

রাজধানীর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা রাজীব শাহের
কথিত ভাসমান মসজিদ উচ্ছেদ করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়।
সাম্প্রতিক
সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই স্থাপনাটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের
মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর ও নাট্যশালার মধ্যবর্তী এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে ইট দিয়ে
মেঝে তৈরি করে কার্পেট ও জায়নামাজ বিছানো ছিল। ওপরে ত্রিপল টানিয়ে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা
করা হয়। অজুর জন্য পানির ট্যাংক এবং একটি অস্থায়ী ওয়াশরুমও স্থাপন করা হয়েছিল।
অভিযানের
সময় সেখানে কয়েকটি কোরআন শরিফ, রেহেল, কোরআনের বাংলা অনুবাদ এবং কয়েকটি ট্রাংক পাওয়া
যায়।
উদ্যানের
ভ্রাম্যমাণ পানি বিক্রেতা ও স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় নয় মাস আগে রাজীব শাহ নামে এক
ব্যক্তি সেখানে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি জায়গাটিতে ধান ও বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ রোপণ
করেন। পাশাপাশি নিজের থাকার জন্য একটি ছোট্ট খুপরি ঘরও নির্মাণ করেন।
মন্তব্য করুন


১৫
দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
আলোচিত ফুটপাতের খাবারের দোকানের মালিক ‘ভাইরাল মিজান’।
রোববার
(২৩ আগস্ট) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন। তিনি জানান, দুপুরের আগেই কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার
পর মিজানকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারাগার
থেকে মুক্তির পর নিজের দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের যদি একটা দোকান ফুটপাতে থাকে, মিজানেরটাও থাকতে হইবো। এইটাই
আমার চাওয়া। না হলে এই দেশে মানবতার কোনো দাম নাই।’
তিনি
আরও বলেন, তার ‘ভাইরাল’ পরিচিতিকে ব্যবহার করে কোনো চাওয়া-পাওয়া
নেই। নিজের দোকানটি যেভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেটি আবার করার জন্য অন্তত জায়গা দেওয়ার
দাবি জানান তিনি।
কারাগার
সূত্র জানায়, নির্ধারিত মেয়াদের সাজা শেষ হওয়ার পর রোববার সকালে মিজানকে কারাগার থেকে
মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় জেলগেটে তার স্বজন ও কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন।
এর
আগে গত ৯ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগারগাঁওয়ে
নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
করছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় মিজানের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
করতে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে যান।
এ
সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিজানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আগারগাঁওয়ের
ফুটপাতে ছোট একটি ভাতের দোকান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পান মিজানুর রহমান
মিজান। তার দোকানে মাত্র ১০০ টাকায় এক পিস গরুর মাংসের সঙ্গে ভাত, আলু ও ডাল খাওয়ার
সুযোগ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
দোকানটির
নাম ছিল ‘নিজের হাতে লইয়া খাবেন, ১৪ বার নিয়ে খাবেন’। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি
‘গরিবের বুফে’ নামেও পরিচিতি পায়। দোকানে খাবার পরিবেশন ও খাওয়ার ব্যতিক্রমী
পদ্ধতির বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিজানুর রহমান মিজান
‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে ঝোলানো ব্যাগ চুরির চেষ্টাকালে
একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।
গতকাল
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ
কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন- আব্দুল মতিন (৩৮),
সোহাগ (৪০) ও আমির (৪৮)।
মিরপুর
মডেল থানার বরাত দিয়ে ডিসি নাসিরুদ্দিন বলেন, গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন
এলাকায় ভাসমান হিসেবে বসবাস করে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরকেন্দ্রিক চলন্ত মোটরসাইকেলের
পেছনে থাকা ব্যাগ চুরির অপরাধ করে আসছিল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এই
অভিনব চুরির ভিডিও ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মিরপুর
মডেল থানার একটি চৌকস টিম গত মঙ্গলবার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় চুরি ও ছিনতাই
প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনকালে চক্রটিকে ফের চলন্ত এক মোটরসাইকেল থেকে ব্যাগ চুরির চেষ্টাকালে
হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারদের
প্রত্যেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


