

কক্সবাজারের
পেকুয়া উপজেলার একটি এলাকায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে মুশফিকুর রহিম নামে দেড় বছর বয়সী
এক শিশুর মৃত্যু ঘটে।
শনিবার
(১১ জুলাই) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির পিতা
নাছির উদ্দিন, যিনি ওই এলাকার একজন প্রবাসী।
এটি
জানা গেছে যে, বন্যার কারণে নাছিরের ঘরের মধ্যে প্রায় হাঁটুপানি উঠে গিয়েছিল। উঠানেও
কোমরপানি ছিল। এই অবস্থায়, নাছিরের স্ত্রী ঘরে শিশুটিকে রেখে বাইরে কোনও কাজে ব্যস্ত
ছিলেন। এক পর্যায়ে, মায়ের অগোচরে শিশুটি বন্যার পানিতে পড়ে ডুবে যায় এবং স্রোতের সঙ্গে
ভেসে যায়।
অনেক
খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে প্রায় ১২০ ফুট দূরে পাওয়া যায়। তারপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে
নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির
মৃত্যুর বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম তথ্য নিশ্চিত
করেন। তিনি জানান, উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের
নগরকান্দা উপজেলায় পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর কনের পক্ষের করা ধর্ষণ মামলায়
বরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি
ঘটেছে উপজেলার ডাঙ্গি ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা
সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
সম্প্রতি
ঘটা করে বর-কনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কনে বরের বাড়িতেও যান। তবে কনের বয়স কম হওয়ায় বিয়ের
নিবন্ধন হয়নি মর্মে কথা ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়রা
জানায়, পারিবারিক সম্মতিতে ধর্মীয় রীতি-নীতিসহ সামাজিকভাবে ধুমধাম করে বিয়ে হয় তাদের।
গায়েহলুদ, নাচ-গান, বরযাত্রীসহ পালন করা হয় বিয়ের সব রীতি। তবে হঠাৎ কোনো বিয়েই হয়নি
বলে দাবি করে বসেন কনে ও তার পরিবার। এতে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ এনে দায়েরকৃত মামলায়
কারাগারে যেতে হয়েছে রুমন খন্দকার (২০) নামে এক তরুণকে।
ভুক্তভোগীর
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ মে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী
একই উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে মিলা আক্তারকে
(১৫) বিয়ে করেন রুমন খন্দকার। সামাজিক অনুষ্ঠান করে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আগে
কনের বাড়িতেও আয়োজন করা হয়েছিল গায়েহলুদের মতো অনুষ্ঠান। এরপর ৪০ জন বরযাত্রী নিয়ে
যাওয়া হয় কনের বাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই পরিবারের স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের
উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তবে
কনের বয়স কম হওয়ায় নিবন্ধন করা হয়নি এবং দুই পরিবারের সম্মতি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক হলে
নিবন্ধন করে নেওয়া হবে। পরে কনেকে বিয়ের রঙে সাজিয়ে আয়োজনের মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হয় বরের
বাড়িতে। সেই বিয়ের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতির প্রমাণাদি ও অনুষ্ঠানের ভিডিও সাংবাদিকদের
সরবরাহ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবারটির
ভাষ্য, বিয়ের দুদিন পর সামাজিক রীতি অনুযায়ী কনের বাড়িতে গেলে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
বর
রুমনের মামা হাফিজুর রহমান বলেন, আমার ভাগনের সঙ্গে বাসররাতে ওই মেয়ের মনোমালিন্য হয়।
ফিরানিতে গিয়ে ওই মেয়ে আর বরের বাড়িতে আসতে চায় না। পরে জানতে পারি অন্য একজনের সঙ্গে
ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরপরও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ফিরিয়ে
আনা হয়। কিন্তু কয়েক দিন পর আবারও বাড়িতে ফিরে গেলে সে আর আসেনি, মেয়েটির পরিবারও আমাদের
সঙ্গে কথা বলতে চায়নি।
তিনি
বলেন, এর প্রায় এক মাস পর গত ২ জুলাই গভীর রাতে হঠাৎ রুমনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়
নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরের দিন থানায় গিয়ে জানতে পারি একটি ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেফতার
করা হয়েছে। ওই মামলায় আদালতে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই থানায় জহুরন খাতুন (৫২) নামে এক নারী মামলাটি
দায়ের করেন। জহুরন বিয়ে হওয়া কিশোরীর সম্পর্কে দাদি।
মামলায়
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন বিকাল ৫টায় বাড়ির পাশ থেকে তার নাতনি মিলাকে একটি মাইক্রোবাসে
করে অপহরণ করে নিয়ে যান রুমন। এরপর রুমন খন্দকারদের বাড়িতে রেখে রাতভর ধর্ষণ করা হয়
এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়। পরদিন সকালে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে
এসে পরিবারকে ঘটনাটি খুলে বলে মিলা। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান
স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওই
কিশোরী ও মামলার বাদী জহুরন খাতুনের দাবি, কোনো বিয়েই হয়নি। এছাড়া মামলার এজাহারে দেওয়া
বর্ণনা দিয়ে ধর্ষণের বিচার দাবি করেন। তবে ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে
যান।
নগরকান্দা
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, গত ২ জুলাই জহুরন খাতুন তার নাতনিকে
নিয়ে থানায় আসেন। তাদের কাছে ছিল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের
চিকিৎসার ছাড়পত্র। যেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।
তবে
ওই এজাহারে বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকে কিছু জানানোও হয়নি বলে দাবি করে
তিনি বলেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় সরকারিভাবে বিয়ের কোনো সুযোগই নেই। সামাজিক
বিয়ে আইনগত বৈধতা নেই। এছাড়া কেউ যদি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে এসে অভিযোগ করে, সেক্ষেত্রে
গুরুত্ব দিয়েই মামলা নিতে হয়। এক্ষেত্রে সেটি হয়েছে।
রাসুল
সামদানি আজাদ আরও বলেন, এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলামকে।
তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ফরিদপুর
জজকোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের দেশে দুই পরিবার ও ছেলে-মেয়ের সম্মতিতে
অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এখানেও তেমনটা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর সংসার হয়েছে তাদের।
তবে, আইনের দৃষ্টিতে এই বিবাহ স্বীকৃত নয়। যার কারণে পারিবারিক কলহের জেরে ধর্ষণের
মতো অভিযোগে ছেলেটিকে কঠিন মামলার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক।
নগরকান্দা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা
হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রথমে তারা অবৈধ কাজ করেছে, বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন
করেননি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটাকে ব্যবহার করেছেন।
মন্তব্য করুন


প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক উৎসব-২০২৪ এর জন্য পৃথক ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,প্রাথমিকের বই উৎসব হবে ঢাকা মিরপুরে। আর মাধ্যমিকের বই উৎসব হবে কুমিল্লায়। উৎসব শুরু হবে সকাল ১০টায়।
নিয়মানুযায়ী, এক দিন আগে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে নতুন এই পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর পরদিন পহেলা জানুয়ারি পৃথক পৃথক ভেন্যুতে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহমেদ বলেন,প্রাথমিকের বই উৎসব এবার মিরপুরের ন্যাশনাল (সকাল-বিকাল) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হবে। এটা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাশেই অবস্থিত।
আর মাধ্যমিকের বই উৎসব সম্পর্কে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো বছরের প্রথম দিন বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। মাধ্যমিকের বই উৎসব কুমিল্লার সোয়াগঞ্জ তোফাজ্জল আহমেদ চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হবে।
বই ছাপানোর অগ্রগতি বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকের সব বই গত ৪ ডিসেম্বর উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এছাড়া নতুন কারিকুলামের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির প্রায় সব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অষ্টম শ্রেণির সব বই গত মঙ্গলবার প্রেসে দেওয়া হয়েছে। আর নবম শ্রেণির বিজ্ঞানের একটি বই গত শনিবার প্রেসে দিয়েছি। সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের আরেকটি বই আজ সোমবার প্রেসে যাবে।
জানা গেছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি পাঠ্যবই ও শিক্ষক সহায়িকা (টিজি) বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ লাখ ৮০ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ৬১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৮টি পাঠ্যবই। প্রাথমিকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এক কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৪ জনকে দেওয়া হবে ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ৬৯৭টি পাঠ্যবই। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৮৫ হাজার ৭২২ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ২ লাখ ৫ হাজার ৩১টি পাঠ্যবই। এছাড়া প্রাথমিক স্তরের ইবতেদায়ি প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ২ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৭৬টি পাঠ্যবই।
মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার ১০৭ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৭টি পাঠ্যবই। দাখিল ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হবে ৪ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪২টি পাঠ্যবই। ইংরেজি ভার্সনের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ১১ লাখ ৭২ হাজার ৫৭টি পাঠ্যবই। কারিগরি ট্রেডের জন্য ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হবে ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭০২টি পাঠ্য বই। এসএসসি ভোকেশনালের ৬ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৫টি পাঠ্য বই দেওয়া হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ৭২৮টি বই। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮টি শিক্ষক সহায়িকা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কপ ২৯ সম্মেলনের আগে ন্যায়সংগত জলবায়ু
অর্থায়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত
‘রোড টু বাকু: কপ ২৯ - বাংলাদেশে সিএসওগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অবস্থান’ শীর্ষক
এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন ও প্রশমন কৌশলগুলো ন্যায়সংগত হতে হবে এবং সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ
জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংকট মোকাবেলায় একশ’ বিলিয়ন ডলার
প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলোর অর্থ সাহায্য কিছু আর্থিক সমস্যার
সমাধান করলেও প্রকৃত জলবায়ুর ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার হবে না।
পরিবেশ উপদেষ্টা বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা
১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের আশাবাদ পুন:ব্যক্ত
করেন।
তিনি অভিযোজন পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ
করেন এবং তরুণদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে
তুলে ধরা এবং উচ্চাভিলাষী প্রশমন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন
তিনি।
তিনি কপ ২৯ সম্মেলনের আগে বাংলাদেশে
নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
উক্ত সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ড. আবদুল হামিদ, এনএসিওএমের নির্বাহী পরিচালক
ড. এস এম মুনজুরুল হান্নান খান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ
কবির বক্তব্য রাখেন। এতে বিভিন্ন সিএসও, জলবায়ু কর্মী এবং নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল কপ ২৯ সম্মেলনের
আগে বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের একটি একক অবস্থান গঠন করা।
পরে কপ ২৯ সম্মেলনে জোরালো এডভোকেসির
আহ্বান জানানো হয়, যাতে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর
কণ্ঠস্বর শোনা যায়।
মন্তব্য করুন


পটুয়াখালীর
কলাপাড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা
ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন কিশোরকে আটক করে পুলিশে
সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার
(৩০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাসুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত
তাজুল ইসলাম তাজ (১৬) ওই ইউনিয়নের ফারুক হাওলাদারের ছেলে। তিনি পাটুয়া আল-আমিন মাধ্যমিক
বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয়
সূত্র ও স্বজনরা জানান, মাসুয়াখালী গ্রামের কামাল মৃধার বাড়িতে আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন তাজুল। অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন কিশোর তাকে বাড়ির পাশের একটি বিলে ডেকে
নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। তাজুলের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা
ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরে রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের
চাচা ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, তাজুলের তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন
স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। হামলার পর পালিয়ে
যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
তিনি
দাবি করেন, আটক কিশোররা স্থানীয়ভাবে বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। এসএসসি পরীক্ষার
হলে খাতা দেখাদেখি নিয়ে পূর্বের একটি বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলেও
ধারণা করছেন তিনি।
ঘটনার
পর স্থানীয়রা রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮) নামে তিন কিশোরকে আটক করে
পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
কলাপাড়া
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক তিন কিশোরকে
পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো হত্যার দায় স্বীকার করেনি। নিহতের পরিবারের
পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত
অব্যাহত রয়েছে।
তিনি
আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


ভারতের
বেঙ্গালুরুতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা ও মায়ের পরকীয়া প্রেমিকের
বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত ২৪ মার্চ শিশুটি ভেন্নিলার মৃত্যু হয়। প্রায় তিন মাস
পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যখন শিশুটির বাবা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, শিশুটির বাবা প্রবীণ দাবি করেন, তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তার প্রেমিক
মোহন ভেন্নিলার মৃত্যুর জন্য দায়ী।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, দাভানাগেরের বাসিন্দা প্রবীণ ২০০৭ সালে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন। দম্পতির
১৭ ও ৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক বছর আগে প্রিয়াঙ্কা তার কলেজের
বন্ধু মোহনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন। এরপর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং
একপর্যায়ে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
দাম্পত্য
কলহের জেরে প্রিয়াঙ্কা একাধিকবার বিবাহবিচ্ছেদের দাবি তোলেন এবং পরে ছোট মেয়ে ভেন্নিলাকে
নিয়ে মোহনের সঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী,
শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ মোহনকে গ্রেপ্তার
করেছে। তবে শিশুটির মা প্রিয়াঙ্কা এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান
চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব
ভূঁইয়া জানিয়েছেন, যুব প্রশিক্ষণ ও যুব ঋণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থানের
ব্যবস্থা করছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ৯ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যারা
কোনো শিক্ষা বা কাজে নেই। আগামী দুই বছরে ৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।
আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে
জাতীয় যুব দিবসের আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার
গড়ে উঠেছে। সংস্কার কার্যক্রমে যুবসমাজের সহযোগিতা ও মতামত প্রত্যাশা করে সরকার। ৫
আগস্টের পর যারা ট্রাফিক কাজে যুক্ত হয়েছিল, তাদের আরও প্রশিক্ষণ শেষে সহ-পুলিশ হিসেবে
নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে। সাংবিধানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সমতা প্রতিষ্ঠার
যে লক্ষ্য সেখানে সহায়ক ভূমিকায় থাকবে যুব সমাজ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে জাতীয় যে
নৈতিক বুস্টিং হয়েছে তারই ফল হিসেবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আমাদের বেশকিছু অর্জন এসেছে।
মন্তব্য করুন


ভারতের
রাজস্থানের যোধপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে দুই বোনের আত্মহত্যার
ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের গাফলতি এবং অভিযুক্তদের
বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছে দুই বোনকে।
রোববার
(১৭ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই লোমহর্ষক ঘটনা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, গত মার্চে বড় বোন আত্মহত্যা করেন। প্রায় দুই মাস পর ছোট বোনও আত্মহত্যার পথ
বেছে নেন। একাধিকবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও বিচার না পাওয়ায় ছোট বোন এমন চরম সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। নিহত দুই বোনের বাবা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে
নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই
অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছোট বোনের দায়ের
করা অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ই-মিত্র সেবা কেন্দ্রের পরিচালনাকারী মহিপাল গোপনে বড়
বোনের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তাকে ফাঁদে ফেলেন।
গত
১১ এপ্রিল দায়ের করা অভিযোগে মোট আটজনের নাম উল্লেখ করে। তাদের মধ্যে শিবরাজ, গোপাল,
বিজারাম, দিনেশ, মনোজ ও পুখরাজের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে
বলা হয়, মহিপাল ও তার সহযোগীরা প্রায় চার বছর ধরে বড় বোনকে যৌন নির্যাতন করে আসছিল
এবং ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত
২০ মার্চ আত্মহত্যা করেন তিনি। ছোট বোন অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বিচার না পেলে তিনিও
আত্মহত্যা করবেন বলে পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হলেও পরবর্তী
এক মাসে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।
বড়
বোনের মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা ছোট বোনকেও টার্গেট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা বড় বোনের
ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকেও যৌন নির্যাতন করে। মামলা হওয়ার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে
হুমকি দিতে থাকে এবং পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না বলে দম্ভ দেখায় বলে অভিযোগ করেন
ওই তরুণী। শুক্রবার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে প্রতিবাদ
জানান তিনি। পরে বিষপান করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার
পর রাজস্থানের রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যোধপুরের এমডিএম হাসপাতালের
মর্গের সামনে বিক্ষোভে জড়ো হন শত শত মানুষ। প্রথমে ময়নাতদন্তে আপত্তি জানালেও পরে নিহতের
পরিবার তাতে সম্মতি দেয়।
মারওয়ার
রাজপুত সমাজের সভাপতি হনুমান সিং খাংতা অভিযোগ করেন, তদন্তজুড়ে পুলিশ অভিযুক্তদের আড়াল
করার চেষ্টা করেছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই দুই বোনকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য
করেন তিনি। সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলার
অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো
হয়েছে। যোধপুরের পুলিশ সুপার পি ডি নিত্য জানিয়েছেন, মহিপালসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে
এবং তাদের আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।এদিন সকাল ১১টায় ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের আসনবিন্যাস প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় সময় থাকবে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট। এরমধ্যে ৬০ নম্বরের এমসিকিউ অংশের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪৫ মিনিট। ৪০ মার্কের লিখিত অংশের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪৫ মিনিট।
এছাড়া, (শনিবার) ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট, ১ মার্চ (শুক্রবার) বিজ্ঞান ইউনিট এবং ৯ মার্চ (শনিবার) চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর বড়পর্দায় অভিষেকের পর অল্প সময়েই দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় প্রথমবার ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। সেই সিনেমার ‘লিচুর বাগানে’ গানটিতে তাদের রসায়ন দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ‘রকস্টার’ সিনেমায় দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বাঁধেন এই দুই তারকা।
সম্প্রতি
এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং তাদের পর্দার রসায়নের রহস্য নিয়ে
কথা বলেন সাবিলা নূর। তিনি বলেন, "এই কৃতিত্ব পুরোপুরি শাকিব খানের। উনি নিজেকে
যেভাবে পরিবর্তন করেছেন, সেটা সত্যিই অসাধারণ। ‘প্রিন্স’-এর
ট্রেইলার ও লুক দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম।"
মালয়েশিয়ায়
‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের একটি স্মৃতিও ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী।
তিনি জানান, শুটিংয়ে যোগ দিতে এসে শাকিব খানকে দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। সাবিলা
বলেন, 'মালয়েশিয়াতে শুটিংয়ের জন্য শাকিব ভাই যখন এলেন, কয়েক মুহূর্তের জন্য আমি চমকে
গিয়েছিলাম। মাত্র সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে নিজেকে এমনভাবে বদলে ফেলেছিলেন যে, তাকে
একেবারে তরুণ, টিনেজারদের মতো লাগছিল। এটার কৃতিত্ব পুরোপুরি তার এবং তার টিমের। আমাদের
পুরো টিমই ছিল ভীষণ প্রাণবন্ত। সেই পরিবেশ থেকেই পর্দার রসায়নটা এত সুন্দর হয়েছে।'
সিনেমায়
শাকিব খানের সঙ্গে একাধিক রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করেছেন সাবিলা। এমন দৃশ্যে অভিনয়ের
সময় কোনো অস্বস্তি হয়েছিল কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ক্যামেরা রোল
হওয়ার পর উনি আর শাকিব খান থাকেন না, আমিও সাবিলা নূর থাকি না। তখন উনি ‘আগুন’
আর আমি ‘মীরা’। চরিত্রের সম্পর্কটাই তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই কোনো
দ্বিধা বা অস্বস্তি কাজ করেনি। বরং উনি আমাকে এমন একটি কমফোর্ট জোন দিয়েছেন, যেখানে
আমি খুব স্বস্তি নিয়ে রোমান্টিক দৃশ্যগুলো করতে পেরেছি।"
শাকিব
খানের পেশাদারিত্বেরও প্রশংসা করেন সাবিলা। তিনি জানান, প্রতিটি দৃশ্যের শট দেওয়ার
পর শাকিব তা মনোযোগ দিয়ে প্রিভিউ দেখেন এবং কোথায় কী উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা
করেন।
সাবিলা
বলেন, 'উনার এই বিষয়টা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। প্রতিটি শটের পর উনি নিজের কাজ বিশ্লেষণ
করেন, কোথায় পরিবর্তন দরকার তা খুঁজে বের করেন। এটা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। তাই
উনার সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করাটা কখনোই বড় কোনো চ্যালেঞ্জ মনে হয়নি।'
উল্লেখ্য,
‘রকস্টার’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। এতে শাকিব খান ও
সাবিলা নূরের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, তানজিয়া জামান মিথিলা, সুনিধি নায়েক,
পান্থ কানাই এবং তারিক আনাম খান। সিনেমাটি গত ২৮ মে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।
মন্তব্য করুন


আজ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের শপথ গ্রহণ হবে।
বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে রোববার (১১ আগস্ট) বঙ্গভবনে তার শপথগ্রহণ হবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ শপথের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ বরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের ছেলে।
সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর। তিনি ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে, ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্য থেকে বিএ ও এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পান তিনি। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ভারত, পাকিস্তান, আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করেছেন।
মন্তব্য করুন