

বরিশালের
বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের
জন্য বরাদ্দকৃত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় ছুটির
পর তার ব্যাগ তল্লাশি করে ডিম ও রুটি উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে
এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
(২৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ১০ নম্বর রানিরহাট সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষিকার নাম রেশমা আক্তার মিষ্টি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষিকা যখন স্কুল ত্যাগ করছিলেন, তখন সন্দেহবশত
স্থানীয় কয়েকজন তার ব্যাগ তল্লাশির দাবি জানান। পরে ব্যাগ খুলে সেখান থেকে ২৪টি ডিম
ও ২২ পিস রুটি উদ্ধার করা হয় বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, ওই প্রধান শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাৎ
করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছিল। শিক্ষার্থীদের
পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের দেওয়া খাবার আত্মসাতের এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা
দিয়ে তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ
বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও
তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন
জানান, তারা অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা
হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


শনিবার রাতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা একটি টিম কুমিল্লা জেলার সকল থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান ডিউটি করাকালীন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার আমতলী এলাকার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গামী মহাসড়কের রাস্তার উপর হতে ২৬ কেজি গাঁজাসহ ১জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম মোঃ আরিফুল ইসলাম (২০), পিতা-এরশাদ মিয়া।
আসামী কুমিল্লা জেলার মুরাদপুর থানার দিলালপুর গ্রাম নিবাসী।
উক্ত ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ও রিপোর্ট কার্ড তৈরির অ্যাপ ‘নৈপুন্য’ আগামী শনিবার (৪ নভেম্বর) উন্মুক্ত করা হবে।আর এ অ্যাপটি রেজিস্ট্রেশন করতে সব স্কুলকে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।একইসঙ্গে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংগ্রহের অ্যাপটি ব্যবহারের গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। আদেশ ও গাইডলাইনটি মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি-বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।
আগামী শনিবার থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত এ অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন প্রধান শিক্ষকরা।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে চালুকৃত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোর্ট কার্ড প্রস্তুতের সুবিধার্থে এটুআইয়ের কারিগরি সহায়তায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘নৈপুণ্য’ নামে একটি অ্যাপ উন্নয়ন করা হয়েছে। অ্যাপটি আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ১০ টা থেকে উন্মুক্ত করা হবে।
'নৈপুণ্য' অ্যাপটির ওয়েব ভার্সন ব্যবহার সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন বা নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৪ থেকে ৮ নভেম্বরের মধ্যে ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অ্যাপটিতে রেজিস্ট্রেশন করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বুড়িচং থানার একটি শিশু নির্যাতন মামলায় বিল্লাল নামের এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং থানার মামলা নং-৫, তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।পরে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল, কুমিল্লার মামলা নং-২৭১/২৬ হিসেবে বিচারাধীন ছিল।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি বিল্লালকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বিল্লাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি মসজিদ মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা।তিনি হারুনুর রশিদের ছেলে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।পরে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


লক্ষ্মীপুরের
রায়পুরে ভাড়া বাসায় ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, তার মা ও ছোট বোনকে কুপিয়ে
হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য। বৃহস্পতিবার (২৫
জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে স্থানীয়রা ধরে গণপিটুনি দিলে তারও
মৃত্যু হয়।
নিহতরা
হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার
(৯)। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের
দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে পরিবারের কর্তা মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে
মারা যান। এরপর শাহিনুর বেগম তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রায়পুরের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস
করছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা লক্ষ্মীপুরে থাকতেন।
ঘটনার
সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে এক যুবক বাসায় প্রবেশ করে মা ও তিন মেয়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা
চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারী
পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করে গণপিটুনি দেয়। হাসপাতালে
নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (৩৫) বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।
নিহতদের
প্রতিবেশী এবং রায়পুর স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মারিয়া
মুন্নী জানান, সায়মা সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তিনি কোন বিভাগে
অধ্যয়ন করছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
রায়পুর
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, “হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে
আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো
অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।”
রায়পুর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, হাসপাতালে
আনার আগেই দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাদের মা। নিহতদের
শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে
পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার
ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
লক্ষ্মীপুরের
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
স্থানীয়দের হামলায় আমাদের ছয় থেকে সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন।”
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা
হচ্ছে। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, নিহত তিনজনের মরদেহ
হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত এক কিশোরীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
চাঞ্চল্যকর
এ হত্যাকাণ্ডে পুরো রায়পুরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে। হত্যার
পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন


ময়মনসিংহের
ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই শহীদ ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কিনে
দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের
বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের (৫০) বিরুদ্ধে।
মোহাম্মদ
আব্দুল মতিন রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তার
প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৫)। উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের এই দম্পতির
একমাত্র ছেলে ছিলেন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। এছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
অভিযোগ
উঠেছে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে এ অভিযোগ
অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। জানা
গেছে, ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর আব্দুল মতিন ও মমতাজ বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য
জীবনের পর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়।
উল্লেখ্য,
ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর
এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। গুলি তার ডান চোখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথা
ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে
জানা গেছে, জুলাই শহীদ ছেলের ভাতার অনুদানের টাকা থেকে ৭ লাখ টাকার কাবিন ও সোয়া ৫
লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিয়ে গত ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন।
এ
ঘটনার খবর পেয়ে অভিমানে গত ২ জুন একমাত্র মেয়ে শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিনকে নিয়ে আত্মহত্যার
সিদ্ধান্ত নেন মমতাজ বেগম। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আত্মহত্যা হাত
থেকে থামান।
এরপর
বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এছাড়া আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে জুলাই
শহীদ ছেলে শাহরিয়ারের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের
দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বেশ অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যান।
শহীদ
শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আমার
অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমার জানামতে বিয়েতে সোয়া ৫ লাখ টাকার
স্বর্ণালংকার কেনার সামর্থ্য তার নেই। আমার শহীদ ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারের
দেওয়া অনুদানের টাকায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করছেন।
তিনি
বলেন, আমার ছেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর পর থেকেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য আমাকে
বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। তিনি বারবার বলেছিলেন, আমার বংশ রক্ষার জন্য দ্বিতীয়
বিয়ে করতে হবে।
মমতাজ
বেগম অভিযোগ করেন, আবদুল মতিন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ একমাত্র ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুকে
পুঁজি করে নানা ধান্ধাবাজি ও প্রতারণা শুরু করেন। বারবার নিষেধ করার পরেও তিনি কোনো
কথাই শুনতে চাননি। দুই বউয়ের ভরণপোষণের সামর্থ্য তার নেই। মমতাজ বেগম বলেন, আমি ২২
বছর তার সঙ্গে কাটিয়েছি। তার আর্থিক অবস্থা ভালো না।
তিনি
অভিযোগ করে আরও বলেন, শহীদ পরিবারকে দেওয়া সরকারি বরাদ্দের এককালীন ৩০ লাখ টাকা তিনি
আমার সই জালিয়াতি করে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি সচেতন থাকায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ
হয়। শুধু তাই নয়, আমার শহীদ ছেলের নাম ভাঙিয়ে আব্দুল মতিন বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ
থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আমার এখন একটাই চাওয়া, মেয়েটাকে বড় করার আগে যেন আল্লাহ
আমাকে নিয়ে না যায়। এ ঘটনার আমি সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগ
অস্বীকার করে শহীদ শাহরিয়ারের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, আমার বংশ রক্ষার জন্য
আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। বিশেষ করে আমার মায়ের অনুরোধে আমি বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি।
এছাড়া বিয়ে করার আগে প্রথম স্ত্রী আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু
তিনি এখন তা অস্বীকার করছেন।
তিনি
আরও বলেন, আমি আলফা গ্রুপের মতিঝিল শাখায় সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছি। বিয়ে করার
মতো সামর্থ্য আমার আছে। ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বিয়ে করতে হবে, বিষয়টি এমনও নয়। বিয়ে
করার পর আমি প্রথম স্ত্রীকে আনতে পাঁচবার বাসায় গিয়েছি। মেয়ের সঙ্গেও দেখা করতে পারিনি।
সবশেষ অন্য একজনের মাধ্যমে তাদের বাসায় প্রবেশ করি। কিন্তু আমাকে অসম্মান করে বাসা
থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি।
এ
বিষয়ে জুলাই যোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন গণমাধ্যমকে বলেন, একজন জুলাই শহীদের বাবা হয়ে মতিন
সাহেব যে কাজটি করেছেন তা মোটেও উচিত হয়নি। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, জুলাই শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের
বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি শুনেছি। তবে, বিষয়টি মেনে নেওয়ার মতো না। ছেলেকে যদি সত্যিই
তিনি ভালোবাসতেন, তাহলে তিনি এমন একটি কাজ করতেন না। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। তিনি
চাইলেই মেয়েটাকে নিয়েই সংসার করে যেতে পারতেন।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ।
কয়েকটি চক্র রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সহজ ডটকমের অসাধু কর্মকর্তা, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো । এছাড়া সংরক্ষণ করা জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো এসব চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব -৩।
গ্রেফতাররা হলেন- ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, অনলাইনে বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুত করে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং এই রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়; অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছে ।
স্টেশনে কুলি, টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেফতার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত।
যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে কাটা হতো টিকিট:
এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এছাড়াও কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।
প্রতিদিন ৫০০ টিকিট সংগ্রহ করতো তারা:
এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করতো। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমান টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট কিনে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে টিকিটগুলো কিনে নিতো।
সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ঈদ, পুজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটানো হতো:
কমান্ডার মঈন বলেন, পাশাপাশি গ্রেফতাররা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। গ্রেফতাররা স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করতো। এসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে গ্রেফতাররা টিকিট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করে এবং বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার সময় যত সন্নিকটে আসতে থাকে তাদের মজুত করা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে এবং সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের সময় ৪ গুণ দামে টিকিট বিক্রি:
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেফতাররা প্রতিটি টিকেট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণে বিক্রি করে এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পায় গ্রেফতাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে সেলিম:
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে সাতটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন তিনি। সে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় আবার টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রমে লিপ্ত হয়।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত কাশেম:
তিনি বলেন, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি গ্রেফতার সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা। এর আগে তিনি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।
এছাড়াও গ্রেফতার অবনী সরকার ও হারুন মিয়ার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। একইভাবে মান্নান এবং আনোয়ার ওরুফে ডাবলুর দায়িত্ব ছিল সিলেট এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। ফারুক এবং শহীদুল ইসলাম বাবুর দায়িত্ব ছিল ভৈরব ও কিশোরগঞ্জের কাস্টমার দেখাশোনা করা। জুয়েল এবং আব্দুর রহিমের দায়িত্ব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার যাত্রী সংগ্রহ করা। এছাড়াও গ্রেফতারদের সবার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে উত্তম:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার সহযোগী গ্রেফতার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সবসময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলে।
উত্তমের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির দায়ে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হন।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর
বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে আবুল হোসেন
(৩২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার
(১২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজার রোড এলাকা
থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পরে
দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো
হয়। নিহত আবুল হোসেন একলাশপুর ইউনিয়নের মৃত বাবুলের ছেলে।
পুলিশ
ও স্থানীয়রা জানায়, আবুল হোসেনের ভাইয়েরা প্রবাসে থাকেন এবং তিনি বেকার ছিলেন। শুক্রবার
রাতে বাড়িতে এক ভাগনির বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল।
ওই
রাত থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রোববার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের একটি ডোবায় একটি
লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পরে
বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
বেগমগঞ্জ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, পরিবারের সদস্যদের
ভাষ্য অনুযায়ী, মৃগী রোগে আক্রান্ত আবুল হোসেন শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দুইদিন
পানিতে থাকায় লাশ ফুলে গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ
৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের
চকরিয়ায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে নিহত শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩)
এর পিতা-মাতা আজ বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪) সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল
ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
এ
সময় শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন এর পিতা-মাতা সন্তান হারানোর বেদনায় আবেগ
আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
দাবি জানান।
সেনাবাহিনী
প্রধান শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের
আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিতে সর্বপ্রকার সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গিকার করেন।
উল্লেখ্য,
এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ৭ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে চকরিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর
করে এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিপিএলের ব্যস্ততা শেষ হয়েছে শুক্রবার। এখন আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরছে দেশের ক্রিকেট।পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে এসেছে শ্রীলঙ্কা দল। তাদের বিপক্ষে সিরিজ শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি দিয়ে।
এই সিরিজের টিকিটের মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) । তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টির সবগুলোই হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিট কেনা যাবে ১৫০০ টাকায়।
সর্বনিম্ন মূল্য গ্রিন ও ওয়েস্টার্ন গ্যালারির, এখানে খেলা দেখতে ২০০ টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়া ক্লাব হাউজ ৫০০ ও ইস্টার্ন গ্যালারির জন্য খরচ করতে হবে ৩০০ টাকা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও রিকাভিবাজারের কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা যাবে। সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকবে বুথ।
আগামী ৪ মার্চ প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ম্যাচ ৬ মার্চ, দুটি ম্যাচই হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। ৯ মার্চ তৃতীয় টি-টোয়েন্টি শুরু হবে বিকেল তিনটায়। এরপর তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট খেলবে শ্রীলঙ্কা।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুর
শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে ইয়াবাসহ মেহেরুন্নেসা বৃষ্টি ওরফে মেহু (২৩) নামে
এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ডিএনসির দাবি,
তিনি ওই এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি।
রোববার
(১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির ফরিদপুর
জেলা কার্যালয়ের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএনসি
সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন ২ নম্বর কুঠিবাড়ি এলাকার গুহলক্ষ্মীপুরে
অভিযান চালিয়ে বৃষ্টিকে তার বসতবাড়ির সামনের গলি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময়
তার কাছ থেকে মেথামফেটামিনযুক্ত পাঁচটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের দাবি করেছে সংস্থাটি।
পরে
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল
ম্যাজিস্ট্রেটের ১ নম্বর আমলি আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড
এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
মন্তব্য করুন