রাঙামাটির
বাঘাইছড়িতে বজ্রপাতের বিকট শব্দে তিন মাস বয়সী এক পাহাড়ি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় একই পরিবারের বাবা-মাসহ আরও ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) দিবাগত
রাত ৩টার দিকে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট ডানে বাইবাছড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত
শিশুর নাম উজ্জ্বল চাকমা (৩ মাস)। আহতরা হলেন- শিশুটির বাবা নয়ন চাকমা (২৫), মা রেশমি
চাকমা (২০), প্রদীপ চাকমা (৫০), মায়া রানি চাকমা (৪৫), জেরিং চাকমা (১৮) ও নিজুম চাকমা
(১৫)। তারা সবাই সাজেক ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাঘাইহাট ডানে বাইবাছড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়
ও ইউপি সূত্র জানায়, রাতে ঝড়-বৃষ্টির সময় পরিবারের সবাই একটি বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায়
ছিলেন। রাত ৩টার দিকে ওই বাড়ির ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘরে থাকা সবাই আহত হন। এ সময়
বজ্রপাতের প্রচণ্ড ও বিকট শব্দে কোলের শিশু উজ্জ্বল চাকমা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
সাজেক
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দয়াধন চাকমা জানান, গভীর রাতে বজ্রাঘাতের বিকট শব্দে শিশুটি মারা
গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহত ৬ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক
জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত
মর্মান্তিক একটি ঘটনা। বাবা-মায়ের কোলের শিশুটি এভাবে চলে গেল এবং পরিবারের সবাই আহত
হলেন। আমি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা
করার চেষ্টা করব।’
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়াল দুই হাজার ১৯ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা ২০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে।
দুই সপ্তাহ ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার এ রিজার্ভ আবারো ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাপ্তাহিক নির্বাচিত অর্থনৈতিক সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে, গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়াল দুই হাজার ৫৩২ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রধানত আমদানি ব্যয় মেটানো তথা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে ব্যবহার হয়। এ রিজার্ভ আর্থিক খাতের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক ঋণ, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক ঋণ বা সহায়তা রিজার্ভের উৎস। আবার আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ-সুদ পরিশোধ, বিদেশে চিকিৎসা, শিক্ষাসহ হাজারো খাত রয়েছে ব্যয়ের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জানুয়ারির শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তা নেমে আসে ১৯ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারে (বিপিএম৬)। আগের সপ্তাহেও রিজার্ভের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯৯৩ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার ডলার। মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসে ১৬ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার যোগ হয়ে আবারো তা ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
করোনা মহামারির মধ্যে আমদানি কমে গিয়েছিল। তবে প্রবাসীরা দেশে ফেরার সময় সঞ্চিত অর্থ নিয়ে আসেন। অনেকে বিদেশে থেকেও বাড়িতে স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠিয়ে দেন। এতে বাড়ে রিজার্ভ। ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন অতিক্রম করে। করোনার পর যখন দেশে দেশে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার শুরু হয়, তখন উল্টো অবস্থা তৈরি হয়। আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকে। মূল্যস্ফীতি বাড়ে। রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ বিক্রি করে আমদানি ব্যয় সামাল দিতে হয়।
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকের একাধিক সূত্র বলছে, ওই সময়ে রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল হুন্ডি বন্ধ হয়ে যাওয়া। তখন অধিকাংশ দেশ করোনা মহামারির বিস্তার রোধে অন্য দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে যেমন ডলার বাড়তে থাকে। আবার আমদানি কমে যাওয়ার কারণে খরচের খাতও ছোট হয়ে আসে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে একটি ডাবল কেবিন পিকআপভ্যান থেকে ৪৭ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনের অভিযোগে মো. নুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।
আটককৃত আসামি নুরুল ইসলাম (৪৫) পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাতারবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গিরাখালী ডাকঘর এলাকার হাজীখালী বাজারের মৃত আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী টোল প্লাজা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-১১-৮৮৮২ নম্বরের একটি ডাবল কেবিন পিকআপ জব্দ করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে ৪৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পালাশ জানান, আটককৃত আসামি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন


পটুয়াখালীর
কলাপাড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা
ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন কিশোরকে আটক করে পুলিশে
সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার
(৩০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাসুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত
তাজুল ইসলাম তাজ (১৬) ওই ইউনিয়নের ফারুক হাওলাদারের ছেলে। তিনি পাটুয়া আল-আমিন মাধ্যমিক
বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয়
সূত্র ও স্বজনরা জানান, মাসুয়াখালী গ্রামের কামাল মৃধার বাড়িতে আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন তাজুল। অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন কিশোর তাকে বাড়ির পাশের একটি বিলে ডেকে
নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। তাজুলের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা
ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরে রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের
চাচা ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, তাজুলের তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন
স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। হামলার পর পালিয়ে
যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
তিনি
দাবি করেন, আটক কিশোররা স্থানীয়ভাবে বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। এসএসসি পরীক্ষার
হলে খাতা দেখাদেখি নিয়ে পূর্বের একটি বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলেও
ধারণা করছেন তিনি।
ঘটনার
পর স্থানীয়রা রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮) নামে তিন কিশোরকে আটক করে
পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
কলাপাড়া
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক তিন কিশোরকে
পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো হত্যার দায় স্বীকার করেনি। নিহতের পরিবারের
পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত
অব্যাহত রয়েছে।
তিনি
আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, নারীদের সম্ভাবনা ও কর্মদক্ষতাকে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করে উন্নত
বাংলাদেশ গড়ার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ
করে যাচ্ছে।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন
করতে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের নারীরা- এ কথা উল্লেখ করে
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এটাই
হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে
আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক
নারী দিবস। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান
করে। নারী অধিকার রক্ষায় এই দিনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর
উদযাপিত হয়। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়:‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন-নারী ও কন্যার
উন্নয়ন’। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-শ্রমিক-জনতা যে গণ-অভ্যুত্থান
সংগঠিত করেছিল গত জুলাই-আগস্টে তার সম্মুখ সারিতে ছিল নারী। লক্ষ লক্ষ ছাত্রী বিভিন্ন
ক্যাম্পাসে দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। একাধিক নারী এই গণ-অভ্যুত্থানে
শাহাদত বরণ করেছেন। আমি এই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি
এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তারা
এগিয়ে যাচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক
উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে মহিলা
ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নির্যাতিত, দুস্থ ও অসহায়
নারীদের জন্য শেল্টার হোম, আইনি সহায়তা দিতে
‘মহিলা সহায়তা কেন্দ্র’, কর্মজীবী মহিলাদের আবাসন ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থান
সৃষ্টির লক্ষ্যে সহায়তা ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে
ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অদম্য মেয়েরা
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছে। নারীর অর্জনকে স্বীকৃতি
দিতে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ ও ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২৫ মার্চ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২৫ মার্চ শুরু হওয়া অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
আগামী ১১ এপ্রিল ঈদের দিন ধরে হিসেব করে যাত্রা বিবেচনায় টিকিট বিক্রি শুরুর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট আলাদা সময়ে বিক্রি করা হবে। সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে আর দুপুর ২টায় পশ্চিমাঞ্চলে টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ৪ এপ্রিল। ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে। সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে অগ্রিম টিকিট শুরু করে রেলওয়ে। তবে এবার ঈদের ক্ষেত্রে সাত দিন আগে পাওয়া যাবে অগ্রিম টিকিট।
এছাড়া ৪ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৫ মার্চ, ৫ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৬ মার্চ, ৬ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৭ মার্চ, ৭ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৮ মার্চ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র জানিয়েছে, এবারও ঈদযাত্রার কোনো টিকিট কাউন্টারে বিক্রি করা হবে না। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেই শতভাগ টিকিট বিক্রি হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, রেল সেবা অ্যাপ ও সহজ ডটকমের প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামীকালের বৈঠকে বিশেষ ট্রেনের সময়সূচি নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য করুন


সিলেট
মহানগরীর রায়নগর এলাকায় বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে
হত্যার ঘটনায় ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যেই
বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ। বিজ্ঞাপনস্লট
বুধবার
(১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল মিয়া রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনিতে বসবাস করেন। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি হলেও মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিলেট
মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ থেকে ৯টা
৩৫ মিনিটের মধ্যে রায়নগরের মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য বিষয়
বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।
পুলিশ
জানায়, নিহত আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২০
দিন আগে তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই বাড়িতে বাবুল
আগে রংমিস্ত্রি ও রাজমিস্ত্রির কাজও
করেছিলেন।
পুলিশের
ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার একটি ছুরি নিয়ে ওই বাড়িতে যান
বাবুল। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী
তাহমিনা তাকে ভেতরে ঢুকতে দেন। পরে একটি কক্ষে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
তিনজনকে
হত্যার পর বাবুল বারান্দা
দিয়ে পালিয়ে গিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাসায় ফিরে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। LawEnforcement
পুলিশ
কমিশনার জানান, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাড়ি চাঁদপুর বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে।
এ
ঘটনায় বুধবার রাত পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে
অন্য কেউ জড়িত কি না, তা
তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


বন্যার্তদের সহায়তায় জন্য বিএনপি নগদ
আড়াই কোটি টাকাসহ ১০ কোটি টাকার ত্রাণ দিয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য
অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর
নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিচে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির ত্রাণ
তহবিলে দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। গত ৫ দিনে নগদ আড়াই
কোটি টাকাসহ প্রায় ১০ কোটির ত্রাণ সংগ্রহ করে সরবরাহ করা হয়েছে বন্যাকবলিত এলাকায়।
বন্যার পানি ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে। ফলে এসব এলাকায় রোগবালাই বেড়ে যাবে। সেজন্য
আমাদের চিকিৎসকগণ এবং বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিগুলো ওইসব এলাকায় ওষুধ বিতরণের কার্যক্রম
শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যায় উপদ্রুত মানুষদের সাহায্যার্থে শুকনো খাবার,
শিশুদের কাপড়, মানুষের ব্যবহৃত কাপড়, মোমবাতি, দিয়াশালাই, বিশুদ্ধ পানি দেশের সর্বস্তরের
জনগণ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। রিকশাচালক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ
সর্বস্তরের মানুষ বিএনপির ত্রাণ তহবিলে সহায়তা দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন