ
ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি 'ডেইলি ট্রিটমেন্ট প্রটোকল' তৈরি করে তা সব চিকিৎসকের মোবাইলে
ও ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো ডেঙ্গু
রোগীর জ্বর ভালো হয়ে গেলেও পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ)
দেওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যাধুনিক
টেন হেডেড মাইক্রোস্কোপ যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও নির্ভুল ও
কার্যকর হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে
মেডিকেল কারিকুলামেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি
বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসন ও সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগিয়ে
চলছে।
আক্ষেপ
প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা ব্যবস্থার
সঙ্গে তাল মিলাতে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। বিশেষ করে প্যাথোলজি বিভাগ, যা চিকিৎসার মূল ভিত্তি,
সেখানে তিন বছর আগে একটি সরকারি মাইক্রোস্কোপ নষ্ট হওয়ার পর আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
তিনি
জানান, হস্তান্তরিত লেটেস্ট মডেলের এই আধুনিক মাইক্রোস্কোপটির মাধ্যমে এখন থেকে এক
সিটিংয়েই নিখুঁতভাবে ক্যানসার ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাসেবায় বড় পরিবর্তন
আনবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ডিআই সাপ্লাইয়ের অনিয়ম দূর করতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায়
যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বাংলাদেশ
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি বেসরকারি খাতের মতো
চলবে কিনা—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,
এটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন থাকবে, তবে এর ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও করপোরেট ধাঁচের।
কোম্পানি ফর্ম করে পরিচালনা করা হবে এবং হাসপাতালটি হবে অলাভজনক। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ
বা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মডেলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি ও আধুনিক পদ্ধতিতে
এটি পরিচালিত হবে। আমরা একটি গঠনপ্রণালী তৈরি করে দিয়েছি এবং যন্ত্রপাতি দিয়েছি। এটি
উন্নত মানের হাসপাতাল হবে। সরকার এই হাসপাতালের রেট নির্ধারণ করে দেবে যাতে সাধারণ
মানুষ স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের সেবা পায়। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়
ঘটানো হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে
আগামী ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী
ডা. জুবাইদা রহমানের সফরের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এসময়
উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক
ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন ও উপাধ্যক্ষ
অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন